27/09/2026
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন -এ কে এম রফিকুল ইসলাম
বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো টিভি | ঢাকা:
বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং জাতীয় পর্যায় থেকে উদীয়মান অ্যাথলেটদের বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে নতুন গতিতে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের তায়কোয়ানডো অঙ্গনের প্রথিতযশা সংগঠক মাহমুদুল ইসলাম রানা। বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ক্রীড়াঙ্গন যখন এক ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন একশ্রেণির অ-ক্রীড়াবিদ ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির ফেসবুককেন্দ্রিক অপপ্রচারের মুখে পড়েছে দেশের তায়কোয়ানডো অঙ্গন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা এ কে এম রফিকুল ইসলাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তায়কোয়ানডোর প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এ কে এম রফিকুল ইসলাম বিগত অ্যাডহক কমিটির সাথে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু নতুন প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও সংস্কার প্রক্রিয়ার ফলে সুবিধাজনক অবস্থান হারানোয় মূলত সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি বর্তমান নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তা ছাড়া, ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা মাঠপর্যায়ের অবদান বা ইতিহাস নেই। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত 'কুক্কিয়ন' ব্ল্যাক বেল্ট তো দূরের কথা, প্রাথমিক পর্যায়ের ইয়েলো বেল্ট ধারক হিসেবেও তাঁর কোনো রেকর্ড নেই। ব্যক্তিস্বার্থ ব্যাহত হওয়া ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে অপপ্রচারে লিপ্ত হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পেশাদার খেলোয়াড় ও অভিজ্ঞ কোচেরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল "এখন" এ প্রচারিত বিশেষ প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনটিতে বিগত কমিটির গাফিলতিতে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ হাতছাড়া হওয়া প্রসঙ্গে আলোচনা করার সময় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা উপস্থিত থেকে তায়কোয়ানডোর ভবিষ্যৎ এবং অ্যাথলেটদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে গঠনমূলক বক্তব্য দেন। তবে টেকনিক্যাল এডিটিংয়ের সময় টেলিভিশন চ্যানেলটি অন-স্ক্রিনে ভুলবশত 'বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো অ্যাসোসিয়েশন'-এর লোগো প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে খেলোয়াড় , কোচ ও কর্মকর্তাদের স্বার্থে ওই প্রতিবেদনটির ভিডিও পোস্ট ফেডারেশনের অফিশিয়াল পেজে শেয়ার করা হলে, এ কে এম রফিকুল ইসলাম সম্প্রচার মাধ্যমের ওই কারিগরি ভুলকে ভিত্তি বানিয়ে অপপ্রচারে নামেন।
এ বিষয়ে দেশের প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক ও জ্যেষ্ঠ তায়কোয়ানডো কোচেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্টভাবে জানান যে, একটি সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেলের প্রযুক্তিগত বা গ্রাফিক্সের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের দায় কোনোভাবেই ফেডারেশন বা তায়কোয়ানডো পরিবারের হতে পারে না। যেখানে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা স্বয়ং উপস্থিত থেকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, সেখানে বিভ্রান্তি ছড়ানো বা অন্য কিছু ভাবার কোনো অবকাশই থাকে না। কারণ মাহমুদুল ইসলাম রানা নিজেই বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের প্রতিচ্ছবি; তিনি স্বশরীরে উপস্থিত থাকা মানেই সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের উপস্থিতি ও অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এ কে এম রফিকুল ইসলাম ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ নয়। খেলায় যার কোনো অতীত অবদান বা ন্যূনতম যোগ্যতা নেই, কেবল ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষোভের বশে সে এ ধরনের ভিত্তিহীন সমালোচনা করছে ।
তবে কোনো প্রকার অপপ্রচারই যে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডোর মূল লক্ষ্য ও উন্নয়নকে স্থবির করতে পারেনি, তার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি ঘোষিত বিস্তারিত বর্ষপঞ্জিতে। সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানার স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাস থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যস্ততম সূচি নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশন। এর মধ্যে ১ থেকে ৩ অক্টোবর ঢাকায় রেফারি ট্রেনিং ও রিফ্রেশার কোর্স, ২ ও ৩ অক্টোবর ক্লাব কাপ ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশীপ, ৯ ও ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম ওপেন প্রতিযোগিতা, ২০ ও ২১ অক্টোবর ঢাকাতে ব্ল্যাক বেল্ট টেস্ট, এবং ৩০ ও ৩১ অক্টোবর কক্সবাজারে আন্তঃজেলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া নভেম্বরে ঢাকায় কোচেস ট্রেনিং ও রাজশাহীতে জেলা প্রতিযোগিতা এবং ডিসেম্বরে সিরাজগঞ্জে জুনিয়র প্রতিযোগিতা, গাজীপুরে ওপেন প্রতিযোগিতা ও ২৮ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত ঢাকায় ২৩তম জাতীয় সিনিয়র/জুনিয়র তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রকার অভিজ্ঞতা কিংবা আন্তর্জাতিক বেল্ট ছাড়া ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষোভনির্ভর এ ধরনের অপপ্রচার শুধু কোনো একক ব্যক্তিত্ব নয়, বরং দেশের সার্বিক তায়কোয়ানডো ক্রীড়ার ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা মাত্র। তবে সমস্ত চক্রান্ত ও অহেতুক বিভ্রান্তি কাটিয়ে, ঘোষিত এই বিশাল ক্রীড়া কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাহমুদুল ইসলাম রানার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তায়কোয়ানডো সংগঠকরা।