31/08/2026
আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত কত হাজার তথ্যের মধ্য দিয়ে আমরা যাই?
বর্তমান যুগে একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৬,০০০ থেকে ১০,০০০ বিজ্ঞাপনের মুখোমুখি হয়। ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করা, ইউটিউবের ভিডিওর মাঝে ভেসে ওঠা ক্লিপ, রাস্তার ধারের ডিজিটাল বিলবোর্ড, কিংবা ফোনের অনবরত টুংটাং নোটিফিকেশন—সব জায়গাতেই লুকিয়ে আছে কোনো না কোনো প্রচারণামূলক বার্তা। চারপাশের এই অবিরাম বিজ্ঞাপনের স্রোত আর তথ্যের বি'স্ফো'রণ আমাদের অজান্তেই আমাদের মস্তিষ্কের ওপর এক বিশাল চাপ তৈরি করছে, যা আমাদের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা এবং কোনো বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাকে মা'রা'ত্মকভাবে বদলে দিচ্ছে।
এই ক্রমাগত মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা লেগেছে আমাদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতার ওপর। ২০০০ সালের দিকে যেখানে একজন মানুষের গড় মনোযোগের সময়কাল বা অ্যাটেনশন স্প্যান ছিল ১২ সেকেন্ড, তা প্রযুক্তির এই অতি-ব্যবহারের যুগে এসে নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ সেকেন্ডে।
ভাবলে অবাক হতে হয়, এই সময়কাল একটি সাধারণ গোল্ডফিশের মনোযোগের চেয়েও কম, যার গড় অ্যাটেনশন স্প্যান সাধারণত ৯ সেকেন্ড ধরা হয়। যেকোনো একটা জিনিসে দীর্ঘক্ষণ মন দেওয়া এখন আমাদের জন্য এক প্রকার অসম্ভব যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা বইয়ের পাতা পড়া, গভীর কোনো আলোচনায় মগ্ন থাকা কিংবা কোনো জরুরি কাজ একনাগাড়ে শেষ করা—সবকিছুতেই আমাদের মন বারবার চঞ্চল হয়ে উঠছে এবং প্রতি মুহূর্তে নতুন কোনো উদ্দীপনা বা বিজ্ঞাপনের চটকদার রঙের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
এই পরিবর্তনটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, কাজের মান এবং পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতাকে মা'রা'ত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। আমরা ক্রমশ গভীর চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে এক ধরণের সাময়িক এবং অগভীর অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। এই ডিজিটাল কোলাহল এবং বিজ্ঞাপনের আ'গ্রা'সন থেকে নিজেদের মানসিক শান্তি ও মেধা রক্ষা করতে হলে আমাদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে।
প্রতিদিনের স্ক্রিন টাইম বা প্রযুক্তির ব্যবহার কিছুটা হলেও সীমিত করা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং এই তথ্যের গোলকধাঁধা থেকে মাঝে মাঝে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। নয়তো এই হাজারো বিজ্ঞাপনের ভিড়ে আমরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, অর্থাৎ নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাটি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলব।
আজই একটু ভেবে দেখুন, আপনার মনোযোগ ধরে রাখতেও কি আগের চেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে?