26/07/2026
স্মার্ট এবং উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকার 'জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ২০২৬-২০৩০' প্রণয়ন করেছে। এ নীতির মূল লক্ষ্য হলো একটি নৈতিক এবং উদ্ভাবন-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি কমিয়ে এর সুফলগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
নীতিটির বাস্তবায়ন তিনটি ধাপে পরিকল্পনা করা হয়েছে: স্বল্পমেয়াদী (৩-৫ বছর) লক্ষ্য হলো নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা; মধ্যমেয়াদী (৫-১০ বছর) লক্ষ্য হলো সরকারি সেবা ও শ্রমশক্তিতে এআই সংহত করা; এবং দীর্ঘমেয়াদী (১০-২০ বছর) লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ায় এআই ইকোসিস্টেমে নেতৃত্ব প্রদান করা [৩৪]। এই নীতির মূলে রয়েছে ছয়টি প্রধান স্তম্ভ: নৈতিকতা, উদ্ভাবন-বান্ধব পরিবেশ, মানুষ-কেন্দ্রিক উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্যহীনতা, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা।
এআই ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার এটিকে ঝুঁকি-ভিত্তিক চারটি ভাগে বিভক্ত করেছে। সামাজিক স্কোরিং বা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এআই 'নিষিদ্ধ' করা হয়েছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা ও আইন প্রয়োগের মতো ক্ষেত্রগুলোকে 'উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে কঠোর তদারকির আওতায় রাখা হয়েছে। ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সংবেদনশীল তথ্য দেশের অভ্যন্তরে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে এবং ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারে শক্তিশালী জিপিইউ ক্লাস্টার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সেবা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে, সরকারি কাজে জটিলতা কমাতে এবং বাংলা ভাষায় নাগরিক সেবা দিতে একটি 'জাতীয় বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল' তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষা কারিকুলামে এআই অন্তর্ভুক্ত করা এবং পোশাক খাতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নতুন করে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীতিটি তদারকির জন্য একটি স্বাধীন ওভারসাইট কমিটি এবং উদ্ভাবকদের সহায়তায় 'এআই ইনোভেশন ফান্ড' গঠন করা হবে। ২০২৮ সালে এই নীতির একটি মধ্যবর্তী পর্যালোচনা করা হবে এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। মূলত, এ নীতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং এআই’র মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের একটি সুদূরপ্রসারী দলিল।
পড়ুন- https://www.linkedin.com/pulse/visionary-blueprint-smart-advanced-bangladesh-rashedul-hasan-t4l8c/