31/08/2026
ইসলামী শরিয়তের নির্ভরযোগ্য দলিল অনুযায়ী, মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর সময় আল্লাহ তাআলা পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন।
১. কোন ব্যক্তি কখন মৃত্যুবরণ করবে—এর চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছেই রয়েছে।
২. কুরআনে বলা হয়েছে, কোনো প্রাণীই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মরতে পারে না; প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে।
৩. মানুষের মৃত্যুর সময়কে ইসলামী পরিভাষায় “আজল” বলা হয়।
৪. আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন কারও নির্ধারিত সময় এসে যায়, তখন তা এক মুহূর্তও পিছানো বা এগিয়ে দেওয়া হয় না।
৫. হাদিসে এসেছে, মায়ের গর্ভে থাকতেই ফেরেশতা মানুষের জীবনকাল, রিজিক ও আমল সম্পর্কে লিখে দেন।
৬. তবে এর অর্থ এই নয় যে ফেরেশতারা নিজেরা স্বাধীনভাবে কার মৃত্যু কখন হবে তা নির্ধারণ করেন।
৭. ফেরেশতারা আল্লাহর আদেশের অধীন এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন।
৮. মৃত্যুর সময় মালাকুল মাওত (মৃত্যুর ফেরেশতা) মানুষের প্রাণ গ্রহণ করেন—এ কথা কুরআনে উল্লেখ আছে।
৯. কুরআনে আরও এসেছে যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত ফেরেশতারা মানুষের প্রাণ গ্রহণ করেন।
১০. মানুষের আমল লিপিবদ্ধ করার জন্যও ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছেন, যারা মানুষের কথা ও কাজ লিখে রাখেন।
১১. তাই “আসমানের কোনো অফিসে বসে ফেরেশতারা প্রতিদিন মানুষের মৃত্যুর হিসাব করেন”—এমন নির্দিষ্ট বর্ণনা কুরআন বা সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না।
১২. আমাদের প্রত্যেকের নামসহ মৃত্যুর নির্ধারিত সময় আল্লাহর জ্ঞানে ও তাঁর নির্ধারণে রয়েছে—এটাই আকিদার সঠিক বিষয়
১৩. কুরআনে “উম্মুল কিতাব”-এর কথাও এসেছে, যা আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত মূল কিতাবের দিকে ইঙ্গিত করে
১৪. তবে এসব বিষয়ের বিস্তারিত প্রকৃতি আমাদের অদৃশ্য জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত; তাই দলিল ছাড়া ফেরেশতাদের দপ্তর, খাতা বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো গল্প বলা ঠিক নয়।
১৫. সুতরাং সঠিক বিশ্বাস হলো—মৃত্যুর সময় আল্লাহ নির্ধারণ করেন, ফেরেশতারা তাঁর আদেশ বাস্তবায়ন করেন, আর মানুষ কখন মারা যাবে সে বিষয়ে পূর্ণ ও চূড়ান্ত জ্ঞান আল্লাহ তাআলারই