08/09/2026
ক্বারী মাওলানা তারেক আবেদিন হুজুরের বক্তব্যের মূল ভুলটা কোথায় ছিল, জেনে নিন।
১“মিলাদুন্নবী না মানলে সিরাতুন্নবী জায়েজ নেই”—কথাটা ঠিক আছে। বরং মিলাদুন্নবী না মানলে সে কাফের সিরাতুন্নবী মেনে কী লাভ?
২ তবে “যে ব্যানারে শুধু সিরাতুন্নবী থাকবে, মিলাদুন্নবী থাকবে না, সেই ব্যানারও জায়েজ নেই”—এ কথাটি শুধু ভুল নয়, মারাত্মক ভুল। কারণ, মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী—এই দুই শিরোনামের কোনোটিই না থেকে শুধু “হায়াতুন্নবী” থাকলেও সেটি জায়েজ হতে পারে।
৩ “সিরাতুন্নবী মানি না, সিরাতুন্নবীতে যাওয়ার দরকারও নেই”—এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর এবং আকীদাগতভাবে গুরুতর সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। সিরাতুন্নবী অস্বীকার করলেই সে কাফের এ ধরনের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।
৪ “যারা সিরাতুন্নবীতে যায়, তারা ডলার পাওয়ার জন্য যায়”—এই বক্তব্যের কারণেই মূলত ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সিরাতুন্নবীতে গিয়েছেন বাবর আজহারী—ফলে এই বক্তব্যের মাধ্যমে তাকেও ছোট করা হয়েছে। অথচ সুন্নীয়তের জন্য বাবর আজহারীর খেদমত তারেক আবেদিন হুজুরের চেয়ে অনেক বেশি।
এ ধরনের বক্তব্যের কারণে আপন মানুষ পর হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ভিন্ন ঘরানার লোকেরা সুযোগ নিয়ে বলতে শুরু করবে, “সুন্নীরা সিরাতুন্নবী মানে না, তাই তারা কাফের।”
এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রিয় শায়েরের প্রতি অনুরোধ—বিষয়গুলো অবশ্যই সংশোধন করা উচিত। কথা বলার আগে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে, যাচাই করে এবং পরিণতি বিবেচনা করে কথা বলা প্রয়োজন। একজন দায়িত্বশীল বক্তার প্রতিটি বক্তব্যের প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে।
✍️ মাওলানা ইমরান মাহমুদ
পরিচালক: টু দ্যা ব্রাইট