10/03/2026
আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিভাবে কাজ করে ? আকাশে ছোঁড়া একটা ধাতব দণ্ড কিভাবে হাজার কিলোমিটার দূরের টার্গেট খুঁজে নেয় ?
মনে হতে পারে—একটা বোতাম চাপলেই রকেট ছুটে যায়, তারপর সোজা গিয়ে বিস্ফোরণ । বাস্তবে বিষয়টা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল, অনেক বেশি হিসাবি ।
একটা আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বুঝতে হলে এটাকে চারটা ধাপে ভাগ করতে হবে—লঞ্চ, গাইডেন্স, ফ্লাইট কন্ট্রোল, এবং টার্গেট হিট ।
✅ প্রথম ধাপ : লঞ্চ
ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে থাকে শক্তিশালী প্রপালশন সিস্টেম—সাধারণত রকেট ইঞ্জিন । জ্বালানি জ্বলে প্রচণ্ড গতিতে গ্যাস বের হয়, আর নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র সামনে ছুটে যায় । কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সলিড ফুয়েল ব্যবহার করে, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং দ্রুত ছোঁড়া যায় । আবার কিছুতে লিকুইড ফুয়েল থাকে, যা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা দেয় ।
✅ দ্বিতীয় ধাপ : গাইডেন্স
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ । আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র “অন্ধ” হয়ে উড়ে না । এর ভেতরে থাকে ইনর্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম, জাইরোস্কোপ, অ্যাক্সিলেরোমিটার । অনেক ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট নেভিগেশন (যেমন GPS) ব্যবহার করা হয় । দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে নিজের অবস্থান হিসাব করে বারবার পথ ঠিক করে নেয় । আর টার্গেটের কাছে পৌঁছালে অ্যাক্টিভ রাডার, ইনফ্রারেড সেন্সর বা লেজার সিকার চালু হয় । তখন এটি নিজেই লক্ষ্যবস্তু “লক” করে ।
✅ তৃতীয় ধাপ : ফ্লাইট কন্ট্রোল
ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে ছোট ছোট ফিন বা কন্ট্রোল সারফেস থাকে । ভেতরের কম্পিউটার হিসাব করে বলে দেয়—ডানে ঘুরবে, বাঁয়ে ঘুরবে, উচ্চতা কমাবে না বাড়াবে । পুরো সময়টা এটি বাতাসের গতি, মাধ্যাকর্ষণ, এমনকি পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাবও হিসাব করে ।
✅ চতুর্থ ধাপ : টার্গেট হিট
টার্গেটে পৌঁছানোর আগেই ফিউজ সিস্টেম সক্রিয় হয় । কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত করে বিস্ফোরিত হয় । কিছু আবার নির্দিষ্ট দূরত্বে পৌঁছে এয়ারবার্স্ট করে—যাতে ক্ষতি বেশি হয় ।
আধুনিক প্রিসিশন-গাইডেড মিসাইল কয়েক মিটারের ভেতরে নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারে ।
☑️ সব ক্ষেপণাস্ত্র এক রকম নয় ।
🔹ব্যালিস্টিক মিসাইল মহাকাশের কিনারা ছুঁয়ে আবার নেমে আসে ।
🔹ক্রুজ মিসাইল নিচু দিয়ে উড়ে রাডার এড়িয়ে যায় ।
🔹অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল লক্ষ্যবস্তুর দুর্বল জায়গা খুঁজে আঘাত করে ।
🔹অ্যান্টি-এয়ার মিসাইল আকাশে চলমান বিমানের পিছু নেয় ।।।