28/09/2025
❝পূজায় শুভেচ্ছা জানানো ব্যভিচারের ফলে অভিনন্দন জানানোর চেয়েও মারাত্মক ও জঘন্য গুনাহ ❞
একযুগে কিছু ধর্মব্যবসায়ী বা ক্ষমতাশীল ব্যক্তি নিজের অর্থ, প্রভাব বা ক্ষমতার জন্য ইসলামের স্পষ্ট বিধান অমান্য করছে।
তারা মূর্তিপূজক বা অন্য ধর্মের উপাসকের সঙ্গে মেলামেশা বা শুভেচ্ছা বিনিময় করছে, যা ইসলামের তাওহীদের শিক্ষা এবং নবী-রাসূলদের উদাহরণের পরিপন্থী।
হায় আফসোস!!! আমরা নবী রাসুলের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেলাম কিভাবে _
আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক যুগে যে নবী–রাসূল পাঠিয়েছেন, তাদের মূল দাওয়াত ছিল একই: তাওহীদ প্রতিষ্ঠা , এক আল্লাহর ইবাদত করা , মুর্তিপুজা বন্ধ করা এজন্য তারা কত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্যই ছিলো শিরক, মূর্তিপূজা, পূজা-পার্বণ বা যে কোনো ধরনের সুজুদ (ইবাদতের কাজ) থেকে বিরত থাকা মানুষকে কেবল আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকা।
✪ ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) তাঁর লিখিত “আহকামু আহলিয যিম্মাহ” গ্রন্থে এ বিধানটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: “কোন কুফরী আচারানুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন- তাদের উৎসব ও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, ‘তোমাদের উৎসব শুভ হোক’ কিংবা ‘তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক’ কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন কথা। যদি এ শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করা কুফরীর পর্যায়ে নাও পৌঁছে; তবে এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত। এ শুভেচ্ছা ক্রুশকে সেজদা দেয়ার কারণে কাউকে অভিনন্দন জানানোর পর্যায়ভুক্ত। বরং আল্লাহর কাছে এটি আরও বেশি জঘন্য গুনাহ। এটি মদ্যপান, হত্যা ও যিনা ইত্যাদির মত অপরাধের জন্য কাউকে অভিনন্দন জানানোর চেয়ে মারাত্মক। যাদের কাছে ইসলামের যথাযথ মর্যাদা নেই তাদের অনেকে এ গুনাতে লিপ্ত হয়ে পড়ে; অথচ তারা এ গুনাহের কদর্যতা উপলব্ধি করে না। যে ব্যক্তি কোন গুনার কাজ কিংবা বিদআত কিংবা কুফরী কর্মের প্রেক্ষিতে কাউকে অভিনন্দন জানায় সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে।”[উদ্ধৃতি সমাপ্ত]
🔷 হায় আফসোস আমরা কোন যুগে বাস করছি এ যুগে ক্ষমতা ও সম্মানের জন্য বিধর্মীদের উৎসবে অংশ নিতেও দ্বিধা করছি না
✪ রাসুল সাঃ বলেন ---
অচিরেই আমার উম্মতের কিছু লোক মূর্তিপূজা করবে। আর অতি শীঘ্রই আমার উম্মতের কিছু লোক মুশরিকদের সাথে মিশে যাবে।"
(ইবনে মাজাহঃ ৩৯৫২)
✪ আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করে থাকে তারা এবং মুশরিক তারা জাহান্নামে আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে- তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্ট জাতি।
(সূলা আল-বাইয়্যিনাহ ০৬)
আমরা জানি, মূর্তিপূজা হচ্ছে আল্লাহর সাথে শির্ক করা। আর শির্ক হচ্ছে সবচেয়ে বড় অন্যায়, সবচেয়ে বড় অপরাধ। এই শির্ককে কোনো না কোনোভাবে এতটুকুও সমর্থন করা যায় কি?
আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়।" (৩১ সুরা লুকমান: ১৩)
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে অংশী স্থাপনকারীকে ক্ষমা করবেন না এবং তদ্ব্যতীত যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং যে কেহ আল্লাহর অংশী স্থির করে সে মহাপাপে আবদ্ধ হল।" (৪ সূরা নিসাঃ ৪৮)
তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, (ক) শির্ক করা মহা অন্যায় (খ) মূর্তি বা মূর্তিপূজার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষন করাও কাফেরদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত। তাহলে কোন সাহসে আমরা মূর্তিপূজার অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করবো, কিংবা তাদের অনুষ্ঠান-উৎসবে শুভেচ্ছা জানাবো?
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা যখন কারো উপর অসন্তুষ্ট হয়ে যান তখন ঐ ব্যক্তির জন্য গযব(ক্রোধ) অবধারিত হয়।
এ ক্রোধ(গযব) সম্পর্কে সূরা ত্বহার ৮১ নং আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন------
وَمَن يَحْلِلْ عَلَيْهِ غَضَبِي فَقَدْ هَوَىٰ
"যার উপর আমার ক্রোধ নেমে আসে সে ধবংস হয়ে যায়"
মুশরিকরা চাইবে তাদের অনুষ্ঠানে আপনাকে নিয়ে যেতে। কিন্তু আপনি যাবেন না। মনে রাখবেন- ঐ সকল মুশরিকি মূর্তি দেখিয়ে আপনার ঈমান নষ্ট করা তার উদ্দেশ্য। এ সম্পর্কে কুরআন পাকে বলা আছে-
⦿ “কাফিররা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন।”
[সুরা বাকারাহ :১২০]
⦿ নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।
(সুরা নিসা ৪৮ )
⦿ আপনি চাইছেন তাদের সন্তুষ্ট করতে অথচ আল্লাহ বলেন
আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন
[ সুরা মায়েদা ৫:৮২ ]
🔷 পূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ন হারাম। কারণ শুভেচ্ছা জানালে তার মুশরিকি কর্মকাণ্ডকে সমর্থন জানানো হয়, অর্থাৎ শিরক হয়। মনে রাখবেন মহান আল্লাহ তায়ালা সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন, কিন্তু শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না।
পূজা উপলক্ষে অফার গ্রহণ করা, সুবিধা নেয়া, দাওয়াত খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতেও মুশরিকি পূজায় অংশগ্রহণ তথা শিরকী গুনাহ হয়।
পূজার যেকোন কাজকে সমর্থন জানানো শিরক। অনেক মুসলিম নামধারী আছে যারা অসাম্প্রদায়িকতার নামে পূজার বিভিন্ন কাজকে সমর্থন করে। যেমন- পূজায় ছুটি দিতে হবে, পূজায় মণ্ডপে যেতে হবে, পূজার প্রসাদ খেতে হবে, পূজায় শুভেচ্ছা দিতে হবে। ইত্যাদি। অনেক মুসলমান পূজায় আর্থিক অনুদানও দেয়।
যারা এ ধরনের কাজ করে, তারা যখন কবরে যাবে তখন ফিরিশতারা জিজ্ঞেস করবে- তোমার দ্বীন কি ?” তখন যেন সে উত্তর দেয়- “আমি অসাম্প্রদায়িক। আমার কোন দ্বীন নেই ।” নাউযুবিল্লাহ।
🔶 মুসলমানদের অনেকেই বলেন- “আমাদের নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফিরদেরকে অধিকার দিয়েছেন, আমাদেরকেও দিতে হবে।”। যারা এ ধরনের বক্তব্য দেয়, তাদের বলতে হয়-আমাদের নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবশ্যই ইনসাফের কাজ করেছেন। তবে তিনি তো মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন, তাদের ৩৬০টি মূর্তি ভেঙ্গেছেন, মুশরিকদের কে জাজিরাতুল আবর থেকে বের করে দিতে বলেছেন, তবে আপনিও সেটা করেন। এক অংশ করবেন, অন্য অংশ বাদ দিবেন কেন ?? আসলে বাংলাদেশে হিন্দু মুশরেকদের কাজে কেউ বাধা দিচ্ছে না, বরং মুসলমানরা যেন হিন্দুদের মুশরিকি কাজে অংশগ্রহণ না করে সেটাই বলা হচ্ছে। এটাই নবীজির শিক্ষা। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন পাকে বলা হচ্ছে- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা মায়িদা: ৫১)
⦿ **উমার ইবনে খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন “তোমরা মুশরিকদের উপসনালয়ে তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করোনা। কারন সেই সময় তাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে থাকে। (বায়হাক্বী)
আর আপনি যদি বলেন, ধর্ম যারা যার উৎসব সবার! তাহলে আপনি কি কোরআন হাদিসকে অস্বীকার করবেন? আর কোরআন হাদীস অস্বীকার কারী কিভাবে মুসলমান হয়? আর ধর্ম যার যার উৎসব সবার কথাটা কি কোরআন-হাদিসের কথা?
অথচ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন” যদি কেউ কোণ সম্প্রদায়ের অনুকরন করে ,তাহলে সে উক্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গন্য হবে” (আবু দাউদ, আস সুনান ৪/৪৪)
এখন একটু ভেবে দেখুন, মূর্তিপূজা হচ্ছে আল্লাহর সাথে শির্ক করা। আর শির্ক হচ্ছে সবচেয়ে বড় অন্যায়, সবচেয়ে বড় অপরাধ। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্র সাথে শির্ক হচ্ছে সবচেয়ে বড় অন্যায়।
(সুরা লুকমানঃ ১৩)
আর শির্কের অপরাধ আল্লাহ্ কখনো ক্ষমা করবেন না। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে অংশী স্থাপন করলে তাকে ক্ষমা করবেন না, কিন্তু এর চেয়ে ছোট পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন, এবং যে কেউ আল্লাহর অংশী স্থির করে, সে মহাপাপে আবদ্ধ হয়েছে। (সূরা নিসাঃ ৪৮)।
🔸🔸 কিছু কোরআনের আয়াত 🔸🔸
🔻"তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর,
তারা কখনো একটি মাছি ও সৃষ্টি করতে পারবেনা"।
[সূরা আল হাজ্জ্ব-৭৩]
🔻হে আমার রব,আপনি এ শহরকে নিরাপদ করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তী পূজা থেকে দুরে রাখুন।
[সূরা ইবরাহিম-৩৫]
🔻তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে।
সূরা নিসা -117
🔻“তোমার রব চুড়ান্ত ফয়সালা দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না”। [সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ২৩]
🔻“আল্লাহ ব্যতীত আর যাদেরকে তোমরা ডাক তারা তোমাদেরই মত দাস”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৯৪]
🔻“তাদের থেকে অধিকতর দিক ভ্রান্ত আর কে আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত এমন সব উপাস্যকে ডাকে যারা কিয়ামত পর্যন্তও তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। অধিকন্তু তারা ওদের ডাকাডাকি সম্বন্ধে কোনো খবর রাখে না।” [সূরা আল-আহক্বাফ, আয়াত: ৫]
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হিন্দুদের মুশরিকি কর্মকাণ্ড থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
‘