12/09/2026
সহমত পোষণ করছি।
৮০-র দশকে নিজেকে দেখতে কেমন লাগত, সেটা দেখার আগ্রহে অনেকেই AI দিয়ে ছবি বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করছেন। দেখতে দেখতে বিষয়টি একটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। বুড়ো-জোয়ান, দ্বীনদার-বেদ্বীন, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে প্রায় সবাই পাগলের মতো এই ট্রেন্ডে অংশগ্রহণ করছেন।
অথচ একটু খেয়াল করলে দেখবেন, একজন মানুষ নিজেকে ৮০-এর দশকে কেমন দেখতে চাইছে, সেটার মধ্যেও তার ব্যক্তিত্ব, রুচি ও মানসিকতার কিছুটা পরিচয় ফুটে ওঠে।
-কেউ নিজেকে সিনেমার ভিলেনের রূপে ফুটিয়ে তুলছে।
-কেউ তথাকথিত সিনেমার অশ্লীল নায়ক-নায়িকাদের ভঙ্গিমায় নিজেকে উপস্থাপন করতে পছন্দ করছে। আবার,
-কেউ নিজের চেহারা ও শরীরকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করতেও দ্বিধা করছে না।
-আর নারীদের বেপর্দা ও অশ্লীলতাতো আছেই
বিষয়টি এমন নয় যে শুধু বেদ্বীন মানুষরাই এসব করছে। বরং অনেক দ্বীনদার মানুষকেও দেখছি, শুধু স্রোতের সঙ্গে গা ভাসিয়ে এসব করছেন।
ভাই, একটু থামুন তো। নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন, এই অপ্রয়োজনীয় কাজটি করে দ্বীনের কী উপকার হলো?
কারও কাছে কি দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছেছে?
কেউ কি আপনার এই ছবি দেখে আল্লাহকে স্মরণ করেছে?
কারও আমল কি বেড়েছে?
এর বিনিময়ে আপনি যদি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি একবার দরুদ পড়তেন, সেটাই কি উত্তম হতো না?
অথবা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একটি হাদিস প্রচার করতেন, একটি আয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন, একটি ভালো কথা কাউকে মনে করিয়ে দিতেন, তাহলে কি সেটার কোনো না কোনো কল্যাণ হতো না?
আমরা অনেক সময় ভাবি, “এ তো সামান্য একটা ট্রেন্ড, এতে এমন কী হয়েছে! হুজুররা সব যায়গায় বেশি বুঝে, হুজিররা আর আপডেট হলো না, সব যায়গায় সমস্যা খুঁজে”
কিন্তু একজন মুমিনের জীবন কি এতটাই মূল্যহীন যে, তার সময়, তার দৃষ্টি, তার প্রতিভা, তার সোশ্যাল মিডিয়ার উপস্থিতি সবকিছুই এমন কাজে ব্যয় হবে, যার কোনো দুনিয়াবি বা আখিরাতের উল্লেখযোগ্য উপকার নেই?
আমি সবকিছু হারাম বলছি না। কিন্তু সবকিছু করতে হবে, এমনও তো নয়।
মুমিনের একটা স্বাতন্ত্র্য আছে, আত্মমর্যাদা আছে, ফিতরাত আছে। সে স্রোতে ভেসে যায় না। মানুষ করছে বলেই সে করে না। বরং সে একটু থামে, ভাবে, তারপর সিদ্ধান্ত নেয়, “এটা কি আমার জন্য উপকারী? এটা কি আমার সময়ের মূল্য দেয়? এটা কি আমার রবকে সন্তুষ্ট করবে?”
আজ চারপাশে এত অশ্লীলতা, এত গাফেলতি, এত অর্থহীন বিনোদন। এর মাঝেও যদি একজন দ্বীনদার মানুষ একই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন, তাহলে অন্তত নিজের কাছে একবার প্রশ্ন করা দরকার, আমি কি সত্যিই অন্যদের থেকে আলাদা থাকার চেষ্টা করছি, নাকি আমিও ধীরে ধীরে সেই স্রোতেই হারিয়ে যাচ্ছি?
প্রিয় ভাই ও বোন, জীবন খুব ছোট।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি পোস্ট, প্রতিটি ছবি, প্রতিটি সুযোগ হয়তো আপনার আমলনামায় কিছু যোগ করছে, নয়তো আপনার সময়টুকু নিঃশব্দে নিয়ে যাচ্ছে। তাই ট্রেন্ডের পেছনে ছুটার আগে একটু থামুন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন,
“আমি যা করছি, এটা কি শুধু মানুষকে দেখানোর জন্য, নাকি আল্লাহর কাছে এর কোনো মূল্য আছে?”
আল্লাহ আমাদের সময়ের কদর করার, অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে বেঁচে থাকার এবং আমাদের প্রতিটি কাজকে আখিরাতের জন্য কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।