01/07/2026
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে খুঁড়িয়ে চলছে ৪৬ বছরের ঐতিহ্য: গাংনীর মোয়াজ্জেম জিমন্যাস্টিক ক্লাবের বেহাল দশা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাংনী:
শত শত তরুণ ও যুবকের মাঝে সুস্থ ক্রীড়াচর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং দেশ-বিদেশে মেহেরপুর জেলার সুনাম বয়ে আনা ঐতিহ্যবাহী 'মোয়াজ্জেম জিমন্যাস্টিক ক্লাব' এখন চরম অবহেলা আর অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য ভূমিকা রাখলেও, বর্তমানে এর কার্যক্রম চলছে একটি জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে।
গৌরবোজ্জ্বল অতীত ও বর্তমান চিত্র
১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করা এই ক্লাবটি শুধু গাংনী বা মেহেরপুরেই নয়, বরং দেশজুড়ে এক নামে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ক্লাব থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শত শত তরুণ ও যুবক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং বহু গৌরব ও সুনাম অর্জন করেছেন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে বাতিঘরের মতো আলো ছড়িয়ে আসছে।
তবে সেই সোনালী অতীত এখন কেবলই স্মৃতি। বর্তমানে ক্লাবের ঘরটির অবস্থা এতটাই জরাজীর্ণ যে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে ভেতরে থাকা মূল্যবান ক্রীড়াসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই বাধ্য হয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ক্লাবের নিয়মিত অনুশীলন ও কার্যক্রম।
ক্ষোভ ও হতাশা
স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও ক্লাবের বর্তমান সদস্যদের মাঝে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অনুশীলনে আসা তরুণরা জানান, ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। পর্যাপ্ত আধুনিক সরঞ্জাম এবং সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার অভাবে নতুন খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার পথও আজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
দ্রুত সংস্কারের দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, যে ক্লাবটি বিগত সাড়ে চার দশক ধরে এই অঞ্চলের তরুণদের সঠিক পথ দেখিয়েছে এবং দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে, তাকে এভাবে হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।
গাংনীর এই ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠনটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং তরুণদের নিরাপদ ক্রীড়াচর্চা নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিত্তবানদের দ্রুত এগিয়ে আসার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত ভবনটি সংস্কার করা হলে মোয়াজ্জেম জিমন্যাস্টিক ক্লাব আবার তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে—এমনটাই