RSlifestyle

RSlifestyle আসসালামু ওয়ালাইকুম।অধিকাংশ পোষ্ট কালেক্টেড।তাই কোন গল্প,পোস্ট, ছবি বা ভিডিও নিয়ে কোন অভিযোগ থাকলে ম্যাসেযে জানাবেন।ডিলিট করে দেব।

ChatGPT তে যান, সেখানে টাইপ করেন –Write a 'Dear Me' Letterতারপর সেটা কমেন্ট বক্সে দেন ❤️
23/05/2026

ChatGPT তে যান, সেখানে টাইপ করেন –Write a 'Dear Me' Letter

তারপর সেটা কমেন্ট বক্সে দেন ❤️

বিয়েটা হয়েছিল রিলেশন করে । গত কিছুদিন আগে বাসায় চাউল নেই, তো আমার "উনাকে’’ বলছি দুপুরে রান্না করে খাওয়ার মতো চাউল নাই অফ...
23/05/2026

বিয়েটা হয়েছিল রিলেশন করে । গত কিছুদিন আগে বাসায় চাউল নেই, তো আমার "উনাকে’’ বলছি দুপুরে রান্না করে খাওয়ার মতো চাউল নাই অফিসে যাওয়ার আগে চাউল দিয়ে যায়েন, বলে আচ্ছা ঠিক আছে দিয়ে যাবো । এই কথা বলে তার অফিসের স্যার কাজের জন্য পাঠাইছে সে আর চাউল কিনে দিয়ে যেতে পারে নাই, এদিকে দুপুর যাইয়া রাত ১০ বেজে গেছে আমি না খাওয়া। খুদার ঠেলাই ৯ টার দিকে তারে অনেক ব'কা ব'কি করছি 😐
তারপর ১০ টাই বাসায় আসছে, আমি গেট টা খুলে দিয়া আবার শুয়ে পরছি। মনে মনে বলতেছি শুধু, আজকে আর রান্নাও করব না খাবও না..। সে আইসা কাপড় চেঞ্জ করে আমাকে আর ডাকে না, রাইস কুকারে ভাত বসাইছে, ঢেড়স সিদ্ধ দিছে দেওয়ার পর ঢেড়স ভর্তা করার জন্য না হলেও ৭-৮ টা পিয়াজ কা'টছে। কে'টে রুমে আনছে আমি শুধু দেখতাছি কি করে...!

ভাতে যখন ফেন উঠছে আমার কাছে আইসা আস্তে আস্তে বলে "ময়না ভাত হয়ে গেছে উঠ।আমি তো উঠি না মনে মনে আমার অনেক রাগ যে সারাদিন খাই নাই এখনও খাবো না। তারপর জোর করে তুলে বেসিনে নিয়া ব্রাশ করাই দিছে নিজে হাত দিয়ে মুখ ধুয়ে দিছে দেওয়ার পর মুখ মুছে মুখে ক্রিম লাগিয়ে দিছে 😇

বিছানায় বসাইয়া কয় বস ভাত নিয়া আসতেছি....!ভাত নিয়া আসতে গিয়ে দেখে ভাত ফুটে নাই কয় ভাত এমন হইল কেন,তারপর আমি রান্না ঘরে যাইতে লয়ছি কয় তোমা'র যায়তে হবে না রান্না ঘরে আজকে,তোমা'রে আজকে আমি রান্না করে খাওয়াই দিব☺️

তারপর কোন রকম ভাত রান্না করে নিয়া আইসা, ঢেড়স গুলা ভর্তা করে ভাত গুলা খাওয়াই দিল আমি আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না যে, আমি তারে এত আজে বাজে বকাবকি করলাম আর অফিস থেকে আইসা সারাদিন ডিউটি কইরা রান্না করে আমাকে এভাবে খাইয়াই দিল🥹ভাগ্য করে একটা স্বামী পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ.
- কালেক্টেড

খুলনা কো--র্টে শি--শু ধ--র্ষ--ণ কারীকে আ'দা'লতে তুলার সময় গু--লি করে হ--ত্যা করলো দু'র্বৃ'ত্ত'রা। পুলিশের গাড়ি থেকে নামা...
23/05/2026

খুলনা কো--র্টে শি--শু ধ--র্ষ--ণ কারীকে আ'দা'লতে তুলার সময় গু--লি করে হ--ত্যা করলো দু'র্বৃ'ত্ত'রা।

পুলিশের গাড়ি থেকে নামানোর সময় দু'র্বৃ'ত্তরা ধ--র্ষ--ণ কারী লক্ষ করে গু--লি করে, এসময় ধ--র্ষ--ণ কা-রী একজন সাথে সাথে নি--হ--ত হয় এবং বাকি একজনকে হাসপাতালে নেয়ার পরে মা--রা যায়,,,,
ধ--র্ষ--নের বি'চার না পেয়ে,এখন সাধারণ জনগণই বিচার করছে!!

রামিসার বাবা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমি বিচার চাই না। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, তারপর নতুন কোনো ঘটনা ঘটবে আর এটা ধামাচাপা পড়ে...
23/05/2026

রামিসার বাবা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমি বিচার চাই না। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, তারপর নতুন কোনো ঘটনা ঘটবে আর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।

​ভদ্রলোক ভুল বলেননি, তবে টাইমিংটা একটু এদিক-সেদিক হয়ে গেলো।
রামিসার ইস্যুটাকে ১৫ দিন তো দূরের কথা, ১৫ ঘণ্টাও টিকতে দিলো না।
মাত্র দুই দিনের মাথায় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হা--ম--লা হলো, আর রামিসার নি--র্ম--ম ঘটনাটা মুহূর্তের মধ্যে চলে গেল ব্যাকস্টেজে। ব্যস,মিশন সাকসেসফুল!🤷‍♀️

রামিসার ঘটনা নিয়ে জনগণের মনে যে ক্ষো---ভ দানা বাঁধছিল, সেটাকে রাতারাতি ভ্যানিশ করে মনোযোগ অন্য খাতে ঘোরানোর জন্য এর চেয়ে পারফেক্ট স্ক্রিপ্ট আর কী-ই বা হতে পারতো? হিহি....!😅

​দিনশেষে হিসাবটা কিন্তু সেই শূন্যই। রামিসার বাবা-মাও তাদের সন্তান হ*** বি-চা-র পাবেন না, আর নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হা--ম--লা--র ফাইলটাও একসময় ধুলো জমা কোনো আলমারিতে হারিয়ে যাবে।
ক্ষমতার এই মিউজিক্যাল চেয়ার খেলায় মাঝখান থেকে শুধু পাবলিক’ই বলির পাঁ---ঠা.......হিহি!🙂

ভাবীকে দেখতাম, ভাইয়া রাতে দোকান বন্ধ করে ফেরার ঠিক আগের সময়টাতে আয়নার সামনে দাঁড়াতেন। পরিপাটি করে সেজেগুজে তবেই দরজা খুল...
23/05/2026

ভাবীকে দেখতাম, ভাইয়া রাতে দোকান বন্ধ করে ফেরার ঠিক আগের সময়টাতে আয়নার সামনে দাঁড়াতেন। পরিপাটি করে সেজেগুজে তবেই দরজা খুলতেন। আমি আড়ালে হাসতাম। একদিন ধরা পড়ে গেলাম। ভাবি ম্লান হেসে বললেন,
-হাসছিস কেন নিশা? শোন, তোর ভাইয়া সারাদিন দোকানে শত শত সাজগোজ করা সুন্দরী কাস্টমার দেখে। ঘরে ফিরে যদি সে আমাকে এলোমেলো অবস্থায় দেখে, তবে ধীরে ধীরে আমার প্রতি তার আকর্ষণ আর মনোযোগ দুটোই কমে যাবে।

আমি তখন কিশোরীসুলভ চপলতায় বলেছিলাম,
-ভাবী, তুমি তো পরকীয়াকে হাইলাইট করছ। ভাইয়া বাইরে প্রেমে পড়বে বলে তুমি ঘরে সেজে বসে থাকো!

ভাবি গম্ভীর হয়ে বলেছিলেন,
-যাদের পরকীয়া করার, তারা ঘরে হুরপরী থাকলেও করবে।

ভাবীর কথাগুলো আমার কাছে স্রেফ নাটক মনে হয়েছিল। ঠিক যেমন নাটক মনে হয়েছিল বড় আপার আচরণ।

আপা আর দুলাভাই যখন বাড়িতে বেড়াতে এলেন, খাওয়ার টেবিলে দেখলাম দুলাভাই এক চামচ পোলাও তুলে দিতেই আপা একদম ন্যাকামির সুরে বলল,
-আরে না না, আর দিও না, আমি একদম খেতে পারব না।

আমার চোখ রসগোল্লার মত বড় বড় হয়ে গেল। কি বলে এই মেয়ে! এই মেয়ে তো এক গামলা ভাত একবারে খেয়ে ফেলে। আর পোলাও তো ওর খুব প্রিয় তবুও ওখানে কথাটা বললাম না। পরদিন সকালে নাস্তার টেবিলে যখন একই চিত্র দেখলাম পরে আপাকে ডেকে কথাটা বললাম,
-কিরে আপা, তোর হয়েছেটা কি?ডায়েট করছিস নাকি!
-ডায়েট না হাতি। শোন তোকে একটা কথা বলি, যখনই হাজবেন্ডের সামনে খুব বেশি খাওয়া-দাওয়া করবি, প্রথম প্রথম সে খুশিই হবে কিন্তু তারপর যখন একটু মোটা হয়ে যাবি তখনই দেখা যাবে সে হাসির ছলে-তাচ্ছিল্যের ছলে সবার সামনে ছোট করে বলছে যে, তুই কি পরিমান খাস? এত বেশি খাস যে তার বেতনের সব টাকা চাল কিনতে কিনতেই শেষ হয়ে যায়।
ওই কথাটা শুনতে কি তোর ভালো লাগবে?

আমি ভুরু কুঁচকে বললাম,
- মানেটা কি! তাহলে কি বিয়ের পর সারা জীবন ডায়েট করে থাকবো?
-না স্বামী যদি ভাল হয় তাহলে তুই এক গামলা কেন, এক বালতি খা কোন সমস্যা নেই। কিন্তু স্বামীর মনের মধ্যে যদি তোর প্রতি বিন্দু পরিমাণ অসম্মান থাকে, ভালোবাসার ঘাটতি থাকে তাহলে সবার সামনে তোকে হেসে হেসে অপমান করা তার জন্য ডাল ভাতের ব্যাপার। তোর দুলাভাই ওই ধাঁচের। আমি ডায়েট করি না কিন্তু ও যখন বাড়িতে থাকেনা তখন নিজের মন মত খেয়ে নেই। আপার কন্ঠটা কেমন যেন শোনালো!

আমি হাঁ করে গেলাম। আমার বোন এত নাটক জানে! মানে ও চুরি করে খায় শ্বশুরবাড়িতে? কি অদ্ভুত!

স্কুল লাইফের প্রাণের বান্ধবী ছবি ইদানিং ফোন ধরে না, সোশ্যাল মিডিয়াতেও একটিভ থাকে না। তাই একদিন ওর শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হলাম। আমরা দুজন একেবারেই এক রকম কিন্তু ওকে দেখে আমি থমকে গেলাম। চুপচাপ, কেমন যেন গুটিয়ে গেছে।

আমি হেসে বললাম,
- কি রে আমি তো ভেবেছিলাম তুই আমাকে দেখে লাফিয়ে উঠবি, তোর-আমার সেই বিখ্যাত ননস্টপ হাসিটা চলতে থাকবে।
-এখন মেপে হাসতে হয় রে। ছবির কন্ঠে দীর্ঘশ্বাস।
-মানে?

ও একটু চুপ থেকে বলল,
- তোর দুলাভাই একদম পছন্দ করে না আমি বেশি কথা বললে, বেশি হাসলে। ওর ভাষায় “বেশি এক্সপ্রেসিভ” মেয়েরা নাকি ভালো না।
-তাই বলে তুই এমন চুপচাপ হয়ে যাবি?
-কি করবো বল? প্রথম প্রথম আমি আগের মতোই ছিলাম। ওর ফ্রেন্ডরা বাসায় এলে আমি গল্প করতাম, হাসতাম। পরে একদিন সবাই চলে যাওয়ার পর ও নোংরা ভাষায় বললো,
এত হাসাহাসি আর ঢলে পড়ার অভ্যাস থাকলে আমি যেন রেড লাইট এরিয়াতে গিয়ে এসব করি ।

ছবির কথা শুনে আমি আঁতকে উঠলাম। কোন হাসবেন্ড তার ওয়াইফ কে এটা বলতে পারে! আমি তড়িঘড়ি করে উঠে এলাম।

ভাবী নিজেকে সাজিয়ে রাখতেন ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে,
আপা নিজেকে আটকে রাখতেন অপমান এড়াতে,
আর ছবি, সে নিজের স্বাভাবিক সত্তাটাকেই ধীরে ধীরে মুছে ফেলছে, শুধু ভালো স্ত্রী হওয়ার জন্য।

জীবন বড় অদ্ভুত শিক্ষক। আমার বিয়ে হলো দীপ্তর সাথে। সরকারি চাকরি করা অত্যন্ত লাজুক আর মেধাবী একটা ছেলে।

বিয়ের প্রথম কিছুদিন যেন রঙিন বাতাসের মতো ছিল। আমি হাওয়ায় ভাসছিলাম। একরাতে দীপ্ত পাশে শুয়ে বললো,
-নিশা, তুমি অনার্স পাশ করা একটা মেয়ে। সবসময় কচি খুকি সেজে থাকার ভান করো কেন? এত হাসাহাসির কি আছে সবার সাথে, বিশেষ করে আমার চাচাতো ভাই দের সাথে? শোন আমি সরকারি চাকরি করি, আমার বৌ হবে রিজার্ভড। সে সব জায়গায় গিয়ে ঢলে পড়বে না। তোমার দেখি ঢলে পড়াটাই স্বভাব।

আমার মাথায় তখন ছবির কথাগুলো ঘুরছিল। দীপ্ত কি এখন আমাকেও রেড লাইট এরিয়াতে দাঁড় করিয়ে ছাড়বে তার কথা দিয়ে।

অবশ্য ও এমন কিছু বললো না। আমার খুব কাছে চলে এলো। কাল পর্যন্ত আমার কাছে যা ভালোবাসা, আদর মনে হচ্ছিল আজ কেন যেন নিজেকে সেই রেড লাইট এরিয়ার মেয়ে মনে হলো। আচ্ছা, দীপ্তর স্পর্শে আমি তো সাড়া দিই নি আজ, তাহলে ও আমার শরীর দখল করলো কেন? এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো চোখ থেকে।

তার কিছুদিন পর দীপ্তর বদলি হয়ে গেল রংপুরে, আমিও সাথে গেলাম। ওখানেই নিজের আলাদা সংসার সাজিয়ে নিলাম। প্রায় দু'বছর কেটে গেল।

ছুটির এক সকালে নাস্তার টেবিলে বসে দীপ্ত বলল,
-শোনো নিশা আমি একটু বের হব, আমার ফিরতে ফিরতে রাত হবে। এক কলিগের বিয়ের দাওয়াত আছে।
-কই আমাকে তো বললে না?
-এইতো বললাম।
-আমি যাব না?

দীপ্ত এক ঢোকে গ্লাসের পানি শেষ করে খুব অদ্ভুত এক রুক্ষ স্বরে বললো,
- না, ও ফ্যামিলিসহ ইনভাইট করলেও তোমাকে নিয়ে যাব না। নিজের চেহারা দেখেছ আয়নাতে? এলোমেলো চুল, কতদিন শ্যাম্পু করো না কে জানে? রুক্ষ ত্বক, ক্রিমটিম মুখে কিছু মাখো না নাকি! কেমন দেখা যায় তোমাকে? বিয়ের আগে তো কেমন পুতুল পুতুল লাগতো, এখন এই অবস্থা কেন?

আমি "থ" হয়ে গেলাম, দীপ্ত উঠে চলে গেল। বিয়ের আগে বলা ভাবীর কথা গুলো মনে পড়ে গেল। তারমানে সত্যিই এরকম হয়। আমি গুছিয়ে থাকলে আজকে দীপ্ত হয়তো আমাকে এই কথাগুলো বলতো না হয়তো!

এমনিতে আমি খাবার কম খাই, কিন্তু প্রেগনেন্সির শুরুর দিকে ক্ষুধা বেড়ে গেল। তখন আমার প্রেগনেন্সির চার মাস চলছে। ঈদের ছুটিতে শ্বশুরবাড়িতে এসেছি। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি সবাই আমাকে খুব আদর করেন। আমার ননদ রিনি খুব যত্ন করে খাবার তুলে দিচ্ছিল।

ঠিক এমন সময় দীপ্ত হাসতে হাসতে বললো,
-রিনি, তুই ওর প্লেটে খাবার দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যাবি, ওটা ওকেই তুলে নিতে দে। দেখছিস না ফুলেফেপে কি অবস্থা?

গর্ভকালীন অবস্থায় মেয়েদের শারীরিক যে পরিবর্তন আসে সেই অনুযায়ী আমারও ওজন খানিকটা বেড়েছে কিন্তু সেই কথা যে আমাকে এইভাবে শুনতে হবে বুঝতে পারিনি।

রিনি চুপ করে গেল। শাশুড়ি ধমক দিতে গিয়েও থেমে গেলেন, যা কিছুই হোক না কেন ছেলেই সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। দীপ্ত খাচ্ছিল সাথে হো হো করে হাসছিল, তার হাসি আর থামতেই চায় না। মুখ ভর্তি ভাত নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে সে বলতে লাগলো,
-আরে লজ্জা করোনা, খাও... খাও...
আমার চোখে কেমন পানি চলে এলো, সেটা ঠেকিয়ে রাখতে আমাকে প্রাণপণ চেষ্টা করতে হয়েছিল সেদিন। বড় আপার কষ্টটা সেই দিন বুঝেছিলাম, তার নাটকের মানে সেই দিন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, তার ন্যাকামির অর্থ সেই দিন ধরতে পেরেছিলাম।

সেই রাতেই আচমকা ব্লিডিং শুরু হলো। আমার বাচ্চাটা জন্মের আগেই মরে গেল। বেশ কিছুদিন লাগলো হাসপাতালে ডাক্তার টেস্ট এসব করতে। দীপ্ত রংপুরে চলে গেছে, তার ছুটি শেষ। আমি কিছুটা সুস্থ হলে রংপুর যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। শাশুড়ি বললেন, আমার চাচাতো দেবর আমাকে দিয়ে আসবে। এই শরীরে একা জার্নি করা ঠিক হবে না। আমি রাজী হতে গিয়েও হলাম না। কারন দীপ্ত সেটা পছন্দ করবে না, তার মত সরকারি অফিসারের বৌ অন্য কারো সাথে জার্নি করছে হোক সে যতই তার ভাই এটা তার চোখে অশোভন। একাই রওনা দিলাম।

আমি বুঝলাম আমিও ছবির মতো হয়ে গেছি। কবে, তা ঠিক বুঝতে পারি নি। আমিও এখন মেপে কথা বলি, মেপে হাসি।

পৌঁছে সব কাজ সেরে নিজে গোসল করে পরিপাটি হয়ে ওর জন্য অপেক্ষা করছিলাম ঠিক ভাবীর মতো। ও এলে হাসিমুখে দরজা খুললাম।

রাতে খাবার সময় আমি হাফ চামচ ভাত নিলাম আর এক টুকরো মাছ। খাওয়াও শেষ হয়ে গেল দ্রুত। আমি হাত ধুয়ে এসে দেখি দীপ্ত তখনো খাচ্ছে আর টিভি দেখছে।
- কি ব্যাপার, তোমার শরীর খারাপ নাকি? প্রশ্ন করলো।
- না তো
- এত কম খেলে যে!
- আমি তো কমই খাই। ওটা তো গর্ভবতী অবস্থায় ক্ষুধা বেড়ে গেছিল।
- ভালোই হয়েছে, নয়তো প্রতিদিন চাল কিনতে হতো। দীপ্ত কেমন দানবের মত হাসতে লাগলো। আমি দুই হাত আমার পেটে রাখলাম যেখানে আমার ছোট্ট সোনামনি ছিল।

এই রুটিন চলতে লাগলো। কিন্তু কানে ভেসে এলো এক গুঞ্জন... পরকীয়ার গুঞ্জন। দীপ্ত নাকি তার কোন কলিগের সাথে...

সন্দেহ খুব খারাপ জিনিস। এতদিন যা করিনি তাই করলাম, ফোন ঘাটলাম। পাসওয়ার্ডটা আগে একবার দেখেছিলাম। আমার পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেল। মহিলাটির নাম মিনু, তার সাথে দীপ্তর বিশ্রী অশালীন সব মেসেজ। গ্যালারি তে ঢুকতেই আমি স্তম্ভিত, ছবি ভিডিওর ছড়াছড়ি। বলাই বাহুল্য সেগুলো সবই ছিল অশ্লীল।

ফোনটা রেখে কাঁদতে কাঁদতে ছাদে উঠে গেলাম। হঠাৎ আমার কাজিন রুম্পা আপুর ফোন। আমাদের বোনদের মধ্যে ও দেখতে একটু কালো আর হাইটটাও সামান্য কম অন্যদিকে ওর হাজব্যান্ড দুধে আলতা, লম্বা, হ্যান্ডসাম। এই কথা সেই কথার পর একপর্যায়ে জানতে চাইলাম,
-আচ্ছা আপু, তুমি ভাইয়ার সামনে সবসময় পরিপাটি থাকো ?
- তা কেন! যখন ইচ্ছে হয় তখন সাজগোজ করি যখন ইচ্ছে হয় না তখন ঢোলাঢালা কাপড় পরে চুল এলিয়ে সোফায় পা তুলে বসে চিপস খাই। এমন কথা কেন বলছিস?

উত্তর না দিয়ে বললাম,
- ধরো এক আধ দিন তোমার বেশি ক্ষুধা পেলে ভাইয়ার সামনে খেতে লজ্জা পাও? নাকি আড়ালে খাও?

ও হাসতে লাগলো, কন্ঠে কিশোরীসুলভ চপলতা।
- তোর কি হয়েছেও বলতো? তেমন কিছুই না। কি যে আবোল তাবোল কথা বলিস না।

আরো কিছু কথা বলে ফোন রেখে দিলাম। আমি বুঝলাম খাওয়া, ওজন, সৌন্দর্য কিছুই ম্যাটার করে না যদি সত্যিকারের ভালোবাসা থাকে।

ছাদ থেকে নেমে আমি আর কাঁদিনি। আমি বুঝে গেছি, যে ভালোবাসা অর্জনের জন্য নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দিতে হয়, সে ভালোবাসা আসলে একটা মরীচিকা।

পরদিন সকালে দীপ্ত শাওয়ারে গেলে ওর ফোনের সমস্ত অশালীন মেসেজ, কল রেকর্ড আর মিনু নামের সেই কলিগের সাথে তোলা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও নিজের ফোনে ট্রান্সফার করে নিলাম। প্রতিটি প্রমাণ গুছিয়ে রাখলাম ।

এরপর আমি ফিরলাম নিজের সত্তায় । রাতে খাবারের টেবিলে আমি আর আধা চামচ ভাত নিয়ে বসে রইলাম না। নিজের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পেট ভরে খেলাম, বহুদিন পর। দীপ্ত অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে বুঝতে পারছি।

ও অফিস থেকে ফেরার সময় আর কৃত্রিম পরিপাটি হয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলাম না। বরং ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পরে, চুলগুলো এলোমেলো খোঁপা করে নিজের প্রিয় একটা বই পড়তে লাগলাম। পাশের বাসার ভাবীর সাথে বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রাণখুলে হাসলাম, যা দীপ্তর ভাষায় ছিল ঢলে পড়া।

অবশ্য দীপ্তর বিরক্তি চরমে পৌঁছাতে দেরি হলো না। একদিন খাবার টেবিলে যখন দ্বিতীয়বার ভাত নিতে গেলাম, দীপ্ত সশব্দে গ্লাসটা টেবিলে রেখে গর্জে উঠল,
-কি শুরু করেছ এসব নিশা? চেহারা তো আগেই গেছে, এখন দেখছি রাক্ষসের মতো খাওয়া শুরু করেছ। আবার পেট বাধিয়েছো নাকি? কই আমার তো কোন প্ল্যান নেই। কার সাথে কি করেছো? অবশ্য বাইরের মানুষের সাথে ইদানিং আবার তোমার ঢলাঢলি বেড়েছে। বলে খুব কুৎসিত ভাষায় একটা গালি দিল আমাকে।

আমি শান্ত গলায় উত্তর দিলাম,
- ওটা আমি করি না, তুমি করো। অফিসে, বাইরে, ফোনে, কোন এক মিনুর সাথে। মিনু নামটা যেন দাবানলের মত কাজ করল। হঠাৎ করেই দীপ্ত আমার ওপর চড়াও হলো। চড়, লাথি, ঘুসি একনাগাড়ে দিয়ে চলল। আমি আছড়ে পড়লাম দেয়ালে। ঠোঁটের কোণ ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ল, হাত ও কাঁধে কালশিটে দাগ পড়ে গেল, পা মচকে গেল। কিন্তু আমি এবার আর চিৎকার করে কাঁদলাম না। কোনোমতে পা টানতে টানতে ঘরে গিয়ে নিজের ফোন আর প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে খুব কষ্টে সোজা থানায় হাজির হলাম।

খুব দ্রুতই আমাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলো। রিপোর্ট আসার পর ওসি ফাইলটা কিছুক্ষণ নীরবে দেখলেন। তারপর মাথা তুলে বললেন,
-প্রমাণগুলো খুব স্ট্রং।
একটা ছোট্ট বিরতির পর তিনি নির্দেশ দিলেন,
-আসামিকে নোটিশ পাঠাও। প্রয়োজন হলে ইমিডিয়েট অ্যাকশন।

সেদিন বিকেলেই দীপ্তর ফোনে থানার কল গেল।
-আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আসতে হবে।

দীপ্ত প্রথমে ব্যাপারটা খুব হালকাভাবে নিলেও থানায় ঢোকার পর পরিস্থিতি আর সেরকম থাকলো না।

ওসি সরাসরি ফোনটা সামনে রেখে বললেন,
-এগুলো আপনার?
দীপ্তর মুখের রং বদলে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
-পার্সোনাল ব্যাপার স্যার।
-কারও শরীরে হাত তোলাও পার্সোনাল? ওসি কড়া গলায় বললেন।
তারপর আমার মেডিকেল রিপোর্টটা সামনে রাখা হলো।
কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইরের জগতের বদলে দীপ্তর রাতটা কাটলো থানার লকআপে।

একজন দক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে দীপ্তর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা এবং বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের ডিজিটাল প্রমাণসহ মামলা ঠুকে দিলাম সেই পুলিশ অফিসারের সাহায্যে। পুরো সময়ে আমি একবারও কাঁদি নি।

সরকারি অফিসার হওয়ার কারণে দীপ্তর ওপর চাপ আরও বেড়ে গেল। পুলিশি তদন্তে তার ফোনের সমস্ত ডিলিট করা তথ্যও উদ্ধার করা হলো। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দীপ্তর এতদিনকার মুখোশ হঠাৎ করেই সবার সামনে খুলে গেল। তার সেই ‘ভদ্র’ আর ‘মেধাবী’ ইমেজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কদর্য রূপটা সমাজ ও সহকর্মীদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। সরকারি চাকরিতে নৈতিক স্খলন আর ফৌজদারি মামলার কারণে দীপ্তকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

যেদিন তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলো সেই দিনটাতে আদালতের কক্ষ ভর্তি মানুষের মাঝখানে দীপ্ত মাথা নিচু করেছিল কেন যেন আমার একটু খারাপ লাগছিল তারপরেও আমি দৃঢ়ভঙ্গিতে মাথা উঁচু করে বসে রইলাম।

ম্যাজিস্ট্রেট ফাইলটা খুলে এক এক করে দেখছিলেন।
মেডিকেল রিপোর্ট,ছবি, চ্যাট প্রিন্ট। সব দেখে তিনি ভ্রু কুঁচকালেন। আদালত কক্ষ তখন নিস্তব্ধ।

বেশ অনেকটা সময় ধরে দুই আইনজীবির মধ্যে তর্কবিতর্ক হতে লাগলো। দীপ্তর আইনজীবী জামিনের প্রার্থনা করলেও তার জামিন মঞ্জুর হলো না।

দীপ্ত স্তব্ধ। পুলিশ তাকে আবার ধরে নিয়ে যেতে লাগলো।
যাওয়ার সময় সে আগুন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।

আইনী লড়াইয়ে আমার জয় হলো। আদালত থেকেই দেনমোহর ও ভর্তুকি সহ ডিভোর্স টা হলো, সাথে শারীরিক নির্যাতনের জন্য দীপ্তর ছয় মাসের জেল সাথে জরিমানা হলো। এমনিতেই সে সাসপেন্সনে আছে তবে এর পরে আবার নাকি ডিপার্টমেন্টাল এনকোয়ারি হবে তাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তার চাকরিটা থাকবে কি থাকবে না, তাতে এখন আর আমার কিছু যায় আসে না। অন্যদিকে শুনেছি মিনু নামের সেই তিন বাচ্চার মাকে তার বর ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছে।

আমি এখন মুক্ত। আসলে কারো মনে জায়গা পেতে হলে নিজেকে বদলে ফেলতে হবে এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল।

তবে মজার ব্যাপার হলো আমার সেই বদলে যাওয়া জীবনের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ল ভাবীর মনের জগতে। সেদিন সন্ধ্যায় ভাইয়া দোকান থেকে ফেরার সময় ভাবী আর কনসিলার ফেস পাউডার নিয়ে বসলেন না। বরং রান্নাঘরেের ঘামে ভেজা কপালে হাত দিয়ে সোফায় এসে আরাম করে বসলেন। ভাইয়া ঘরে ঢুকে যখন ভ্রু কুঁচকে ভাবীর অগোছালো অবস্থার দিকে তাকালেন, ভাবী শান্ত স্বরে বললেন,
-সারাদিন দোকানের কাস্টমারদের সাজগোজ দেখে এসে এখন আমাকেও কাস্টমার ভেবো না। আমি তোমার স্ত্রী, শোপিস নই। আজ থেকে আমি এভাবেই থাকব, যদি ভালোবাসা থাকে তবে এই আমাকেই ভালোবাসতে হবে। যেদিন নিজের ইচ্ছা হবে সেদিনই কেবল নিজেকে সাজিয়ে তুলব। ভাইয়া থমকে গেলেন, কারণ ভাবীর চোখে আজ ভয়ের বদলে ছিল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা।

অন্যদিকে বড় আপার ঘরেও পরিবর্তনের হাওয়া লাগল। সে দুলাভাইয়ের সামনেই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়া-দাওয়া করে।

সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণটা ঘটলো ছবির জীবনে। এক ঘরোয়া পার্টিতে ছবি যখন তার এক বান্ধবী ও বান্ধবীর বরের সাথে প্রাণখুলে হাসছিল, তখন তার স্বামী আড়ালে ডেকে নিয়ে বিষাক্ত স্বরে কানে কানে বলল,
-এই যে বেশি হাসাহাসি আর ঢলে পড়া শুরু করেছ, সবার সামনে কি নিজেকে রেড লাইট এরিয়ার মেয়ে প্রমাণ করতে চাও?

ছবি এবার আর আঁতকে উঠল না। সে ড্রয়িংরুমের মাঝখানে গিয়ে যেখানে সবাই উপস্থিত ছিল, সেখানে উচ্চস্বরে বলল,
-শোনেন সবাই, আমার স্বামী মনে করেন যে সকল মেয়েরা পরিচিতজনদের সাথে হাসাহাসি করে কিংবা কথা বলে তারা হচ্ছে রেড লাইট এরিয়ার মেয়ে। সেই সুবাদে এখানে দাঁড়ানো প্রত্যেকটি মেয়ে কিন্তু রেড লাইট এরিয়ার মেয়ে হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আপনারাই বলুন, আপনাদের স্ত্রীদেরকে রেড লাইট এরিয়ার মেয়ে হিসেবে আমার হাজব্যান্ড বিবেচনা করছে কি অদ্ভুত তাই না! ছবির বর পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেল সে বুঝতেও পারেনি ছবি এই কাজটি করবে। উপস্থিত মেহমানরা সবাই ছবির হাজবেন্ডের দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বের হয়ে গেল। ছবিও তাচ্ছিল্য ভরা দৃষ্টি নিয়ে ওর হাজবেন্ডের দিকে তাকিয়ে ছিল।

এসব ছবিই আমাকে ফোন করে বলেছে। এখন বুঝি, যে ভালোবাসা পেতে প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিতে হয়, সেই ভালোবাসা আসলে মরীচিকা। প্রকৃত ভালোবাসা মানে আপস নয়, বরং একে অপরের সবচেয়ে অগোছালো আর দুর্বল রূপটাকেও পরম মমতায় আগলে রাখা। যে ফুল নিজেকে সুবাসিত করে কেবল অন্যের তৃপ্তির জন্য, সে অসময়েই ঝরে যায়। কিন্তু যে ফুল নিজের টবে নিজের স্বকীয়তায় ফুটে থাকে, তার সৌরভই চিরস্থায়ী। অন্যকে খুশি করার আগে নিজেকে ভালোবাসতে হয়, তবেই পৃথিবী আমায় সম্মান করতে বাধ্য হবে।

অস্তিত্বের_জয় :
সুবর্না শারমিন নিশী

এই না হলে হিরো!! বিশ্বাস করেন এখন পর্যন্ত ধ**--র্ষ**--ণ নিয়ে অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীরা কথা বলছে কিন্তু অভিনেতা আরশ খানের ...
23/05/2026

এই না হলে হিরো!! বিশ্বাস করেন এখন পর্যন্ত ধ**--র্ষ**--ণ নিয়ে অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীরা কথা বলছে কিন্তু অভিনেতা আরশ খানের মতো করে কেউ বলেনি।। এমনভাবে প্রকাশ্য সাহসী প্র-তিবাদ কেউ করেনি।। আরশ খান বুঝিয়ে দিলো অ-ন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলতে সে কাউকে ভয় পায়না।।

একটা শোতে ক্যামেরার সামনে বসে অভিনেতা আরশ খান বলেন ----- আপনি পাঁচজন রে--p--স্ট কে মৃ//ত্যু//দ//ণ্ড দেন 6 নম্বর রে--p--স্ট আপনি খুজে পাবেন না এদেশে।। একজন রে--p--স্টকে শুধরানোর কিছু নাই।। কোথায় আছো না পা-পীকে নয় পা-পকে ঘৃণা কর!! কিন্তু রে--p এমন একটা পা-প ওই পা-পীকে যদি আপনি শুধরে ফেলেন ও শোধরাবে কিন্তু যার জীবনটা নিয়ে ও নোং//রা//মি করল গেমটা খেললো তার লাইফটাকে কি আপনি ঠিক করতে পারবেন!! এটা কোনদিন ঠিক করতে পারবেন না।।

So রে--p--স্ট*দের শুধরানোর কিছু নাই।। ওদের একটাই শা--*স্তি হচ্ছে সেটা মৃ//*ত্যু*//দ//ণ্ড।। সেটার জন্য যদি গোটা দেশের মানুষের এক হইতে হয়, ফা-ইট করতে হয় আপনারা এটা করেন।। আপনারা এটা করবেন, আমি কথা দিচ্ছি আমি ও এটা আপনাদের সাথে করবো, আমি বসে থাকবো না।। এটার শা*--*স্তি এভাবে নেওয়ার জন্য সবাইকে অনেক সক্রিয় থাকা উচিত,অনেক স্ট্রং থাকা উচিত।। এটা গভার্নমেন্ট থেকে নিয়ম করে দেয়া উচিত রে--p---স্ট শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে খুব দ্রুত মৃ//*ত্যু*//দ// ণ্ড দিতে হবে।।

দেশ থেকে যদি রে--p না সরে ট্রাস্ট মি, যারা ক্ষমতায় আছেন আপনারা কিন্তু আপনাদের পপুলারিটি হারায় ফেলবেন।। So এই জিনিসটা নিয়ে আপনারা হেলাফেলা কইরেন না।। আমি একজন অভিনেতা।। আমি জানি এটা নিয়ে আমাকে বলা হইতে পারে - যে আমি মানুষকে উ--স--কাচ্ছি।। হ্যাঁ আমি দিচ্ছি এটা আমি এটা নিয়ে রিগ্রেট ফিল করি না।। আমি যদি আমার সামনে কোন রে--p-- স্ট কে পাই আমি মা// র// বো।। প্র-শা-স-ন আমার কি করবে, আ-ইন আমার কি করবে, এটা আমি ভাবতেও যাব না।। এটার কোন ছাড় নেই।।

আমি বড় হয়েছি নারীদের মধ্যে, আমার মা আছে, আমার বোন আছে, আজকে যদি আমার ফ্যামিলিতে এটা হয় আমি কি বসে থাকবো নাকি!! আপনি বসে থাকবেন!! এখন আর একজনের ফ্যামিলিতে এটা হচ্ছে ওটা আমি দেখব!! এখানে মাথা নত করার কিছু নেই, এখানে গুটিয়ে থাকার ও কিছু নেই।। এটার জন্য যদি সরকারের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হয় আমি ওটা করবোই।। ওটার জন্য আমার কি পরিণতি হয়, "আই ডোন্ট কেয়ার"
আমার কিছুই যায় আসে না।।

এইজন্য আরশ খানকে এতো বেশি ভালো লাগে।। আরশ কখনো কোনো অন্যায়ের সাথে আ-পোষ করেনা।। সত্যি তার মা গর্বিত এমন একজন সন্তান জন্ম দিয়েছে, মানুষের মতো মানুষ করেছে, যে ছেলেটা সত্যি বলতে ভয় পায়না।। ❤️❤️❤️
#শিশুরামিসা

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি সহ নেতাকর্মীদের থানায় অবরুদ্ধ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা বি//ক্ষো//ভ  করেছে।। এক পাটোয়ারি কে এতো ভয় পায়...
23/05/2026

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি সহ নেতাকর্মীদের থানায় অবরুদ্ধ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা বি//ক্ষো//ভ করেছে।। এক পাটোয়ারি কে এতো ভয় পায় কেনো এরা!! ১ জন পাটোয়ারীকে সা-ইজ করতে নাকি ১-২ হাজার ছাত্রদলের পোলাপান গিয়েছিলো।।

অবশেষে থানায় ৪-৫ ঘন্টা অবস্থান করার পর নাকি
মা//ম//লা নিয়েছে।। তারপর বিএনপি নেতাদের সামনে পুলিশি হেফাজতে নাসিরুদ্দিনকে থানা থেকে বের করা হয়।।

আমি খালি একটা কথা ভাবছি -- যে মানুষ টা সব সময় ম--বে--র বিরুদ্ধে কথা বলে আজকে থানার সামনে নাকি তার সাথে ম--ব হইল।। যে মানুষটা চুরি, ছি--ন--তাই নিয়ে সব সময় আওয়াজ তুল তো আজকে নাকি তার মোবাইল, মানিব্যাগ ছি--ন--তাই, চু--রি হয়েছে।। যে মানুষটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবী করতো, আজকে নাকি সেই পাটোয়ারীর মা//ম//লা নেওয়া হচ্ছিলোনা ৫ ঘন্টা থানার সামনে বসে থাকা লাগছে, মা//ম//লা করার জন্য।।

কি আর বলবো কিচ্ছু বলার নাই, আমি হতাশ।। 😔😔
#হামলা #ঝিনাইদাহ

 #বেলীফুলের_ইতিকথা (২৬) #মীরাতুল_নিহা বেলীর বুকফাটা আর্তনাদ আর গগনবিদারী চিৎকারে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সে ফিওনার রক্তাক...
22/05/2026

#বেলীফুলের_ইতিকথা (২৬)
#মীরাতুল_নিহা

বেলীর বুকফাটা আর্তনাদ আর গগনবিদারী চিৎকারে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সে ফিওনার রক্তাক্ত, নিথর শরীরটা বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে পাগলের মতো হাসপাতালের দিকে ছুটল। জরুরি বিভাগের ডাক্তাররা ফিওনার অবস্থা দেখেই শিউরে উঠলেন। বাচ্চার এমন ভয়াবহ ক্ষত আর রক্তপাত দেখে তারা আর এক মুহূর্তও দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায়, পুলিশে খবর দিলেন। হাসপাতালের সাদা ঠান্ডা করিডোরের মেঝেতে বসে বেলী তখনো উন্মাদের মতো কাঁদছে। তার গায়ের শাড়িতে মেয়ের তাজা রক্ত লেগে শুকিয়ে আসছে। আয়েশা নিজের সাত মাসের ভারী শরীর নিয়েও বেলীর পাশে বসে তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু বেলীর কানের ভেতর তখন কোনো কথাই ঢুকছে না।
কিছুক্ষণ পর আয়েশার স্বামী আরিফ হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালে এসে পৌঁছাল। সে বাইরে থেকে কিছু খাবার আর পানির বোতল কিনে এনেছিল। আরিফ অত্যন্ত যত্ন করে খাবারগুলো প্রথমে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আয়েশার দিকে এগিয়ে দিল, তারপর বড় বোন সমতুল্য বেলীর সামনেও ধরল। বেলী শূন্য দৃষ্টিতে আরিফের দিকে তাকাল, কিন্তু কোনো খাবার স্পর্শ করার মতো মানসিকতা তার ছিল না। ঠিক তখনই আদনান ধীরপায়ে করিডোরে এসে দাঁড়াল। সে এতক্ষণ দূর থেকে নির্বাক হয়ে এই পুরো দৃশ্যটা দেখছিল। তার চোখেও ছিল এক অদ্ভুত থমথমে ভাব। সে বেলীর একদম কাছাকাছি এসে বসল এবং অত্যন্ত নরম ও সান্ত্বনা জড়ানো গলায় বলল,

“ মন শক্ত করো। ভেঙে পড়ো না। আমাদের ফিওনা অনেক শক্ত মেয়ে, ও ঠিক সুস্থ হয়ে যাবে! তোমরা না আসলে হয়ত এসব হতো না। আমাকে ক্ষমা করো, আমার জন্যই এতকিছু!”

কথাটা বলেই আদনান আর সেখানে দাঁড়াল না। কারো কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে দ্রুত পায়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেল। তার এভাবে হুট করে চলে যাওয়া দেখে আয়েশা বেলীর দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল,

“আজ তো নিজের বোনের বিয়ে। বাড়িতে কত মেহমান! মনে হয় সেই তাগিদেই চলে গেছে। তুই কিছু খেয়ে নে।”

এরই মধ্যে জরুরি বিভাগের ওটি (OT) থেকে ডাক্তাররা গম্ভীর মুখে বেরিয়ে এলেন। বেলী এক লাফে উঠে গিয়ে ডাক্তারের হাত দুটো চেপে ধরল। ডাক্তার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অত্যন্ত দুঃখিত গলায় বললেন

, “বাচ্চার ওপর প্রচন্ড রকমের পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। গলায় মুখে নখের আঁচড়ের দাগ। বাচ্চাটা হয়ত ছুটে পালানোর চেষ্টা করছিল। গলায় বেশ লাল দাগ! ওকে ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সফল না হওয়ায় অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়ার কারণে সে শকে চলে গেছে। আমাদের ধারণা, যন্ত্রণার তীব্রতায় একপর্যায়ে ফিওনা যখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল, তখন হয়তো ধর্ষক ভয় পেয়ে মাঝপথে তাকে ওই জঙ্গলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বর্তমানে আমরা রক্তপাত বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। চিকিৎসা চলছে।”

ডাক্তারের মুখ থেকে ‘ধর্ষণ’ ‘অতিরিক্ত ব্লিডিং’ কথাগুলো শোনামাত্রই বেলীর মাথার ভেতর সব ওলটপালট হয়ে গেল। সে আবারও করিডোরের মেঝেতে আছড়ে পড়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।এই পৃথিবীর মানুষগুলো এত নিষ্ঠুর? এত পৈশাচিক হত পারে একটা রক্তমাংসের মানুষ? মাত্র চার বছরের একটা নিষ্পাপ, অবুঝ বাচ্চা—তাকেও একটু দয়া করল না পাষণ্ডরা! তাকেও ধর্ষণ করতে ছাড়েনি! তার চার বছরের পুতুলটার সাথে এই দুনিয়ার মানুষ এমন নরকীয় কাণ্ড করতে পারল, এই সত্যিটা সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না। কান্না যেন থামছেই না এটা ভেবে ফিওনা কত যন্ত্রণা সহ্য করেছে!
________________________________
ফারহান চাইলে পারতো বেলীকে ডিভোর্সের পর টাকাগুলো না দিয়ে ফাঁকি দিতে, আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াতে। কিন্তু তার ভেতরের সুপ্ত বিবেক আর অতীতে করা পাপের তীব্র অপরাধবোধ তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। সে চেয়েছে যেকোনো মূল্যেই হোক বেলীর এই দেনমোহরের পাওনা টাকা শোধ করে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে। সেই মরিয়া ভাব থেকেই ফারহান দ্রুত তার নিজের গ্রামে ফিরে যায়। বাপদাদার আমলের যেটুকু মাথা গোঁজার শেষ ভিটেমাটি অবশিষ্ট ছিল, নিজের কোনো ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই সেটুকু একরকম পানির দরে, তাড়াহুড়ো করে বিক্রি করে দেয়। সব মিলিয়ে মাত্র তিন লাখ টাকা হাতে পায় সে। গ্রামে থাকার মতো শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে ফারহান ঢাকায় ফিরে আসে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেলীর দেনমোহরের সেই দু লাখ টাকা সে শোধ করে দেয়। কিন্তু দেনমোহরের টাকার বাইরেও তার ঘাড়ে আরও ত্রিশ হাজার টাকার একটা দেনা ছিল। সেই অবশিষ্ট টাকাটা শোধ করার জন্য সে নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, এদিক-ওদিক হন্যে হয়ে ঘুরছিল। কিন্তু নিয়তির মার বোধহয় একেই বলে! ফারহান আর এক কদমও সামনে এগোতে পারল না, তার চলার সব পথ যেন একসাথে বন্ধ হয়ে গেল।
টাকার অভাবে ঢাকার সেই জীর্ণ ছোট ঘরটার বাড়ি ভাড়াও সে সময়মতো দিতে পারেনি। কয়েক মাসের ভাড়া বাকি পড়ায় বাড়িওয়ালা একদিন চরম অপমান করে তাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। রাস্তায় এসে দাঁড়ায় ফারহান। একটা সাধারণ কাজের জন্য সে চেনা-পরিচিত সবার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরল, কিন্তু তার অতীত রেকর্ড আর এই বর্তমান দুর্দশা দেখে কেউ তাকে বিশ্বাস করল না, কোনো কাজেও নিল না।
চরম নিরাশ আর নিঃস্ব হয়ে একদিন ফারহান রাস্তার এক মোড়ে এসে ধপাস করে বসে পড়ল। ক্ষিদে আর অপমানে তার শরীর তখন কাঁপছিল। গত কয়েক মাসের মানসিক ঝড় আর অনাহারে তার পরনের পোশাকটা হয়ে গিয়েছিল জীর্ণ, ময়লা আর ছেঁড়া। মাথার চুলগুলো উসকোখুসকো, মুখের দাড়ি-গোঁফ বড় হয়ে জট পাকিয়ে গিয়েছিল।
ফারহান যখন শূন্য দৃষ্টিতে রাস্তার দিকে তাকিয়ে নিজের ভাগ্যকে দোষছিল, ঠিক তখনই এক পথচারী তার সেই মলিন দশা, ছেঁড়া পোশাক আর বড় চুল-দাড়ি দেখে তাকে একজন সাধারণ ভিখারি ভেবে বসল। লোকটা দয়া করে ফারহানের ওপর একটা টাকার নোট ছুড়ে দিয়ে চলে গেল। কোলের ওপর পড়া সেই টাকাটার দিকে ফারহান স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। তার চোখ ফেটে জল চলে এল। আজ পরিস্থিতি তাকে কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছে! টাকাটার দিকে তাকিয়ে সে চরম এক সত্য আবিষ্কার করল—দুনিয়ার মানুষ তাকে এখন ভিক্ষুক ছাড়া আর কিছু ভাবছে না। ভেতরের সব আত্মসম্মান আর অহংকার বিসর্জন দিয়ে সেই দিন থেকেই ফারহান পুরোদস্তুর ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিল। ওই রাস্তার মোড়টাই হলো তার নতুন ঠিকানা। এভাবেই ভিক্ষা করে তার একেকটা দিন কাটতে লাগল। মানুষের কাছে হাত পেতে যে কয়টা টাকা জোটে, তা দিয়ে কোনোদিন কিছু কিনে পেটের ক্ষুধা মেটায়, আর যেদিন টাকা জোটে না, সেদিন ক্ষুধার্ত পেটে রাস্তার ফুটপাতে, চটের ওপর ধপাস করে শুয়ে পড়ে। ঘুমানোর জন্য ছাঁদটুকুও নেই তার মাথায়। ফারহান বড় রাস্তার ধারের এক কোণেই আস্তানা গেড়েছিল। হঠাৎ করেই তার কানের কাছে মানুষের শোরগোল আর একটা তীব্র জটলার আওয়াজ এলো। চারপাশ থেকে লোকজন চিৎকার করতে করতে ছুটে যাচ্ছে। পিচঢালা মেইন রোডের মাঝখানে ততক্ষণে বেশ বড় একটা মানুষের ভিড় জমে গেছে। কেউ একজন বলাবলি করল,

“আহারে! এক্কেবারে বাসের তলায় পইড়া শ্যাষ!”

ফারহান সহজে হাঁটতে পারে না। তার সেই পুরনো, ভাঙা ক্র্যাচটার ওপর ভর দিয়ে সে অনেক কসরত করে কোনোমতে শরীরটাকে টেনে তুলল। কৌতূহল আর অবশ পা দুটো নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সে জটলার একদম সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ভিড় ঠেলে উঁকি দিতেই দেখল, রাস্তার মাঝখানে রক্তাক্ত অবস্থায় একটা মেয়ে পড়ে আছে। চারপাশের লোকজন আফসোস করতে করতে বলাবলি করছে,

“মাথায় বড্ড বেশি চোট লাগছে ভাই। মেয়েটা আর বেঁচে নেই, অন স্পট ডেড!”

রক্তে ভেজা সেই নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে ফারহানের বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবল—এমন একটা এক্সিডেন্ট যদি তারও হতো! যদি একটা বাস এসে তাকেও পিষে দিয়ে চলে যেত, তবে সে এই নরকযন্ত্রণা আর দুর্দশার জীবন থেকে চিরতরে মুক্তি পেত। প্রতিদিন হাত পেতে ভিক্ষা করার চেয়ে এই মরণও যে অনেক ভালো ছিল! এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই ফারহান একটু ভালো করে লক্ষ্য করল মেয়েটার দিকে। মাথার চুলগুলো জট পাকিয়ে ধুলোবালিতে একাকার হয়ে আছে, হাতের আর পায়ের নখগুলো অযত্নে কত বড় বড় হয়ে গেছে! পরনে নোংরা, ছেঁড়াফাটা তালি দেওয়া এক টুকরো কাপড়। চারপাশের মানুষজন বলাবলি করতে লাগল, এটা কোনো সাধারণ মেয়ে নয়, নির্ঘাত কোনো পথের পাগল!
কফারহান যখন লোকজনের কথা শুনছিল তখন তার চোখ গিয়ে পড়ল মেয়েটার মুখের ওপর। রক্তের ছোপ ছোপ দাগ মাখা সেই ফ্যাকাশে চেহারার দিকে তীক্ষ্ণ নজর দিতেই ফারহানের পুরো শরীর যেন এক নিমেষে জমে পাথর হয়ে গেল!
আর অন্য কেউ নয়! এ যে সেই অতি পরিচিত মুখ... এ যে তৃষ্ণা! লোকেরা তখনো আফসোস করে বলছে,

“আহারে! খেয়াল না কইরা রাস্তা পার হইতে গেছিল, এক্সিডেন্টেই মরে গেল।”

ফারহান ধীরপায়ে আরেকটু কাছে এগিয়ে গেল। কিন্তু সে তৃষ্ণার সেই রক্তাক্ত দেহটা আর স্পর্শ করল না। হাত দুটো তার কাঁপছিল। এক তীব্র শূন্যতা আর বিষাদ এসে তাকে গ্রাস করল। এই একটা নারীর চক্করে পড়েই তো আজ তার জীবনের এই চরম অধঃপতন! তার এই ভিখারি হওয়ার পেছনে তৃষ্ণার ভূমিকাও তো কম ছিল না। আজ এই দৃশ্য দেখে সে হাসবে নাকি কাঁদবে, তা নিজের মনকেও জিজ্ঞেস করে বুঝতে পারল না। যে তৃষ্ণার রূপের মোহে অন্ধ হয়ে সে নিজের সাজানো সংসার, লক্ষ্মী একটা বউ, ফুটফুটে কন্যাসন্তানকে এক নিমেষে ছেড়ে দিয়েছিল, সেই তৃষ্ণাই তাকে চরম অবহেলায় ছেড়ে চলে গিয়েছিল। আর আজ? আজ অবশেষে সেই তৃষ্ণাকেই এই নিষ্ঠুর দুনিয়া ছেড়ে একেবারে শূন্য হাতে চলে যেতে হলো।
পরক্ষণেই ফারহানের মনে হলো, এখন তৃষ্ণার ঘাড়ে দোষ চাপিয়েই বা তার কী লাভ? সে নিজে কি ধোয়া তুলসী পাতা? সে নিজেও তো এক চরম পাপী! বেলীর মতো একটা মেয়ের জীবন ধ্বংস করার মূল কারিগর তো সে নিজেই। প্রথমে প্রেম করে পালিয়ে এনে বিয়ে করলো। মেয়েটাকে পরিবার থেকে আলাদা করে নিলো। সংসার পাতলো, সন্তান হলো শেষমেশ সে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে আরেকটা বিয়ে অব্দি করেছে! যে মেয়েটা তার জন্য সব ছেড়েছিল সে মেয়েটাকেই সে ছেড়ে দিয়েছে!
ফারহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল—ভালোই হয়েছে, তৃষ্ণা অন্তত এই দুনিয়া থেকে মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু সে নিজে কবে মুক্তি পাবে? আত্মহত্যা করা মহাপাপ, আর জীবনে সে এমনিতেও কম পাপ করেনি যে নতুন করে আরেকটা পাপের বোঝা মাথায় নেবে! সেই ভয়ে সে নিজের জীবনটা নিজ হাতে শেষ করতেও পারছে না।
ফারহান ঝাপসা চোখে তৃষ্ণার লাশের দিকে তাকিয়ে রইল। আজ সে নিজের চোখ ভরে প্রকৃতির সেই নিষ্ঠুর বিচার দেখল। প্রকৃতি কাউকেই ছাড়ে না! প্রকৃতি তৃষ্ণাকেও ছাড়েনি, আবার ফারহানকেও মাফ করেনি। তৃষ্ণা তো এক নিমেষেই সব কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়ে চলে গেল, কিন্তু ফারহানের জন্য প্রকৃতি যে আরও বড় শাস্তি তুলে রেখেছে—সে মরতেও পারছে না, বাঁচতেও পারছে না; প্রতিটা মুহূর্তে ধুঁকে ধুঁকে মরছে!

#চলবে

রাত তখন তিনটে। গ্রামের কৃষক হরেন মণ্ডল উঠে পড়লেন। মাঠে যাওয়ার আগে স্ত্রী সুভদ্রা এক বাটি পান্তাভাত এগিয়ে দিলেন। কাঁচা...
22/05/2026

রাত তখন তিনটে। গ্রামের কৃষক হরেন মণ্ডল উঠে পড়লেন। মাঠে যাওয়ার আগে স্ত্রী সুভদ্রা এক বাটি পান্তাভাত এগিয়ে দিলেন। কাঁচা লঙ্কা, পেঁয়াজ, একটু সরষের তেল ,ব্যস, এইটুকুই। হরেনদা সেটা মেখে গপগপ খেলেন, তারপর হাঁটতে শুরু করলেন পাঁচ কিলোমিটার দূরের মাঠের দিকে। সারাদিন রোদে মাথা দিয়ে কাজ করলেন, তবু শরীর টনটনে।
এই ভাত কোনো ম্যাজিক না। এটি ভাত বিজ্ঞান।

ব্যাপারটা ভীষণ সহজ। রাতের বেঁচে যাওয়া ভাতে জল ঢেলে রেখে দিলেই পরের সকালে তৈরি হয় পান্তাভাত। কিন্তু এই রাতটুকুর মধ্যে ভাতে যা ঘটে ,সেটা রীতিমতো ম্যাজিক।
জলে ডুবে থাকা ভাতে শুরু হয় ল্যাক্টিক অ্যাসিড ফার্মেন্টেশন। অর্থাৎ, প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া কাজ শুরু করে এবং ভাতকে ভাঙতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় ,
আয়রন - সাধারণ ভাতের তুলনায় ২১ গুণ বেশি! পটাশিয়াম - ৩ গুণ বেশি । ক্যালশিয়াম - ৮ গুণ বেশি। ল্যাক্টোব্যাসিলাস - হাজার হাজার উপকারী ব্যাকটেরিয়া (প্রোবায়োটিক!)
ভিটামিন B12 - যা সাধারণ ভাতে থাকেই না।

মানে বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে হরেনদার পূর্বপুরুষেরা শতাব্দী ধরে যা খেয়ে আসছেন, তা আসলে একটা সুপারফুড।

পান্তাভাতকে যদি ভাবেন শুধু বাংলার খাবার, তাহলে ভুল করছেন। পৈতা ভাত, বোরে বাসি,পাজহান কাঞ্জি,গাঞ্জি অন্নম, নামে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পরিচিত। পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর আত্মীয় ছড়িয়ে আছে ,Kayu/Okayu,Nasi Boro,pakhala ইত্যাদি নামে।

হরেন মণ্ডল পান্তা খেয়ে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটতেন।
আর আমাদের কর্তামশাই? পান্তা খেয়ে পাঁচ পদক্ষেপ হেঁটে বিছানায় যান। তারপর এসি ২৩ ডিগ্রিতে সেট করে এমন একটা ঘুম দেন, যার কাছে হরেনদার ঘুম শিশু।

কিন্তু পান্তার প্রতি ভালোবাসায় দুজনই সমান।
শুধু গন্তব্য আলাদা। একজনের গন্তব্য মাঠ, অন্যজনের গন্তব্য বালিশ।

কর্তামশাই মনে করেন, পান্তার একটা সম্মান আছে। একটা মর্যাদা আছে। এই মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি পান্তাপ্রেমীর নৈতিক দায়িত্ব।
সেই দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর লাগে ,
আলু-পেঁয়াজ-লঙ্কা ভাজা, ডালের বড়া, আলু চোখা, ছাতু, কাসুন্দি।

প্রথমে পান্তা ভাত, তারপর যতটা ভাত তার অর্ধেক ছাতু নিতে হবে। নুন, কাঁচা লঙ্কা কুচি, কাঁচা পেঁয়াজ কুচি, সরষের তেল, কাসুন্দি, শুকনো লঙ্কা ভাজা, গন্ধরাজ লেবু চিপে বেশ করে মাখতে হবে। ভাত ছাতু মিলেমিশে একাকার হবে, মানে আলাদা করে ভাত তাকিয়ে থাকবেনা। এই কম্বিনেশন অনেকের কাছে অজানা, কিন্তু যারা একবার খেয়েছেন তারা বুঝতে পারবেন কর্তামশাই কেন এতে পাগল।

কর্তামশাইয়ের একটি নিজস্ব বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আছে। তিনি বলেন, "পান্তা শুধু খাবার নয়, সে একেবারে সবজান্তা পান্তা....শরীর ঠান্ডা রাখবে, পেট ভরাবে, মন জুড়োবে, আর সুযোগ পেলে দিব্যি ঘুমও পাড়িয়ে দেবে!"

এই যুক্তিতে কোনো ফাঁক নেই। অন্তত কর্তামশাই তেমনটাই মনে করেন।
আর সত্যি বলতে , বিজ্ঞানও কিন্তু বলে যে পান্তা শরীরকে ঠান্ডা রাখে। কর্তামশাই সেটাকে একটু... প্রসারিত করে ব্যবহার করছেন মাত্র।
হরেন মণ্ডল পান্তা খেতেন মাঠে যাওয়ার শক্তির জন্য।
কর্তামশাই পান্তা খান বিছানায় যাওয়ার আনন্দের জন্য।
দুটোই কিন্তু পারফেক্ট কারণ। কোনো জাজমেন্ট নেই।

আপনাদের বাড়িতেও কি এরকম পান্তাপ্রেমী আছেন?
✍️আত্রেয়ী চন্দ্র

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when RSlifestyle posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share