06/09/2026
সাদিক কায়েম বলছেন, “আমি কখনো ছাত্রলীগের পোস্ট ছিলাম না। প্রথম বর্ষে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক কয়েকটা প্রোগ্রামে নিয়ে গেছিল, তার কয়েকটা ছবি আছে।”
ছবি আছে—এটা তিনি নিজেই স্বীকার করছেন। কিন্তু সেই ছবিগুলোকে “জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া” বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন
।
প্রশ্ন হলো—যদি সত্যিই জোর করে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই ছবিগুলো কেন এতদিন প্রকাশ্যে ঘুরছে? কেন সেই সময়ের কোনো প্রতিবাদ, কোনো অভিযোগ, কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেই? শুধু এখন, যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন “সন্ত্রাসীরা জোর করে নিয়ে গেছিল” বলে একটা সুবিধাজনক গল্প তৈরি করা হচ্ছে।
ছাত্ররাজনীতিতে এ ধরনের “আমি তো ছিলাম না, শুধু ছবি আছে” জাতীয় অজুহাত নতুন নয়। যখন সুবিধা হয় তখন এক পরিচয়, যখন অসুবিধা হয় তখন অন্য পরিচয়। প্রথম বর্ষের ছাত্রকে যদি সত্যিই জোর করে প্রোগ্রামে নেওয়া হয়, তাহলে সেটা নিজে থেকেই একটা বড় অভিযোগ। কিন্তু সেই অভিযোগকে শুধু নিজের অতীত ঢাকতে ব্যবহার করা হয়, তখন সেটা আর অভিযোগ থাকে না—হয়ে যায় সুবিধাবাদী অজুহাত।
যারা আজ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব, তাদের নিজেদের অতীত যদি এভাবে “জোর করে” বলে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়, তাহলে সেই সরবতার নৈতিক ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যায়। ছবি থাকলে সেটাকে স্বীকার করে ব্যাখ্যা দিতে হয়, অস্বীকার করে গল্প বানিয়ে নয়।