22/09/2026
সম্প্রতি ঢাকার উল্লেখযোগ্য এক মহিলা মাদরাসা থেকে লেসবিয়ান (সমকামী) দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনাটা শুনে জাস্ট থ হয়ে গেলাম।
পুরো মাদরাসা সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছেন। আবাসিক বন্ধ করেছেন। অনাবাসিক চালাচ্ছেন। আর মাদরাসার পুরো দায়িত্ব তার স্ত্রীর উপর। আভ্যন্তরীণ বিষয়ে তিনিও সম্পৃক্ত নন।
তো বেশ কিছুদিন ধরে দু’জন ছাত্রীর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা দেখা যাচ্ছিল। প্রথমে ব্যাপারটাকে সাধারণ বন্ধুত্ব বলে এড়িয়ে গেলেও পরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। তারা দু’জন সবসময় একসাথে বসে, একসাথে খায়, একসাথে আসে-যায়, হাসাহাসি, গলাগলি, সবমিলিতে একটু অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল ব্যাপারটা। ক্লাসে তাদের বসার সিট পাল্টে দেয়া হলো, কিন্তু পরদিনই তারা আবার একসাথে বসতে শুরু করল।
সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলো, যখন তারা কথায় কথায় ছাত্রীদের বলতো, তারা ছেলেদের প্রতি ইন্টারেস্টেড না৷ তারা কখনও বিয়ে করবে না!
অবশেষে প্রধান শিক্ষিকা এদের উপর একটু বিশেষ নজর দিলেন। সিসি ক্যামেরা চেক করলেন। যা দেখলেন, তাতে তিনিও হতবাক! ভিডিওতে তাদের চাটাচাটি, চুমোচুমির নানান দৃশ্য পাওয়া গেল।
তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হলো দু’জনকেই।
কিন্তু তাতে কী? মাদরাসার কি অভাব আছে নাকি এই শহরে। দু’দিন পরই তারা দু’জন একসাথে গিয়ে ভর্তি হয়ে গেল পাশের আরেক মাদরাসায়!
ক’দিন আগে এটা ঘটনা শুনেছিলাম। ফিকশন না, বাস্তব। সদ্য ফারেগ একজন আলেম বিয়ে করেছেন। শারীরিক সম্পর্কে স্ত্রীর অনীহা ও বিরক্তি দেখে প্রথম প্রথম স্বামী ভেবেছিলেন ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। অভিজ্ঞ কয়েকজনের সাথে পরামর্শ করলেন, তারাও একই কথা বললেন। ক’দিন যেতে না যেতেই স্ত্রী বলল, আপনি এক কাজ করেন, আরেকটা বিয়ে করেন। আমার কোনো আপত্তি নাই। আমার কাছে পাত্রীও আছে। আমারই ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। আমরা একসাথেই থাকতে পারবো। আলাদা বাসাও লাগবে না।
হুজুর তো মহাখুশি। মাসনা করলেন। কিন্তু পরেরজনেরও সমস্যা একই। শারীরিক সম্পর্কে অনাগ্রহ, আপত্তি, বাঁধা। সারাদিন দুই বান্ধবী একসাথে থাকে, কোনো সমস্যা নেই, সতীনসুলভ কোনো ঠুকাঠুকিও নেই, শুধু সমস্যা হুজুর বাসায় এলে। মানিয়ে নিচ্ছিলেন বটে, কিন্তু মনে সন্দেহ দানা বাঁধছিল ধীরে ধীরে।
চোরের দশদিন, গেরস্তের একদিন। অবশেষে উদঘাটন হলো আসল রহস্য। দুই বান্ধবী তথা হুজুরের দুই বউই লেসবো।
দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর যাবত মাদ্রাসায় পড়া, পড়ানো এবং পরিচালনার সাথে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে এককথায় যদি বলি, এক ভয়াবহ মহামারি চলছে, আমরা স্বীকার করি আর না করি। লোকালয়ে আগুন লাগলে দেবালয় রক্ষা পায় না। সব পুড়ে না গেলেও ধোঁয়া হলেও লাগে সবখানে কমবেশ। কী করবেন, সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, ভাবেন। তবে বড্ড বেশি দেরি হয়ে গেছে।
~ মুনীর হাজারী
Somoyantor Bangla