NMB: News er Mayere Baap

NMB: News er Mayere Baap News for all alternative news network

ফিলিঙ্গেলার্জি: অনুভূতির মহামারিইদানিং বাংলাদেশে এক অদ্ভুত রোগ ছড়াইয়াছে—নাম তাহার ফিলিঙ্গেলার্জি। রোগটি এমন, যাহা শুনিলে...
29/04/2026

ফিলিঙ্গেলার্জি: অনুভূতির মহামারি

ইদানিং বাংলাদেশে এক অদ্ভুত রোগ ছড়াইয়াছে—নাম তাহার ফিলিঙ্গেলার্জি। রোগটি এমন, যাহা শুনিলে চিকিৎসকগণও চশমা খুলিয়া চোখ মুছেন।
এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা মানসিকভাবে অসুস্থ হইতে হইতে শারীরিকভাবে ব্যাধিগ্রস্ত হইয়া পড়েন। তাহাদের সামনে যদি কেহ “গুপ্ত”, “রাজাকার”, “লাল”, “বট”, “মার্কিন”, “পাকি”, “নূনূস”—ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করে, তাহা হইলে তাহাদের স্নায়ুতন্ত্রে এমন গোলযোগ দেখা দেয়, যেন মস্তিষ্কে বজ্রপাত ঘটিয়াছে।

চোখ লাল হইয়া যায়, চুল খাড়া হইয়া ওঠে, মুখে ফেনা আর আচরণে উন্মাদনা। তারা চিৎকার করে, দেয়ালে মাথা ঠোকে, হাতের কাছে যা পায়—তা দিয়াই শব্দের উৎসের মোকাবেলা করে। কেহ চেয়ার ছোঁড়ে, কেহবা টেবিল ভাঙে, কেহ আবার “বাঁচাও” বলিয়া রাস্তায় দৌড়ায়।
এ রোগের বয়সসীমা নাই—যুবক, মধ্যবয়সী, বৃদ্ধ—সবাই আক্রান্ত।
তবে আশার কথা, শিশুরা এখনো মুক্ত। তারা এখনো “রাজাকার” শুনিয়া কেবল প্রশ্ন করে—“ওটা কী?”

পণ্ডিতগণ বলিতেছেন, এ রোগটি একেবারে নতুন। আগে যাহা ছিলো “অ্যালার্জি”—ধুলা, ফুল, খাবার, কিংবা আবহাওয়ার কারণে—এখন তাহা হইয়াছে “ফিলিঙ্গেলার্জি”, অর্থাৎ অনুভূতির অ্যালার্জি। যে শব্দে মন কাঁপে, সেই শব্দেই শরীর কাঁপে। যে চিন্তায় মস্তিষ্কে ঝড় ওঠে, সেই চিন্তায় হাত-পা ঝিমঝিম করে।

রোগতত্ত্ব নিরাময় গবেষণা সেলের প্রধান ড. চুনাকিলাল বলিয়াছেন—
“রোগটি নতুন, তবে আগের কিছু রোগের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। আমরা সে লাইনে গবেষণা করিতেছি।”
তাঁহার মতে, এ রোগের উৎস মনোজাগতিক। অর্থাৎ, যাহারা অতিরিক্ত ভক্তি-ভয়ে আক্রান্ত, কিংবা অতিরিক্ত ঘৃণায় ভুগিতেছেন, তাহাদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি।

বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এ রোগ দেখা যায়নি। বাংলাদেশই প্রথম, যেখানে অনুভূতি হইয়াছে ব্যাধি। এটি মৌসুমী কিনা, তাহা এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা যায়, নির্বাচনের মৌসুমে এর প্রকোপ বাড়ে।
যখন টেলিভিশনে বিতর্ক চলে, তখন আক্রান্তরা রিমোট ছুঁড়িয়া টিভি ভাঙে। যখন সামাজিক মাধ্যমে কেউ “বট” বা “নূনূস” লেখে, তখন তাহারা ফোন ছুঁড়িয়া মারে দেয়ালে।

ভুক্তভোগীদের পরিবার বলিতেছে -“এ রোগে আক্রান্তরা যেমন নিজেদের জন্য দুর্ভোগের কারণ, তেমনি সমাজের জন্য দায়।” কারণ, তাহারা শান্তি চায় না, যুক্তি মানে না, কেবল শব্দে প্রতিক্রিয়া দেয়। তাদের সামনে “গুপ্ত” বলিলে তারা “গুপ্তচর” খুঁজিয়া বেড়ায়, “রাজাকার” বলিলে তাহারা “যুদ্ধ” শুরু করে আর “মার্কিন” বলিলে তাহারা “বিরোধ” ঘোষণা করে।

চিকিৎসকরা বলিতেছেন, এ রোগের কোনো ওষুধ নাই। তবে কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে - যেমন, আক্রান্তদের সামনে “নূনূস” না বলা,
যত্রতত্র “বট” না লেখা আর “রাজাকার” শব্দটি কেবল ইতিহাস বইতেই রাখা।

সরকার এখন ভাবিতেছে, এ রোগীদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল স্থাপন করা হইবে। যেখানে তারা শান্তভাবে বসিয়া “গুপ্ত”, “রাজাকার”, “লাল” শব্দ শুনিয়া ধ্যান করিবে। যদি তারা শান্ত থাকে, তাহা হইলে ছাড়পত্র পাইবে।
না থাকিলে, পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হইবে।

বাংলাদেশে এখন ফিলিঙ্গেলার্জি এক সামাজিক বাস্তবতা। যেই দেশে অনুভূতি এত প্রবল, সেই দেশে যুক্তি দুর্বল হইবেই। তাই বলা যায়—এ রোগের চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন সহনশীলতা।
যে দিন আমরা শব্দ শুনিয়া হাসিব, রাগিব না—সেই দিনই ফিলিঙ্গেলার্জি নামক মহামারি বিলুপ্ত হইবে।

লেখক: এক ক্লান্ত পেন্সিল - বালা মুসিবতে কাতর

হেলেন সিনড্রম, ট্রয় ট্র্যাজেডি আর বঙ্গদেশের ব্যাকরণবিহীন বিপ্লবহায় হেলেন!তোমার জন্য ট্রয় ডুবিয়াছিল—ইহা আমরা জানিতাম। কিন...
19/04/2026

হেলেন সিনড্রম, ট্রয় ট্র্যাজেডি আর বঙ্গদেশের ব্যাকরণবিহীন বিপ্লব

হায় হেলেন!
তোমার জন্য ট্রয় ডুবিয়াছিল—ইহা আমরা জানিতাম। কিন্তু আধুনিক যুগে তুমি যে আবার ফিরে আসিবে, কূটনীতির শাড়ি পরিয়া, হাতে কফির কাপ লইয়া—ইহা কে জানিত?

প্রাচীন কালে ট্রয় নগরী ধ্বংস হইতেছিল ঘোড়ার ভেতর লুকাইয়া থাকা সৈন্যে; এখন রাষ্ট্র ধ্বংস হয় “সংলাপ”, “গণতন্ত্র”, “রিফর্ম”, “ট্রানজিশন”—ইত্যাদি মধুর শব্দের অন্তরালে লুকাইয়া থাকা পরিকল্পনায়।

বঙ্গদেশে ২০২৪ সালে ছাত্ররা পথে নামিল। কারণ—কোটা, ন্যায়বিচার, ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন! কিন্তু শীঘ্রই সেই স্বপ্নে আগুন লাগিল, আর সেই আগুনে রাজনীতি রান্না করিতে শুরু করিল সকল পক্ষ।
কেহ বলিল—“ইহা গণবিপ্লব!”
কেহ বলিল—“ইহা ষড়যন্ত্র!”
আর সাধারণ মানুষ বলিল - “ভাই, চালের দামটা আগে কমাও, তারপর বিপ্লব করো!” শেষ পর্যন্ত এমন এক অবস্থা উপস্থিত হইল - প্রধানমন্ত্রী উড়িয়া গেলেন, জনতা ঢুকিলেন প্রাসাদে, আর রাষ্ট্র দাঁড়াইল “সংবিধানগত শূন্যতা” নামক এক অপূর্ব কবিতার মধ্যে ।
ইতিহাসে মীরজাফর ছিল এক জন। এখন তাহারা “গ্রুপ চ্যাটে” থাকে।

কেহ সুশীল, কেহ বিশ্লেষক, কেহ আবার ফেসবুক লাইভে বিপ্লবের ডিজিটাল ঘোষক। তাহারা বলে - “আমরা পরিবর্তন চাই!” কিন্তু পরিবর্তন আসিলে তাহারা প্রথমে চেয়ার খোঁজে। মোশতাকেরা ইতিহাসে একবার আসে না - তাহারা যুগে যুগে “উপদেষ্টা” হইয়া জন্মগ্রহণ করে।

একটি ছোট্ট ড্রইংরুম - হেলেনের মার্কিনি কূটনৈতিক প্রাসাদ, সেখানে বসিয়া আলোচনা হয়, কে কাহার বন্ধু, কে কাহার শত্রু। কেউ বলে “ইন্দো-প্যাসিফিক”, কেউ বলে “ব্যালান্স অব পাওয়ার”, কেউ আবার বলে—“আমাদের দেশের জনগণ!” কিন্তু শেষে দেখা যায় - জনগণ নাই, আছে শুধু “জিওপলিটিক্স”। বিশ্বের বড় শক্তিগণ দাবা খেলিতেছেন - আর বঙ্গদেশ সেই দাবার বোর্ডের একটি ঘুঁটি মাত্র। যে ঘুঁটি কখনো নাইট, কখনো প্যাদা - কিন্তু কখনোই খেলোয়াড় নহে।

যখন রাজনীতি উত্তপ্ত হয়, তখন অর্থনীতি ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কারখানা বন্ধ হয়, বিনিয়োগ থমকে যায় আর সাধারণ মানুষ বুঝিতে পারে - “বিপ্লবের লাভটা কে লইল, আর ক্ষতিটা কে দিল?” বিশ্ববাজার তখন হাসিয়া বলে - “তোমরা বিপ্লব করো, আমরা দামে খেলি!”

আজকের যুগে “রাজাকার” শব্দটি আর ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নহে - ইহা এখন এক রাজনৈতিক অস্ত্র। যাহাকে পছন্দ নহে, তাহাকেই বলা হয়—রাজাকার! যাহা বুঝি না, তাহাকেই বলা হয় - ষড়যন্ত্র! ফলতঃ সবাই দেশপ্রেমিক, কিন্তু দেশ কোথায় - তা কেউ জানে না।

শেষ পর্যন্ত এক রিকশাচালক বলিল- “স্যার, আগে বুঝতাম দেশ চালায় সরকার, এখন দেখি দেশ চালায় খবর, গুজব আর বিদেশ!”

আরেকজন চা-ওয়ালা যোগ করিল- “আগে যুদ্ধ হইত বন্দুকে, এখন যুদ্ধ হয় বয়ানে। আগে শত্রু ছিল সামনে, এখন শত্রু থাকে ‘বিশ্লেষণে’!”

অতএব, ইতিহাস আমাদের শিখায়- ট্রয় ডুবিয়াছিল এক হেলেনের কারণে, আর আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্র ডুবিতে পারে হাজারো হেলেন, হাজারো বয়ান, হাজারো পরিকল্পনায়।

কিন্তু সত্য একটাই— যে জাতি নিজে নিজের গল্প লেখে না, তার গল্প লিখে অন্যেরা। আর সেই গল্পে - নায়ক হয় অন্য কেউ আর ভুক্তভোগী থাকে জনগণ!

লেখক: এক ক্লান্ত পেন্সিল ; ছকের নিচের অন্ধকারে নিমজ্জমান এক বঁড়ে

মহাজনের মরীচিকা ও রোহিঙ্গা শিবিরের ‘সেমাই-বিপ্লব’মানুষের আশার গুড়ে বালি পড়া দেখিলে পাষাণ হৃদয়েও দীর্ঘশ্বাস জাগে, কিন্তু ...
21/03/2026

মহাজনের মরীচিকা ও রোহিঙ্গা শিবিরের ‘সেমাই-বিপ্লব’

মানুষের আশার গুড়ে বালি পড়া দেখিলে পাষাণ হৃদয়েও দীর্ঘশ্বাস জাগে, কিন্তু সেই বালি যদি হয় সুদি মহাজনের আশ্বাস-মিশ্রিত, তবে তাহা আর বিষাদ থাকে না—পরম কৌতুকে পরিণত হয়। গত বৎসরের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের কথা স্মরণ করুন, যখন গ্রামীণ অর্থনীতির জাদুকর, অন্ধজনের নয়নমণি, শান্তিতে নোবেলজয়ী ডক্টর মুহাম্মাদ ইউনূস সাহেব রোহিঙ্গা শিবিরে পদধূলি দিয়াছিলেন। তাঁহার সেই অভয়বাণী—‘আগামী ঈদ রোহিঙ্গাগণ স্বদেশে পালন করিবেন’—শুনিয়া মজলুম রোহিঙ্গাদের মনে যে আনন্দের হিল্লোল বহিয়া গিয়াছিল, তাহা দেখিলে মনে হইত বুঝি নাফ নদীর জলও খুশিতে উথলাইয়া উঠিয়াছে।

রোহিঙ্গাগণ মহাজনকে ‘জিন্দা পীর’ মানিয়া লইল। তাহারা ভাবিল, যিনি ক্ষুদ্রঋণ দিয়া গরিবের হাঁস-মুরগি চরাইবার ব্যবস্থা করেন, তিনি নিশ্চয়ই বার্মার জান্তাদেরও সুদে-আসলে বুঝাইয়া দিবেন। ব্যস! শুরু হইল ‘সেমাই-বিপ্লব’। পঞ্জাবীর হাতা গুটাইয়া-লুঙ্গি কষিয়া বাঁধিয়া রোহিঙ্গাগণ ভাবিল—যাওয়ার সময় তো হইল, এখন পাথেয় সংগ্রহ করা আবশ্যক। স্বদেশে ফিরিয়া প্রথম ঈদ বলিয়া কথা! সেমাই-চিনি ছাড়া কি উৎসব জমে?

ফলশ্রুতিতে, কক্সবাজারের স্থানীয় অর্থনীতিতে এক অলৌকিক জোয়ার আসিল। এতদিন যাহারা মুদি দোকানে মাছি তাড়াইত, তাহারা রাতারাতি কোটিপতি হইবার স্বপ্নে বিভোর হইল। বস্তা বস্তা চিনি আর ক্যানভাসের ব্যাগের চাহিদা এমন বাড়িল যে, মনে হইল টেকনাফ বুঝি অচিরেই সিঙ্গাপুর হইয়া যাইবে। গ্রামীণ মহাজনের সেই চিরায়ত ‘ঋণ বিতরণ কার্যক্রম’—যাহাকে অনেকে আদর করিয়া সুদি কারবার বলে—তাহাতে নব্য প্রাণ সঞ্চার হইল। সেলাই মেশিন বিক্রয় হইতে শুরু করিয়া হাঁস-মুরগির খামার—সর্বত্রই ‘প্রগতি’র জয়গান। এমনকি পরিবহন খাতেও আসিল বিপ্লব। টেকনাফ টু কক্সবাজার রুটে নতুন করিয়া নিবন্ধিত হইল ‘বাবার দোয়া মিনিবাস’ ও ‘আল্লার নামে চলিলাম’ টেম্পো সার্ভিস। উদ্দেশ্য একটাই—রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দেওয়া।

তবে সমাজের একদল স্বার্থান্বেষী মহলের মাথায় হাত পড়িল। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরিয়া যাহাদের আখের গোছানো চলিতেছিল, সেইসব এনজিও-জীবী ও বাড়িওয়ালারা প্রমাদ গুণিল। রোহিঙ্গারা চলিয়া গেলে তাহাদের উপরি পাওনা ও সস্তা শ্রমের কী হইবে? জুম্মার নামাজ শেষে মোনাজাতের ‘ডিউরেশন’ বাড়িয়া গেল। মুসল্লিগণ দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া বলিতে লাগিলেন, “আহা! মুসলিম ভাই ভাইদের এইভাবে আলাদা করা কি ইউনূস সাহেবের উচিত হইল? ইহারা তো আমাদের মেহমান!” স্বার্থের টানে ভ্রাতৃত্ববোধ যে কতটা প্রগাঢ় হইতে পারে, তাহা চর্মচক্ষে না দেখিলে বিশ্বাস করা কঠিন।

কিন্তু বিধাতা অলক্ষ্যে হাসিতেছিলেন। কালক্রমে দেখা গেল, মহাজনের সেই আশ্বাস ‘ঋণখেলাপি’র মতো হইয়া দাঁড়াইল। সময় বহিয়া গেল, ঈদ আসিল ও গেল, কিন্তু রোহিঙ্গাদের কপালে স্বদেশের মাটি জুটল না। উপরন্তু, ‘শান্তির দূত’ মহাজন নিজেই এখন ক্ষমতার অন্ধকারে দিশা হারাইয়া হিমশিম খাইতেছেন। রোহিঙ্গাদের কথা ভাবিবার ফুরসত তাঁহার কোথায়?

এখনকার দৃশ্যপট বড়ই করুণ ও হাস্যকর। রোহিঙ্গাগণ স্বদেশে ফিরে নাই ঠিকই, বরং তাহাদের অভ্যর্থনা জানাইতে আরও লক্ষাধিক নতুন রোহিঙ্গা সীমানা পার হইয়া বাংলাদেশে জাঁকাইয়া বসিল। যাওয়ার নামগন্ধ নাই, বরং আগামী কোরবানির ঈদে পশুর হাটের ইজারা লইয়া রোহিঙ্গা শিবিরে সংঘাত শুরু হইয়াছে। ভ্রাতৃত্ববোধ এখন লাঠালাঠিতে রূপান্তরিত হইয়াছে, আর মহাজনের জাদুর কাঠি এখন ভাঙিয়া দুই টুকরা।

পরিশেষে, কৌতূহলী একদল রোহিঙ্গা প্রতিনিধি যখন ঢাকার ‘যমুনা’ গেস্ট হাউসে মহাজনের হালনাগাদ তথ্য জানিতে গেল, তাহারা স্তম্ভিত হইয়া দেখিল—বিশাল গেটে বড় করিয়া সাইনবোর্ড ঝুলিতেছে: “TO-LET”। অর্থাৎ, পুরাতন বাসিন্দা পলাতক বা অন্যত্রে সরিয়া গিয়াছেন, বাসা ভাড়া দেওয়া হইবে।

এখন প্রশ্ন থাকিল—সেই শত শত টন বস্তাবন্দি সেমাই-চিনির কী দশা হইবে? পিঁপড়ারা কি মহাজনের আশ্বাসের ন্যায় সেই চিনি চুষিয়া খাইবে? সমাজ বিশ্লেষক হিসেবে বলিতে পারি, সুদি মহাজনের প্রতিশ্রুতি আর আকাশের মেঘ—উভয়ই ক্ষণস্থায়ী। তাহারা বৃষ্টি নামাইয়া মাটি ভিজায় না, বরং মাঝপথে উধাও হইয়া রৌদ্রের দহন বাড়াইয়া দেয়। রোহিঙ্গারা এখন সেমাই ভিজাইয়া খাইতেছে আর ভাবিতেছে—আহারে মহাজন! চটের বস্তা আর ক্যানভাসের ব্যাগগুলি অন্তত দিয়া গেলে বাজারে বেচিয়া সুদের কিস্তিটা দেওয়া যাইত।

লেখক: এক ক্লান্ত পেন্সিল, বঞ্চিত, প্রতারিত এক প্রলেতারিয়েত

সঙ-সদ: গণতন্ত্রের চড়ুইভাতি ও একবিংশ শতাব্দীর মহাহাস্যকর মহড়াবঙ্গদেশের পবিত্র সংসদ ভবন আজ আর নীতি-নির্ধারণের তপোবন নাই; উ...
13/03/2026

সঙ-সদ: গণতন্ত্রের চড়ুইভাতি ও একবিংশ শতাব্দীর মহাহাস্যকর মহড়া

বঙ্গদেশের পবিত্র সংসদ ভবন আজ আর নীতি-নির্ধারণের তপোবন নাই; উহা এখন এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ ‘স্ট্যান্ড-আপ কমেডি’র রঙ্গমঞ্চে রূপান্তরিত হইয়াছে। যাহাকে এককালে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বলিয়া গণ্য করা হইত, তথায় এখন দিবালোকে ‘সঙ-যাত্রা’র মহড়া চলিতেছে। ইহা যেন কোনো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নহে, বরং জি-বাংলার ‘মিরাক্কেল’ অনুষ্ঠানের এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় সংস্করণ।

ভারতের মীর আফসার আলী আজ গভীর উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করিতেছেন। তাঁহার হাস্যরসের সাম্রাজ্য আজ হুমকির মুখে। গবেষণা দল জানাইতেছে, পশ্চিমবঙ্গ হইতে ভাড়াটে ভাঁড় ডাকিয়া আর লাভ নাই; বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের সংসলাপে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক কৌতুক রহিয়াছে, তাহা মীর সাহেব কল্পনাও করিতে পারেন নাই। স্পন্সররা এখন হাহাকার করিতেছে—তাহারা ‘হাবা হাসমত’ কিংবা ‘গোস্ত মাসুদ’কে চায় না; তাহারা চায় সংসদ টিভি হইতে লাইভ টেলিকাস্ট। কারণ তথায় স্ক্রিপ্ট ছাড়াই যে প্রহসন মঞ্চস্থ হয়, তাহা দেখিয়া দর্শক হাসিতে হাসিতে মূর্ছা যায়।

যেই মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্নাত ইতিহাস এই দেশের ভিত্তি, সেই ইতিহাসের চরম বিরুদ্ধাচরণকারীরা আজ সংসদের উচ্চাসনে উপবিষ্ট। বিস্ময়ের সীমা থাকে না যখন দেখা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রয়াণে মহান সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। যেন কুখ্যাত অপরাধই আজ রাষ্ট্রীয় গৌরবের মাপকাঠি! যাহারা ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিবার যোগ্য, তাহারা আজ সংসদের ‘উপনেতা’ সাজিয়া নীতি-নৈতিকতার তুবড়ি ফুটাইতেছেন। ইহা যেন এক বীভৎস উপহাস, যেখানে ফাঁসির দড়িকে অলঙ্কার বলিয়া ভ্রম হয়।

সংসদ কক্ষে যখন জাতীয় সংগীতের পবিত্র সুর ধ্বনিত হয়, তখন দৃশ্যপট আরও করুণ হইয়া উঠে। কেহ গোঁয়ারের ন্যায় আস্বাদন করিয়া বসিয়া থাকেন—যাহাকে তাহারা ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ বলিয়া অপব্যাখ্যা দেন। আবার কেহ দাঁড়াইবেন কি বসিয়া থাকিবেন, সেই দ্বিধায় হুড়াহুড়ি করিয়া একাকার করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন যে পরিমাণ অবজ্ঞা প্রদর্শিত হয়, তাহাতে প্রতীয়মান হয় যে, রাষ্ট্রের শীর্ষপদটি আজ এক লঘু কৌতুকের বিষয়ে পরিণত হইয়াছে।

প্রশ্নোত্তর পর্বের নামে যে ভাঁড়ামি চলে, তাহা আধুনিক ইতিহাসের এক বিচিত্র অধ্যায়। সংসদীয় এলাকা কর্দমাক্ত ও অনুন্নত হইলেও মাননীয় মন্ত্রীরা অম্লানবদনে বলেন, “বাস্তবে রাস্তা না থাকিলে কী হইয়াছে? ফেসবুকের দেওয়ালে তো চকমকে রাস্তার ছবি রহিয়াছে!” দুর্নীতি আজ আর ব্যাধি নহে, বরং উন্নয়নের ‘তেল’ হিসেবে স্বীকৃত। সরকার যেন এক বিশাল হাড়ি-পাতিল লইয়া মাঠের মাঝখানে চড়ুইভাতি করিতে বসিয়াছে। তাহারা বলিতেছে, “আজ আমরা গণতন্ত্র-গণতন্ত্র খেলিব।” স্পিকার মহোদয় তখন নির্দেশ দিতেছেন— “এই দৃশ্যটি ঠিকমতো ফুটে নাই, হাসির পরিমাণ বৃদ্ধি করিয়া পুনরায় রিটেক লউন!”

বাজেট পেশের সময় মনে হয় ইহা কোনো রাষ্ট্রীয় দলিল নহে, বরং সার্কাস পরিচালনার ব্যয়তালিকা।

চড়ুইভাতি প্রকল্প: ৫০০ কোটি টাকা।

সাংসদদের কৌতুক প্রশিক্ষণ: ২০০ কোটি টাকা।

মিরাক্কেল উন্নয়ন তহবিল: ১০০০ কোটি টাকা।

আইন পাস হইতেছে ঝড়ের গতিতে—যাহারা অপরাধী তাহারাই হইবে ‘নৈতিকতার আলোকবর্তিকা’, আর যাহারা প্রতিবাদী তাহারা হইবে ‘উন্নয়ন বিরোধী’।

দেশ আজ খেলার পাত্রে পরিণত হইয়াছে। সরকার চড়ুইভাতির আয়োজক, আর হতভাগা জনগণ হইল সেই দর্শক—যাহারা আসলে যন্ত্রণায় কাঁদিতেছে, কিন্তু বাহিরে হাসিতে হাসিতে কুটি কুটি হইতেছে। যদি সত্যিই মীর সাহেব চাকরি হারান এবং সংসদ ভবনটি স্থায়ীভাবে ‘ন্যাশনাল কমেডি ক্লাবে’ রূপান্তরিত হয়, তবেই বুঝিবেন—বাংলাদেশ সত্যিই এক ‘অবিশ্বাস্য’ উচ্চতায় আরোহণ করিয়াছে। বিধাতা এই সঙ-সদকে দীর্ঘজীবী করুন, যেন জগতবাসী অন্তত বিনোদনের অভাবে না ভোগে।

লেখক: এক ক্লান্ত পেন্সিল, রম্যের তামাশায় হতবিহ্বল

মধ্যপ্রাচ্যের দাবার ছক ও বঙ্গীয় তৌহীদি জনতার বিপাকবিশ্বরাজনীতি আজ টালমাটাল।  ইরান-ইজরাইল যুদ্ধ যেন দাবার ছক, যেখানে ঘুঁট...
07/03/2026

মধ্যপ্রাচ্যের দাবার ছক ও বঙ্গীয় তৌহীদি জনতার বিপাক

বিশ্বরাজনীতি আজ টালমাটাল।
ইরান-ইজরাইল যুদ্ধ যেন দাবার ছক, যেখানে ঘুঁটি চালিতেছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু চাল দিয়া নিজেই হিমশিম খাইতেছে। ইরান একদিকে ইজরাইলকে কাঁপাইতেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের উপর হামলা চালাইয়া তাহাদের জান জেরবার করিতেছে। এই দৃশ্য দেখিয়া সুন্নি দেশগুলা প্রথমে বোগল বাজাইতেছিল—“ইজরাইল অদ্য কাবু হইয়াছে।” কিন্তু ইরান যখন মিত্রদের উপর হামলা চালাইল, তখন সেই বোগল ভাঙিয়া গেল।

বাংলাদেশের তৌহীদি জনতা পড়িল বিপাকে।
ইসলামি দলগুলা এতদিন মঞ্চে দাঁড়াইয়া বলিতেছিল—“শিয়া মুসলিম নয়, কাদিয়ানিরা ধর্মচ্যুত।” এখন ইরান যখন সৌদি, আমিরাত, কুয়েতের বিরুদ্ধে দাঁড়াইয়াছে, তখন তাহারা কাহাকে সমর্থন করিবে বুঝিতে পারিতেছে না। শিয়াদের জালিম বলিলে মুসলিমত্বে আঘাত লাগে, সৌদিদের বেইমান বলিলে সুন্নি ভ্রাতৃত্বে ফাটল ধরে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলিলে অর্থের উৎস শুকাইয়া যায়। কি মুসিবতে আল্লায় তাহাদের ফালাইয়াছে!

তাহারা এখন কিতাব খুলিয়া বসিয়াছে। তাসফির ঘাটিতেছে, তরজমা করিতেছে, কিন্তু কোনো আয়াতেই লিখা নাই—“ইরানকে সমর্থন করিবে” বা “সৌদিকে সমর্থন করিবে।” ফলে তাহাদের সুর এখন বেসুরা। মঞ্চে দাঁড়াইয়া বক্তৃতা করিলে মাইক্রোফোনও লজ্জায় শব্দ করে না।

সুন্নি দেশগুলি এতদিন ইজরাইলের টাকায় লালিত পালিত হইয়া হৃষ্টপুষ্ট হইয়াছিল। এখন ইজরাইলের হামলায় ইরান কাবু হইলে তাহারা আনন্দে নৃত্য করিতেছিল। কিন্তু ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের উপর হামলা চালাইল, তখন সেই নৃত্য থামিয়া গেল। আনন্দের ঢোল এখন শোকের ঢোল হইয়া বাজিতেছে।

বাংলাদেশের ইসলামের ঝান্ডাধারীরা, জান্নাতের টিকেটধারীরা এখন দ্বিধায়।
তাহারা বলিতেছে—“ইরান মুসলিম, কিন্তু শিয়া।”
আবার বলিতেছে—“সৌদি সুন্নি, কিন্তু বেইমান।”
আবার বলিতেছে—“যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দাতা, কিন্তু ইসলামের শত্রু।”
এই তিনটি সমীকরণ মেলাইতে গিয়া তাহাদের মাথা ঘুরিতেছে।

তাহারা এখন মঞ্চে দাঁড়াইয়া বলিতেছে—“আমরা নিরপেক্ষ।”
কিন্তু সেই নিরপেক্ষতা হইল সেই ছায়া, যাহা জামাতের রোদে জন্মে, সৌদির টাকায় বেড়ে উঠে, যুক্তরাষ্ট্রের ছায়ায় দাঁড়ায়।

ইরান যখন হামলা চালায়, তখন তাহারা বলিতেছে—“ইরান জালিম।”
কিন্তু মুসলিম বলিয়া আবার চুপ করিতেছে।
সৌদি যখন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাতলে দাঁড়ায়, তখন তাহারা বলিতেছে—“সৌদি বেইমান।”
কিন্তু সুন্নি বলিয়া আবার চুপ করিতেছে।
যুক্তরাষ্ট্র যখন দাবার ছক সাজায়, তখন তাহারা বলিতেছে—“আমরা নিরপেক্ষ।”
কিন্তু অর্থের টানে আবার চুপ করিতেছে।

এইরূপে বঙ্গীয় তৌহীদি জনতা এখন বেসুরা।
তাহাদের বক্তৃতা এখন হাস্যকর, তাহাদের স্লোগান এখন ব্যঙ্গাত্মক, তাহাদের নিরপেক্ষতা এখন ছলনার প্রতীক।

বিশ্বরাজনীতি যখন দাবার ছক, তখন বাংলাদেশের ইসলামি দলগুলা হইল সেই ঘুঁটি, যাহা চালিত হয় কিন্তু কখনো জয়ী হয় না। তাহাদের নিরপেক্ষতা হইল সেই মুখোশ, যাহা পরিলে হাসি আসে, কিন্তু খুলিলে কান্না ফোটে।

তাই বলি—
এই মুসিবত হইতে উত্তরণের একমাত্র উপায় হইল—একখানা বোমা বঙ্গদেশে পড়ুক, মরিয়া ফয়সালা হইয়া যাক।
কারণ এই ছলনা, এই দ্বিধা, এই নিরপেক্ষতার নাটক আর চলিতে পারে না।

লেখক: এক ক্লান্ত পেনসিল, ছলনার জালে বন্দী হয়ে নির্বাক

নিরপেক্ষ জামাতী: ছদ্মবেশের চাতুর্যে গণতন্ত্রের গলিত ছায়াআমাদের সমাজে কিছু মুখোশধারী ঘুরিয়া বেড়ায়।তাহারা সুশীল, তাহারা নি...
19/02/2026

নিরপেক্ষ জামাতী: ছদ্মবেশের চাতুর্যে গণতন্ত্রের গলিত ছায়া

আমাদের সমাজে কিছু মুখোশধারী ঘুরিয়া বেড়ায়।
তাহারা সুশীল, তাহারা নিরপেক্ষ, তাহারা গণতন্ত্রের গীত গায়।
কিন্তু তাহাদের অন্তরে লুকায় জামাতের জিন, ছদ্মবেশের চাতুর্য, ষড়যন্ত্রের সূক্ষ্মতা। তাহাদের একখানি প্রতীকি নাম দেওয়া যাক, ধরিয়া নিলাম আমার বন্ধু মাসুদ।

নিরপেক্ষরা বলিতেছে—“আমরা আরো ৫ বছর ইউনুস সরকার চাই।”
জামাতও বলিয়াছিল—“আমরা ইউনুস সরকার চাই।”
আমার বন্ধু মাসুদও বলিয়াছিল—“ইউনুসই অন্ধের দেশে আলো।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।

তাহারা বলিতেছে—“আগে স্থানীয় নির্বাচন হউক।”
জামাতও বলিয়াছিল—“মেয়র নির্বাচন আগে।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“লোকাল ভোট আগে।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।

তাহারা বলিতেছে—“পিআর পদ্ধতিতে সরকার চাই।”
জামাতও বলিয়াছিল—“পিআর চাই।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“পিআরই গণতন্ত্র।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।

তাহারা বলিতেছে—“আগে গণভোট, পরে জাতীয় নির্বাচন।”
জামাতও বলিয়াছিল—“গণভোট আগে।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“গণভোটই পথ।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।

তাহারা বলিতেছে—“নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোট হইবে।”
জামাতও বলিয়াছিল—“ডিসেন্ট বাদ।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“ডিসেন্ট মানেই বিভ্রান্তি।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।

তাহারা বলিতেছে—“সনদে স্বাক্ষর করিব না।”
জামাতও বলিয়াছিল—“স্বাক্ষর মানেই আত্মঘাত।”
মাসুদও কলাম শেয়ার করিয়াছিল—“স্বাক্ষর মানেই আত্মবিক্রয়।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।

তাহারা বলিতেছে—“ইলেকশনে সূক্ষ্ম কারচুপি হইয়াছে।”
জামাতও বলিয়াছিল—“কারচুপি হইয়াছে।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“কারচুপি সূক্ষ্ম, কিন্তু গভীর।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।

তাহারা বলিতেছে—“হাদির খুনে মীর্জা আব্বাস জড়িত।”
জামাতও বলিয়াছিল—“আব্বাস দায়ী।”
মাসুদও সেই পোস্ট সবার আগে শেয়ার করিয়াছিল।
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।

তাহারা বলিতেছে—“এই বিএনপি শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়।”
জামাতও বলিয়াছিল—“বিএনপি বদলাইয়াছে।”
মাসুদও সেই পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দিয়াছিল।
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।

এইরূপে মাসুদ তাহার নিরপেক্ষতা রক্ষা করিয়াছেন।
তিনি জামাতের মতামতকে নিজের মতামত বানাইয়াছেন,
জামাতের পোস্টকে নিজের দেয়াল বানাইয়াছেন,
জামাতের ভাষাকে নিজের কলম বানাইয়াছেন।

তবুও তিনি নিরপেক্ষ।
তাঁহার নিরপেক্ষতা হইল সেই ছায়া,
যাহা জামাতের রোদে জন্মে,
বিএনপির বাতাসে দুলে,
গণতন্ত্রের গলিত মূর্তিকে ঢাকিয়া রাখে।

তাঁহার মতামত হইল সেই আয়না,
যাহা জামাতের মুখ দেখায়,
কিন্তু নিচে লেখা থাকে—“আমি সুশীল, আমি নিরপেক্ষ।”

তাঁহার শেয়ার হইল সেই তলোয়ার,
যাহা বিএনপির বুকে গিয়া বসে,
কিন্তু হ্যান্ডেলে লেখা থাকে—“গণতন্ত্রের রক্ষা।”

তাঁহার কলাম হইল সেই কবরফলক,
যাহাতে লেখা থাকে—“স্বাধীন মতামত”,
কিন্তু নিচে চাপা থাকে—“জামাতের ইশতেহার।”

তাই বলি—
যদি কাহারো মতামত জামাতের মত হয়,
যদি কাহারো শেয়ার জামাতের পোস্ট হয়,
যদি কাহারো নিরপেক্ষতা জামাতের ছায়া হয়,
তাহা হইলে তাহাকে ডাকিবেন—“নিরপেক্ষ জামাতী।”

তবে আশেপাশে মাসুদের মতো কোন জামাতী নিরপেক্ষ হোগার পোলাদের সাথে মিলে গেলে,
তাহাদেরকে নিরপেক্ষ জামাতী ডাকিতে দ্বিধা করিবেন না।

লেখক: এক ক্লান্ত পেনসিল - নিরপেক্ষতার চাদরে ঢাকা ঘাতকের লক্ষ্য

অন্তর্বর্তী মহিমা: ষড়যন্ত্রের সিংহাসনে গণতন্ত্রের গলিত মূর্তিধন্যবাদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। তাহারা ইতিহাসের পাতায় এমন...
17/02/2026

অন্তর্বর্তী মহিমা: ষড়যন্ত্রের সিংহাসনে গণতন্ত্রের গলিত মূর্তি

ধন্যবাদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। তাহারা ইতিহাসের পাতায় এমন একখানা সোনালি অধ্যায় রচনা করিয়াছেন, যাহা পড়িলে গণতন্ত্র নিজেই লজ্জায় আত্মহত্যা করিতে চায়।

তাহারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে এমনভাবে রক্ষা করিয়াছেন, যাহাতে সাংবাদিকেরা জেলখানার ফুলেল কক্ষে বসিয়া চা পান করিতে পারিয়াছেন। তাহারা বলিয়াছেন—“কেহ জেলে যায় নাই।”
অবশ্য, গেটের তালা ভাঙিয়া সাংবাদিকেরা নিজে নিজে ঢুকিয়াছেন, ইহা তো গণতান্ত্রিক আত্মনিয়ন্ত্রণ।

তাহারা বিচার ব্যবস্থাকে এমনভাবে শুদ্ধ করিয়াছেন, যাহাতে সাগর-রুনি, আবরার, তোফাজ্জল—সকল হত্যার বিচার হইয়াছে “মৌনতা”র মাধ্যমে।
মৌনতা হইল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বিচারপতি।

তাহারা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়া সাংসদ বানাইয়াছেন—ইহা হইল “ঐতিহাসিক পুনর্মিলন”। যুদ্ধাপরাধী হইল মুক্তিযুদ্ধের নতুন ব্যাখ্যা।

তাহারা শিল্প ধ্বংস করিয়াছেন, তাহাতে দেশ হইয়াছে “শিল্পহীন শুদ্ধতা”র প্রতীক। মাজার, মন্দির গুঁড়াইয়া তাহারা ধর্মীয় সমতা আনিয়াছেন—সব ধর্মই এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। তাহারা কবর হইতে লাশ তুলিয়া পোড়াইয়াছেন—ইহা হইল “পরকালীন পুনর্বাসন”। জীবিত দিপু দাসকে পুড়াইয়া তাহারা দেখাইয়াছেন—“আগুনই আত্মশুদ্ধি”।

তাহারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফিরাইয়া আনিবার কথা কহিয়া আরো বিলিয়ন পাচার করিয়াছেন - ইহা হইল “ডলার রিকল পলিসি”। ডলার নিজেই লজ্জায় ফিরিয়া আসিয়াছে।

তাহারা ছাব্বিশ লাখ ভারতীয়কে ফেরত পাঠাইবেন বলিয়া প্রতিজ্ঞা করিয়া কাহাকেও খুঁজিয়া না পাইয়া ছাব্বিশ লক্ষ ইলিশ পাঠাইয়াছেন—ইহা হইল “মাছ-মৈত্রী”। ইলিশ এখন কূটনীতির দূত।

তাহারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ২৫০০+ ঘটনা ঘটাইয়াছেন—ইহা হইল “সংখ্যালঘু সংবর্ধনা”। নির্যাতনই এখন স্বীকৃতি।

তাহারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করিয়াছেন, প্রেস কার্ড বাতিল করিয়াছেন—ইহা হইল “মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ”। কলম এখন অপরাধের অস্ত্র।

তাহারা ১২ লাখ মানুষকে বেকার বানাইয়াছেন—ইহা হইল “বেকারত্বের সমতা”। সবাই সমানভাবে নিঃস্ব।

তাহারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করিয়াছেন—ইহা হইল “স্মৃতিহীন স্বাধীনতা”। ইতিহাস এখন বিলুপ্ত।

তাহারা ৬৬৬ কোটি টাকা নীরবে মওকুফ করিয়া অনন্য হইয়াছেন - ইহা হইল “নীরব করনীতি”। করও শব্দহীন।

তাহারা গ্রামীণ ব্যাংক, ওয়ালেট, জনশক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছু গ্রামীণ করিয়াছেন—ইহা হইল “গ্রামীণ সর্বগ্রাস”। দেশই এখন গ্রামীণ।

তাহারা হাজার হাজার গুমের অভিযোগে মাত্র ২৮৭ জনের তালিকা দিয়া বলিয়াছেন—“তথ্য নাই”—ইহা হইল “গুম গণনা গাণিতিক”। গুমও এখন সংখ্যার খেলা।

তাহারা বিনা বিচারে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে জেলে হত্যা করিয়াছেন—ইহা হইল “বিচারহীন ন্যায়”। জেলই এখন ফাঁসি।

তাহারা পুলিশ হত্যার ইনডেমনিটি দিয়া বলিয়াছেন—“আইনহীন আইন”।

তাহারা দৈনিক ৪৮টি হত্যার ঘটনা ঘটাইয়াছেন—ইহা হইল “হত্যা হইল হেডলাইন”।

তাহারা নদীতে প্রতিদিন লাশ উপহার দিয়া বলিয়াছেন—“জলজ শোক উৎসব”।

তাহারা সরকারি প্রকল্পের বাজেট বাড়াইয়া সঙ্গীদের পকেট ভারী করিয়াছেন—ইহা হইল “পকেট উন্নয়ন”।

তাহারা রেকর্ড পরিমাণ টাকা ছাপাইয়াছেন—ইহা হইল “মুদ্রণ মন্ত্র”।

তাহারা রেকর্ড বিনিয়োগ আনিয়া চাকরির বন্যা বইয়ে দিয়া বেকারত্ব বাড়াইয়াছেন—ইহা হইল “বেকারত্বের বন্যা”।

তাহারা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি রাখিয়াছেন—ইহা হইল “মূল্যস্ফীতির মুকুট”।

তাহারা সকল দেশের বাংলাদেশকে ভিসামুক্ত করিয়াছেন—ইহা হইল “ভিসাহীন ভ্রমণ”—কেহই আসিতে চায় না।

তাহারা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করিয়াছেন—ইহা হইল “পঙ্গুত্বের পদক”।

তাহারা ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ধ্বংস করিয়াছেন—ইহা হইল “স্মৃতির সমাপ্তি”।

এইরূপে অন্তর্বর্তী সরকার তাহাদের ব্যর্থতাকে মহিমান্বিত করিয়াছে, ষড়যন্ত্রকে গৌরবান্বিত করিয়াছে, ছলনা ও প্রতারণাকে সাফল্যের মুকুট পরাইয়াছে, মৌলবাদকে ইতিহাসের গৌরব বানাইয়াছে।

তাহারা গণতন্ত্রের গলিত মূর্তি গড়িয়াছে—যাহা দেখিলে ইতিহাস নিজেই চোখ ঢাকিয়া কাঁদে।

লেখক: এক ক্লান্ত পেন্সিল - ইতিহাস, ঐহিত্য হারাইয়া মৃতপ্রায় এক প্রাণ

সাংবাদিক জেলখানায় যায় নাই, জেলখানা সংবাদে ঢুকিয়াছে!!!বাংলাদেশে এখন তথ্যের যুগ। তথ্য উপদেষ্টা বলিয়াছেন—“আমাদের অন্তর্বর্ত...
15/02/2026

সাংবাদিক জেলখানায় যায় নাই, জেলখানা সংবাদে ঢুকিয়াছে!!!

বাংলাদেশে এখন তথ্যের যুগ। তথ্য উপদেষ্টা বলিয়াছেন—“আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মত প্রকাশের জন্য কোনো সাংবাদিককে জেলে যাইতে হয় নাই।” শুনিয়া জনগণ বলিতেছে—“তাহা হইলে জেলখানার তালা খুলিয়া সাংবাদিকেরা নিজেরাই ঢুকিয়াছিলেন কি?”

তিনি আরও বলিয়াছেন—“আনিস আলমগীর ও মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে মত প্রকাশের জন্য জেলে নেয়া হয় নাই।” শুনিয়া সাংবাদিক মহল বলিতেছে—“তাহা হইলে আমরা যাহারা গিয়াছি, তাহারা কি মত প্রকাশ করিতেছিল না, না কি মুত বিসর্জন করিতেছিল?”

রাষ্ট্রযন্ত্র নিশ্চয়ই ভিন্ন কোনো তথ্য রাখে। কারণ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বলিতেছে—“দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও কারাবরণের ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় বাড়িয়াছে।”

Rights & Risks Analysis Group বলিতেছে—“প্রথম আট মাসে ৬৪০ জন সাংবাদিক টার্গেট হইয়াছেন।” তাহাদের মধ্যে কেউ মামলা খাইয়াছেন, কেউ মার খাইয়াছেন, কেউ প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন হারাইয়াছেন, কেউ অর্থ গোয়েন্দার তদন্তে পড়িয়াছেন।

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য শুনিয়া গবেষক মহল বসিয়া পড়িয়াছে। তাহারা বলিতেছে—“এই বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ কী?” কেউ বলিতেছে—“উনি হয়তো ‘মত প্রকাশ’ বলিতে ‘মত প্রকাশের অনুমতি’ বুঝাইয়াছেন।” কেউ বলিতেছে—“উনি হয়তো ‘জেল’ বলিতে ‘আত্মশুদ্ধির কেন্দ্র’ বুঝাইয়াছেন।” কেউ বলিতেছে—“উনি হয়তো ‘সাংবাদিক’ বলতে ‘সাংবাদিক না’ বুঝাইয়াছেন।”

এইরূপে তথ্যের তাফসির চলিতেছে। একদিকে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলিতেছে—“পুলিশের হাতে মারধর, রাজনৈতিক কর্মীদের হামলা, সংবাদপত্র অফিসে আক্রমণ বাড়িয়াছে।” অন্যদিকে তথ্য উপদেষ্টা বলিতেছেন—“আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করিয়াছি। সফলতা বা ব্যর্থতা বলিবার কিছু নাই।” শুনিয়া জনগণ বলিতেছে—“তাহা হইলে ব্যর্থতাই সফলতা?”

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য যদি সত্য হয়, তাহা হইলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে জেলে পাঠানো উচিত। তাহারা মিথ্যা তথ্য ছড়াইতেছে। তাহারা বলিতেছে—“সাংবাদিক নির্যাতিত।” অথচ উপদেষ্টা বলিতেছেন—“সাংবাদিক নির্ভীক।” তাহারা বলিতেছে—“মত প্রকাশে বাধা।” অথচ উপদেষ্টা বলিতেছেন—“মত প্রকাশে উৎসাহ।”

এইরূপে তথ্যের তাফসিরে জাতি বিভ্রান্ত। কেউ বলিতেছে—“তথ্য উপদেষ্টা তথ্য হারাইয়াছেন।” কেউ বলিতেছে—“তথ্য উপদেষ্টা তথ্যের উপদেষ্টা নন, তথ্যের প্রতিপক্ষ।” কেউ বলিতেছে—“তথ্য উপদেষ্টা তথ্যের বদলে তাফসির দিতেছেন।”

এদিকে সাংবাদিকেরা বলিতেছেন—“আমরা মত প্রকাশ করিয়াছি, কিন্তু মত প্রকাশের পর মতামত হারাইয়াছি।” কেউ বলিতেছে—“আমার কলম ছিল, এখন কলমের বদলে কোর্টের হাজিরা।” কেউ বলিতেছে—“আমার রিপোর্ট ছিল, এখন রিপোর্টের বদলে রিমান্ড।”

তাই এখন প্রয়োজন একখানা “তথ্য তাফসির কমিশন”। এই কমিশন ঠিক করিবে—কোন তথ্য সত্য, কোন তথ্য উপদেষ্টা, কোন তথ্য উপদেষ্টার উপদেষ্টা, আর কোন তথ্য জনগণের তথ্য।

এই কমিশন বলিবে—“আনিস আলমগীর জেলে যান নাই, কিন্তু জেলের ছায়া তাঁহার উপর পড়িয়াছিল। পান্না মত প্রকাশ করিয়াছেন, কিন্তু মত প্রকাশের পর মতামত প্রকাশ করিতে পারেন নাই। বাকিরা মত প্রকাশ করিয়াছেন, কিন্তু মত প্রকাশের পর মত হারাইয়াছেন।”

এইভাবে চলিতেছে তথ্যের তাফসির, মতের মিছিল, সাংবাদিকের শোকগাথা। তথ্য উপদেষ্টা বলিতেছেন—“আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করিয়াছি।” জনগণ বলিতেছে—“আমরা সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরিয়াছি।” সাংবাদিক বলিতেছেন—“আমরা সর্বোচ্চ রিমান্ড খাইয়াছি।”

লেখক: এক ক্লান্ত পেনসিল; তথ্যের তফসির মিলাইতে তবদা খাইয়াছি

ফেরেশতা রিমান্ড ও জান্নাতের ফ্র্যাঞ্চাইজিবাংলাদেশে নির্বাচন শেষ হইয়াছে। ফলাফল প্রকাশিত হইয়াছে। কিন্তু যাহারা বলিয়াছিল—“আ...
13/02/2026

ফেরেশতা রিমান্ড ও জান্নাতের ফ্র্যাঞ্চাইজি

বাংলাদেশে নির্বাচন শেষ হইয়াছে। ফলাফল প্রকাশিত হইয়াছে। কিন্তু যাহারা বলিয়াছিল—“আমাদের জয়ে স্বয়ং আল্লাহতাআলা কাজ করিতেছেন, ফেরেশতারা মাঠে নামিয়াছেন, গায়েবী শক্তি সক্রিয়”—তাহাদের মুখে এখন তালা। ইহা কি ইমানের পরীক্ষা, না কি ইহকালের ফাঁকি?

তাহারা বলিয়াছিল, “আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করিব। ভোট মানেই জান্নাতের টিকিট।” বিশেষ ভিসা ব্যবস্থাও চালু হইয়াছিল—“আমাদের ভোট দিলে জান্নাত নিশ্চিত।” জনগণ ভাবিয়াছিল, “ব্যালট বাক্সেই বেহেশতের দরজা।” কিন্তু ফলাফল প্রকাশ পাইতেই দেখা গেল—সবই কথার ফানুশ। এখন প্রশ্ন—খোদাতাআলা তাহাদের কী রিমান্ডে নিবেন?

তাহারা উল্টা করিয়া ঝুলাইয়া বাইড়াইতে বাইড়াইতে বলিবেন—“কেন আমাদের এরূপ হেনস্তা করিয়াছোস? আমার ফেরেশতাকূলকে জমিনে নামাইয়াছোস? কেন কেন কেন?” ফেরেশতারা বলিবেন, “আমরা তো নামি নাই, নামাইয়াছো বলিয়াছো কেন, কেন কেন?”

ইসলাম এখন কোণায় বসিয়া ভাবিতেছে—“আমাকে ভোটের নামে বেচিয়া দিয়া ইহকালের সওদা করিয়াছো? আজ যখন তোরা হারিয়াছিস, তাহা হইলে আমার কী নাম নিশানা মুছিয়া যাইবে?” ইমান কি ব্যালটের মত পরাজয়ের কালিমায় লিপ্ত হইবে?

ধর্মপ্রাণ মুসলিমমহল আসিয়া বান্ধিয়া বলিতেছে—“আমাদের কেন ভিনধর্মের অনুসারিদের কাছে অপদস্ত করিলি? কেন আমাদের জঙ্গী বানাইলি? কেন আমাদের নিয়া ছলচাতুরি করিয়া, মিথ্যা প্রলোভন দিয়া ইমান নষ্ট করিলি?” এক বৃদ্ধ বলিলেন, “আমার নাতি ভোট দিতে গিয়া বলিল—‘দাদা, জান্নাতের টিকিট নিতে গেলাম।’ এখন সে বলিতেছে—‘দাদা, টিকিট ভুয়া ছিল।’”

অন্যদিকে দুনিয়াবি পরাশক্তি, যাহারা দলটির কথায় ভরসা করিয়া বিলিয়ন ডলার পাঠাইয়া গোঁফে তেল মাখিতেছিল, তাহারা বলিতেছে—“আমরা দেশের তলদেশের তেল, গ্যাসের ভাগ নিব বলিয়া বিনিয়োগ করিয়াছিলাম। এখন আমাদের ডলার ফেরত দে হারামজাদারা!”

তাহারা গলায় পাড়া দিয়া বলিতেছে—“তোমরা বলিয়াছিলে, ‘আমরা জিতিব, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করিব, তোমাদের বিনিয়োগ নিরাপদ।’ এখন তোমরা হারিয়াছো, ইসলামও কোণায় বসিয়া কাঁদিতেছে, জনগণও বলিতেছে—‘আমরা প্রতারিত।’”

নির্বাচনে হারিয়া একূল ওকূল সব হারাইয়া দলটি এখন কী করিবে? তাহারা ইহকাল, পরকালের ডিলারশীপ হারাইয়া নতুন কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলিবে? “জান্নাত এক্সপ্রেস” বন্ধ হইয়াছে, এখন কি “রুহানি রিকশা” চালু হইবে?

এক নেতা বলিতেছেন, “আমরা নতুন ব্র্যান্ড আনিব—‘ইমান প্লাস’। ইহা হইবে উন্নয়ন ও আখেরাতের যৌথ প্যাকেজ।” অন্য নেতা বলিতেছেন, “আমরা ওয়াজে বলিব—‘হার মানেই পরীক্ষা, পরীক্ষা মানেই পুরস্কার।’” জনগণ বলিতেছে, “তাহা হইলে ভোট মানেই ওয়াজ?”

এইরূপে চলিতেছে পরাজয়ের পরবর্তী ব্যাখ্যা। কেউ বলিতেছে, “আমরা হারি নাই, আমরা হেরেছি।” কেউ বলিতেছে, “আমরা জিতি নাই, আমরা জাগিয়াছি।” কেউ বলিতেছে, “আমরা জান্নাত পাই নাই, আমরা জান্নাতের পথে আছি।”

তাই এখন প্রয়োজন একখানা “রুহানি রিমান্ড কমিশন”। এই কমিশন ঠিক করিবে—কে কাকে ফেরেশতা বানাইয়াছিল, কে কাকে জান্নাতের টিকিট বিক্রয় করিয়াছিল, কে কাকে গায়েবী শক্তির নামে ভোট চাইল, আর কে কাকে হারাইয়া এখন গামছা বাঁধিয়া গাছ খুঁজিতেছে।

লেখক: এক ক্লান্ত পেনসিল- ইহকাল পরকাল হারাইয়া পলায়নের রাস্তা খুঁজিতে তৎপর

বিশ্বকাপের গোপন চুক্তি ও গামছা গাঁথা গাছযাত্রাচলমান টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপে একখানা গোপন চুক্তি কার্যকর হইয়াছে। চুক্তির বিষয়...
10/02/2026

বিশ্বকাপের গোপন চুক্তি ও গামছা গাঁথা গাছযাত্রা

চলমান টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপে একখানা গোপন চুক্তি কার্যকর হইয়াছে। চুক্তির বিষয়বস্তু—বাংলাদেশকে বাদ দিয়া ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ। হায়দরাবাদ হইতে সেমাই, দিল্লী হইতে লাড্ডু, লক্ষ্ণৌ হইতে মশলা পান আসিয়া পড়িতেছে। ভারত বলিতেছে, “আপদ দূর হইয়াছে, খাও, আনন্দ করো।”

পাকিস্তান প্রথমে বাংলাদেশের বড়ভাই উপদেষ্টা সাজিয়া বলিয়াছিল—“তোমরা ভারতের মাটিতে খেলিতে যাইয়ো না। তাহারা নাপাক, তাহারা বিধর্মী। তাহাদের ডিজে নাচ দেখিলে আমাদের ওজু ছুটিয়া যাইবে।” বাংলাদেশ শুনিয়া জেহাদী জোশে বলিল—“গেলাম না কুফরির দেশে। না খেলিলে জাত যাইলেও ইমান রক্ষা পাইবে।”

সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবার পর পাকিস্তান বলিল—“আগের কথা বাদ, এখন আমরা যাইবো, খেলিবো। বিশ্বকাপ বলে কথা, মস্কারি নাকি?” বাংলাদেশ তখন দাঁড়াইয়া, মাথা চুলকাইয়া, গামছা বাঁধিয়া ভাবিতেছে—“এই প্রতারণা, এই জালিয়াতি করিলো বড়ভাই?”

বিসিবিতে ক্রন্দন রোল। মিরপুরে মাতম। তরুণ লালবাহিনী খাবি খাইয়া মুখ লুকাইতেছে। ফারুকি গাল হাত দিয়া ভাবিতেছে—“এইবার ওয়াজে বলিব, ‘বিশ্বকাপও একখানা ফিতনা।’” আর আসিফ নজরুল গলায় গামছা বাঁধিয়া গাছ খুঁজিতেছে—“কোথায় ঝুলিয়া যাইবে?”

বর্হিবিশ্ব তাবদা খায়া খামোশ। তাহারা বুঝিতে পারিতেছে না—“বাংলাদেশ খেলিতেছে না কেন?” কেউ বলিতেছে, “ইহা কি কৌশল?” কেউ বলিতেছে, “ইহা কি কাব্য?” কেউ বলিতেছে, “ইহা কি কেলেঙ্কারি?”

বাংলাদেশ বলিতেছে, “আমরা খেলি না, কারণ খেলিলে ইমান দুর্বল হয়।” ভারত বলিতেছে, “তাহা হইলে ইমানের বদলে লাড্ডু খাও।” পাকিস্তান বলিতেছে, “আমরা খেলিব, কারণ খেলাই ইমান।” এইরূপে ইমান ও ইনিংসের দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ হইয়া পড়িয়াছে মহা ফাঁপড়ে।

বিশ্বকাপের মাঠে এখন ভারত-পাকিস্তান খেলিতেছে আর বাংলাদেশে চলছে “গামছা গাঁথা গাছযাত্রা”। প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমী গলায় গামছা বাঁধিয়া গাছের ডালে ঝুলিবার স্থান খুঁজিতেছে। কেউ বলিতেছে, “আমার গাছ হইবে রমনা পার্কে।” কেউ বলিতেছে, “আমি ঝুলিবো সোহরাওয়ার্দীতে।” কেউ বলিতেছে, “আমি তো গাছ পাই না, আমি বাঁশে ঝুলিব।”

এদিকে বিসিবি বলিতেছে, “আমরা খেলি নাই, কারণ খেলিবার মাঠে ডিজে বাজে।” জনগণ বলিতেছে, “তাহা হইলে ডিজে বাদ দিয়া দোয়া করো।” বিসিবি বলিতেছে, “তাহা হইলে পাকিস্তান খেলিতেছে কেন?” জনগণ বলিতেছে, “তাহা হইলে আমরাও খেলিতাম।”

এইরূপে চলিতেছে বিশ্বকাপের গোপন চুক্তি। ভারত-পাকিস্তান খেলিতেছে, মিষ্টি খাইতেছে আর বাংলাদেশে চলছে গামছা গাঁথা গাছযাত্রা। কেউ বলিতেছে, “আমরা খেলি নাই, কারণ খেলিলে জান্নাত হারাই।” কেউ বলিতেছে, “আমরা খেলি নাই, কারণ বড়ভাই বলিয়াছিল।” বড়ভাই এখন খেলিতেছে আর ছোটভাই গাছ খুঁজিতেছে।

তাই এখন প্রয়োজন একখানা “ইমান ও ইনিংস সমন্বয় কমিশন”। এই কমিশন ঠিক করিবে—কোন মাঠে খেলিলে ইমান থাকে, কোন ডিজে বাদ দিলে ওজু থাকে, কোন বড়ভাই বিশ্বাসযোগ্য আর কোন গাছ ঝুলিবার উপযোগী।

লেখক: এক ক্লান্ত পেনসিল; ঝুলিতে ঝুলেতে জীবন নাশ

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when NMB: News er Mayere Baap posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share