24/07/2026
অধিকাংশ সুন্নি স্কলার ও ফকিহদের মতে হাউস মাছ বা শাপলাপাতা মাছ (Stingray) মুসলিমদের জন্য খাওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ বা হালাল. ইসলামে সমুদ্র বা পানির প্রাণীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। [1, 2]
নিচে বিভিন্ন মাজহাব এবং ধর্মীয় দলিলের আলোকে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
# # ১. পবিত্র কুরআনের সাধারণ ঘোষণা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সমুদ্রের শিকারকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় এনে হালাল ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে:
"তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য হালাল করা হয়েছে..." (সূরা আল-মায়িদাহ: ৯৬). [1]
# # ২. হাদিসের দলিল
রাসূলুল্লাহ (সা.) সামুদ্রিক প্রাণীর পবিত্রতা সম্পর্কে বলেছেন: [3]
"তার (সমুদ্রের) পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল।" (সুনানে ইবনে মাজাহ). [1]
এছাড়াও আরেকটি হাদিসে এসেছে, "আমাদের জন্য দুই ধরনের মৃত বস্তু হালাল করা হয়েছে: মাছ এবং পঙ্গপাল।" (সুনান ইবনে মাজাহ: ৩২১৮). [1]
# # ৩. হানাফি মাজহাবের দৃষ্টিভঙ্গি
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, পানির প্রাণীদের মধ্যে শুধুমাত্র মাছ (سمك) জাতীয় প্রাণী খাওয়া জায়েজ. আধুনিক প্রাণীবিজ্ঞানী এবং ফকিহদের গবেষণা অনুযায়ী, শাপলাপাতা বা হাউস মাছ মূলত এক প্রকার সামুদ্রিক তরুণাস্থিযুক্ত (Cartilaginous) মাছ. যেহেতু এটি 'মাছ' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, তাই হানাফি মাজহাবেও এটি খাওয়া বৈধ বা হালাল. [1, 4]
# # ৪. অন্যান্য সুন্নি মাজহাব (শাফেয়ী, মালিকি ও হাম্বলি)
শাফেয়ী, মালিকি এবং হাম্বলি মাজহাবে সমুদ্রের প্রায় সব ধরনের জলজ প্রাণীই খাওয়া জায়েজ. ফলে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাপলাপাতা মাছ খাওয়া নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই এবং এটি সম্পূর্ণ হালাল. [1]
# # ৫. শিয়া (জাফরি) মাজহাবের ভিন্নতা
শিয়া বা জাফরি ফিকহ অনুযায়ী, সমুদ্রের মাছের মধ্যে শুধুমাত্র আঁশযুক্ত (Scaled Fish) মাছ খাওয়া জায়েজ. যেহেতু শাপলাপাতা বা হাউস মাছের শরীরে সাধারণ মাছের মতো আঁশ থাকে না, তাই শিয়া মতাদর্শ অনুযায়ী এই মাছ খাওয়া হারাম বা নিষিদ্ধ. [5, 6]
# # জরুরি সতর্কতা
*
* ক্ষতিকর বা বিষাক্ত কিনা: শাপলাপাতা মাছের লেজে বিষাক্ত কাঁটা থাকে। রান্নার সময় বা কাটার সময় সেই বিষাক্ত অংশটি সম্পূর্ণ ফেলে দিতে হবে। ইসলামে ক্ষতিকর বা বিষাক্ত কিছু খাওয়া নিষিদ্ধ. [1, 5, 7]
* ঘৃণা বা রুচির বিষয়: কোনো খাবার হালাল হওয়ার পরেও যদি তা কারও ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ বা রুচিবিরুদ্ধ হয়, তবে তা না খাওয়ার স্বাধীনতা ইসলামের রয়েছে। [2, 5]