29/09/2026
বৈশ্বিক শীর্ষ গণমাধ্যম রয়টার্স, আল-জাজিরা ও মিডল ইস্ট আই এর পরিসংখ্যান ও তথ্যমতে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাযায় পারস্যের বিভিন্ন শহরে টানা ছয়দিনের ভিন্ন ভিন্ন জানাযায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। যুদ্ধ চলাকালীন বৈরী সময়েও পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে শীর্ষ নেতা ও অসংখ্য সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।
ইরানের মোট জনসংখ্যা ৯ কোটি ২০ লাখ। ধরে নিলাম পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে জানাযায় ৫০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ থেকে ৫০ লাখ বাদ দিলে থাকে ৩ কোটি ৮০ লাখ জন। ইরানের আদমশুমারি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ডেটা প্রেক্ষেপণ অনুযায়ী ইরানের পরিবার সংখ্যা ২ কোটি ৪১ লাখ। অর্থাৎ ২ কোটি ৪১ লাখ দিয়ে ৩ কোটি ৮০ লাখকে ভাগ করলে ভাগফল আসে ১.৫৮ প্রায়। মানে ইরানের প্রতি পরিবার থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাযায় গড়ে ১.৫ তথা দেড় জন করে অংশগ্রহণ করেছিল। এই পরিসংখ্যান পারস্যের মানুষের দেশপ্রেম ও বর্তমান রেজিমের প্রতি দেশটির মানুষের ভরসা ও ভালোবাসার অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা দেয়। মানে দেশটির জনগণ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।
আইআরজিসি, সেনাবাহিনী, বাসিজ ফোর্স মিলিয়ে ইরানের মোট সামরিক সদস্য প্রায় ১২ লাখ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো হামলা ও অপতৎপরতা রুখে দিতে ইরান সরকার ১০ লাখ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ডাকে ৩ কোটি ১৫ লাখ ইরানি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যোগ দিতে আবেদন করেছে। যেখানে দেশটির জনসংখ্যাই মাত্র ৯ কোটি।
ইরানের মানুষের দেশপ্রেম কোন লেভেলের! তা এই ডাকে আরও একবার প্রমাণ করেছে। দশকের পর দশক ইরানের বর্তমান ইসলামি রেজিম অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কবলে থেকেও দেশের মানুষের ভালবাসা ও জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে,তা সত্যিই অবাক করে। তার প্রধান কারণ, অর্থ কষ্ট ভোগবে তবুও কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নিকট মাথা নত করবে না।
স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যোগ দিতে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ করে ‘জানফাদা’ ক্যাম্পেইনে ইরানের সেনাবাহিনী ও বাসিজ ফোর্স ট্রেইন করাচ্ছে। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র ছেলেরাই আবেদন করেনি লক্ষাধিক মেয়েও আবেদন করেছে। মেয়েদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান কোর্স ও বন্দুক চালানোর ট্রেইন দেওয়া হচ্ছে। এবং ছেলেদের সব ধরণের আর্ম রসদ ব্যবহারের ট্রেইন দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছে ইরান যদি যুদ্ধ বন্ধে নতুন চুক্তি করতে আগ্রহী না হয়, তাহলে ইরানে বড় ধরণের হামলা চালাবে। সাম্প্রতিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এমন কোনো সামরিক ঘাঁটি নাই যেখানে হামলা করেনি। প্রশ্ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র তাহলে নতুন করে কোথায় হামলা চালাবে?
ইরানকে হেড টু হেড ব্যাটেল ফিল্ডে হারাতে হলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বি-২ বোমারু দিয়ে ইরানের প্রতিটি সামরিক ঘাঁটি ও পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে, তারপরেও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারেনি।
সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, ইরানের পরমাণু ও সামরিক গবেষণা কেন্দ্রগুলো মাটির ১০০ মিটার গভীরে। মানে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করলেও মাটির ৩০-৪০ মিটারের বেশি ভেদ করা সম্ভব নয়। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি অপশনই আছে স্থল অভিযান চালিয়ে প্রতিটি সামরিক গবেষণা কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করে কার্যক্রম নষ্ট করে দেওয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কি আদৌ সম্ভব ইরানের মাটিতে স্থল অভিযান পরিচালনা করা?
যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার সংঘাত শুরু করে তাহলে নিশ্চয়ই স্থল অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা থাকবে, যা ইরান অনুভব করতে পেরেছে। তাই ১২ লাখ সামরিক সদস্যের পাশাপাশি, আরও ১০ লাখ সিভিলিয়ানদের স্পেশাল প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ইরানের তরুণদের দেশপ্রেম ও যুদ্ধ করার আগ্রহ দেখে ইরান সরকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলে ১ কোটি সিভিলিয়ানদের তৈরি রাখতে পারে বলে বিভিন্ন মহল ধারণা করছে।
যারা মৃত্যুকে ভয় পায় না, তাদের অস্ত্রের ভয় দেখায় কেবল কাপুরুষরা। মৃত্যুকে ভয় পায় না এমন মানুষকে হত্যা করার মধ্যে কোনো বড়ত্ব নেই।
ইরান দীর্ঘজীবী হোক, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন হোক -আমিন৷