27/06/2026
The Mohadan Washington Times 24 bd. com
মার্কিন প্রশাসনে মতভেদ স্পষ্ট, ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প-ভ্যান্সের বিপরীত অবস্থানে রুবিও
২৭ জুন ২০২৬,
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
ইরানের সাথে আমেরিকার সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (MOU) নিয়ে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রহস্যজনক নীরবতা বজায় রাখার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশগুলো সফরকালে এই চুক্তি নিয়ে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুরের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। ফলে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই রক্ষণশীল মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারকদের মতো রুবিও ইরানের সাথে যেকোনো চুক্তির বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে তিনি এই বিতর্কিত চুক্তির পক্ষে জোরালো কোনো সাফাই তো গানইনি, উল্টো চুক্তির খুঁটিনাটি ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্প-ভ্যান্সের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত সুর তুলেছেন।
ইরানের নেতৃত্ব কি 'উগ্র' নাকি 'যৌক্তিক'?
গত বৃহস্পতিবার বাহরাইন সফরকালে রুবিও ইরানের নেতাদের আবারও "ধর্মীয় উগ্রপন্থী" হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, "ইরানি ব্যবস্থা কট্টরপন্থী মৌলবাদীদের দ্বারা পরিচালিত। এটি অতীতেও এমন ছিল, এখনও তেমনই আছে।"
অথচ এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে জি-৭ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব হয়তো নিজেদের শুধরে নিতে চাইছে। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় ইরানীদের উগ্রপন্থী ভাবার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, "আমরা যাদের সাথে আলোচনা করছি তারা খুবই যৌক্তিক, শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান মানুষ। তারা তাদের দেশকে সাহায্য করতে চাইছে।" অন্যদিকে ভ্যান্স দাবি করেছিলেন, ইরানের কট্টরপন্থীরাও এখন আমেরিকার সাথে গত ৪৭ বছরের বৈরি সম্পর্ককে ভুল ছিল বলে মনে করছে।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দ্বিমত
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। অথচ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল এটি। সম্প্রতি ট্রাম্প সুর নরম করে বলেছেন, "অন্যদের যেহেতু ক্ষেপণাস্ত্র আছে, তাই ইরানেরও কিছু থাকা উচিত। ক্ষেপণাস্ত্র পুরো পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে না, তাই আনুপাতিক হারে এটা ঠিক আছে।"
কিন্তু কুয়েত সফরে গিয়ে রুবিও সম্পূর্ণ ভিন্ন ও কঠোর অবস্থান দেখিয়েছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, "আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন কিছু আমরা করব না।"
প্রক্সি গ্রুপ ও লেবানন ইস্যু
হিজবুল্লাহ বা হামাসের মতো ইরানের প্রক্সি গ্রুপগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের বিষয়টিও চুক্তিতে সরাসরি উল্লেখ নেই। তবে রুবিয়ো দাবি করেছেন, চুক্তির ভাষা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় প্রক্সি গ্রুপগুলোর হামলাও এর আওতায় পড়বে। কিন্তু ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনে এই বিষয়টিকে ভবিষ্যতের জন্য তুলে রেখে একে একটি 'প্যারালাল প্রচেষ্টা' হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত নিয়ে। আবু ধাবিতে রুবিও বলেন, লেবানন একটি সার্বভৌম দেশ এবং মার্কিন-ইরান শান্তি প্রক্রিয়ার সাথে এটি সম্পৃক্ত নয়, আমেরিকার লেবানন সরকারের সাথে সরাসরি চুক্তি করবে। অথচ চুক্তির খসড়া এবং জেডি ভ্যান্সের পূর্ববর্তী বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষকেই যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করার কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প ও ভ্যান্স এমনকি ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য চাপও দিয়েছিলেন, যা মার্কিন রক্ষণশীলদের ক্ষুব্ধ করে। এখন সেই ক্ষোভ প্রশমন করতেই রুবিওকে মাঠে নামানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট অবশ্য প্রশাসনে কোনো মতভেদের কথা অস্বীকার করে একে "মনগড়া গল্প" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ এই দুই কর্মকর্তার (ভ্যান্স ও রুবিও) দুই রকম বক্তব্য হোয়াইট হাউজের ভেতরে ইরান নীতি নিয়ে চলমান টানাপোড়েনকেই স্পষ্ট করছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor