GlobalEye24

GlobalEye24 GlobalEye – A 24/7 Multimedia Platform for News, Narratives & Beyond.

GlobalEye24 বাঙালির কন্ঠস্বর -
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোবাইল জার্নালিজমের নামে অপেশাদার বা অনৈতিক কার্যক্রম সমর্থন করে না।

22/08/2026

নবাবগঞ্জে ইছামতি নদীতে জমকালো নৌকা বাইচ
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদীর কলাকোপা এলাকায় শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। গ্রামবাংলার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যকে ঘিরে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে ইছামতির দুই পাড়ে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা। বিকেল গড়াতেই সেই ভিড় রূপ নেয় জনসমুদ্রে—নদীর দুই তীর কার্যত পরিণত হয় লোকে লোকারণ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর মৌসুম বদলের এই সময়টায় নবাবগঞ্জ অঞ্চলে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়ে থাকে, যা এলাকাবাসীর কাছে দীর্ঘদিনের একটি লোকজ ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনমেলার উপলক্ষ। এবারের আয়োজনও তার ব্যতিক্রম ছিল না। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা বিভিন্ন বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করেন নদীর পাড়ে। কারও হাতে ছাতা, কারও মাথায় গামছা বাঁধা—তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই দর্শনার্থীরা অপেক্ষা করেন বাইচ শুরুর মুহূর্তের জন্য।

নির্ধারিত সময়ে রঙিন কাপড়ে সজ্জিত একের পর এক দীর্ঘ ছিপ নৌকা নদীতে নামতেই বেজে ওঠে ঢাক-ঢোল। মাঝি-মাল্লারা ছন্দবদ্ধ বৈঠার টানে এগিয়ে যান প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। প্রতিটি নৌকায় সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা মাল্লাদের কণ্ঠে ভেসে ওঠে চিরচেনা মাঝি-মাল্লার গান, যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পড়ে বৈঠার আঘাত। বাইচ যতই এগোতে থাকে, ততই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই পাড়ে দাঁড়ানো দর্শকদের মাঝে। প্রিয় নৌকার সমর্থনে করতালি আর হর্ষধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা নদীপাড়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। তিনি নৌকা বাইচ প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু সফিক খন্দকার মাসুদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল, যুবদল ও কলাকোপা ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। তাঁদের উপস্থিতি আয়োজনে যোগ করে বাড়তি মাত্রা, ভিড় সামলাতে বাড়তি তৎপর হয়ে ওঠেন আয়োজকরাও।

কলাকোপা নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মোট ৯টি ঘাসী নৌকা ও ৪টি কোষা নৌকা। অংশগ্রহণকারী নৌকাগুলোর মধ্যে কৈলাইল তুফান মেল, খান বাড়ি, সিকদার বাড়ি ও লিটন-২ ছিল উল্লেখযোগ্য। বাহারি রং আর নামে সজ্জিত নৌকাগুলোর মধ্যকার হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।

নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, নৌকা বাইচকে ঘিরে ইছামতী নদীর তীরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নৌকার ছন্দময় বৈঠার তালে তালে নদীতে তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন উপভোগ করেন।

তবে আয়োজনের আনন্দের পাশাপাশি উঠে আসে নদী রক্ষার দাবিও। রাশিম মোল্লা বলেন, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি দীর্ঘদিন ধরে স্লুইচগেট স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। পানির অভাবে নৌকা বাইচ আয়োজনেও ভাটা পড়েছে বলে জানান তিনি। এই ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত স্লুইচগেট স্থাপনের পাশাপাশি ইছামতী নদীর নাব্যতা ও পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিপুল এই জনসমাগমে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে, সেজন্য অনুষ্ঠানের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। নদীর দুই পাড়ে পুলিশের সতর্ক উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যদিও অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ইছামতির দুই তীরে গড়ে ওঠে জমজমাট গ্রামীণ মেলা। মেলায় বসে বাহারি মিষ্টি, খেলনা, ঘরোয়া তৈজসপত্র, খাবার ও প্রসাধনীর পসরা নিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য দোকান। শিশু-কিশোরদের আনন্দে মাতিয়ে রাখতে বসে নাগরদোলাসহ নানা রকম বিনোদনমূলক আয়োজনও। ফলে নৌকা বাইচকে ঘিরে গোটা এলাকায় বিরাজ করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ, যা অনেকটা গ্রামীণ মিলনমেলার রূপ নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীনির্ভর এই জনপদে নৌকা বাইচ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি তাঁদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার প্রভাবে গ্রামীণ এসব ঐতিহ্য দিন দিন বিলুপ্তির পথে বসলেও নবাবগঞ্জের ইছামতি পাড়ের মানুষ এখনো তা লালন করে চলেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে। তাঁরা প্রত্যাশা করেন, ভবিষ্যতেও প্রতি বছর এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পৃষ্ঠপোষকতায় তা আরও বড় পরিসরে আয়োজিত হবে।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত উৎসবমুখর এই আয়োজন ঘিরে মুখরিত ছিল নবাবগঞ্জের ইছামতি নদীর কলাকোপা এলাকা। নৌকা বাইচ শেষে বিজয়ী দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সমর্থকরা, আর ধীরে ধীরে জনস্রোত ফিরতে শুরু করে যে যার গন্তব্যে—রেখে যায় আরও একটি স্মরণীয় নৌকা বাইচের স্মৃতি।

19/08/2026

বাংলাদেশের বুকে লুকিয়ে থাকা রহস্য:
লালবাগ কেল্লা, ময়নামতি ও ভিতরগড়ের অজানা কাহিনী
বাংলাদেশের মাটির নিচে, ইট-পাথরের স্তরে স্তরে জমে আছে শত শত বছরের ইতিহাস, রক্ত, আর অসমাপ্ত গল্প। এমন কিছু স্থাপনা আজও আমাদের মধ্যে ভয় আর কৌতূহল জাগায় — যাদের ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে গৌরব, আর মানুষের মুখে মুখে ঘোরে রহস্যের কাহিনী। আজকের ফিচারে থাকছে এমনই তিনটি স্থান — ঢাকার লালবাগ কেল্লা, কুমিল্লার ময়নামতি এবং পঞ্চগড়ের ভিতরগড়।

লালবাগ কেল্লা: অসমাপ্ত স্বপ্ন, অতৃপ্ত আত্মার কাহিনী

পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা লালবাগ কেল্লা শুধু একটি মুঘল স্থাপত্য নয় — এটি একটি অসমাপ্ত স্বপ্নের স্মৃতিচিহ্ন। ১৬৭৮ সালে মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র প্রিন্স মুহাম্মদ আজম এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন, কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনি ঢাকা ছেড়ে চলে যান।

এরপর দুর্গের দায়িত্ব নেন শায়েস্তা খাঁ নিজে। কিন্তু ঠিক এই সময়েই ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা — তাঁর অত্যন্ত প্রিয় কন্যা পরীবিবির আকস্মিক মৃত্যু হয়। কথিত আছে, এই মৃত্যুকে তিনি অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে গ্রহণ করেন এবং দুর্গের নির্মাণকাজ চিরতরে বন্ধ করে দেন। পরীবিবির সমাধি আজও দুর্গ চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে, যা "পরীবিবির মাজার" নামে পরিচিত।

স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত আছে, সন্ধ্যার পর দুর্গ চত্বরে অদ্ভুত ছায়ামূর্তি দেখা যায়, আর পরীবিবির মাজারের আশপাশে নাকি এক ধরনের অব্যাখ্যাত নীরবতা নেমে আসে। ইতিহাসবিদরা অবশ্য এসব লোককথাকেই গুরুত্ব দেন বেশি, কারণ প্রামাণ্য কোনো নথিতে এসবের উল্লেখ নেই — তবু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই কাহিনী মুখে মুখে টিকে আছে, যা লালবাগ কেল্লাকে দিয়েছে এক রহস্যময় আবহ।

ময়নামতি: পাহাড়ের কোলে হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতা

কুমিল্লা শহর থেকে কিছুটা দূরে, লালমাই-ময়নামতি পাহাড়শ্রেণির মাঝে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে গড়ে ওঠা এই বিহার ও স্তূপগুলো একসময় ছিল জ্ঞানচর্চা আর ধর্মচর্চার কেন্দ্র।

শালবন বিহার, আনন্দ বিহার আর কুটিলামুড়া — এই তিনটি স্থাপনা মিলিয়ে গড়ে উঠেছে ময়নামতির প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমৃদ্ধ সভ্যতা কীভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেল, তার সম্পূর্ণ উত্তর আজও ইতিহাসবিদদের কাছে অস্পষ্ট। কেউ বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা, কেউ বলেন বৈদেশিক আক্রমণের কথা — কিন্তু নিশ্চিত প্রমাণের অভাবে পুরো ঘটনা রয়ে গেছে ধোঁয়াশার আড়ালে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রচলিত আছে, খননকাজের সময় শ্রমিকরা মাটির নিচ থেকে এমন কিছু জিনিসের সন্ধান পেয়েছেন যা ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। যদিও এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যতা নেই, তবু ময়নামতির নীরব পাহাড়ি পরিবেশ, ভাঙা স্তূপ আর শতাব্দী প্রাচীন নীরবতা আজও দর্শনার্থীদের মনে এক অদ্ভুত রহস্যময় অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
ভিতরগড়: পঞ্চগড়ের বুকে লুকানো এক প্রাচীন নগররাষ্ট্র

পঞ্চগড় জেলার অমরখানা ইউনিয়নে বিস্তৃত ভিতরগড় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, যা এখনো সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই অপরিচিত। প্রায় ২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই স্থানে রয়েছে একাধিক মাটির প্রাচীর, পরিখা আর প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ — যা প্রমাণ করে, এখানে একসময় গড়ে উঠেছিল এক সুবিন্যস্ত নগররাষ্ট্র।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, এই নগরসভ্যতা কয়েক হাজার বছরের পুরনো হতে পারে, তবে এর নির্মাতা কারা ছিলেন, কেন এবং কীভাবে এই জনবসতি একসময় পরিত্যক্ত হয়ে গেল — এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর আজও অজানা। স্থানীয়দের মুখে প্রচলিত আছে নানা কিংবদন্তি — কারও মতে এখানে ছিল কোনো রাজার দুর্গ, কারও মতে ছিল দেবতাদের আরাধনাস্থল।

ঘন জঙ্গল আর পরিত্যক্ত ঢিবিতে ঢাকা ভিতরগড় এখনো পুরোপুরি খনন করা সম্ভব হয়নি, ফলে এর গর্ভে লুকিয়ে থাকা ইতিহাসের বড় অংশই রয়ে গেছে অনাবিষ্কৃত। এই অসম্পূর্ণতাই ভিতরগড়কে দিয়েছে এক বিশেষ রহস্যময় মর্যাদা — এমন এক প্রাচীন নগরী, যার সম্পূর্ণ পরিচয় হয়তো আমরা কোনোদিনও জানতে পারব না। লালবাগ কেল্লার অসমাপ্ত স্বপ্ন, ময়নামতির হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা, আর ভিতরগড়ের অনাবিষ্কৃত নগররাষ্ট্র — এই তিনটি স্থানই বাংলাদেশের মাটিতে লুকিয়ে থাকা রহস্যের এক একটি জীবন্ত দলিল। ইতিহাস আর কিংবদন্তির মিশেলে গড়ে ওঠা এসব স্থান শুধু পর্যটকদের নয়, প্রতিটি বাঙালির মনে জাগিয়ে তোলে এক গভীর জিজ্ঞাসা — আমাদের অতীতে এখনো এমন কত অধ্যায় লুকিয়ে আছে, যা হয়তো কোনোদিনও পুরোপুরি জানা হবে না।
তথ্যসূত্র: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নথি ও স্থানীয় ইতিহাসবিদদের বর্ণনার ভিত্তিতে প্রস্তুত)*

**ভিডিও এডিটিং, মিউজিক ও তথ্য সংগ্রহ:** মোঃ সাদের হোসেন বুলু

বিপ্লব ও বিপ্লবীদের মৃত্যু নেই: খন্দকার আলী আব্বাসের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজমো. সাদের হোসেন বুলু,আজ ১৭ আগস্ট। ঢাকা জেলার ...
16/08/2026

বিপ্লব ও বিপ্লবীদের মৃত্যু নেই:
খন্দকার আলী আব্বাসের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মো. সাদের হোসেন বুলু,
আজ ১৭ আগস্ট। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের কৃতী সন্তান, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের অক্লান্ত সংগ্রামী, কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব খন্দকার আলী আব্বাসের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন এলাকার মানুষ, সহযোদ্ধা এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত কর্মীরা।

শ্রমজীবী মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু-
খন্দকার আলী আব্বাস ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের জীবনকে বেছে নিয়েছিলেন সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে উৎসর্গ করার জন্য। রাজনীতির চেনা পথে ক্ষমতা বা প্রতিষ্ঠার মোহে না গিয়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন কঠিন, ত্যাগের পথ—কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথ। তাঁর সংগ্রামী জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই দেশের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী লড়াই এবং শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির স্বপ্ন।

ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলসহ সারাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে সাংগঠনিকভাবে দাঁড় করানো এবং তৃণমূলের মানুষকে তাঁদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন এক লড়াকু সংগঠক, যাঁর নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়েছেন বহু মানুষ।

সাংগঠনিক জীবন-
সাংগঠনিক জীবনে খন্দকার আলী আব্বাস ছিলেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দল ও সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন দৃঢ় হাতে, আদর্শিক অবস্থানে থেকেছেন অবিচল।

এখন আর মেলে না তাঁর মতো নেতা- শ্রদ্ধাভাজনদের ভাষায়, "শত বছরেও হয়তো আরেকজন খন্দকার আলী আব্বাসের জন্ম হবে না।" এই একটি বাক্যেই ফুটে ওঠে তাঁর ব্যক্তিত্বের অসাধারণত্ব ও তাঁর প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধাবোধ। তিনি ছিলেন সেই বিরল প্রকৃতির নেতা, যাঁরা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গণমানুষের স্বার্থকেই নিজের জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নেন।

আদর্শের মৃত্যু নেই- বিপ্লবী মানুষের দেহের মৃত্যু হলেও তাঁর আদর্শের মৃত্যু হয় না—এই সত্যকে বুকে ধারণ করেই আজ স্মরণ করা হচ্ছে খন্দকার আলী আব্বাসকে। সমাজ বিপ্লবের এই হাতিয়ার, শ্রমজীবী মানুষের এই অভিভাবক তাঁর কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন এদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে, বেঁচে থাকবেন প্রতিটি শ্রমিক-কৃষকের হৃদয়ে। আজকের এই দিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর দেখানো পথ ধরেই এগিয়ে যাক ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।

14/08/2026

ভূস্বর্গ কাশ্মীর: প্রকৃতি আর ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন
গর ফিরদাউস বার রুয়ে জমিন আস্ত, হামিন আস্ত-ও-হামিন আস্ত-ও-হামিন আস্ত" — যদি পৃথিবীতে কোথাও স্বর্গ থেকে থাকে, তবে তা এখানেই। এই শতাব্দী প্রাচীন পঙক্তি থেকেই কাশ্মীরের নাম হয়ে উঠেছে "ভূস্বর্গ"। এই ভিডিওতে থাকছে — 🏔️ শ্রীনগর ও বিখ্যাত ডাল লেক ❄️ গুলমার্গের তুষারাবৃত সৌন্দর্য 🏞️ পহেলগামের সবুজ উপত্যকা 🌄 সোনমার্গের সোনালি প্রান্তর 🍽️ কাশ্মীরি ওয়াজওয়ান ও ঐতিহ্যবাহী খাবার 🕌 হজরতবাল মসজিদ ও শঙ্করাচার্য মন্দির

নতুন তথ্যভিত্তিক ডকুমেন্টারি পেতে এখনই ফলো করুন। বাংলা ভাষায় তথ্যবহুল ডকুমেন্টারি দেখতে আমাদের সাথে থাকুন।
Music, Research, Video Editing: Md. Sader Hossain Bulu
#ভূস্বর্গকাশ্মীর

12/08/2026

🔴LIVE... নবাবগঞ্জে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নারীদের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় নারী সমাজ। বুধবার সকালে কৈলাইল ইউনিয়নের- কাটাখালী বাজার সংলগ্ন উত্তর কৈলাইল এলাকায় এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে এলাকার কিশোর-যুবকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষও এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহন করে। এ বিষয়ে ইয়াসমিন, তার ছেলে ইমন এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোনটির সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

সমাবেশে অংশ নেওয়া বিথী আক্তার নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, "এলাকার নূর ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিন (৪৫), তার ছেলে ইমনসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। কেউ এসবের প্রতিবাদ করলে তারা মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে আমরা আজ রাস্তায় নেমেছি। আমরা এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।"

সমাবেশে কৈলাইল ইউনিয়ন যুবদল নেতা হাসান বলেন, "ইয়াসমিন, তার ছেলে ইমন ও তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ গত সোমবার বিকেলে ইমন ৭ বছর বয়সী এক ছেলে শিশুকে বলাৎকার করে এবং মাদ্রাসায় পড়ুয়া ১০ বছরের এক মেয়ে শিশুকে হুমকি দেয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ জানান, শিশু নির্যাতনের ওই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার পাশাপাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানান।

11/08/2026

নবাবগঞ্জে প্রবাসীর সর্বস্ব লুটের ঘটনায় আশুলিয়া থেকে ৩ দুর্ধর্ষ দস্যু গ্রেফতার

ঢাকার নবাবগঞ্জে এক সৌদি প্রবাসীর গতিরোধ করে দুর্ধর্ষ দস্যুতার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আশুলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে নবাবগঞ্জ থানার একটি চৌকস দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার মো. মিলন শেখ (৪২), ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার মো. রিপন বেপারী (২৪) এবং কুমিল্লা জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার হযরত আলী (৩২)।

পুলিশ জানায়, গত ৭ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৌদি প্রবাসী আজিজুর রহমান (৫২) বিমানবন্দর থেকে প্রাইভেটকারযোগে নবাবগঞ্জের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বিষমপুর এলাকায় পৌঁছালে ৩-৪ জন অজ্ঞাত দস্যু গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা ৬টি স্মার্টফোন, নগদ টাকা ও বিদেশ থেকে আনা মালামালসহ প্রায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকার সম্পদ লুট করে জামশা বাজারের দিকে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী আজিজুর রহমানের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। দোহার সার্কেলের এএসপি মো. শামীম হোসেন ও নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফের সার্বিক সহযোগিতায় এবং পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই সায়মন শেখ ও এসআই তানভীর হাসান খানসহ পুলিশের একটি দল এ সফল অভিযান চালায়।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে এবং বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

09/08/2026

প্রকৃতির ক্যানভাসে গোলাপি রহস্য: লেক হিলিয়ার ও পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু প্রাকৃতিক বিস্ময়

পৃথিবী এক অনন্ত বিস্ময়ের আঁতুড়ঘর। মানুষ তার বিজ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে প্রকৃতির বহু রহস্য ভেদ করতে পারলেও, কিছু কিছু সৃষ্টি আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। তেমনই এক পরাবাস্তব বিস্ময় অস্ট্রেলিয়ার ‘লেক হিলিয়ার’ (Lake Hillier)—যার উজ্জ্বল গোলাপি জলপ্রবাহ পৃথিবীর রূপকথাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
লেক হিলিয়ার:পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মিডল আইল্যান্ডে অবস্থিত এই হ্রদটির প্রধান আকর্ষণ এর জলপ্রবাহের রঙ। মহাসাগরের গাঢ় নীল জল এবং সবুজ ইউক্যালিপটাস বনের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত এই হ্রদটির রঙ একদম গাঢ় গোলাপি (Bubblegum Pink)।
তবে লেক হিলিয়ারের আসল জাদু অন্য জায়গায়। পৃথিবীর অনেক রঙিন হ্রদের জল পাত্রে তুললে আলোর প্রতিফলনের অভাবে তার রঙ হারিয়ে যায়, কিন্তু লেক হিলিয়ারের জল কাচের বোতলে ভরে নিলেও তার উজ্জ্বল গোলাপি ভাব বিন্দুমাত্র কমে না!

গোলাপি রঙের পেছনে বিজ্ঞান:

বিজ্ঞানীদের মতে, হ্রদটির অতিরিক্ত লবণাক্ত পরিবেশই এই রঙের মূল কারণ। এই পরিবেশে বেঁচে থাকা ‘ডুনালিয়েল্লা স্যালিনা’ (Dunaliella salina) নামক এক প্রকার অতিপ্রাকৃতিক শৈবাল এবং ‘হ্যালোব্যাকটেরিয়া’ প্রজাতি সূর্যরশ্মি থেকে বাঁচতে লাল ও গোলাপি রঙের রঞ্জক (Carotenoids) নিঃসরণ করে। এই জৈব রসায়নের কারণেই হ্রদের জল স্থায়ীভাবে গোলাপি রঙ ধারণ করেছে।

ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ এবং মিউজিক সাদের হোসেন বুলু
# #

06/08/2026

যে জাতি ২০০ বছর ধরে "দেশহীন" — শ্রীলঙ্কার তামিল চা-শ্রমিকদের নির্মম ইতিহাস

শ্রীলঙ্কার পাহাড়ি অঞ্চলের সবুজ চা-বাগান বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক দৃশ্য। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে প্রায় দুই শতাব্দীর এক নিষ্ঠুর, প্রায় বিস্মৃত ইতিহাস — যে ইতিহাসের কেন্দ্রে আছেন মালাইয়াহা তামিল বা আপকান্ট্রি তামিল জনগোষ্ঠী, যাদের প্রায়ই বলা হয় "প্ল্যান্টেশন তামিল"।

জোরপূর্বক অভিবাসনের শুরু

উনিশ শতকের গোড়ায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা তৎকালীন মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি (বর্তমান তামিলনাড়ু) থেকে লক্ষ লক্ষ তামিল শ্রমিককে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সিলনে (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) নিয়ে আসে কফি ও পরবর্তীতে চা-বাগানে কাজ করানোর জন্য। প্রথম দল এসেছিল ১৮২৩ সালের দিকে। ১৮২৩ থেকে ১৮৪৯ সালের মধ্যে যে যাত্রাগুলো হয়েছিল, সেসবের মধ্যেই আনুমানিক ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ পথেই মারা গিয়েছিলেন — রোগ, অনাহার আর দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে।

কফি-বাগান রোগে ধ্বংস হওয়ার পর চা হয়ে ওঠে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল। যেহেতু চা-চাষে সারাবছর যত্ন দরকার হয়, তাই এই তামিল শ্রমিকরা ধীরে ধীরে সাময়িক অভিবাসী শ্রমিক থেকে স্থায়ী জনগোষ্ঠীতে পরিণত হন। উনিশ শতকের শেষ নাগাদ শ্রীলঙ্কা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চা রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয় — এই বিপুল সম্পদ তৈরি হয়েছিল মূলত এই শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে, অথচ তারা থেকে গেছেন চরম দারিদ্র্যে: পানীয় জল, স্বাস্থ্যসেবা বা শিক্ষার কোনো সুযোগ ছাড়াই গাদাগাদি করে তৈরি "লাইন রুমে" বসবাস।

স্বাধীনতার পরই রাষ্ট্রহীনতার শুরু

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সিংহলি সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই তামিল শ্রমিকদের "বহিরাগত" হিসেবে চিহ্নিত করে নাগরিকত্ব, ভূমির অধিকার ও শ্রমিক-অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। ১৯৪০-এর দশকে বাগান-শ্রমিকদের সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলন ও তার রাজনৈতিক শক্তি সিংহলি অভিজাত শ্রেণির মধ্যে বামপন্থী উত্থানের ভয় তৈরি করেছিল। জাতিগত বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের সঙ্গে মিশে এই ভয়ই রক্ষণশীল সিংহলি রাজনীতিকদের প্ররোচিত করে গোটা সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব থেকে বাদ দিতে।

নতুন নাগরিকত্ব আইনে দাবি করা হয়, কারও নাগরিকত্ব নিয়ে "সন্দেহ" থাকলে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তার বাবা, দাদা বা প্রপিতামহ সিলনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাস্তবে এই "সন্দেহ" প্রয়োগ করা হয় বেছে বেছে মালাইয়াহা তামিলদের বিরুদ্ধেই — ফলে অন্য প্রায় সব জাতিগোষ্ঠী নাগরিকত্ব পেলেও এই সম্প্রদায় হয়ে পড়ে রাষ্ট্রহীন। ১৯৪৯ সালের সংসদীয় নির্বাচন সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়, যা তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকেও পঙ্গু করে দেয়।

১৯৬৪ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কা সরকারের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির অধীনে বহু "ভারতীয় তামিল"কে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়, আর বাকিদের একটি বড় অংশ থেকে যান নাগরিকত্বহীন অবস্থায়ই — নিজের জন্মভূমিতেই "বিদেশি" হয়ে।

দুই শতাব্দীর প্রান্তিকীকরণ

২০০০ সাল নাগাদও শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৩ লক্ষ তামিল রাষ্ট্রহীন অবস্থায় বসবাস করছিলেন। অবশেষে ২০০৩ সালে সংসদে সর্বসম্মতভাবে একটি আইন পাস হয়, যার মাধ্যমে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় — তখন অবশিষ্ট প্রায় ১ লক্ষ ৬৮ হাজার মানুষ এই আইনের আওতায় নাগরিকত্ব লাভ করেন। এটি ছিল দশকের পর দশক ধরে চলা এক দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল।

কিন্তু কাগজে-কলমে নাগরিকত্ব পাওয়া মানেই বাস্তব বৈষম্যের অবসান নয়। ভূমিহীনতা, দারিদ্র্য আর কাঠামোগত বৈষম্যের প্রজন্ম-পরম্পরাগত প্রভাব থেকে গেছে। ২০২৪ সালে এই সম্প্রদায়ের ২০০ বছরের ইতিহাসকে স্মরণ করে শ্রমিক ও তাদের সহযোগীরা শ্রীলঙ্কার উত্তর-পশ্চিমে থালাইমান্নার থেকে মধ্যাঞ্চলের মাতালে পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ ১৬ দিন ধরে পদযাত্রা করেন — সেই একই পথ, যে পথ দিয়ে তাদের পূর্বপুরুষরা ঊনবিংশ শতাব্দীতে নৌকায় করে সিলনে পা রেখেছিলেন।

২০২৬ সালের প্রতিবেদন: এখনো চলছে জোরপূর্বক শ্রম

এই সংগ্রাম কেবল ইতিহাস নয়, বর্তমানও। ২০২৬ সালের মে মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের গল ও মাতারা জেলার বেসরকারি চা-বাগান ও ক্ষুদ্র খামারগুলোতে মালাইয়াহা তামিল শ্রমিকদের বিরুদ্ধে এখনো এমন ধরনের নির্যাতন চলছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী জোরপূর্বক শ্রমের শামিল হতে পারে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় ৪৫টি বাগানের ১৫৯ জন শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক ও যৌন সহিংসতা, ঋণ-বন্ধন এবং চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার মতো একাধিক নিদর্শন। নিয়োগকর্তারা প্রায়ই শ্রমিকদের "সাময়িক কর্মী" হিসেবে দেখিয়ে তাদের আইনি অধিকার ও মাতৃত্বকালীন ভাতা, পেনশন কিংবা অসুস্থতাজনিত ছুটির মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। অথচ চা রপ্তানি আজও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস — যে শিল্পের মূল ভিত্তি এই তামিল শ্রমিকরাই, তাদের কাছে সেই সম্পদের সুফল পৌঁছায়নি।

একটি জাতির অদৃশ্য যন্ত্রণা

মালাইয়াহা তামিলদের গল্প কেবল একটি জাতিগোষ্ঠীর নয় — এটি ঔপনিবেশিক শোষণ কীভাবে উত্তর-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রীয় বৈষম্যে রূপান্তরিত হয়, তার এক জীবন্ত দলিল। যে হাত দুই শতাব্দী ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা চা উৎপাদন করে আসছে, সেই হাতই আজও নিজের দেশে ন্যায্য পরিচয় আর মর্যাদার জন্য লড়ছে।

সূত্র:

Amnesty International, "Abandoned by the State, Trapped in Private Estates" (মে ২০২৬)
Groundviews, "Abuses Against Malaiyaha Tea Estate Workers Amount to Forced Labour" (মে ২০২৬)
Progressive International / Jamhoor / Ilankai Tamil Sangam, "200 Years of Malaiyaha Tamil Labour in Sri Lanka" (২০২৪)
Minority Rights Group International, "Tamils in Sri Lanka"
Sangam.org, "Plantation Tamils – The Oppressed People of Sri Lanka"

Address

Dhaka
DHAKA1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when GlobalEye24 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share