31/07/2026
‘আমাকে এরেস্ট করেন, তবুও এদের (শিক্ষার্থীদের) ছেড়ে দেন। এদের কোনো অপরাধ নাই।’
জুলাইয়ের সে দুঃসাহসিক আইনজীবীর কথা ভুলে গেছেন?
মনে হয় না কেউ-ই ভুলে যাওয়ার কথা, শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যানের সামনে দু’হাত মেলে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
আজকের দিনে সেই অমর ইতিহাস রচনা করেছিলেন উনি।
সেদিন তিনি শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার প্রতিরোধ করতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। পুলিশ বারবার বলে আপনি সরে যান স্যার, আমাদেরকে কাজ করতে দেন; কিন্তু তিনি সরেন নাই। শেষ পর্যন্ত পুলিশ বাধ্য হয় প্রিজনভ্যানে থাকা সকল শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিতে।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বছর দুয়েক আগে এসময় আইনজীবী হয়ে রাজপথ এমনকি কোর্টে লড়াই করেছিলেন ছাত্রদের পক্ষে আজকে উনি সংসদে দেশের আইনপ্রণেতা।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে যখন হত্যাযজ্ঞ চালায় দেশের ছাত্র-জনতার ওপরে, তখন বহির্বিশ্বের চাপ তৈরি হওয়ায় হাসিনার খুনী আইপিজিকে সঙ্গে নিয়ে পলাতক ফ্যাসিস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ’এখানে কোনো শিশু মারা যায়নি, হয়ত দু—একজন কিশোর মারা গেছেন।’
৩ আগস্ট এই মিথ্যা স্টেটমেন্ট দেওয়ার পরদিন ৪ আগস্টে আবারো আদালতে দাঁড়ান এই ব্যারিস্টার মাহবুব খোকন। সেদিন তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন কোনো শিশু মারা যায় নাই, হয়ত কয়জন কিশোর মারা গেছেন। উনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উনি জানেন না শিশুর সংজ্ঞা!
মানবাধিকার কমিশন বলে একটা সংগঠন আছে দেশে, এটার কাজ কী কেউ জানে না৷ কতজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তার তালিকা তারা প্রকাশ করতে পারে নাই। তাদের কাজ কী?’
এরকম গাটস্ দেখানো আইনজীবী আমরা হাতেগোনা অল্প কয়জনকে পেয়েছি জুলাইয়ে। যারা আমাদেরকে চেনালেন সত্য এবং মিথ্যার সংঘাত যখন চলে তখন নিরবতা পালন করা অপরাধ এবং যারা ন্যায়ের পথে থেকে লড়াই করেন, তারাই হলেন আসল মানুষ।
ব্যারিস্টার খোকনের চেহারাটা চেনেন, রাজনৈতিক পরিচয় জানেন? অবশ্য সেটা জানার প্রয়োজন নাই!
পান থেকে চুন খসলে যারা বলে বেড়ান জুলাইয়ে বিএনপি গর্তে ছিল, তাদের কোনো অবদান নাই। ১৭ বছর পর তারা মুক্ত বাতাস দেখতে পেরেছে এই অমুক, তমুকদের কল্যাণে, তাদের জন্য ব্যারিস্টার খোকনদের রাজনৈতিক পরিচয়টা সামনে তোলে ধরা অস্বস্তির কারণ হতে পারে...!!!!!