Monirul Insider

Monirul Insider Writer | Analyzer | Creator

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতা ছিলেন, রাজনৈতিক গেইম প্লে খুব দ্রুত রিড করতে পারতে...
08/09/2026

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতা ছিলেন, রাজনৈতিক গেইম প্লে খুব দ্রুত রিড করতে পারতেন। যার ফলে খুব স্বল্প সময়ে বিএনপির মত বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। জিয়াউর রহমান সামরিক শাসক রূপে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরের মধ্যেই অনুভব করলেন এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে যেকোনো দিন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এই বোধগম্যতায় তাকে নতুন দল গঠনে সাহায্য করেছে। তারপর তিনি ওনার ব্যক্তিগত সামরিক পাওয়ার ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা কাজে লাগিয়ে একটি দল গঠন করেন।

জিয়াউর রহমান দেখেন যে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর আওয়ামী লীগ দলটি মৃত প্রায় কঙ্কালসারে পরিণত হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রিয় নেতা রয়েছে, যাদের তৃণমূলে সর্বসাধারণের কাছে খুব গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে । পাশাপাশি মাওলানা ভাসানীর ভাসানী ন্যাপ ফ্রন্ট, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা রয়েছে। তিনি সারা দেশের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের লিস্ট করে সবাইকে ওনার সিগনেচার সংবলিত চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানান নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার জন্য।

প্রথমত তিনি চলমান দেশের সামরিক শাসক, দ্বিতীয়ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সামরিক কর্মকর্তা ও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ওনার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই ওই প্রেরিত চিঠির অধিকাংশ নেতা জিয়াউর রহমানকে না বলতে পারেনি। তারা সবাই জিয়াউর রহমানের দলে যোগদান করে। ওভারনাইট জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট থেকে বিএনপি দলটি আত্মপ্রকাশ করে।

এটি ছিল জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, তিনি প্লেসমেন্ট বুঝে জায়গা মত সিদ্ধান্তটা নিতে পেরেছিলেন বলেই একটি জনপ্রিয় দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি যদি আবার বিশেষ রাজনৈতিক দলের উপর দ্রোহ মনোভাব রাখতেন তাহলে হয়তো সম্ভব ছিল না।

ঠিক এমন একটি সুযোগ ছিল বর্তমান এনসিপি নামক দলটির। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা না থাকায় দলটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারেনি। একটু খেয়াল করে দেখুন এনসিপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের যত নেতৃবৃন্দ রয়েছে তাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ থেকে ম্যানিপুলেট হওয়া। তার মানে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী রাজনৈতিক দল ছাত্রলীগ যুবলীগ থেকে অনেক নেতা এনসিপিতে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল, কিন্তু এনসিপি এই সুযোগটা ব্যবহার না করে তাদের প্রহার করেছে।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একটা হতাশা ও সাহারা মরুভূমির ন্যায় শূন্যতা কাজ করছিল। স্থানীয় নেতারা ঠিক কি করবে বুঝতে পারতেছিল না ৷ যার ফলে অধিকাংশ স্থানীয় নেতৃত্ব রীতিমতো ভগ্নদশা হয়ে অবস্থান করছিল। আর এনসিপির চলছিল জয়রথ ৷ ড. ইউনুস যদি এই মুহূর্তে তরুণ নাহিদ, সারজিস, হাসনাতদের পাশাপাশি সারা দেশের স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের চিঠি মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানাত যে, সবকিছু ভুলে চলুন আমরা নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করি। তখন ড. ইউনূসের যে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা ছিল তখন কেউ না করার সাহস দেখাত না। পাশাপাশি অনেক বিএনপির নেতৃবৃন্দও যোগদান করত। কিন্তু এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী এই সুযোগটা না নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রহার করেছে। যার ফলে তারা আরো বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। আর বর্তমানে এনসিপি যৌবন হারিয়ে বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া দলে পরিণত হয়েছে। বন্যার্তদের টাকা মেরে দেওয়া, চাঁদাবাজি, মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়ন, দুর্নীতির মতো নানা আপত্তিকর অভিযোগ রয়েছে।

এইজন্য বলি নাহিদ হাসনাতরা কোনোদিন জিয়াউর রহমান হতে পারবে না। শুধু শাহবাগ পল্টনে গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিলেই নেতা হওয়া যায় না, রাজনৈতিক পরিবেশের সাথে অভিযোজন ও প্লেসমেন্ট বুঝে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

একটি রাজনৈতিক দল কিভাবে জনপ্রিয় ও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলা যায়, তার উৎকৃষ্ট ও আদর্শিক উদহারণ হলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান যে স্পৃহা নিয়ে বিস্ফোরক রূপে জাতির কাছে আবির্ভূত হয়েছিল, সেই স্পৃহা সেই ত্যাগের ফলে বাংলাদেশ নামক দেশ...
08/09/2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থান যে স্পৃহা নিয়ে বিস্ফোরক রূপে জাতির কাছে আবির্ভূত হয়েছিল, সেই স্পৃহা সেই ত্যাগের ফলে বাংলাদেশ নামক দেশটির কোনো আমূল পরিবর্তন হয়েছে কি? মাঝখানে কিছু টোকাই নেতা হয়েছে, রাজনৈতিক সিস্টেম সেই পূর্বের ন্যায় বহাল রয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে জুলাই বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল দেশে নাগরিক অধিকারের সাম্যতা ছিল না, কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে চাকরি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ছিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ছিল, বাক স্বাধীনতা ছিল না, আইনের প্রয়োগ ছিল না সহ নানা অভিযোগ।

ড. ইউনূস সরকার ও বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে দেশের সামগ্রিক চিত্রের কোনো পরিবর্তন সাধিত করতে পেরেছে কি? বরং দেশটা চাঁদাবাজ লুটপাটের বস্তিতে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনার সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পেছনে সিন্ডিকেটের যে দায়টা দেওয়া হয়েছিল বিগত দুই সরকার এসে তার ১ শতাংশ কমাতে পেরেছে কি, আরো ১০-২০% শতাংশ বাড়িয়েছে! প্রশ্ন এখন সিন্ডিকেট কে করে? নেই আইনের সুশাসন, নেই বাকস্বাধীনতা, বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকটে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিল্প কারখানা, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস প্রায়, ঋণ খেলাপিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। যে কোটা নির্মূলের আন্দোলন হয়েছিল সে কোটা এখনো বহাল, নেই কারো প্রতিবাদ।

মব জাস্টিসের নামে দেশের আনাচে কানাচে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই মবকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছিল ‘মানুষের সামগ্রিক ক্ষোভের নামে।’

জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে জাস্ট একটি সরকার পরিবর্তন হয়েছে, দেশের উন্নয়ন ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির বিকাশকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য ও মার্কিন দাসত্বকে বরণ করে নেওয়ার জন্য। আর কোনো পরিবর্তন সাধিত হয়নি।

সুতরাং কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় আমার ভেতর মানবিক উদ্বেগ কাজ করবেনা। কারণ আমি হাজার হাজার মানুষ হত্যা, ঘরবাড়ি জ্বালাও পোড়ানোর দৃশ্য দেখেছি। গতকাল যা ঘটেছে তা আর এমন কি!

আমি ছোটবেলায় যার কাছ থেকে কোরআন শরীফ পড়তে শিখেছি, তিনি আমার মহল্লার মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে চাকরি করতেন। অত্যন্ত বিনয়ী ...
07/09/2026

আমি ছোটবেলায় যার কাছ থেকে কোরআন শরীফ পড়তে শিখেছি, তিনি আমার মহল্লার মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে চাকরি করতেন। অত্যন্ত বিনয়ী ও নরম মনের মানুষ ছিলেন, আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। ব্যক্তিগতভাবে আমাদের পরিবারের সাথে ওনার ভালো সম্পর্ক ছিল। টানা ১০ বছর আমাদের মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন, শুরু দিকে ৩০০০ টাকা বেতন পেতেন, শেষ দিকে ৫০০০। উল্লেখ যে মসজিদ কমিটিরা টাকা নিয়ে বেশ গড়িমসি করত, এমনও দেখা গিয়েছে হুজুরের ৩/৪ মাসের বেতন বকেয়া আটকে থাকত। তারপরও তিনি কিছু বলতেন না।

সম্প্রতি মসজিদ কমিটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ওনাকে অপদস্ত করে মসজিদের দায়িত্ব থেকে বের করে দিয়েছে। দোষ দিয়েছে ওনার আরবি পড়া সহিহ শুদ্ধ হয়না। অথচ তিনি টানা ১০ বছর এই মসজিদে নামাজ পড়িয়েছেন, তখন কারো সমস্যা হয়নি। প্রকৃত সমস্যা হলো, সরকার মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনের জন্য ভাতা চালু করেছে। আর এটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে মসজিদ কমিটির ষড়যন্ত্র।

বিষয়টি খুব গভীরভাবে অনুধাবন করেছি এবং হুজুরের এমন বিদায়ে খুব কষ্ট পেয়েছি। মসজিদ কমিটিতে থাকা সবাই প্রবীণ বায়োজ্যেষ্ঠ বৃদ্ধ হওয়ায় ওনাদের উপর কথা বলার সাহস করিনি। যদি আদবের খেয়ানত হয় এই ভেবে।

কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক যে পড়াশোনাটা হয় এই পড়াশোনার সনদের কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। যার কারণে সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিতে চায়না। পরিশেষে তাদের মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনের চাকুরির পেছনে ঘুরতে হয়। তারপর আবার মাদ্রাসা, মসজিদের দায়িত্বে থাকা কমিটির কাছে অপমান অপদস্ত হতে হয়!

সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, কোরআন শিক্ষা কেবল কওমি মাদ্রাসার উপর ডিপেন্ডেড না হয়ে, প্রাইমারি স্কুল থেকে একজন কোয়ালিফাইড ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া, যিনি খুব যত্ন সহকারে শিশুদের কোরআন শেখাবে। মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে কোনো মাদ্রাসা নেই, ডিরেক্ট স্কুল গুলোতে কোরআন শেখানো হয়। সরকার যদি এই সিদ্ধান্তটা নেয় তাহলে অত্যন্ত যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হবে।

স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষার বই দেওয়া হয়, কিন্তু কোয়ালিফাইড ধর্মীয় শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণভাবে শিক্ষাটা পায়না। সরকারের উচিত এই বিষয়টি একান্তভাবে মনোযোগ দেওয়া। ধর্মীয় মূল্যবোধ ব্যতীত মানবিক মূল্যবোধ অর্জন সম্ভব নয়। পৃথিবীর কোনো ধর্মই মানুষকে অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করে না। মানুষকে শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের পথে ধাবিত করতে নির্দেশনা দেয়।

বর্তমান পৃথিবীতে যে দেশগুলো অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির দিক থেকে ক্রমশ এগিয়ে যেমন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত, যুক্তরা...
07/09/2026

বর্তমান পৃথিবীতে যে দেশগুলো অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির দিক থেকে ক্রমশ এগিয়ে যেমন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, ইরান, উত্তর কোরিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, তুরস্ক, স্পেন, জাপান, এই দেশগুলোর সেনাপ্রধানের নাম জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই গুগল অথবা চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিতে হবে। কিন্তু পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের নাম আপনি এক নিঃশ্বাসেই বলে ফেলবেন ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনির! তার কারণ পাকিস্তানের রাজনীতিতে দেশটির সেনা কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ থাকে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে বহিষ্কার করে তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করেছে জেনারেল ক্রিস্টোফার ল্যানিভকে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যদি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখায়, পরেরদিন তার প্রধানমন্ত্রীত্ব থাকবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে ৷

পাকিস্তান নামক দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সুস্থ পরিবেশ ক্ষমতালোভী সেনা কর্মকর্তারা যুগে যুগে ধ্বংস করে দিয়েছে। আদর্শিক রাজনৈতিক পরিবেশ না থাকার কারণে সরকার দেশ ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে জনহিতকর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সেনা কর্মকর্তারা একপেশে নিজেদের ভোগ-বিলাশ ও সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে। তারপর অবসরে চলে যাওয়ার পর জমানো অর্থ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে পাড়ি জমায়। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা থাকে না।

দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন হওয়ার কারণে দেশটির অনেক অঞ্চল রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । পাকিস্তানের দক্ষিণ প্রদেশ বেলুচিস্তানে বৃহৎ খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের খনি রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে বৃহৎ বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা। মোট অর্থনীতির প্রায় ৫০ শতাংশ সাপোর্ট আসে বেলুচিস্তান থেকে। তারপরও সরকার প্রদেশটির নাগরিক জীবন উন্নয়নের উপর কোনো নজর দেয়না। দীর্ঘ সময় এভাবে অধিকার বঞ্চিত থাকার কারণে বেলুচিস্তানের সাধারণ মানুষ ফুঁসে উঠেছে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করার লক্ষ্যে। বর্তমানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এতো লাজুক যে যেকোনো দিন বেলুচিস্তান স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এর পেছনে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী দেশের সেনাবাহিনী।

বেলুচিস্তান সংকট এর পেছনে ভারতের হাত আছে বলে পাকিস্তান সরকার দায় চাপাবে, আর বেলুচিস্তানের সাধারণ মানুষের উপর সেনাবাহিনী গণহত্যা চালাবে। তাদের দাবি ভারত নাকি বেলুচিস্তানের সংগ্রামী মানুষদের অর্থনৈতিক ও মারণাস্ত্রের সাপোর্ট দিচ্ছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার সময়ও পাক সরকার অনুরূপ ভারতকে দোষারোপ করেছিল । অথচ পাকিস্তান সরকারের নাগরিক সমঅধিকার বাস্তবায়নের নাম নেই।

আপনি যদি সকল অঞ্চল ও নাগরিকদের সমান চোখে না দেখেন তাহলে একদিন সম্মিলিত বিপ্লব জেগে উঠবে এটাই স্বাভাবিক, এর দায় আপনার এবং আপনার রাজনৈতিক সিস্টেমের। এখানে অন্যদেশকে দায়ী করে কোনো কাজে আসবে না। ভারত যেহেতু আপনার শত্রু সে সব সময় আপনার অনিষ্ট কামনা করবেই। প্রশ্ন হচ্ছে আপনি এই সুযোগ ভারতকে দিচ্ছেন কেন? আপনি নাগরিক জীবনের সম অধিকার সমভাবে বাস্তবায়ন করলেই তো ভারত এই সুযোগ নিতে পারে না। সুতরাং এই দোষ যে পাকিস্তানের তা এড়ানোর সুযোগ নেই!

সেনাবাহিনী হলো দেশের গার্ড, পাকিস্তান ব্যতীত অন্যান্য যে দেশগুলোর নাম উল্লেখ করেছি, একটু খেয়াল করে দেখুন ওই দেশগুলোর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। এই জন্যই ওই দেশগুলো আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি, বিশ্বের কাছে রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি পরিষ্কার যে, যে দেশের সেনাবাহিনী দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে সে দেশের কোনো উন্নতি নেই ।

পাকিস্তান যতদিন সেনাবাহিনীর ইন্টারফেয়ার বাদ দিয়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশে ফিরতে না পারবে ততদিন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্রাইসিস লেগেই থাকবে। বেলুচিস্তানকে বাঁচাতে হলে পাকিস্তানে সঠিক রাজনৈতিক চর্চা ফেরাতে হবে। একটু স্পষ্টভাবে বলি ইমরান খান পাকিস্তানের সরকার ক্ষমতায় আসলে বেলুচিস্তানের সাথে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাটা মিটে যাবে। যা বর্তমান অধা সামরিক সরকার দ্বারা সম্ভব না।

প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা ও প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে পাইপ লাইনে উঠে আসা তরুণ নেতৃত্ব এক্স...
07/09/2026

প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা ও প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে পাইপ লাইনে উঠে আসা তরুণ নেতৃত্ব এক্স-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। পাইপ লাইন থেকে উঠে আসা তরুণ নেতৃত্বরা যদি নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও দূরদর্শিতা ধরে রাখতে না পারে, তাহলে ওই রাজনৈতিক দলটিকে একটি দীর্ঘ সময় সাফার করতে হয়।

আওয়ামীলীগের কথাই ধরুণ জিল্লুর রহমান, সৈয়দ আশরাফ, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, মঈনুদ্দিন খান বাদল, মতিয়া চৌধুরীসহ উল্লেখযোগ্য শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ইতি ঘটার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের স্থিতিশীলতায় চরম শূন্যতা দেখা দেয়, যার ফলে দলটি প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছিল না । ফলস্বরূপ আওয়ামীলীগকে একটি অন্ধকার সময় পার করতে হচ্ছে।

বিএনপি রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি দীর্ঘ সময় অন্ধকার পার করে মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, মীর্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ প্রমুখের দূরদর্শী নেতৃত্বে পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনায় কামব্যাক করে। কিন্তু বর্তমানে যে সরকার নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের অধিকাংশ জন রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ দিকে অবস্থান করছে। অর্থাৎ পাঁচবছর পর তাদের মধ্যে অধিকাংশ জনই থাকবে না। ইতিমধ্যেই মীর্জা আব্বাস প্রায় সরে গিয়েছেন বলা চলে। তারপর বিএনপিকে পাইপ লাইনে উঠে আসা পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বের উপর নির্ভর করতে হবে। কিন্তু বিএনপির পরবর্তী প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রায় অন্ধকার।

বিএনপির পাইপলাইনে রয়েছে রাশেদ খান, মেঘনা আলম, ভিপি নূর, ইশরাক হোসেন, হুম্মাম কাদের, ববি হাজ্জাজ, আমিনুল হক, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, শমা ওবায়েদ, রকিবুল হাসানসহ কিছু উল্লেখযোগ্য নাম। যারা প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

রাশেদ খানের শিশুসুলভ রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিটি ইতিমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ, মেঘনা আলম নিজেকে ভার্জিন প্রমাণ করতে ব্যস্ত, ভিপি নূর উত্তেজিত হয়ে কিনা কি বলে ফেলে , ইশরাক হোসেন বয়সন্ধিকালের চাঞ্চল্যতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, শমা ওবায়েদ নিজেকে আব্বাস অরাঘচির মত ক্রিটিকাল ফরেন অ্যাফেয়ার্স মিনিস্টার ভাবে কিন্ত কাজে শূন্য। মোটামুটি এদের সকলেই প্রজন্মের কাছে এখনিই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এদের দ্বারা মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রহুল কবির রিজভীর লিগ্যাসি টানা সম্ভব না।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ একটি অন্ধকার সময়ে থাকলেও নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা একদম সেইফ হ্যান্ডে রয়েছে, এরা ইতিমধ্যেই প্রজন্মের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্য ও অধিকাংশ জনই তারুণ্যের আইডল রূপে প্রতিষ্ঠিত।

তারা হলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, ব্যারিস্টার সুমন, এমপি শিবলি সাদিক, শেখ তন্ময়, মহিবুল হাসান নওফেল, জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাদ্দাম হোসেন, গোলাম রব্বানীসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ যেন রাশিয়ার প্রযুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে না পারে, শুরু থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ...
07/09/2026

বাংলাদেশ যেন রাশিয়ার প্রযুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে না পারে, শুরু থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাধা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যথেষ্ট বিবাদ বাধে। এমনকি রসাটমের জাহাজ পারমাণবিক সরঞ্জাম নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করে, যেন সরঞ্জাম খালাস করতে না পারে। এমনকি সরঞ্জাম পুড়িয়ে ফেলার মত ঘটনা ঘটেছিল। এই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একাধিকবার বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপ তো ছিলই। তারপরও শেখ হাসিনা সকল মার্কিন বৈরী পরিবেশ উপেক্ষা করে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর ফাইনাল পর্যায়ে নিয়ে যান।

যুক্তরাষ্ট্রের বাধা দেওয়ার প্রধান কারণ, বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে রাশিয়ার বড় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসার হোক তা চায়নি। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি স্ট্র‍্যাটেজিক এরিয়া হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। তার বড় বাধা ছিল শেখ হাসিনা, পরবর্তীতে সকল ষড়যন্ত্র ও কূটচালের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিতে সফল হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র ড. ইউনূসকে ইন্টেরিম সরকার বানিয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি করে নেয়, তার মধ্যে অন্যতম রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট। এই এগ্রিমেন্টের অন্যতম শর্ত হল, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে এমন দেশের সাথে কোনো বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখতে পারবে না বাংলাদেশ।

যার ফলে বাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ইতি ঘটেছে। অর্থাৎ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি সহায়তা দিতে বাধা এই চুক্তি। এর পেছনের হাত সরাসরি আমেরিকার ও ড. ইউনূসের।

বর্তমান সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে চালু নিয়ে বেশ গড়িমসি করছে, সেপ্টেম্বরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা ছিল। গতকাল সরকার পক্ষ জানিয়েছে কারিগরি ত্রুটির জন্য চালু করতে পারছে না, এটি ঠিক হতে অন্ততঃ ১/২ বছর লাগবে।

মূলত এসব সবই মার্কিনপন্থী বিএনপি সরকারের নাটক। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে যত বিলম্ব হবে ধরে নিবেন এর পেছনে রয়েছে আমেরিকা ও বিএনপির হাত।

আমেরিকার কোলে বসে ও আইএমএফের ঋণ নিয়ে স্বাধীনভাবে কিছুই করা যায় না। লোন দিবে কিন্তু লোনের টাকা দিয়ে স্বাধীনভাবে কিছুই করতে দিবে না আপনাকে তারেক সাহেব। আপনি এখন চাচ্ছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হোক, কিন্তু ক্ষমতায় আসার লোভে নিজের স্বাধীনতা বর্গা দেওয়ার কারণে আজ স্বাধীনভাবে দেশের কোনো কিছুতেই প্রভাব রাখতে পারছেন না।

দোষ কিন্তু আপনারই!

ইসলামের প্রধান শত্রু কোন দেশ? এমন একটি প্রশ্ন আপনাকে যদি করা হয় তাহলে নিশ্চিত অর্থেই আপনার উত্তর হবে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর...
06/09/2026

ইসলামের প্রধান শত্রু কোন দেশ? এমন একটি প্রশ্ন আপনাকে যদি করা হয় তাহলে নিশ্চিত অর্থেই আপনার উত্তর হবে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর আসবে ইসরায়েল, যে যুক্তরাষ্ট্রের কো অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার কো অ্যাসিস্ট্যান্ট ইসরায়েল ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালাচ্ছে তো বটেই, মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতা যারা শিরদাঁড়া উচু করে ইসলামের আদর্শকে ধারণ করে দেশ পরিচালনা করত, তাদের সবাইকে কূটকৌশলে হত্যা অথবা ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি, মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। শুধু শীর্ষ নেতাদের সরিয়ে ক্লান্ত হয়নি প্রতিটি জাতির উপর গণহত্যা চালিয়েছে এবং ঘাঁটি নির্মাণ করে দাসত্বে ঢেকে দিয়েছে।

তারপরও এদেশের তথাকথিত ইসলাম নামধারী রাজনৈতিক দলগুলোর মহব্বত ও সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। প্রশ্ন রাখলাম আপনাদের কাছে, এরা কি ইসলাম ধারণ করে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পর ইসলামের শত্রু হিসেবে ভারতের নাম উচ্চারণ হয়। কিন্তু ভারত ইসলামের মূল ধারার শত্রু নয়। ভারত হলো বাংলাদেশের প্রতিবেশী হিসেবে স্ট্রাটেজিক এনেমি। কানাডা ও মেক্সিকো যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু মনে করে, আফগানিস্তান যেমন পাকিস্তানকে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যেমন চীনকে, ইন্দোনেশিয়া যেমন অস্ট্রেলিয়াকে, ঠিক তেমনি। ভারতে যেটা চলে সেটা হলো বিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িকতা। তাই বলে ভারতে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলিম নিধন চলে না। উপমহাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠদের কাছে কিছুটা থিতু আকারে থাকে। এটা বাংলাদেশেও বিরাজমান।

তারপরও ভারতকে ইসলামের শত্রু হিসেবে ধরে নিলাম। ভারত যদি ইসলামের শত্রু হয় তাহলে চীন ভারতের থেকে অনেক এগিয়ে থাকবে। চীনের সিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমদের উপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে চীন সরকার । প্রায় ১০-১৮ লাখ মুসলিমদের ক্যাম্পে আটকিয়ে রেখে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে ধর্মত্যাগ করতে প্রহার করেছে, এখনো চলমান। এতে হাজার হাজার মুসলিম নিহত হওয়ার খবর রয়েছে।

কিছুদিন আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে চীনের সরকার নিংশিয়া ও গানসু প্রদেশে ৩০০ মসজিদ ভেঙেছে। এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউটের জরিপে এসেছে চীন সিনজিয়া প্রদেশে প্রায় ১৬ হাজার মসজিদ ভেঙ্গেছে।

আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইসলাম নামধারী দলগুলো কেবল বাহ্যিক অবয়বে ইসলাম ধারণ করে। তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষ...
06/09/2026

আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইসলাম নামধারী দলগুলো কেবল বাহ্যিক অবয়বে ইসলাম ধারণ করে। তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের এমনভাবে প্রদর্শন করে যেন তারা প্রকৃত অর্থেই রাসূলের সময়কালীন অ্যারাবিয়ান দর্শন লালন করছে। কিন্তু এর আড়ালে রয়েছে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও এজেন্ডা। দেখবেন তারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে খুব প্রতিবাদ করে, কিন্তু পর্দার আড়ালে আমেরিকার অ্যাম্বাবাসিতে গিয়ে বলে, আমজনতাকে সামাল দিতে কিছু করতে হয়।

তাদের অভ্যন্তরীণ চরিত্র এমন হওয়ার পেছনে তিনটি কারণ রয়েছেঃ-

১) ভারতীয় উপমহাদেশের কওমি আলেমরা ঐতিহাসিক ভাবে অর্থ ও দাপট সম্পন্ন ব্যক্তির প্রতি বেশ নরম, তাদের সান্নিধ্যে থাকতে একটু বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অনেক কওমি স্কলার বয়ানে মানুষকে বোঝায় রাসূল (সাঃ) আর্থিক স্বচ্ছতার জন্য হযরত খাদিজা (রা.) বিয়ে করেছিলেন। অথচ রাসূল (সাঃ) নিজেই আল্লাহর কাছ থেকে বাদশাহী নবুয়ত বাদ দিয়ে মজলুম নিপীড়িত মানুষের নবুয়ত বেছে নিয়েছিলেন।

দেখবেন কেউ যদি দোয়ার জন্য হাদিয়ার পরিমাণটা একটু বাড়িয়ে দেয় তাহলে তাদের দোয়া পড়াটা অনেক বড় ও আরো সুরেলা হয়। মানে প্রাচুর্য ও প্রভাবশালীদের প্রতি তাদের মমত্ব বেশ কোমল। সেখানে আবার যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র।

২) ১৯৬৯ সাল থেকে এদেশের প্রায় সকল কওমি আলেম প্রয়াত জামায়াতে ইসলামির আমির গোলাম আজমের অনুগত। তিনি তাদের যেভাবে কমান্ড করতেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা সেভাবেই পরিচালিত হতো ৷ এমনকি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশের কোনো কওমি আলেমরা বাংলাদেশ নামক দেশ জন্ম হওয়ার পক্ষে ছিল না। তার কারণ গোলাম আজমের নির্দেশ । যদিও তাদের অধিকাংশ জন দাবি করে তারা নিরপেক্ষ ছিল, নিরপেক্ষ থাকলেও মনের চাওয়ার দিকে থেকে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। জেনে রাখা ভালো, পাগল ব্যাতীত পৃথিবীতে নিরপেক্ষ মানুষ বলতে কিছু নেই।

এই গোলাম আজম ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একদম বিশ্বস্ত এজেন্ট। বাংলাদেশ না হওয়ার জন্য পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের অনেক দেশে ভ্রমণ করেছিল, স্বাধীনতার বিপক্ষে অ্যালায়েন্স গঠন করার জন্য।

সুতরাং গুরুর রাস্তা শিষ্যরা অনুসরণ করবে, এটা স্বাভাবিক নয় কি?

৩) কওমি মাদ্রাসায় অনেক কিতাব উর্দু ভাষায় লিপিবদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রে কোরআন শরীফের তাফসির বুঝতে তারা আরবি থেকে উর্দু ভাষায় ট্রান্সলেট করা কিতাব পড়ে । এই উর্দু ভাষা তাদের মনে পাকিস্তানের প্রতি ভালবাসা তৈরি করে। অনেক আলেমের দাবি উর্দু কিতাব পড়লেও নেকি পাওয়া যায়। তারপর আবার পাকিস্তানের ফরেন পলিসি সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র নির্ভর। যার ফলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অতিরিক্ত দুর্বলতা কাজ করে।

একটু খেয়াল করলে দেখবেন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমার কোনোকিছুতে তাদের আপত্তি নেই। সমসাময়িক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অসম বাণিজ্যিক চুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস পালন, এদেশে মার্কিন কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু ভারত হলেই তাদের আদর্শ জেগে উঠে।

তথাকথিত ইসলামি রাজনীতিবিদরা মার্কিন প্রেম লালন করলেও, পশ্চিমা সংস্কৃতিতে অ্যাডাপ্ট করার মতো স্মার্টনেস ও যোগ্যতা তাদের নেই৷ কিন্তু আওয়ামী লীগের সে যোগ্যতা রয়েছে, তারপরেও মার্কিন পলিসিকে তোয়াক্কা করেনা।

শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে আপনি রাজনৈতিক কারণে ঘৃণা করতে পারেন, কিন্তু সে বিশ্বের সেরা ইউনিভার্সিটি অব হার্ভাড থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছে। যেটির মর্ম এক দুই লাইন দিয়ে বুঝানো যাবে না। শুধু এটুকু বলি বাংলাদেশের প্রকৌশল, মেডিকেল ও পাবলিক ইউনিভার্সিটির প্রধান তথা ভাইস চেন্সেলরা যদি ইউনিভার্সিটি অব হার্ভাডে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যায় তাহলে তাদের মধ্যে একজনের চান্স হবে কিনা সন্দেহ। সুতরাং সজীব ওয়াজেদ জয়ের মেধা ও পাশ্চাত্য স্মার্টনেস অনেক উপরে।

অনুরূপ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, টিউলিপ সিদ্দিক অসম্ভব ব্রিলিয়ান্ট ও স্মার্ট । তারা তিনজন যদি এদেশের রাজনীতিতে ফিরে তাহলে তাদের স্মার্টনেস ও ব্রিলিয়ান্স তথাকথিত ইসলামি রাজনীতিবিদদের থেকে হাজারগুণে গ্রান্টেড হবে। কিন্তু তারা মার্কিন ও পশ্চিমার পা চাটে না। তার কারণ তারা সে সংস্কৃতিতে বড় হয়েছে। তাদের কাছে এটি অসাধারণ কিছু নয়। কিন্তু ইসলাম নামধারী দলগুলো পশ্চিমা শক্তিকে অমৃত মিষ্ট মনে করে৷

ভাবছি একদিন আপনাদের আইসক্রিম খাওয়াবো😋
06/09/2026

ভাবছি একদিন আপনাদের আইসক্রিম খাওয়াবো😋

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থেকে শুরু করে বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ চৌধু...
05/09/2026

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থেকে শুরু করে বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ চৌধুরী এ্যানিসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের সকল নেতৃবৃন্দ সব সময় বলে থাকে আওয়ামী লীগ দেশটাকে ধ্বংস করে গিয়েছে, তারা ধ্বংস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ তাদের দাবি আওয়ামী লীগ এতো পরিমাণ ঋণ করে গিয়েছে যে, তারা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।

এই বিষয়টা নিয়ে জনগণের মধ্যেও জল ঘোলাটে অবস্থা রয়েছে। বিএনপি এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাদের মুখে এমন বারংবার বক্তব্য শুনে মানুষের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে যে, হয়তো সত্যি! আজ তাদের জন্য আমার এই লেখা। কিছু গাণিতিক হিসেব থাকবে,আশা করি পড়বেন-

শেখ হাসিনা যখন ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসে তখন বাংলাদেশের মোট জিডিপি ছিল ৯১.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মোট ঋণ ছিল ৩৩.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শেখ হাসিনা যখন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছাড়ে তখন বাংলাদেশের মোট জিডিপি ছিল ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মোট ঋণ ছিল ১৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ( তথ্যসূত্র ডেইলি স্টার ও দৈনিক ইত্তেফাক)

এখন আসি,

শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় আসে মোট ঋণ ছিল মোট জিডিপির-
(৩৩.৬৬×১০০)÷৯১.৬১= ৩৬.৭৩%
অর্থাৎ ৩৬.৭৩% শতাংশ ঋণ নিয়ে শাসন শুরু করেছিলেন।

শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতা ছাড়ে তখন মোট ঋণ ছিল মোট জিডিপির-
(১৫৬×১০০)÷৪৫০= ৩৪.৬৬%
অর্থাৎ ৩৪.৬৬% ঋণ রেখে যান।

শেখ হাসিনা ১৭ বছরে ঋণের হার কমিয়ে আনে
৩৬.৭৩% - ৩৪.৬৬%= ২.০৭%

মানে ১৭ বছরে ঋণের হার ২.০৭% কমিয়ে এনেছেন, পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি করেছেন। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জিডিপির ৫০ শতাংশের নিচে ঋণের হারকে স্থিতিশীল অর্থনীতির মানদন্ডের নির্দেশক বলা হয়। সেখানে শেখ হাসিনা ৩৪.৬৬% ঋণের হার রেখে গিয়েছেন।

তিনি শুধু অসংখ্য মেগা প্রজেক্ট মানুষকে উপহার দেননি, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এনে দেশের অর্থনীতিকে একটি বৃহৎ ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ড. ইউনূসের এই অগ্রযাত্রা ভালো লাগেনি। তাই দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করতেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে কক্ষচ্যুত করেছে।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Monirul Insider posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share