10/10/2025
যত দোষ নন্দঘোষ বলে একটা কথা আছে না? ঠিক সেরকম কণে দেখা আলো ধারাবাহিকেও এরকম একটা কথা আছে 😌। "যত দোষ বনলতা ঘোষ" 😀।
এই পোস্ট টা দেখে হয়তো অনেকেই বলবে আমি বনলতা আর সুদেবের ফ্যান🤓। But no way...! আমি এই পোস্টে সবাইকে নিয়েই বলবো। সবারই দোষ-গুণ থাকে,কিন্তু কেন মানুষ শুধু বনলতাকেই বলবে?? অনুবন্তীর অনেক ফ্যান দেখলাম বলছেন যে বনলতা স্কুল খুলে সেখানে বাচ্চাদের কি শিখাবে! কিভাবে বরকে ঠকিয়ে পালিয়ে গিয়ে অন্যের বরের সাথে থাকতে হয়? তার উত্তরে আমি বলবো,হ্যাঁ বনলতা অবশ্যই শেখাবে তবে আপনাদের মতোন অসুস্থ মস্তিষ্কের মতোন করে নয়🙏। সে শেখাবে কিভাবে ভালোবাসার জন্য শেষ অবধি লড়ে যেতে হয়, সে শেখাবে কিভাবে একজন মানুষকে মন থেকে ভালোবাসতে হয়। সে শেখাবে কিভাবে মানুষ চিনতে হয়, সে শেখাবে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক নয়। হতে পারে সেই সিদ্ধান্ত নিজের এবং অন্য মানুষের জীবনেও কাল হয়ে আসতে পারে। মনে রাখতে হবে বনলতার কারণেই কিন্তু গ্রামের লোকেরা একটু হলেও শিক্ষার গুরুত্ব টা বুঝতে পারছে। কিছু বাচ্চারা বিনা পয়সায় বা অল্প বেতনে পড়তে পারছে। লাজুর বর শিক্ষিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এই বিষয় টা ও তো চোখে পড়ার কথা আপনাদের!! আবার কেউ বলছে বনলতা অন্যের বরের সাথে চিপকে আছে। কেন? আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না বনলতা আর সুদেরবের সম্পর্ক কেমন? বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক। আর সে তো সুদেবের সাথে চিপকে নেই। বরং সে সুদেবকে শিক্ষিত করতে চাইছে সুদেবের জন্যই কারণ এই সমাজে নিজ যোগ্যতা এবং লেখাপড়ার অনেক গুরুত্ব। বনলতা একটাই ভুল করেছে যে সে সেই মূহুর্তে শুধু নিজের ভালোবাসার কথাই ভেবেছে আর প্রত্যেক মেয়েই তাই করে। ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ করে দেয় এটা তার একটা প্রমাণ। তবে তার ভালোবাসা খাঁটি ছিল।
এবার আসি সুদেবকে নিয়ে। সুদেব শুধু অশিক্ষিতই নয়, তাকে আমরা একপ্রকার মা-বাবার আদুরে সন্তান ও বলতে পারি। আর ছোট থেকেই তো সে সেরকম পরবেশে মানুষ হয়েছে যা তাকে ভীতু করে রেখেছে। কিন্তু সে তো সিদ্ধান্ত নিয়েছে লেখাপড়া শিখে তার বউকে সে আনবেই। (আর সেটাও কিন্তু বনলতার কারণেই!❣️)
এবার আসি লাজুর কথায়।আপনারা বলছেন লাজু কেন তার ভীতু স্বামীর জন্য অপেক্ষা করবে? আমি বলবো কেন করবে না? ভালোবাসলে তো ভালোবাসার মানুষের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে,কারণ তুমি তাকে অনেক ভালোবাসো। তাকেই বলে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। (আর বনলতা কিন্তু তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রমাণ দেখেয়েও দিয়েছে!🤍)
এবার আসি অনুভবের কথায়। সে যখন লাজুকে নিয়ে আসছিল তখন একবারও ঘোমটা কেন তুলে নি? অথচ তার কোনো চেতনা ছিল না। এটা ভাবলো না সে তো অসুস্থ এই মুহুর্তে ঘোমটা থাকলে তো আরো খারাপ লাগে মানুষের। হ্যাঁ সে জানে তার বউ মৃত তাই সে এখন অন্য কাউকে ভালোবাসতেই পারে। কোনো অন্যায় নেই। কিন্তু অনুভব জানে, লাজুর বর আছে,সে একদিন না একদিন ফেরত যাবেই,এবং লাজুও সুদেবকে ভালোবাসে। তো ঘুরে ফিরে সেই লাজুকেই ভালোবাসতে হলো? অন্য কোনো মেয়ে হলে তো তাও মানা যেত। অনুভবের বউ নেই কিন্তু লাজুর তো বর আছে! প্রতিশ্রুতি ও দিয়েছে। তারপরেও কেন অনুভব আবার লাজুর প্রেমে পড়লো? বড়জোর বন্ধুত্ব করতে পারতো। আবার আপনারাই বলুন অনুভব তার বউ এর জন্য কয়দিন শোক পালন করেছে? তার বউ হারিয়ে যাওয়ায় সে কয়দিন তার কথা ভেবেছে? কয়দিন তার বিয়ের দিনের কথা কল্পনা করেছে? অথচ বিয়ের দিন বউকে নিয়ে জেগে জেগে স্বপ্ন ও দেখেছে👏। বউ হারিয়ে যাওয়ার পর সে কি নিজে পুলিশের কাছে গেছে? সময়ের কি এতই অভাব ছিল?তারপর আসি মৃত ঘোষণা করার পরের কাহিনি নিয়ে। বউ এর মৃত্যুর খবর শুনে সে কি একবারও কেঁদেছে? তারপদিনই তো অষ্টমঙ্গলায় চলে গেল। সেখানে গিয়েও তো একবার ও মনে করে নি তার বউ এর কথা। হ্যাঁ অনুভব শুধু একটা কাজই করেছে সেটা হচ্ছে শুধুই লাজুকে ঝাড়ি মারা🙃। গ্রামে গিয়েই গ্রামের দখিনা বাতাসের সাথে অনুভবের বুকেও যেন দখিনা হাওয়ার দোলা লাগলো🥰।
সুলতার সম্পর্ক টা তো বন্ধুত্বের দেখাচ্ছে কিন্তু অনুভব যেটা করছে সেটাকে বন্ধুত্ব বলে না🫠। শাড়ি এনেছে ভালো কথা, সেটাকে এভাবে দেওয়ার কি আছে? কেন বন্ধু কি বন্ধুকে শাড়ি দিতে লুকিয়ে দিতে হয়? লুকিয়ে দিচ্ছে কারণ এটা বন্ধুত্ব না।
তবুও আপনার বলবেন বনলতা বেহায়া ও নাকি সুদেবের সাথে চিপকে আছে।
ও আচ্ছা লাজু তো অনুভবের হাঁটুর বয়সী,তাকে ভালোবাসলে দোষ নেই। আর বনলতা ভালোবেসে পালিয়ে গেলেই দোষ?
কিছু দিন আগেও তো বলতেন এগুলো পরকীয়া কিন্তু এখন যখন অনুভব করছে সেটা পরকীয়া না? আপনারা এমন কেন? একবার এক কথা বলেন। নিজেরাই বলেন আবার নিজেরাই সেই কথায় জ্বলে পুড়ে মরেন!
দোষ ধরতে গেলে কম বেশি সবারই আছে,প্রত্যেকটা চরিত্রের। প্রথমেই তো দোষ ধরা যায় লাজু এবং সুদেবের সমাজের, তাদের বাবা-মায়ের। কি একটা সমাজ এক রাত কোথাও থেকেছে বলে তাকে আর ঘরে নিতে পারবে না কেউ। অথচ কেউ এটা দেখল না মেয়েটা সেখানে কেমন পরিস্থিতিতে গেল,কিভাবে ছিল। যে সমাজে সিঁথির সিঁদুরের অনেক গুরুত্ব সেই সমাজটাকে তারা ভূলে গেল। এখন মন্ত্র আর সিঁদূর ছাড়াই বউ আর জামাই করে নিচ্ছে🫠। লাজুকে যখন হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল সেখানে ও দোষ আছে। ডাক্তাররা জানে সে অসুস্থ এরপরেও লাজুর ঘোমটা তুলে দেয় নি। এতবার স্ট্রেচারে করে আনা নেওয়া করছে তবুও তাদের মাথায় আসে,নি ঘোমটা টা তুলে দিলে মেয়ে আরো আরাম পাবে😀।
যাই হোক,আমি কিন্তু এই পোস্টে সবার ভালো খারাপ মিলিয়ে বলেছি। কারণ দোষ-গুণ মিলিয়েই মানুষ হয়। কিন্তু আপনারা শুধু একজনেরই দোষ ধরবেন সেটি তো হবে না!! ভালো লাগলে পাশে থাকবেন আর না ভালো লাগলে এড়িয়ে যাবেন। ধন্যবাদ ❤️🙏