23/04/2026
তনু হত্যাকাণ্ড: ১২ বছর পর ন্যায়বিচারের পথে বাংলাদেশ; তিন আসামি গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘ এক যুগের প্রতীক্ষা আর ধামাচাপা পড়ে থাকা বিচারহীনতার আড়াল ভেঙে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের বিচার। বিগত সরকারের আমলে ১৭ বছর ধরে ঝুলে থাকা অসংখ্য অমীমাংসিত মামলার ভিড়ে তনু হত্যাকাণ্ড ছিল অন্যতম, যা বর্তমান সরকারের কঠোর নির্দেশনায় পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
ঘটনার নৃশংসতা ও আলামত নষ্টের অপচেষ্টা
২০১৬ সালের সেই কালভার্টের পাশে পাওয়া তনুর নিথর দেহের ময়নাতদন্তে উঠে এসেছিল এক ভয়াবহ পৈশাচিকতার চিত্র। অপরাধীরা ডিএনএ পরীক্ষায় শু"-ক্রা"-ণুর আলামত নষ্ট করতে তনুর শরীরের ভেতরে মরিচের গুঁড়া পর্যন্ত ঢুকিয়ে দিয়েছিল। তৎকালীন সময়ে আলামত নিয়ে নানা টালবাহানা ও মরদেহ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল যে আলামত মেলেনি। জনমনে ক্ষোভ ছিল যে, প্রকৃত খুনিদের বাঁচাতে তৎকালীন প্রশাসন ও ফরেনসিক রিপোর্টে কারচুপি করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দ্রুত পদক্ষেপ
১২ বছর পর সরকার পরিবর্তনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই তনু হত্যাকাণ্ডের ফাইল পুনরায় খোলার নির্দেশ দেন। সরাসরি তনুর ধ'র্ষ'ণের আলামত আবারো সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করার এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে যে বিচার প্রক্রিয়াকে ‘অজ্ঞাত কারণে’ থামিয়ে রাখা হয়েছিল, তা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে গতি পায়।
আসামিদের গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
সরকারের কড়া নির্দেশের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, তারাই সেই রাতে তনুকে ধ'র্ষ'ণ ও হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। দীর্ঘ এক যুগ ধরে যে অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে, আজ তারা খাঁচার ভেতর।
বিগত সরকারের ব্যর্থতা ও বর্তমান প্রত্যাশা
তনুর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়, হাসিনা সরকারের আমলে ১২ বছরেও এই বিচার সম্পন্ন হয়নি। গত ১৭ বছরে এরকম হাজারো তনুর বিচার আড়ালে পড়ে গিয়েছিল। সচেতন মহল মনে করছেন, এই একটি মামলার বিচার ত্বরান্বিত হওয়ার মাধ্যমে দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটবে এবং সকল নির্যাতিতার পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।
তনুর মা কান্নাসিক্ত কণ্ঠে বলেন, "১২ বছর ধরে শুধু চোখের জল ফেলেছি। আজ খুনিরা ধরা পড়েছে, এখন শুধু তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষা করছি।"