13/08/2025
২০০৫ সাল থেকে দেখতাম, প্রথম আলো তিনটি জিনিসের বিরোধীতা করতো-
১. নদী খনন বা ড্রেজিং
২. নদী থেকে বালু তোলা
৩. নদী থেকে পাথর তোলা
বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। ভারত, চীন, নেপাল, ভূটান থেকে নদী প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গপোসাগরে মিশেছে। এই পানি প্রবাহের সাথে বালু, পলি, পাথর বহন করে নিয়ে আসে এবং নদীতল দেশে জমা হয়।
সমস্যা হচ্ছে, আপনি যদি প্রতিনিয়ত নদীপথ থেকে বালু, পলি বা পাথর না সরান, তবে নদীপথ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে নদী কেন্দ্রীক জীবন ব্যবস্থা ও অর্থনীতি ব্যহত হবে।
প্রথম আলো যখন নদী খনন বা পাথর-বালু উত্তোলনের বিরোধীতা করতো, তখনই আমার সন্দেহ হতো,
আচ্ছা, নদী থেকে বালু, পাথর উত্তোলনের বিরোধীতা করে প্রথম আলো যে সুন্দর সুন্দর ন্যারেটিভ ছড়াচ্ছে, এর পেছনে কোন উদ্দেশ্য নেই তো ?
বাংলাদেশের মূল অর্থনীতি হচ্ছে কৃষি। আর কৃষির জন্য প্রয়োজন পানি। কিন্তু নদীগুলো পাথর, পলি ও বালি দিয়ে ভরে গেলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। আর তাতে কৃষিজ উৎপাদন ব্যহত হবে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এই দেশে কৃষিজ পণ্যের চাহিদা অনেক। কিন্তু বাংলাদেশে কৃষিকে ব্যহত করা গেলে এক সময় বাংলাদেশে কৃষি পণ্য আমদানি করতে হবে। এখন যেমনটা হচ্ছে, ভারত থেকে, আমেরিকা থেকে, ব্রাজিল থেকে কৃষিজ পণ্য আমদানি করতে হয়। এটা আসলে বাংলাদেশের জন্য ন্যাক্কারজনক কথা। বাংলাদেশে আবহাওয়া, মাটি ও নদী পরিবেশের কথা চিন্তা করলে, আসলে বাংলাদেশে কোন কৃষিজ পণ্য আমদানি করার কথা না। বরং রফতানি করার কথা।
এছাড়া নদী পথ যাতায়াতের একটি বড় মাধ্যম। এটি সস্তা মাধ্যমও বটে। কিন্তু নদীগুলোতে পানি প্রবাহে বাধা দেয়া গেলো, মানুষ নদী পথ রেখে সড়ক পথে যাতায়াত করবে। ফলে নতুন নতুন রাস্তাঘাট হবে, ফ্লাইওভার, ব্রীজ, কালভার্ট হবে। বিদেশ থেকে বড় বড় ঋণ আসবে। এই ঋণের মাধ্যমে দেশকে নিত্য নতুন শর্তে আটকানো যাবে। এছাড়া রাস্তা যত হবে, বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি তত বাড়বে। আর যত গাড়ি আমদানি হবে তত তেলের প্রয়োজন বাড়বে। ফলে বিদেশ থেকে তেল আমদানিও বাড়বে।
আপনি যদি এখন অনেক নদীর দিকে তাকান, তবে দেখবেন নদীগুলো নৌকাশূণ্য।
অনেক নদীতে পানি থাকলেও মানুষ নদী ব্যবহার বাদ দিয়েছে। মানুষ সড়ক পথে যাতায়াত করছে।
শুধু তাই না, আগে নদীর আশেপাশে হাট বাজার ঘাট তৈরী হতো। সেটাকে কেন্দ্র করে জনবসতি ও অর্থনীতি গড়ে উঠতো। এখন নদীর তীরগুলো মানবশূণ্য হয়ে গেছে। হাটবাজারগুলো সড়ক-মহাসড়ককে কেন্দ্র ক