17/08/2026
“ইসলাম কি শুধু নারীর সম্পত্তির হিসাব আর চার বিয়ের কথা বলেছে?”—একবার নিজেকেই প্রশ্ন করুন!
আমরা কি সত্যিই ইসলামের সব বিধান মানি, নাকি নিজের সুবিধামতো কিছু বিধান বেছে নিই?
আল্লাহ বলেছেন—নামাজ কায়েম করতে।
রোজা রাখতে।
যিনা থেকে বাঁচতে।
চুরি ও অন্যায় থেকে বিরত থাকতে।
অপরাধের জন্য শাস্তির বিধানও দিয়েছেন।
এসব বিধান নিয়ে আমরা কতটা কঠোর?
কিন্তু যখন নারীর উত্তরাধিকার নিয়ে কথা আসে, তখন কি আমাদের আচরণ একই রকম থাকে?
অনেক পরিবারে দেখা যায়—মেয়ের প্রাপ্য সম্পত্তি তাকে দিতে অনীহা। কখনো আবেগের কথা বলা হয়, কখনো সামাজিক রীতির কথা, কখনো বলা হয়—
“মেয়েকে আবার সম্পত্তি দিতে হবে কেন? সে তো বিয়ে হয়ে অন্য বাড়ি চলে গেছে!”
অথচ আল্লাহ বলেছেন—
“পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে যায়, তাতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে যায়, তাতে নারীদেরও অংশ রয়েছে—তা কম হোক বা বেশি।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:৭
হ্যাঁ, ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের অংশ নারীর দ্বিগুণ হয়। কিন্তু এটা নারীর সব উত্তরাধিকার পরিস্থিতির সাধারণ নিয়ম নয়। কার কত অংশ হবে, তা নির্ভর করে মৃত ব্যক্তির জীবিত উত্তরাধিকারীদের ওপর।
তাহলে প্রশ্নটা হলো—
যে ইসলামকে আমরা নামাজ, রোজা ও অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রে মানার কথা বলি, সেই ইসলাম যখন একজন নারীর সম্পত্তির অধিকার নির্ধারণ করে দেয়—তখন সেই অধিকার দিতে আমাদের এত কষ্ট কেন?
ইসলামকে শুধু নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করা নয়।
ইসলাম মানে আল্লাহর বিধানের কাছে নিজের ইচ্ছাকে সমর্পণ করা।
নারীকে তার প্রাপ্য অধিকার দেওয়া কোনো দয়া নয়—
এটা তার হক।
আর কারও হক আটকে রেখে ধর্মের কিছু সুবিধাজনক কথা বলা—আত্মসমালোচনার বিষয়।
আমরা ইসলামকে কতটা মানি—তা শুধু আমাদের কথায় নয়, বরং অন্যের হক আদায় করার মধ্যেও প্রকাশ পায়।
#ইসলাম #নারীরঅধিকার #উত্তরাধিকার #ইসলামীউত্তরাধিকার #মেয়েদেরঅধিকার #ইসলামীকথা #আত্মসমালোচনা #সূরাআননিসা