18/09/2026
"নব্য-দীক্ষিতের অহংকার"—নামটা শুনলে মনে হয় কোনো ভারী সাইকোলজি টার্ম, কিন্তু আসলে এইটা আমাদের সবার ভেতরেই লুকায় থাকে!
মনস্তত্ত্বে এইটারে বলে "The Superiority Trap"। মানুষ যখনই নিজের মধ্যে একটা নতুন ভালো অভ্যাস আনার চেষ্টা করে, তখনই ভেতরের ইগোটা চুপিচুপি মাথা তুলে দাঁড়ায়।
দুই দিন জিমে গেলেই মনে হয়, রাস্তার সবাই আনফিট, শুধু আমিই ফিট!
দুই দিন মেডিটেশন করলেই মনে হয়, দুনিয়ার সবাই মাথাগরম, শুধু আমিই পরম শান্তির মালিক!
দুই দিন সালাদ খাইলেই মনে হয়, বাকি সবাই মোটা আর অলস!
আর ভুলে দুইটা বই পড়লে তো কথাই নাই—মনে হয় সক্রেটিস-প্লেটো নিজে বইসা আছেন পাশে, বাকি দুনিয়া মূর্খ!
মজার বিষয় হইলো, এই অহংকারটা আসে ঠিক তখনই, যখন আমরা সবচেয়ে কম যোগ্য থাকি। মাত্র দুইদিনের চেষ্টাতেই নিজেরে বিচারকের চেয়ারে বসাইয়া বাকি সবাইকে রায় দিতে শুরু করি।
কিন্তু আসল সত্যিটা কী জানেন?
দুইদিন জিমে গেলে কেউ ফিট হয় না, দুইদিন বই পড়লে কেউ জ্ঞানী হয় না। আসল পরিবর্তন আসে ধারাবাহিকতা থেকে—আর যার ভেতরে সত্যিকারের ধারাবাহিকতা থাকে, তার মধ্যে অহংকার জন্মায় না, জন্মায় বিনয়। সত্যিকারের জ্ঞানী মানুষের কাছে সবাই শেখার পাত্র, সত্যিকারের সুস্থ মানুষের কাছে সবাই ভালোবাসার পাত্র।
তো নিজের উন্নতিটাকে অন্যকে ছোট করার হাতিয়ার না বানাইয়া, বরং নিজের গতকালের চেয়ে আজ একটু ভালো হওয়ার চেষ্টাটাই আসল বুদ্ধিমত্তা।
দুই দিনের অহংকার নিয়া হাঁটাচলা করার চেয়ে, দুই বছরের ধারাবাহিকতা নিয়া নিরবে এগিয়ে যাওয়াটাই বেশি সুন্দর।
© মোঃ রবিউল ইসলাম