08/09/2026
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতা ছিলেন, রাজনৈতিক গেইম প্লে খুব দ্রুত রিড করতে পারতেন। যার ফলে খুব স্বল্প সময়ে বিএনপির মত বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। জিয়াউর রহমান সামরিক শাসক রূপে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরের মধ্যেই অনুভব করলেন এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে যেকোনো দিন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এই বোধগম্যতায় তাকে নতুন দল গঠনে সাহায্য করেছে। তারপর তিনি ওনার ব্যক্তিগত সামরিক পাওয়ার ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা কাজে লাগিয়ে একটি দল গঠন করেন।
জিয়াউর রহমান দেখেন যে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর আওয়ামী লীগ দলটি মৃত প্রায় কঙ্কালসারে পরিণত হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রিয় নেতা রয়েছে, যাদের তৃণমূলে সর্বসাধারণের কাছে খুব গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে । পাশাপাশি মাওলানা ভাসানীর ভাসানী ন্যাপ ফ্রন্ট, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা রয়েছে। তিনি সারা দেশের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের লিস্ট করে সবাইকে ওনার সিগনেচার সংবলিত চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানান নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার জন্য।
প্রথমত তিনি চলমান দেশের সামরিক শাসক, দ্বিতীয়ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সামরিক কর্মকর্তা ও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ওনার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই ওই প্রেরিত চিঠির অধিকাংশ নেতা জিয়াউর রহমানকে না বলতে পারেনি। তারা সবাই জিয়াউর রহমানের দলে যোগদান করে। ওভারনাইট জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট থেকে বিএনপি দলটি আত্মপ্রকাশ করে।
এটি ছিল জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, তিনি প্লেসমেন্ট বুঝে জায়গা মত সিদ্ধান্তটা নিতে পেরেছিলেন বলেই একটি জনপ্রিয় দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি যদি আবার বিশেষ রাজনৈতিক দলের উপর দ্রোহ মনোভাব রাখতেন তাহলে হয়তো সম্ভব ছিল না।
ঠিক এমন একটি সুযোগ ছিল বর্তমান এনসিপি নামক দলটির। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা না থাকায় দলটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারেনি। একটু খেয়াল করে দেখুন এনসিপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের যত নেতৃবৃন্দ রয়েছে তাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ থেকে ম্যানিপুলেট হওয়া। তার মানে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী রাজনৈতিক দল ছাত্রলীগ যুবলীগ থেকে অনেক নেতা এনসিপিতে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল, কিন্তু এনসিপি এই সুযোগটা ব্যবহার না করে তাদের প্রহার করেছে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একটা হতাশা ও সাহারা মরুভূমির ন্যায় শূন্যতা কাজ করছিল। স্থানীয় নেতারা ঠিক কি করবে বুঝতে পারতেছিল না ৷ যার ফলে অধিকাংশ স্থানীয় নেতৃত্ব রীতিমতো ভগ্নদশা হয়ে অবস্থান করছিল। আর এনসিপির চলছিল জয়রথ ৷ ড. ইউনুস যদি এই মুহূর্তে তরুণ নাহিদ, সারজিস, হাসনাতদের পাশাপাশি সারা দেশের স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের চিঠি মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানাত যে, সবকিছু ভুলে চলুন আমরা নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করি। তখন ড. ইউনূসের যে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা ছিল তখন কেউ না করার সাহস দেখাত না। পাশাপাশি অনেক বিএনপির নেতৃবৃন্দও যোগদান করত। কিন্তু এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী এই সুযোগটা না নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রহার করেছে। যার ফলে তারা আরো বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। আর বর্তমানে এনসিপি যৌবন হারিয়ে বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া দলে পরিণত হয়েছে। বন্যার্তদের টাকা মেরে দেওয়া, চাঁদাবাজি, মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়ন, দুর্নীতির মতো নানা আপত্তিকর অভিযোগ রয়েছে।
এইজন্য বলি নাহিদ হাসনাতরা কোনোদিন জিয়াউর রহমান হতে পারবে না। শুধু শাহবাগ পল্টনে গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিলেই নেতা হওয়া যায় না, রাজনৈতিক পরিবেশের সাথে অভিযোজন ও প্লেসমেন্ট বুঝে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
একটি রাজনৈতিক দল কিভাবে জনপ্রিয় ও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলা যায়, তার উৎকৃষ্ট ও আদর্শিক উদহারণ হলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।