26/03/2026
ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যেও ফ্যাসিবাদী আচরণকে ইন্টার্নালাইজ করে নেয়ার একটা ছোট উদাহরণ হলো- অপরাধ যেই করুক না কেন, সবকিছুতেই জামায়াতের দোষ দেয়ার প্রবণতা। লীগ বিগত ১৫ বছরে এটা অনেকের মনোজগতে গেঁথে দিতে পেরেছে। এ আচরণের বড় কনজুমার হয়েছে "এক্সশিবির বর্গ" নামে একটা রাজনৈতিক ক্রিটিক গ্রুপ।
জামায়াত অন্যায় করলে জামায়াতের দোষ- কেন তারা অন্যায় করলো (যেটা অবশ্যই সঠিক)। আবার জামায়াত ভিক্টিম হলেও জামায়াতের দোষ, কেন তারা ভিক্টিম হলো, তাদের কোন যোগ্যতাই নাই।
কেইস #১:
ধরেন, জামায়াতের কোন কর্মী অন্য দলের কাউকে হামলা করেছে। তাহলে অবশ্যই জামায়াতের দোষ, সমালোচনা উচিত কাজ। বিশিষ্ট সমালোচকরা সমালোচনা করবে, প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। জামায়াতও সমালোচনায় পড়বে। কেন তাদের কোন কর্মী সন্ত্রাসী আচরণ করলো।
আবার উল্টোটা হলে- জামায়াতের কর্মীর উপর অন্য দলের কর্মীরা হামলা করেছে। তখন সেই অন্যদলের আর সমালোচনা হবে না। তাদের সন্ত্রাসী কাজের সমালোচনা না করে সেই বিশিষ্ট দল সমালোচনা করবে জামায়াত কোন রাজনৈতিক দলই না৷ এদের মাইর খাওয়াই উচিত। এদের কারনে এদের কর্মীরা মাইর খায়। এরা মাইর ঠেকাতে না পারলে রাজনীতি করে কেন। এরা কোনদিনও ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
কেইস #২:
কোন একজন বামনেত্রী শিবিরের ছেলেকে লাত্থি দিছে। প্রতিক্রিয়ায় সেও লাত্থি দিয়েছে। অবশ্যই খারাপ কাজ করেছে। প্রতিবাদের ঢল নামবে নারীর প্রতি হামলার বিরুদ্ধে। সেই ছেলেকে জেলেও নেয়া হবে। জামায়াত-শিবির সেই ছেলেকে পুলিশে দিবে। তারপরও চলবে একই গান যে এরা নারী-বিদ্বেষী।
আবার জামায়াতের নারীদের উপর হামলা হলে সেই সমালোচক গ্রুপ আবারো হামলাকারীদের সমালোচনা না করে আবারো জামায়াতেরই সমালোচনা করবে। নারীদের নমিনেশন দিতে না পারলে ভোট চাইতে পাঠাইলেন কেন (মানে যারা মারছে তারা ঠিক কাজই করছে)। জামায়াতের নারীরা এনআইডি কার্ড নিচ্ছে, বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে, মানুষ (একটা রাজনৈতিক দলের নেতারা) প্রতিরোধ তো করবেই। আরেক গ্রুপ বলবে- জামায়াত নারীদের নিরাপত্তা দিতে পারে না। এদের রাজনীতি ছেড়ে দেয়া উচিত। দোষ জামায়াতের, যারা লাত্থি মেরেছে, কোপ দিয়েছে তাদের দোষ নাই। তারা তো তাদের রাজনীতি করবেই। এটাই রাজনীতি। রাজনীতিতে কোপাকুপি হবেই। আপনি কেন ফিরাইতে পারেন না, এটা আপনার রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
কেইস #৩:
ধরুন জামায়াতের কোন একজন নেতা বললো- "এনসিপিকে তো জামায়াত-ই চালায়"। এ কথার প্রতিক্রিয়ায় প্রচুর "সমালোচক" দেখা যাবে "কত্তবড় সাহস! এই নেতাকে ক্ষমা চাইতে হবে। কখন কোন কথা বলতে হবে এরা জানেই না। রাজনৈতিক ম্যানার জানে না। জামায়াত কোন রাজনৈতিক দলই না। এরা ব্যর্থ। কোনদিন সরকারে যেতে পারবে না"।
আবার একই কথা এনসিপি নেত্রী বললে একই সমালোচক গ্রুপ মাঠে নামবে- " দেখছো, কী কনফিডেন্স। এরকম সাহসী নেতাই তো রাজনীতিতে দরকার। এনসিপি নেতাতো এনসিপিকে বড় করে দেখাবেই। এটাই রাজনীতি। তার রাজনীতি সে করছে। আপনি পারেন নাই। জামায়াত দেশ চালানোর যোগ্যই না।"
কেইস #৪:
জামায়াত নেতা কাশি দিলো। সমালোচক দল রেডি হবে "দেখছো, একটা রাজনৈতিক নেতা কাশি দিলো। এটা কোন ম্যানার? এজন্যই বলি এদের কোন যোগ্যতাই নাই"
অন্য দলের টপ নেতা কাশি দিলো। একই সমালোচক দল- "দেখছেন, নেতা কাকে বলে! নেতার কাশিও নেতার মতোই। কাশির মধ্যে একটা ক্ষিপ্রতা আছে। এমন নেতার কোন বিকল্প নাই। বাংলাদেশের জন্য তো এমন নেতাই দরকার।"
কেইস #৫:
প্রটোকল ভেংগে একজন নেতা তার মেয়েকে সব ডিপ্লোমেটিক মিটিং এ মেম্বার হিসেবে রাখছেন যিনি দল বা সরকারের অফিসিয়ালি কেউ না। সমালোচকরা প্রশংসায় ভেসে যাবে- দূরদর্শী নেতা তো একেই বলে। এখন থেকেই মেয়েকে নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার হিসেবে তৈরি করছে। বাকি নেতারা তো দাস হিসেবে পিছে পিছেই দৌড়াবে, এটাই তো রাজনীতি। "
সেইম কাজ কোন জামায়াত নেতা করলে সেইম সমালোচক দল- "এরা করবে রাজনীতি? এরা তো মিনিমাম রাজনৈতিক প্রটোকলই জানে না"
কোন রাজনৈতিক দল ভুল বা অন্যায় করলে সমালোচনা করা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু দোষ যেই করুক না কেন, সমালোচনা করতে হবে জামায়াতের, এটা ফ্যাসিবাদের ইন্টার্নালাইজেশন।
আমরা রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করি= আমরা আসলে সারাদিন জামায়াতের ব্যাশিং করি। এই লেখা ফ্যাসিবাদী আচরণ ইন্টার্নালাইজ করা সেই গ্রুপকে নিবেদিত। বাকি যারা সব যৌক্তিক সমালোচনা করেন বা রাজনৈতিক ক্রিটিক, তাদের জন্য এ লেখা প্রযোজ্য নয়।
-লিখেছেন শিব্বির আহমেদ ভাই