18/07/2026
ফুটবলের ইতিহাস পর্ব-২৪
ফুটবল বিশ্বকাপ ১৯৯৪
১৯৯৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ছিল পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের ১৫তম আসর, যা ১৭ জুন থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি ভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ব্রাজিল তাদের চতুর্থ শিরোপা জিতেছিল।
আয়োজক দেশ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
চ্যাম্পিয়ন: ব্রাজিল।
রানার্স-আপ: ইতালি।
তৃতীয় স্থান: সুইডেন।
চতুর্থ স্থান: বুলগেরিয়া।
মোট দল: ২৪টি (এটিই ছিল ২৪ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত শেষ বিশ্বকাপ)।
মোট ম্যাচ: ৫২টি।
মোট গোল: ১৪১টি (গড়ে ২.৭১ গোল প্রতি ম্যাচে)।
ফাইনাল ম্যাচ
ব্রাজিল ও ইতালির মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি মূল সময় এবং অতিরিক্ত সময়ে ০-০ গোলে ড্র ছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম ফাইনাল ছিল, যার ফলাফল নির্ধারণের জন্য পেনাল্টি শুট-আউটের সাহায্য নিতে হয়। ইতালির প্রাণভ্রমরা রবার্তো বাজো শেষ পেনাল্টি শটটি বারের ওপর দিয়ে মারলে ব্রাজিল ৪-৩ ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হয়। যার ফলে শিরোপা হাতছাড়া হয় ইতালির।
গোল্ডেন বল: ব্রাজিলের তারকা স্ট্রাইকার রোমারিও (Romário)
গোল্ডেন বুট (যৌথভাবে): বুলগেরিয়ার হ্রিস্তো স্তইচকভ এবং রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো (উভয়ই ৬টি করে গোল করেছিলেন)।
ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের দুঃখজনক সমাপ্তি
গ্রীসের বিপক্ষে গোল: গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে গ্রীসের বিপক্ষে ম্যারাডোনা একটি দুর্দান্ত গোল করেন।
ক্যামেরার সামনে উদযাপন: গোলের পর তিনি সরাসরি সাইডলাইনের টিভি ক্যামেরার দিকে তীব্র চোখে তাকিয়ে চিৎকার করে উদযাপন করেন, যা ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক।
ডোপ টেস্টে পজিটিভ: নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের পর ডোপ টেস্টে তার শরীরে নিষিদ্ধ ড্রাগ 'এফেড্রিন' পাওয়া যায়।
টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার: ফিফা তাকে সাথে সাথে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করে এবং এটিই ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
বিশ্ব রেকর্ড: গ্রুপ পর্বে ক্যামেরুনের বিপক্ষে রাশিয়ার স্ট্রাইকার ওলেগ সালেঙ্কো একাই ৫টি গোল করেন।বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে কোনো একক খেলোয়াড়ের ৫ গোল করার রেকর্ড আর কারো নেই। রাশিয়া প্রথম পর্বেই বাদ পড়েছিল, কিন্তু এই এক ম্যাচের গোলের ওপর ভর করেই সালেঙ্কো টুর্নামেন্টের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) হন।
সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা: ক্যামেরুনের ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সী কিংবদন্তি খেলোয়াড় রজার মিলা রাশিয়ার বিপক্ষে একটি গোল করেন। তিনি ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে করা নিজের রেকর্ডটিই আবার ভাঙেন এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ড নিজের নামে করে নেন।
কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার এসকোবারের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও আত্মঘাতী গোল:
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার অসাবধানতাবশত নিজের জালে বল জড়িয়ে দেন (আত্মঘাতী গোল)। এই ভুলের কারণে কলম্বিয়া টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। বিশ্বকাপ শেষ করে দেশে ফেরার মাত্র ১০ দিন পর মেদেলিন শহরে এক নাইটক্লাবের বাইরে এসকোবারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ধারণা করা হয়, জুয়াড়ি চক্রের ক্ষোভের শিকার হয়েছিলেন তিনি।
সর্বোচ্চ দর্শক
ফুটবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান খেলা না হওয়া সত্ত্বেও, স্টেডিয়াম গুলোতে গড়ে প্রায় ৬৯,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের মোট দর্শক সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার, যা ১৯৯৮ সাল থেকে দলের সংখ্যা ৩২টি করার পরও আজ পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপ ভাঙতে পারেনি।
নতুন নিয়ম: এই বিশ্বকাপেই প্রথমবার জয়ের জন্য ২ পয়েন্টের পরিবর্তে ৩ পয়েন্ট দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়। এছাড়া গোলরক্ষকের ব্যাক-পাস হাতে ধরার নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়।