24/09/2026
বঙ্কুবাবুর বন্ধু, সত্যজিৎ রায়
সত্যজিৎ রায়ের "বঙ্কুবাবুর বন্ধু" গল্পের কেন্দ্রে বঙ্কুবিহারী দত্ত, কাঁকুড়গাছি প্রাইমারি স্কুলের নিরীহ, সহজ-সরল এক শিক্ষক, যিনি ছাত্র থেকে শুরু করে গ্রামের আড্ডার বন্ধুবান্ধব, সবার কাছেই নিয়মিত ঠাট্টা-তামাশার শিকার হন, অথচ কখনও প্রতিবাদ করেন না। এক শীতের রাতে আড্ডা থেকে ফেরার পথে এক বাঁশবনের মধ্যে তিনি দেখতে পান আশ্চর্য এক গোলাপি আলো, আর তার উৎস খুঁজতে গিয়ে সাক্ষাৎ হয় ক্রেনিয়াস গ্রহের এক অতিমানবীয় প্রাণী অ্যাং-এর সঙ্গে, যার রকেট ভুল করে পৃথিবীতে নেমে পড়েছে।
অ্যাং-এর সঙ্গে কথোপকথনে বঙ্কুবাবুকে নিজের সীমাবদ্ধতা আর নিরীহতার মুখোমুখি হতে হয়, উত্তর মেরু আর ব্রেজিলের জঙ্গলের অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখানো হয় তাঁকে এক আশ্চর্য যন্ত্রের সাহায্যে, আর অ্যাং নিজেই তাঁকে বলে দেয় যে অতিরিক্ত নিরীহতা আর অন্যায় নীরবে সহ্য করার প্রবণতাই তাঁর জীবনে উন্নতি না হওয়ার আসল কারণ। এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎই বঙ্কুবাবুর ভেতরে জন্ম দেয় এক দীর্ঘদিনের দমিয়ে রাখা আত্মবিশ্বাসের, যার বিস্ফোরণ ঘটে গল্পের শেষে, যখন তিনি ফিরে গিয়ে বন্ধুবান্ধবদের প্রত্যেককে নির্দ্বিধায় শুনিয়ে দেন তাঁদের প্রাপ্য কথা।
সত্যজিৎ রায়ের লেখার কৌতুকপ্রিয় দিকটা এই গল্পে বিশেষভাবে উজ্জ্বল, গ্রাম্য আড্ডার খুঁটিনাটি চরিত্রচিত্রণ, তাদের অহেতুক তর্ক-বিতর্ক, সবকিছুই বেশ প্রাণবন্ত আর মজাদার করে তোলা। কিন্তু নিছক হাস্যরসের আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটা সহজ, মানবিক বার্তা, নিজের সম্মান রক্ষা করার সাহসটা কখনও কখনও বাইরের কোনো ধাক্কা থেকেই জন্ম নেয়, আর সেই পরিবর্তনটা যতই আকস্মিক হোক না কেন, তার আনন্দ কম নয়।