Arefin Explains

Arefin Explains History, Ideas, & Event Analysis Platform

'Civilization' যা 'Civis' বা 'Civitas' শব্দ থেকে এসেছে। আর 'Civitas' শব্দের অর্থ নাগরিক বা Citizen । প্রখ্যাত দার্শনিক ভ...
16/09/2025

'Civilization' যা 'Civis' বা 'Civitas' শব্দ থেকে এসেছে। আর 'Civitas' শব্দের অর্থ নাগরিক বা Citizen । প্রখ্যাত দার্শনিক ভলতেয়ার সর্বপ্রথম সভ্যতা বা 'Civilization' শব্দটি ব্যবহার করেন। সাধারণত সভ্যতা হচ্ছে মানুষের উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতি, কার্যপ্রণালি, স্থাপত্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলাদির সমষ্টি। আর ব্যাপকার্থে, সভ্যতা হচ্ছে কোন একটি অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর উন্নততর জীবনব্যবস্থার প্রয়োজনে উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতি, আইন, সরকার ব্যবস্থা, রাজনৈতিক
ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, নব প্রযুক্তি, শিক্ষা ও ধর্মীয় দর্শনাদির সমষ্টি।

বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও নৃবিজ্ঞানী সভ্যতার বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যা নিম্নরূপ: মন্টেস্কু এবং হ্যান্টিংটন (Montesquieu & Huntington) বলেন, "সভ্যতা হচ্ছে ভৌগোলিক তথা প্রাকৃতিক পরিবেশের আশীর্বাদপুষ্ট এক ফসল।" আলফ্রেড ওয়েবার (Alfred Waber) বলেন, "Civilization is meant primarily scientific and technical knowledge and the command which they give over natural resources."

সমাজবিজ্ঞানী ইবন খালদুন তার রচিত বিশ্ববিখ্যাত Al Muqaddimah-গ্রন্থে সভ্যতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন:
«الحضارة هي أحوالٌ زائدةٌ على الضروري من أحوال العمران، وهي التفنن في الترف واستجادة أحواله والكمال في صنائعته.»
*(Muqaddimah, Vol.1, p. 47)*
অর্থ: সভ্যতা হলো মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত উন্নত অবস্থা, যেখানে শিল্পকলা, বিজ্ঞান,
জীবনযাত্রা ও আচার-আচরণের উৎকর্ষ প্রকাশ পায়। আর ইসলামী সভ্যতা এই উন্নতিকে ইসলামি নৈতিকতা ও শরীয়াহ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত করে।

“ইসলামী সভ্যতা” (al-ḥaḍārah al-islāmiyyah) হলো সেই সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে মানুষের আধ্যাত্মিক, নৈতিক, বৌদ্ধিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌত উন্নতি—সবকিছুই কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে পরিচালিত হয়।

স্যার সাইয়্যেদ আমীর আলী তার বিখ্যাত বই The Spirit of Islam-এ লিখেন: “Islamic civilization is not merely the political power of Muslims, rather it is the moral, intellectual and social system which Islam introduced into human society.”
অর্থ: ইসলামী সভ্যতা কেবল মুসলিম শাসনব্যবস্থার নাম নয়, বরং একটি নৈতিক, জ্ঞানমূলক ও সামাজিক কাঠামো, যা ইসলাম মানব সমাজকে প্রদান করেছে।

ড. মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ তার Introduction to Islam-এ ইসলামী সভ্যতার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন:
“Islamic civilization is the material and spiritual progress achieved under the guidance of Islamic teachings.” অর্থ: ইসলামী সভ্যতা হলো ইসলামি শিক্ষা দ্বারা পরিচালিত মানবজাতির বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন।

ড. আলী মাযরুই তার গ্রন্থ Islamic Civilization: The Making and Unmaking এ বলেন: “Islamic civilization is a synthesis of faith and reason, revelation and experience, which has shaped diverse societies under the umbrella of Islam.”
অর্থ: ইসলামী সভ্যতা হলো ঈমান ও যুক্তি, ওয়াহী (আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান) ও মানব অভিজ্ঞতার সমন্বয়; যার মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজ ইসলামের ছায়াতলে এক হয়ে গড়ে উঠেছে।

মহানবী (সাঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদার সময়ে ইসলামী সভ্যতার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায়। অনেক পরিবর্তন সাধন হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তীতে উমাইয়া, আব্বাসীয়, সালজুক, ফাতিমীয় ও উসমানী খিলাফতেও
ইসলামী সভ্যতা সুস্পষ্ট। ইসলামী সভ্যতার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ :
১. তাওহীদের ভিত্তি – আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসই ইসলামী সভ্যতার মূল।
২. নৈতিকতা ও আখলাক – সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা।
৩. জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা – কুরআন ও হাদীস ও অন্যান্য জ্ঞানের চর্চা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানকে উৎসাহিত করেছে সর্বাত্মকভাবে।
৪. আধ্যাত্মিকতা ও বস্তুগত উন্নয়নের ভারসাম্য – শুধু দুনিয়া নয়, আখিরাতের সাফল্যও লক্ষ্য।
৫. সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সমন্বয় – আরব, ফারসি, তুর্কি, ভারতীয়, আন্দালুসীয় ইত্যাদি ঐতিহ্য মিলিয়ে একটি বিশ্বজনীন সভ্যতা।
৬. ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা – যেখানে শাসক জনগণের খেদমতগার।
৭. মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও শিল্প – চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, স্থাপত্য, সাহিত্য প্রভৃতিতে অগ্রগতি সাধন।

আরেফিন আল ইমরান
১৪-০৯-২০২৫

মানব সমাজের প্রয়োজনীয়তাকে খাদ্য এবং নিরাপত্তা, এই দুটি বিষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করেন ইবনে খালদুন। তার মতে, সমাজ গঠন করে সেখানে...
16/09/2025

মানব সমাজের প্রয়োজনীয়তাকে খাদ্য এবং নিরাপত্তা, এই দুটি বিষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করেন ইবনে খালদুন। তার মতে, সমাজ গঠন করে সেখানে কেউ ব্যক্তিগতভাবে জীবনধারণ করতে পারে না। সমাজের উন্নয়নের জন্য শ্রমবণ্টনের অপরিহার্যতাও উল্লেখ করেন ইবনে খালদুন। আবার তার মতে, রাষ্ট্রের উদ্ভব হয় মানুষের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক প্রকৃতি থেকে সমাজকে নিরাপদ করতে। একদিকে যেমন সমাজ ছাড়া রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না, অন্যদিকে রাষ্ট্রহীন সমাজের অস্তিত্ব টিকতে পারে না। এসব বিষয় আলোচনা করতে গিয়ে খালদুন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেন। সেটি হচ্ছে রাজনৈতিক ও সমাজ কেন্দ্রিক ইতিহাস লিখতে গিয়ে ঐতিহাসিকগণের বস্তুনিষ্ঠতার অভাব। তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে ইতিহাস রচনায় তারা ভুল ব্যাখ্যা করেন, কখনোবা ভুল প্রসঙ্গে ভুল উদাহরণ প্রয়োগ করেন, অতিরঞ্জন করেন, আবার নিজের বিশ্বাস থেকে ইতিহাস রচনা করেন কিংবা তথ্যসূত্রের যাচাই করেন না।

ইবনে খালদুন একটি সমাজকে একটি জৈব অবয়ব আকারে কল্পনা করেছেন, যা প্রতিটি সমাজের ক্ষেত্রেই মোটামুটি একই রকম। ইতিহাস থেকে সংগৃহীত তথ্য, নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা আর ধর্মীয় বিশ্বাস, এই সব কিছু মিলিয়ে তিনি তার এই মতামত দিয়েছেন। তার মতে, সকল সমাজের মৌলিক কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে একটি অন্তর্নিহিত মিল, যা মানুষের সহজাত প্রকৃতির মতোই। যে কারণে তার সমাজ কাঠামোর আলোচনা প্রতিফলিত হয়েছে আফ্রিকার যাযাবর কিংবা আরবের বেদুইন আর তুরস্কের কুর্দিদের মধ্যেও।

ইবনে খালদুনের মতে, ইতিহাস সর্বদা পরিবর্তনশীল, যা ঘটে দুই শ্রেণীর মানুষের হাত ধরে। এক হলো যারা যাযাবর, আরেক হচ্ছে সমাজবদ্ধ বা দলবদ্ধ জনসমষ্টি। আর এই দুই শ্রেণীর মাঝে রয়েছে কৃষক শ্রেণী। এদের মধ্যে যাযাবররা হচ্ছে স্বভাবে সবচেয়ে উগ্র এবং অসভ্য, যাদের সভ্যতার সাথে সর্বদাই একপ্রকার প্রতিকূল সম্পর্ক রয়েছে। তবে এদের একটি গুণ হচ্ছে নৈতিকভাবে এরা কলুষতামুক্ত এবং অতিমাত্রায় স্বাধীনতাপ্রিয় এবং স্বনির্ভর। অন্যদিকে স্থির দলবদ্ধ জনগোষ্ঠীর হাত ধরে জগতের যাবতীয় পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং একই সাথে ধ্বংস সাধন হয়। এরা একদিকে যেমন জ্ঞান বিজ্ঞানে পৃথিবীকে প্রতিনিয়ত অধিক বসবাসযোগ্য করে তোলে, মুদ্রার অপর পিঠে এরাই আবার অর্থের মোহে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে অন্যায়ে জড়িয়ে পড়ে আর পৃথিবীর ক্ষতি করে। এসব আলোচনা করতে গিয়েই খালদুন তার বিখ্যাত ‘আসাবিয়া’ তত্ত্বের অবতারণা করেন। এই আসাবিয়া মানে হচ্ছে ‘দলগত সংহতি’ কিংবা ‘সামাজিক সংহতি’। তার মতে যাযাবরদের মধ্যে আসাবিয়া কম কাজ করে বলেই তারা যাযাবর। আসাবিয়া তথা সামাজিক সংহতি থেকেই মানুষ দলীয়ভাবে বসবাসের চিন্তা করতে শেখে।

ইবনে খালদুন একটি রাষ্ট্রের উত্থান-পতনের মূল বিষয় হিসেবে আসাবিয়ার কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত আসাবিয়া থেকে একটি সমাজ এবং একটি রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। শাসকগণ সে সমাজ প্রাথমিকভাবে প্রজাদের তথা সাধারণ জনগণের চাহিদা অনুযায়ী পরিচালনা করে। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা ক্ষমতালোভী হয়ে ওঠেন এবং প্রজাদের দমিয়ে রাখতে অধিক সৈন্য নিয়োগ দেন। তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একপ্রকার জাল তৈরি করেন, যে জালে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ আটকে থাকে। সাধারণের চেয়ে তার সামরিক বাহিনীর জন্য অধিক ব্যয় করে এবং এর ফলে বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। সামরিক খরচ বহন করতে সরকার করের পরিমাণ বৃদ্ধি করে আর এতে করে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়, উৎপাদন ব্যহত হয়। ধীরে ধীরে সরকার একা হয়ে যায় এবং যে জনগণ তাদের ক্ষমতায় এনেছিল তাদের সাথেই সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় শাসক গোষ্ঠী কখনোবা ধর্মকে ব্যবহার করে পুনরায় জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একসময় শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং আসাবিয়া ভেঙে নতুনরূপে গড়ে ওঠে। আবার নতুন শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় আসে এবং আগের চক্রটির পুনরাবৃত্তি হয়। ইবনে খালদুনের এই দর্শন অসাধারণ নয় কি পাঠক? আজ থেকে ৭০০ বছর পূর্বে তিনি যে রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে গেছেন তা আজকের সমাজেও প্রবলভাবে বিদ্যমান!

ইবনে খালদুনের বৈজ্ঞানিক দর্শন কিছুটা ইমাম গাজ্জালির মতোই ছিল। তিনি বিজ্ঞানকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেন। ধর্মীয় বিজ্ঞান এবং অধর্মীয় বিজ্ঞান। অধর্মীয় বিজ্ঞানকে আবার দু’ভাগে ভাগ করেন। একটি হচ্ছে প্রয়োজনীয় এবং অন্যটি অপ্রয়োজনীয়। মূলত অতিপ্রাকৃত ব্যাপারগুলোর সাথে সম্পর্কিত বিজ্ঞানকেই তিনি অপ্রয়োজনীয় বলেছেন যেমন, জাদু, আলকেমি বা অপরসায়ন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান। তার দর্শনের মূল মতাদর্শ ছিল, ধর্ম আর বিজ্ঞান একসূত্রে গাঁথা। অতীন্দ্রিয়বাদকে তিনি ফিকহশাস্ত্রের আওতায় এনে আলোচনা করেছেন। তার মতে, মানুষের জ্ঞান চর্চা অবশ্যই করতে হবে এই জ্ঞান প্রাত্যহিক জীবনে কাজে লাগাতে হবে। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা উচিৎ। এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিৎ নয় যেখানে মানুষের বুদ্ধি যথেষ্ট নয়। তার নিকট সে পর্যায়গুলো হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব, তার একত্ব, মৃত্যু পরবর্তী জীবন, ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণী ইত্যাদি। মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করবে কিন্তু অবশ্যই এসব বিষয়কে বাদ রেখে।

আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছর পূর্বে ইবনে খালদুন এমন দর্শন দিয়ে গেছেন, যা আজও পৃথিবীর পূর্বে-পশ্চিমে সর্বত্র সমানভাবে বিরাজমান। কতটা প্রজ্ঞা প্রয়োজন হয় এরকম চিন্তা করার জন্য? একজন দার্শনিক ইবনে খালদুন তাই চিরন্তন আদর্শ হয়ে থাকবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আরেফিন আল ইমরান
১৬-০৬-২০২৫

#ইবনে_খালদুন

“যদি কোনো মানবগোষ্ঠীর মধ্যে সভ্যতার বিকাশধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে তাদের শিল্পকলা পরিপূর্ণভাবে বিকাশ লাভ করে। তারপর যদি শ...
16/09/2025

“যদি কোনো মানবগোষ্ঠীর মধ্যে সভ্যতার বিকাশধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে তাদের শিল্পকলা পরিপূর্ণভাবে বিকাশ লাভ করে। তারপর যদি শাসকগোষ্ঠী ভোগ-বিলাস, আরাম-আয়েশ ও ঐশ্বর্যের মোহে আচ্ছন্ন জীবনধারা বেছে নেয়, তাহলে সেই আয়েশী জীবনের বোঝা মজদুর শ্রেণীর উপরে এসে পড়ে। ফলে সমাজের অধিকাংশ মানুষ মানবেতর পশুর জীবনে যাপনে বাধ্য হয়। গোটা সমাজ জীবনের নৈতিক কাঠামোই তখন বিপর্যস্ত হয়। সবাইকে তখন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থেকে জীবন প্রক্রিয়া চালানোর জন্য বাধ্য করা হয়। তখন মানুষকে রুটি-রুজীর জন্য পশুর মতই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। মানবতার এ চরম নির্যাতন ও অর্থনৈতিক নিষ্পেষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে আল্লাহ’তায়ালার পক্ষ থেকে কোনো পথ নির্দেশ অবশ্যই এসে থাকে। অর্থাৎ, স্রষ্টা নিজেই বিপ্লবের আয়োজন করেন।”

— হযরতশাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ)
(হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা)

ঐক্য ভাবনা ও আল্লামা ইকবালের ইসলামী চিন্তাধারা----------------------------------------------------------------ভূমিকা : ব...
16/09/2025

ঐক্য ভাবনা ও আল্লামা ইকবালের ইসলামী চিন্তাধারা
----------------------------------------------------------------
ভূমিকা : বিভক্তি, ভেদাভেদ এবং একে-অপরকে খারিজ করার যে, বিপজ্জনক অনুশীলন আমরা দেখছি, তাতে মুসলিম সমাজ এমনকি সমগ্র মানবতার মাঝেই ঐক্য স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে অনুভূত হচ্ছে। ইসলামী ঐক্য চিন্তার বিন্যাসে আল্লামা ইকবালের জীবন, চিন্তা ও কর্মের উপরে আলোকপাত করা আজ অনিবার্য হয়ে পড়েছে। যাই হোক, আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল (১৮৭৭-১৯৩৮) ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, কবি ও চিন্তাবিদ, যিনি ইসলামী পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ইসলামের ভাবাদর্শকে আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেছেন এবং মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দর্শন মূলত আত্ম-উপলব্ধি, চেতনার বিকাশ এবং ইসলামের গতিশীল ও কর্মচঞ্চল দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

১. ইসলামী চিন্তার ভিত্তি :
আল্লামা ইকবালের ইসলামী চিন্তা কুরআন ও সুন্নাহর গভীর ব্যাখ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ইসলামের প্রকৃত চেতনাকে জাগ্রত করার আহ্বান জানান। আত্ম-অনুসন্ধানমূলক চিন্তা তার মাঝে কাজ করেছে প্রবলভাবে। ইকবাল বিশ্বাস করতেন যে, ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলোকে আধুনিক যুগের সাথে সমন্বয় করতে হবে, যাতে এটি একটি কার্যকরী সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

২. ইসলামে "খুদী" ধারণা ও ইকবালের ব্যাখ্যা
"খুদী" বা আত্মসত্তার বিকাশ ইকবালের চিন্তার অন্যতম প্রধান দিক। তিনি মনে করতেন, আত্মজ্ঞান এবং আত্মবিকাশই একজন ব্যক্তিকে প্রকৃত মুসলিম বানাতে পারে। তাঁর মতে, মুসলমানদের দুর্বলতার অন্যতম কারণ আত্মবিশ্বাসের অভাব।

তিনি বলেন,
"তোমার খুদীকে এত উঁচুতে উন্নীত করো যেন কুদরত নিজেই তোমার তাকদীর নির্ধারণে বাধ্য হয়।"

এই দর্শনে মানুষের আত্মবিকাশকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইকবাল ইসলামের প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের মতো আত্মপ্রত্যয় ও আত্মনির্ভরশীলতার পুনরুজ্জীবন চেয়েছেন।

৩. ইজতিহাদ ও ইসলামী সমাজব্যবস্থা :
ইকবাল ইসলামে "ইজতিহাদ" বা নতুন চিন্তাধারার বিকাশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। তিনি মনে করতেন যে, ইসলামী আইন এবং সমাজব্যবস্থাকে যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ইজতিহাদের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন,
"ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা রাখে।" উল্লেখ্য যে তাঁর মতে, ইসলামের মূল শিক্ষা অপরিবর্তনীয় হলেও, এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়।

৪. পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রতি ইকবালের দৃষ্টিভঙ্গি :
ইকবাল পশ্চিমা সভ্যতার উন্নতি স্বীকার করলেও তার নৈতিক ও আত্মিক দিকগুলোতে গুরুতর ঘাটতি দেখেছেন। তিনি বলেন, পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী সভ্যতা মুসলমানদের নৈতিক ও আত্মিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে যদি তারা নিজের ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে।

তিনি বলেন,
"যদি মুসলিম উম্মাহ পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ করে, তবে তারা নিজেদের আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলবে।"

ইকবাল ইসলামের মৌলিক চেতনা ধরে রেখে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গ্রহণের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু পাশ্চাত্যের নৈতিক দেউলিয়াত্ব থেকে সতর্ক থাকতে বলেছিলেন।

৫. মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
ইকবাল বিশ্বাস করতেন যে, মুসলিম উম্মাহর পতন একদিন শেষ হবে, এবং তারা আবার জাগ্রত হবে। তিনি উম্মাহর ঐক্য ও পুনর্জাগরণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন,
"একদিন মুসলিম উম্মাহ আবার তাদের প্রকৃত গৌরব ফিরে পাবে, যদি তারা নিজেদের আত্মপরিচয় খুঁজে পায়।"

ইকবালের এই চিন্তাধারা পরবর্তীতে পাকিস্তান আন্দোলনে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল এবং তাঁর দর্শন আজও মুসলিম বিশ্বে আলোচিত।

উপসংহার :
আল্লামা ইকবালের ইসলামী চিন্তা শুধু একটি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, পুনর্জাগরণ ও আত্মউন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শন। তিনি ইসলামের গতিশীলতা, আত্মবিকাশ, ইজতিহাদ, এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর চিন্তা আজও মুসলমানদের জন্য প্রাসঙ্গিক, বিশেষত যখন মুসলিম বিশ্ব নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। ইকবালের ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সত্যিকারের ইসলামী চেতনা কেবলমাত্র বিশ্বাস নয়, বরং কর্ম ও চিন্তারও সমন্বয়।

তথ্যসূত্র :
১. ইকবাল, মুহাম্মদ (১৯৩০)। Reconstruction of Religious Thought in Islam.
২. মুজতবা, সৈয়দ আমির আলী (১৯৭৩)। Iqbal's Philosophy of Selfhood.
৩. আনসারি, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ (১৯৮৫)। Iqbal and the Revival of Islamic Spirit.

লেখা : আরেফিন আল ইমরান
১২.০৩.২০২৫

‘সূফীবাদ’ মানেই ভণ্ডামী নয়। ইসলামের সুনির্ধারিত পরিসীমায় থেকে পরিশীলিত উপায়ে তাসাউফের চর্চা করা— একটি ক্লাসিক ট্র্যাডিশা...
12/09/2025

‘সূফীবাদ’ মানেই ভণ্ডামী নয়। ইসলামের সুনির্ধারিত পরিসীমায় থেকে পরিশীলিত উপায়ে তাসাউফের চর্চা করা— একটি ক্লাসিক ট্র্যাডিশান। অনেক প্রসিদ্ধ ও জগৎবিখ্যাৎ মণিষীরা তাসাউফের চর্চা করেছেন। ইমাম হাসান আল বসরী (রহঃ), ওয়াইস করনী (রহঃ), সুফিয়ান সাওরী (রহঃ), যুন্নুন মিসরি (রহঃ), জুনাইদ বোগদাদি (রহঃ), হারিস আল মুহাসিবী, ইবনে আরাবী, ইমাম গাজ্জালী, শামস তাবরিজী, জালালউদ্দিন রুমী, মোল্লা সদরা, বদিউজ্জামান নূরসী প্রমুখ মহাপুরুষদের মাধ্যমে তাসাউফ চর্চা একটি শক্তিশালী অবস্থানে উপনীত হয়।

বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে সূফী, আউলিয়া, পীর, দরবেশগণের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অংশগ্রহন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে যাবতীয় ইবাদাতের মাধ্যমে জাগতিক ও পরকালীন ভারসাম্য স্থাপন এবং শারীরিক ও আত্মিক সংযোগ সাধনে ইলমে তাসাউফের তাৎপর্য অপরিসীম। আত্মশুদ্ধি—যা তাসাউফের সারমর্ম : তার মূল বক্তব্য পবিত্র আল কুরআন ও মহানবী (সাঃ) কথা, কাজ ও সম্মতির মাধ্যমে স্বীকৃত। ইসলামের প্রথম তিন যুগের পরে তাসাউফচর্চা ও সূফীবাদ বহুভাগে বিভক্ত হয়। এর কারণ হিসেবে ছিল গ্রীক দর্শনের প্রতিপত্তি, ইলমে কালাম, মুতাজিলাদের প্রভাব, বাতেনী সম্প্রদায়ের উদ্ভব এবং রাজনৈতিক নানা পরিস্থিতির এক জটিল বলয়। বাংলাদেশে ইসলাম আগমনের পর আউলিয়া কিরামগণের বহু শিক্ষায় সময়ভেদে পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন ঘটেছে। ফলে কোন তরিকা হাকিকী অর্থে সঠিক অবস্থায় আছে তা নির্ণয় করতে হলে, বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। পরবর্তীতে বৈরাগ্যবাদ, বাউল-দর্শন, নদীয়ার ভাবান্দোলন প্রভৃতি মতাদর্শের সাথে মুসলমানদের সূফীবাদী অনুশীলনের সংমিশ্রণ দেখা যায়। ফলে এর বর্তমান যে লৌকিক প্রকাশসমূহ আমাদের সামনে উপস্থিত —তা নিয়ে একবাক্যে সমাধান হাজির করা কঠিন।

বস্তত, আধ্যাত্মিকতা প্রায় সব ধর্মেই বিরাজমান। তবে ইসলামের তাসাউফের সাথে অন্য সব ধর্মের অ্যাধ্যাত্মিকচর্চার মোটাদাগে অনেক জায়গায় পার্থক্য রয়েছে।। ইসলাম মহান আল্লাহ’র সরাসরি ঐশী প্রত্যাদেশ ও মহানবী (সাঃ) এর প্রত্যক্ষ শিক্ষা থেকে উৎসারিত জীবন-বিধান। যারা ইসলামের মূল শিক্ষার অনুগামী থেকে আত্মশুদ্ধির লক্ষ্যে নবীজী (সাঃ) এর দেখানো পন্থা এবং সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীনগণের চেইন দ্বারা অনুসৃত ও সুসংঘবদ্ধ তাসাউফের চর্চার করেছেন, তারা নিঃসন্দেহে আমাদের কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধার দাবীদার। সেই তাসাউফের অনুশীলনকে আমরা সর্বতোভাবে স্বাগত জানাই। তবে এর বাইরে কালের বিবর্তনে স্থানভেদে তাসাউফ চর্চা ভিন্ন-ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে। কিছু কিছু শাখায় রয়েছে চূড়ান্ত পর্যায়ের বিচ্যুতি
এবং ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক উপাদান। সূফীবাদের এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলো রহস্যময় এবং অমীমাংসিত। আবার কিছু বিষয় নিয়ে রয়েছে শত বছরের বিতর্ক। মানসূর হাল্লাজের ‘আনাল হক’ বা ইবনে আরাবীর ‘ওয়াহদাতুল ওয়াজুদ’ এর পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে প্রচুর আলোচনা। আর যারা সূফীবাদ ও আধ্যাত্মিক চর্চাকে বিভিন্ন রকম ব্যবসা, আত্মপ্রসার, জাগতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিকৃত করে নিজেদের প্রবৃত্তি অনুসারে ব্যবহার করেছেন— তারা আমাদের কাছে সর্বার্থে প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তবে বর্তমানে এমনিতেই মুসলিম উম্মাহ শতধাবিভক্ত। তাই মোটাদাগে আমরা ট্যাগিং এর দুষ্টচক্র থেকে বের হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কথায়-কথায় ভিত্তিহীনভাবে মানুষকে কাফির, মুশরিক, মুনাফিক বলে অভিহিত করা— একটি মারাত্মক ব্যাধি। আজ যখন গাজায় মুসলমানরা নির্মমভাবে অত্যাচারিত হয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সমগ্র পাশ্চাত্য মুসলমানদের অস্তিত্বকে হুমকির মাঝে রেখেছে—তখন আমরা নিজেদের মাঝে অন্তর্কোন্দলে লিপ্ত হতে পারিনা।

আমল-আখলাক-ইলমে যে কেউ, যে কারো চেয়ে উত্তম হতেই পারেন; তবে সেজন্য যেন আমরা কাউকে হেয় প্রতিপন্ন না করি। একই কথা সুফীবাদ সম্পর্কেও প্রযোজ্য। ঢালাওভাবে বিভিন্ন তরীকা যারা অনুসরণ করছেন বা পীর-মুরিদী সম্পর্ক রক্ষা করছেন, তাদের সবাইকে গালি-গালাজ করে খারিজ করে দেওয়া অত্যন্ত অনুচিত। যদি শিরক, বিদাত সুস্পষ্টভাবে সামনে প্রকাশিত হয়, তবে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আইনের পরিসীমায় থেকে তাকে মোকাবেলা করা উচিত। আর সেই মোকাবেলার ধরণ হবে— জ্ঞানভিত্তিক। অজ্ঞানতা থেকেই তো শিরক-বিদাত, সুতরাং সবার মাঝে ইসলামের দ্বীনি দাওয়াত পৌঁছে দেওয়াই আমাদের কর্তব্য হতে পারে। বলপ্রয়োগ, গালি-গালাজ ও পারস্পরিক অশ্রদ্ধার জায়গাগুলো পরিত্যাগ করতে হবে। ফিতরাতগত দিক থেকে মানুষ অত্যন্ত স্বাধীনচেতা। সুতরাং, যে রাষ্ট্রে মুসলিমরা কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু ইসলামী আইন, অনুশাসন দ্বারা পরিচালিত নয়— সেখানে বলপ্রয়োগে কারো ধর্মচর্চায় বাধা প্রদান করতে গেলে— তা অধিকতর সমস্যা বৃদ্ধি করবে। সুতরাং, পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে যে, যেই স্কুল অব থটকে অনুসরণ করেন তাদের মাঝে পারস্পরিক দাওয়াত প্রদান ও জ্ঞানগতভাবে প্রয়াস-প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই হবে মূল পদ্ধতি।

এরপর আপনি যেসমস্ত চর্চা বা অনুশীলনে সুস্পষ্ট শিরক-বিদাত দেখেন, সেগুলো নিজে পরিত্যাগ করার পাশাপাশি ইলমের ধারাবাহিক খেদমতের মাধ্যমেও তার প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারেন। এতে বৃহত্তর বিশৃঙ্খলা এবং নৈরাজ্য থেকে সমাজ নিরাপদ থাকবে। মহান আল্লাহ’র জমিনে মানুষে-মানুষে পার্থক্য থাকবেই। বহুজন-বহুভাবে তাঁর ইবাদাত করবে, তাঁর গায়েবী ইশকের আশেক হয়ে নানারকম মেটাফিজিক্যাল ও মিস্টিক আচরণ করবে—এগুলো আমাদের মেনে নিতে হবে। আর এতোভাগে বিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও আজো কিন্তু এই পৃথিবীতে সত্যিকারের তাসাউফ বিদ্যমান আছে। যেমন আছে সত্য পীর ও সত্য আশেক। সুতরাং, তাসাউফ ও সূফীবাদকে ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যান না করে, সুধারণা পোষণ করুন। আমাদের উচিত সূফীবাদ ও তাসাউফ চর্চার ঐতিহাসিক পরম্পরা সম্পর্কে যথাসম্ভব জ্ঞানার্জনে সচেষ্ট হওয়া।

আরেফিন আল ইমরান
১১-০৯-২০২৫

অপার বিস্ময়ে দেখেছি—তোমার সাহস! অসীম শোকের চিহ্নবুকে নিয়ে, দেখেছি—তোমার মহাপ্রস্থান! মৃতের মর্ত্যে আগমন—বলে কিছু নাই। স্...
10/09/2025

অপার বিস্ময়ে দেখেছি—তোমার সাহস! অসীম শোকের চিহ্ন
বুকে নিয়ে, দেখেছি—তোমার মহাপ্রস্থান! মৃতের মর্ত্যে আগমন—বলে কিছু নাই। স্বর্গে জীবন্ত তুমি কি দেখতে পাও, যে পরিচয়ের অভিযোগে তোমাকে কতল করেছিল কিছু পশু, আজ তাদের বিধ্বস্ত চোখের সামনে সেই পরিচয়—‘উদ্যত বিজয়’ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে? প্রত্যেক জালিম পৌঁছে যাবে—তাদের আনজামে। ভারত ও দিল্লীর বশ্যতা মানবেনা— শাহজালাল, ঈসা খাঁ, শরীয়তউল্লাহ, ফকির মজনু শাহের বাংলাদেশ। ‘আবরার ফাহাদ’—মহান আল্লাহ তোমাকে উন্নীত করুন জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকামে। ইয়ে শাহাদাত গাহে উলফাত মে কাদাম রাখনা, লোগ সামাঝতে হ্যায় আসাঁ হ্যায় মুসলমান হোনা.....।

শহীদ আবরার ফাহাদ স্মরণে
আরেফিন আল ইমরান
১১-০৯-২০২৫

১) ডানপন্থীদের (বিশেষত ইসলামপন্থীদের) শক্তিশালী কোনো সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম নেই। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তারা হীনবল। শুধু রাজন...
10/09/2025

১) ডানপন্থীদের (বিশেষত ইসলামপন্থীদের) শক্তিশালী কোনো সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম নেই। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তারা হীনবল। শুধু রাজনৈতিক উত্থান বা সাময়িক বিজয় তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। তিনদিক থেকে ভারত পরিবেষ্টিত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে, সমস্ত রাইট উইংকে একত্রিত হতে হবে। কালচারাল ও ইন্টেলেকচুয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্মাণ করতে হবে। কল্পনাশক্তি ও উদার-নৈতিক ভাবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সেকিউলার কালচারকে মোক্ষম জবাব দিতে হবে। 'বাংলাদেশী মুসলিম' আইডেন্টিটি নিয়ে আর হীনমন্যতায় ভোগার অবকাশ নেই। আমাদের জন্য জরুরী হল—ওয়েস্টার্ন, ভারতীয় ও আওয়ামী ন্যারেটিভগুলোকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিধ্বস্ত করা। ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস, ফ্রিডম অব স্পিচ প্রভৃতির মধ্যে যে হিপোক্রেসি লুকিয়ে আছে, তা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকাশ্য দিবালোকে আনা এবং মজলুম মানুষদের ঐ সমস্ত ভণ্ডামির বিষয়ে ক্রমাগতভাবে সতর্ক করা।

২) ওয়েস্টার্ন সভ্যতার মত বাংলাদেশেও শয়তানি মতবাদগুলোর পক্ষে সাংস্কৃতিক শক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক সুশীল সমাজ ও তল্পিবাহক গণমাধ্যমের অভাব নেই। আমরা ফ্যাসিবাদের পলিটিক্যাল ফোর্সকে সাময়িক পরাস্ত করলেও, তার কালচারাল ও ইন্টেলেকচুয়াল ফোর্স—আজো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আমি বারবারই বলি—পুরো রাইট উইংয়েরই ন্যারেটিভ তৈরী করার মত বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা নাই। তারা সেটার প্রয়োজনও বোধ করেনা। সফট পাওয়ারের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নাই। ফলে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট প্রভৃতি মিলে যে সুশীলতার দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে—তার কাছে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তি নিরন্তর মার খেয়েই যাচ্ছে। আমার দেশ, নয়া দিগন্ত, দৈনিক সংগ্রাম—উল্লেখিত শক্তির কাছে শিশুতোষ প্রতিরোধের মতই দুর্বল।

৩) আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আনু মুহাম্মদ, রেহমান সোবহান প্রমুখ বিদ্বানদের গুণ ও যোগ্যতা দিনশেষে সেই দুষ্টচক্রের অনুকূলেই কাজ করবে। সেই তুলনায় রাইট উইংয়ে এরকম নির্ভরযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যক্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। গণ-মানুষের মাঝে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের কদর আছে। তারা বিকল্প হিসেবে পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেনকে বেছে নিয়েছে। তাদের অ্যাকটিভিজম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই দুজনের বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও দায়বদ্ধতা এখনও আমাদের কাছে শতভাগ পরিষ্কার নয়। এছাড়া তাদের উপস্থাপন শৈলী ও ভাষার ব্যবহার নিয়ে আপত্তির জায়গা তো আছেই।

৪) জুলাই-অগাস্ট বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশ এখনও পলিটিক্যালি আনস্টেবল। এখনও যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে সামনে আরো বিশাল বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বের মজলুম মানুষ— বিশেষত গাজার মুসলমানদের জন্য আমাদের অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। আসুন, আমরা আসন্ন সংকটগুলোকে ভালোভাবে জানা ও বোঝার চেষ্টা করি। বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক শূন্যতা পূরণে অগ্রসর হই। ভারত ও পশ্চিমের আধিপত্যবাদী ন্যারেটিভগুলোর জবাবে কাউন্টার ন্যারেটিভ গড়ে তুলি। যদি বলতে পারেন, তবে অসংকোচে বলুন। যদি লিখতে পারেন, তবে লিখুন। যদি বুদ্ধিবৃত্তিক বা সাংস্কৃতিক কাজে দক্ষতা থেকে থাকে, তবে সেটাকে কাজে লাগান। সম্ভব হলে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য পডকাস্ট করা যেতে পারে। স্টাডি সার্কেল থেকে সভা, সেমিনার সবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে এটা বিভাজন-বিভক্তির সময় নয়। জুলাই আন্দোলনের সমস্ত শক্তিকে বৃহত্তর স্বার্থে এক হতে হবে। বিশ্বভাতৃত্ব ও উম্মাহ কনসেপ্ট সামনে রেখে, বিভেদভুলে এক পতাকার নিচে সম্মিলিত হওয়ার হাইটাইম পার করছি আমরা......।

বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক শূন্যতা রোধ করণীয়
আরেফিন আল ইমরান
১০-০৯-২০২৫

10/09/2025

দুনিয়ার ইতিহাস হল মজলুমের হাতে জালিমকে তাড়ানোর ইতিহাস! যার উপরে অনেক জুলুম হয়, একদিন সেও রুখে দাঁড়ায়। অনেক যুদ্ধের পরে লড়তে শিখে যায় নবীণও। আর জয়-পরাজয় তো মহান আল্লাহ'র হাতে।

10/09/2025

এরদোয়ান, ইমরান খানের মত প্রগ্রেসিভ ও সমন্বয়বাদী ইসলামই বাংলাদেশের জন্য উত্তম। রক্ষণশীল ও কট্টরপন্থী অবস্থান পরিত্যাগ করলে, আগামীর বাংলাদেশ আপনাদের জন্য উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।

১) ডানপন্থীদের শক্তিশালী কোনো সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম নেই। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তারা হীনবল। শুধু রাজনৈতিক উত্থান বা সাময়িক ব...
09/09/2025

১) ডানপন্থীদের শক্তিশালী কোনো সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম নেই। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তারা হীনবল। শুধু রাজনৈতিক উত্থান বা সাময়িক বিজয় তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। তিনদিক থেকে ভারত পরিবেষ্টিত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে, সমস্ত রাইট উইংকে একত্রিত হতে হবে। কালচারাল ও ইন্টেলেকচুয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্মাণ করতে হবে। কল্পনাশক্তি ও উদার-নৈতিক ভাবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সেকিউলার কালচারকে মোক্ষম জবাব দিতে হবে। 'বাংলাদেশী মুসলিম' আইডেন্টিটি নিয়ে আর হীনমন্যতায় ভোগার অবকাশ নেই। আমাদের জন্য জরুরী হল—ওয়েস্টার্ন, ভারতীয় ও আওয়ামী ন্যারেটিভগুলোকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিধ্বস্ত করা। ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস, ফ্রিডম অব স্পিচ প্রভৃতির মধ্যে যে হিপোক্রেসি লুকিয়ে আছে, তা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকাশ্য দিবালোকে আনা এবং মজলুম মানুষদের ঐ সমস্ত ভণ্ডামির বিষয়ে ক্রমাগতভাবে সতর্ক করা।

২) ওয়েস্টার্ন সভ্যতার মত বাংলাদেশেও শয়তানি মতবাদগুলোর পক্ষে সাংস্কৃতিক শক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক সুশীল সমাজ ও তল্পিবাহক গণমাধ্যমের অভাব নেই। আমরা ফ্যাসিবাদের পলিটিক্যাল ফোর্সকে সাময়িক পরাস্ত করলেও, তার কালচারাল ও ইন্টেলেকচুয়াল ফোর্স—আজো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আমি বারবারই বলি—পুরো রাইট উইংয়েরই ন্যারেটিভ তৈরী করার মত বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা নাই। তারা সেটার প্রয়োজনও বোধ করেনা। সফট পাওয়ারের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নাই। ফলে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট প্রভৃতি মিলে যে সুশীলতার দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে—তার কাছে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তি নিরন্তর মার খেয়েই যাচ্ছে। আমার দেশ, নয়া দিগন্ত, দৈনিক সংগ্রাম—উল্লেখিত শক্তির কাছে শিশুতোষ প্রতিরোধের মতই দুর্বল।

৩) আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আনু মুহাম্মদ, রেহমান সোবহান প্রমুখ বিদ্বানদের গুণ ও যোগ্যতা দিনশেষে সেই দুষ্টচক্রের অনুকূলেই কাজ করবে। সেই তুলনায় রাইট উইংয়ে এরকম নির্ভরযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যক্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। গণ-মানুষের মাঝে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের কদর আছে। তারা বিকল্প হিসেবে পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেনকে বেছে নিয়েছে। তাদের অ্যাকটিভিজম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই দুজনের বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও দায়বদ্ধতা এখনও আমাদের কাছে শতভাগ পরিষ্কার নয়। এছাড়া তাদের উপস্থাপন শৈলী ও ভাষার ব্যবহার নিয়ে আপত্তির জায়গা তো আছেই।

৪) জুলাই-অগাস্ট বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশ এখনও পলিটিক্যালি আনস্টেবল। এখনও যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে সামনে আরো বিশাল বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বের মজলুম মানুষ— বিশেষত গাজার মুসলমানদের জন্য আমাদের অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। আসুন, আমরা আসন্ন সংকটগুলোকে ভালোভাবে জানা ও বোঝার চেষ্টা করি। বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক শূন্যতা পূরণে অগ্রসর হই। ভারত ও পশ্চিমের আধিপত্যবাদী ন্যারেটিভগুলোর জবাবে কাউন্টার ন্যারেটিভ গড়ে তুলি। যদি বলতে পারেন, তবে অসংকোচে বলুন। যদি লিখতে পারেন, তবে লিখুন। যদি বুদ্ধিবৃত্তিক বা সাংস্কৃতিক কাজে দক্ষতা থেকে থাকে, তবে সেটাকে কাজে লাগান। সম্ভব হলে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য পডকাস্ট করা যেতে পারে। স্টাডি সার্কেল থেকে সভা, সেমিনার সবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে এটা বিভাজন-বিভক্তির সময় নয়। জুলাই আন্দোলনের সমস্ত শক্তিকে বৃহত্তর স্বার্থে এক হতে হবে। বিশ্বভাতৃত্ব ও উম্মাহ কনসেপ্ট সামনে রেখে, বিভেদভুলে এক পতাকার নিচে সম্মিলিত হওয়ার হাইটাইম পার করছি আমরা......।

বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক শূন্যতা রোধ করণীয়
আরেফিন আল ইমরান
১০-০৯-২০২৫

Address

Mirpur
Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arefin Explains posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share