20/04/2026
কয়েকদিন ধরে ভালোই তাপপ্রবাহ চলছে দেশে। এরকম তীব্র গরমে সতর্ক না থাকলে শারীরিক নানা সমস্যার পাশাপাশি হিট স্ট্রোক এ মৃত্যুর আশংকা অনেক বেড়ে যায়।
হিট স্ট্রোক এ কি হয় আমাদের শরীরে?
বায়ুমন্ডল এর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের শরীর ও গরম হয়ে যায়। এর ফলে রক্তনালীগুলো খুলে যায়। এ অবস্থায় আমাদের শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা হৃতপিন্ডের জন্য কঠিন হয়ে যায়। এসব কারণে মৃদু কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে যার মধ্যে রয়েছে ত্বকে ফুসকুড়ি পড়া, চুলকানি এবং পা ফুলে যাওয়া যা রক্তনালী উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে।
এছাড়াও প্রচুর ঘাম হওয়ার কারণে শরীরে তরল পদার্থ ও লবণের পরিমাণ কমে যায়, গুরুতর ক্ষেত্রে দেহে এ-দুটো জিনিসের মধ্যে যে ভারসাম্য আছে তাতেও পরিবর্তন ঘটে।এসব কিছু একসাথে মিলিয়ে গরমে শরীর পরিশ্রান্ত হয়ে যেতে পারে এবং তার লক্ষণগুলো হচ্ছে:
১. মাথা চক্কর দেওয়া
২. বমি বমি ভাব
৩৷ নিস্তেজ হয়ে পড়া
৪. মূর্ছা যাওয়া
৫. কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়া
৬. পেশি সংকুচিত হওয়া
৭. মাথা ব্যথা
৮. প্রচণ্ড ঘাম হওয়া
৯. ক্লান্তি
১০. কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ
আর রক্তচাপ খুব বেশি কমে গেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
করণীয় (Immediate Actions) হিট স্ট্রোক হলে দ্রুত যা করবেন:
১. ঠান্ডা জায়গায় নিন
আক্রান্ত ব্যক্তিকে রোদ থেকে সরিয়ে ছায়া বা ঠান্ডা জায়গায় নিন।
২. শরীর ঠান্ডা করুন
ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছুন বা গোসল করান, ফ্যান/এসি চালু করুন, বরফ বা ঠান্ডা কাপড় গলা, বগল, কুঁচকিতে দিন
৩. পানি/স্যালাইন দিন (যদি সচেতন থাকে)
পানি, ORS (স্যালাইন) বা ঠান্ডা পানীয় দিন
৪. জরুরি চিকিৎসা নিন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন।
কিভাবে নিজেরা প্রতিরোধ করবো।!:
১. দুপুর ১১টা–৩টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলুন
২. নিয়মিত পানি পান/ফলের রস/তরল খাবার গ্রহন করুন
৩. হালকা ও ঢিলেঢালা কাপড় পরুন
৪. বাইরে গেলে ছাতা/টুপি ব্যবহার করুন
৫. অতিরিক্ত গরমের সময়ে ব্যায়াম বা কাজ এড়িয়ে চলুন গরমে
৬. প্রস্রাবের রঙের দিকে নজর রাখুন, তা হলুদ বা গাঢ় হলে অবশ্যই পানি পানের পরিমাণ বাড়ান।
তথ্য সূত্র: বিবিসি এবং স্বাস্থ্য বাতায়ন