19/12/2025
“এনাফ। বাংলাদেশটা ওসমান হাদীর একার নয়। হাদীর নাগরিক অধিকার আর দশটি সাধারণ নাগরিকের সমান। যেদিন হাদীকে গুলি করা হয়, সেদিন পুরান ঢাকায় আরেকজনকে গুলি করা হয়েছিলো। তিনি মারা গেছেন। কই, তার খুনী গ্রেপ্তারে তো রাষ্ট্রের আয়োজন দেখি না? প্রধান উপদেষ্টার বিবৃতি দেখি না? তার জীবন কি হাদীর চেয়ে কম মূল্যবান? এই যে এক্সেপশোনালিজম, আমার দলের লোক মরলে ইয়া ঢিশুম, মার মার কাট কাট, অন্যের বেলায় কবরের স্তব্ধতা, এটা আমাদের সকলকে বিপন্ন করছে। পাবনায় বিএনপির একজনকে গুলি করা হয়েছে। ডেড। যারা হাদীর জন্য কান্নার অভিনয় করছিলো, তারা সেই খবরে আলহামদুলিল্লাহ পড়ছে। হাদীর গুলিকারী গ্রেপ্তার হোক, হাদী চিকিৎসা পাক, এ পর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু হাদীকে পোস্টার বয় বানিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েমের যে-দামামা, তা বিপজ্জনক। এনসিপি প্রকাশ্যে গৃহযুদ্ধের ডাক দিয়েছে। লাশ ফেলার কথা বলছে। টকশোম্যানদের টার্গেট করছে। এই ছেলেগুলোকে জুলাইতে আমরা বাঁচিয়েছিলাম। জুলাই ঐক্য নামে একদল সর্বহারা, পেটের মল ছাড়া আর কিছু যাদের হারানোর নেই, তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে। হাদীর লাশটা তাদের দরকার ছিলো মনে হচ্ছে। নির্বাচনকে ভয় পায়, এমন প্রতিটি বদমাশ হাদীর লাশ কিনতে চাচ্ছে। হাদীকে চিনি না, চেনার প্রয়োজনও বোধ করি না। জুলাই আমার চোখের সামনে ঘটেছে। সেখানে হাদী নামক কাউকে দেখিনি। ইনকিলাব মঞ্চ, ভিনকিলাব মঞ্চ, এসব বানিয়ে সারাবছর অরাজকতা করেছে। অসংখ্যা মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। হাদী প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলো, প্রতিপক্ষ নাগরিকদের শাউয়া-মাওয়া ছিঁড়ে ফেলতে হবে! এটা তো হত্যারই আহ্বান ছিলো, নাকি? হাদী উপলক্ষে যারা সমাবেশ করলো, তারাও শাউয়া কেটে কাউয়াকে খাওয়ানোর কথা বললো। মানুষ ইনস্টিঙ্কটিভ প্রাণী। বিপন্ন বোধ করলে নিরীহ লোকও বন্দুকধারী হয়ে উঠে। আপনি সারা বছর শাহবাগী, এইবাগী, সেইবাগী ট্যাগ দিয়ে মানুষ নিধনের আহ্বান জানাবেন, আর এসবের প্রতিক্রিয়া হবে না, এটা ভাবেন কী করে? জুলাইতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো টাউট মারা গেছে? শহীদব্যবসায়ীরা শহীদ হয়েছে? অথচ পুরো দেশ অশান্ত করে রেখেছে এখানের ধান্দাবাজরা। মির্জা আব্বাসের মতো প্রবীণ জেলখাটা রাজনীতিককে এরা অপদস্ত করেছে, হাদীকে দেখতে যাওয়ার কারণে। এই যে একটি মেয়ে হাজির হয় ঢাকনা-ঢুকনা পরে, সবজায়গায় আঙুল উঁচিয়ে চেঁচামেচি করে, এ ধরণের রিমোট কন্ট্রোল্ড গর্দভ কেউ দেখেছে এর আগে? গুলিটা যদি মির্জা আব্বাসকে করা হতো, তাহলে এদের প্রতিক্রিয়া কী হতো আমরা জানি না? সুতরাং প্রতিরোধ করতে হবে। এই অশুভ শক্তির কন্ঠে কন্ঠ মেলানো যাবে না। লাশকে পোস্টার বয় বানানোর রাজনীতিতে যোগ দেয়া যাবে না। জনগণ যাদের শক্তি নয়, তাদের প্রধান শক্তি পোস্টার বয়। সমাজ যদি পোস্টার বয় বিষয়ে সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনেককে এরা গুলি করে পোস্টার বয় বানাবে।”