30/03/2026
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবার পর প্রথমদিনই সকাল ৯টায় অফিসে গিয়ে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিলেন আমলাদের। এরপর থেকে তারাও নির্ধারিত সময়ের আগে অফিসে আসতে শুরু করেন; যেসব সরকারি বড় কর্তাদের লেট করে অফিসে আসার রোগ ছিল, তাদের রোগও সেরে গেছে!
আজকে আবার হুটহাট করে আগে থেকে না জানিয়ে উনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ভিজিট শুরু করে দিলেন।
সরকারি কর্মকর্তাদেরকে এই মেসেজ দিচ্ছেন, চোর-পুলিশ খেলার জন্য তিনি মনিটরিং করতেছেন না যে তিনি তাড়িয়ে বেড়াবেন উনারা আড়ালে থাকবেন, ধরা পড়লে ভালো হয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন।
প্রতিটি সেক্টরে দৃশ্যত পরিবর্তন তিনি দেখতে চান। এমনকি কাঠামোগত পরিবর্তন চাচ্ছেন। টেকসই।
মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন সেক্টরে তিনি যাদের যুক্ত করেছেন, এমন অনেকের সঙ্গে আমার কথা হইলে একটা কথা কমন পেয়েছি যে, তিনি সবাইকে প্রাঙ্কলি বারবার বলছেন, ‘আমি বিশ্বাস রাখছি, কাজ করে দেখান’। যাদের সঙ্গে একটু বেশি ক্লোজ, তাদের কাছে আরেকটা বাক্য শুনি, ‘আমি বিশ্বাসটা রেখেছি বুঝেশুনে, সেটার মূল্য রাখেন’।
কাউকে পরামর্শ কিংবা নির্দেশনা দেওয়ার সময়েও নিজের উদাহরণ দিয়েই বলেন তিনি। যেটি আমি কয়েকটি ঘটনার পরম্পরায় দেখেছি।
গতকাল তিনি সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মিটিং শেষে বের হচ্ছিলেন সংসদ ভবনের ভেতর থেকে, গেইটের সামনে সংসদ ভবন ও সংসদবিষয়ক সচিবলায় কর্মকর্তারা উনার যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে কেউ সালাম দিচ্ছিলো, কেউ ভিডিয়ো করতেছিলো, ভাবছিলেন প্রধানমন্ত্রী হয়ত খুশী-ই হবেন তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে।
উল্টো প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত হয়ে বললেন, ওদের কোনো কাজ নাই!
নিজেদের কাজকাম বাদ দিয়ে সরকারি কর্তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে রইল, প্রধানমন্ত্রী খুশী হইলেন না উল্টো তাদের ঝাড়লেন, কাজ বাদ দিয়ে ক্যান দাঁড়াই আছে!
তারেক রহমান পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশে কাঠামোগত রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন, যেটা হবে মেরিটোক্রেসি বেইজড।
গাড়ির পিছে দৌঁড়ানো, অতিরিক্ত তোষামোদ করা, এসবে যে উনি চরমভাবে বিরক্ত হচ্ছেন, এটা বোধহয় বিএনপির অনেক নেতারা এখনো রিয়েলাইজ করতে পারতেছেন না!
ঈদের ব্রেক শেষে আজকে থেকে সংসদ অধিবেশন আবার শুরু হলো। প্রথমদিনই প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের ৫মিনিট আগে উপস্থিত হয়ে প্রথমদিনের আমলাদের মতোই দলের সংসদ সদস্যদের বেকায়দা ফেলে দিলেন।