06/02/2026
“তোমার মা নাকি তোমার স্ত্রী?” ইসলাম কি বলে
_____________________________________
সৌদি ফতোয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ,আশ- শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল- ফাওযান হাফিযাহুল্লাহ [জন্ম: ১৩৫৪ হিজরী./১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ]—কে প্রশ্ন করা হয়েছিল:“কোনো ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক ভালো না হলে সে কী করবে?”
জবাবে হাফিযাহুল্লাহ বলেন—
«ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺰﻭﺟﺔ ﻻ ﺗﺘﻼئم ﻣﻊ ﻭﺍﻟﺪﺗﻚ ﻓﺄﺳﻜﻨﻬﺎ ﻭﺣﺪﻫﺎ ﻭﺃﺳﻜﻦ ﺃﻣﻚ ﻣﻌﻚ،ﺃﻭ ﻓﺎﻟﺘﻤﺲ ﺯﻭﺟﺔ ﻏﻴﺮﻫﺎ ﺗﺴﺎﻋﺪﻙ ﻋﻠﻰ ﺑﺮ ﻭﺍﻟﺪﺗﻚ.ﺃﻣﺎ ﺇﻧﻚ ﺗﻀﻴﻊ ﻭﺍﻟﺪﺗﻚ ﻭﺗﺬﻫﺐ ﻣﻊ ﺯﻭﺟﺘﻚ ﻭﺗﻄﻴﻊ ﺯﻭﺟﺘﻚ؛ﻫﺬﺍ ﺃﻣﺮ ﻻ ﻳﺠﻮﺯ،ﻫﺬﺍ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻘﻮﻕ.»
“যদি এই স্ত্রী তোমার মা ও বাবার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারে,তাহলে স্ত্রীকে আলাদা বাসায় রাখবে ও তোমার মাকে তোমার কাছে রাখবে।অথবা এমন আরেকজন স্ত্রী খোঁজবে যে তোমাকে তোমার মা বাবার খেদমতে সহযোগিতা করবে।কিন্তু এমনটি করা যে,তুমি তোমার মাকে (দূরে ঢেলে) অবহেলা করবে,তার অধিকার নষ্ট করবে এবং স্ত্রীর সঙ্গে চলে গিয়ে কেবল স্ত্রীর অনুগত হয়ে থাকবে এটি কোনো ভাবেই জায়েয নয়।এটি পিতা-মাতার প্রতি স্পষ্ট (উকূক) দুর্ব্যবহার।”(সালিহ আল-ফাওযান,মাজমূ‘আতু রাসায়িল দা‘ওয়িয়্যাহ ওয়া মানহাজিয়্যাহ, খণ্ড: ২;পৃষ্ঠা: ১৮৯)
বিখ্যাত ফকীহ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)
-এর এই ফতোয়াটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং বাস্তব মুখী।অনেক সময় পুরুষরা মা এবং স্ত্রীর দ্বন্দ্বে পড়ে দিশেহারা হয়ে যান।শাইখ এখানে শরীয়তের আলোকে একটি স্পষ্ট সমাধান দিয়েছেন।নিচে এই ফতোয়াটির সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:—
১. বাসস্থানের পৃথকীকরণ (স্ত্রীর অধিকার)
“ইসলামে স্ত্রীর একটি অন্যতম অধিকার হলো (‘আল- মাসকান আল-শারয়ি’) বা শরীয়তসম্মত পৃথক আবাসন।যদি স্ত্রী তার শাশুড়ির সাথে মানিয়ে নিতে না পারেন বা সেখানে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিঘ্নিত হয়,তবে স্বামী তাকে আলাদা থাকার ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য।শাইখ ফাওযান এখানে সেই অধিকারের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন”।
২. মায়ের সান্নিধ্য (সন্তানের দায়িত্ব)
“স্ত্রীকে আলাদা ঘর দেওয়ার অর্থ এই নয় যে,মাকেও আলাদা করে দিতে হবে।শাইখ স্পষ্টভাবে বলেছেন, তোমার মাকে তোমার সাথেই রাখো।কারণ মা বৃদ্ধ বয়সে শারীরিক ও মানসিকভাবে সন্তানের ওপর বেশি নির্ভরশীল থাকেন।সন্তানের জন্য জান্নাত লাভের সহজ পথ হলো মায়ের সেবা করা।মাকে একাকী ফেলে রাখা বা অবহেলা করা 'উকূক' (পিতামাতার অবাধ্যতা) এর শামিল”।
৩. অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা
“শাইখ একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন এমন জীবন সঙ্গিনী তালাশ করা যে মায়ের সেবা ও আনুগত্যে স্বামীকে সাহায্য করবে। এটি কেবল দ্বিতীয় বিবাহের পরামর্শ নয়,বরং বিয়ের আগেই জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনদারী ও সচ্চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়ার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।একজন দ্বীনদার স্ত্রী জানেন যে,স্বামীর জান্নাত তার মায়ের পায়ের নিচে, তাই তিনি সেই পথে বাধা না হয়ে সহায়ক হন”।
৪. ‘উকূক’ বা অবাধ্যতার কঠিন হুঁশিয়ারি
“ফতোয়াটির শেষ অংশটি অত্যন্ত কঠোর ও সতর্কতা মূলক।অনেক সময় দেখা যায়,স্ত্রীর চাপে পড়ে সন্তান মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয় অথবা আলাদা বাসায় একা ফেলে রেখে নিজেরা দূরে সুখে থাকার চেষ্টা করে। শাইখ এটিকে সরাসরি নাজায়েয এবং পাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।স্ত্রীর সন্তুষ্টির জন্য মায়ের হক নষ্ট করা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধগুলোর একটি”।
❝যখন পরিবারে মা এবং স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হয় না,তখন স্বামী হিসেবে আপনার ভূমিকা হবে একজন “ন্যায়পরায়ণ বিচারক” ও “সেতুবন্ধন” কারীর মতো।❞
আল্লাহই ভালো জানেন।
#হাদিস #ইসলাম