12/06/2026
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে দু'র্নীতি কমার কথা। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত ১১ বছর ধরে নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের সমন্বয় হয়নি। ফলে বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে শুধু বেতন বাড়ালেই কি দু'র্নীতি কমে?
এ প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়।
একদিকে বাস্তবতা হলো, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক সরকারি কর্মচারী আর্থিক চাপে থাকেন। ন্যায্য ও সময়োপযোগী বেতন একজন কর্মচারীকে আর্থিক নিরাপত্তা দেয় এবং দু'র্নীতির প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশ এবং বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও দেখায়, শুধু বেতন বৃদ্ধি করলেই দু'র্নীতি সম্পূর্ণ বন্ধ হয় না। দু'র্নীতি কমাতে প্রয়োজন জবাবদিহিতা, শক্তিশালী নজরদারি, ক'ঠোর শাস্তি, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং আইনের সমান প্রয়োগ।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সামনে নিয়ে এসেছে— সরকারি কর্মচারীদের বেতন কি বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এবং দু'র্নীতি প্রতিরোধে বেতন বৃদ্ধি কতটা কার্যকর হতে পারে?
সম্ভবত বাস্তব উত্তর হলো, ন্যায্য বেতন দু'র্নীতি কমানোর একটি উপাদান হতে পারে, কিন্তু একমাত্র সমাধান নয়। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে তবেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসতে পারে।