25/05/2025
ইসলামিক গল্প সিরিজ: বদলে যাওয়া জীবন |
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বদলে যাওয়া জীবন
(পর্ব 2)
যার মধ্যে যৌবন, সম্পদ ও অখণ্ড অবসর—এই তিনটি জিনিস একসঙ্গে পাওয়া যায়, তার নৈতিক অবক্ষয় ও চারিত্রিক ধ্বংস অনিবার্য।
খালেদের মাঝেও যখন এই তিনটি জিনিস একসঙ্গে জমা হলো, তখন তার ঘাড়েও শয়তান চেপে বসল। যতসব মন্দ কাজ, যতসব অন্যায়, শয়তানের প্ররোচনায় তা-ই হয়ে উঠল খালেদের কাছে মোহনীয়, শোভনীয়।
কুপ্রবৃত্তির অসুন্দর পৃথিবী খালেদকে হাতছানি দিয়ে ডাকল।
অজ্ঞ খালেদ সেই ডাকে সাড়া দিল—ব্যাকুল হয়ে, অস্থির হয়ে, বল্লাহারা হয়ে।
অসুন্দরকে সুন্দর ভেবে, কালোকে সাদা মনে করে।
ইবলিসের দেখানো পথেই বিস্ময়ভরা দৃষ্টি নিয়ে চলতে লাগল খালেদ, যেন কোনো রোমাঞ্চকর অভিযাত্রায় বেরিয়েছে সে!
একটুও থামল না, একটুও ভাবল না—কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে?
ধীরে ধীরে পাপময় জীবনের অন্ধকারে ডুবে যেতে লাগল খালেদ।
শয়তানও তাকে নষ্ট করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাল।
কিন্তু শয়তান তো আর সরাসরি আসে না!
তাই মানুষের ভেতর থেকেই তার এক শিষ্যকে নিয়োজিত করল—খালেদের ধ্বংসের জন্য।
কে ছিল সেই মানুষরূপী শয়তান?
তার নাম—যিয়াদ।
যিয়াদের কাজ ছিল অসৎ উদ্দেশ্যে মানুষের মাঝে ঘুরে বেড়ানো, উপযুক্ত শিকার খুঁজে ফেরা।
ধনীর দুলালরাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
যখনই খালেদের মতো কাউকে পেত, সে গল্পচ্ছলে ঘেঁষে বসত, ভাব জমাত, সুযোগ মতো তার সামনে পাপের রঙিন ছবি তুলে ধরত।
তারপর সারাক্ষণ লেগে থাকত, আঁঠার মতো।
তার টাকা-পয়সা শুষে নিত, স্বভাব-চরিত্র ধ্বংস করে দিত।
শেষে সব লুটে নিয়ে নতুন শিকারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ত।
এই-ই যিয়াদরূপী শয়তানদের কাজ।
এরা ছিল, আছে এবং থাকবে—কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে।
যিয়াদ প্রতিদিনই খালেদের সামনে পাপের নতুন নতুন দরজা খুলে দিচ্ছিল।
প্রথমে সে তাকে সঙ্গীত ও নাচের ভক্ত বানাল।
তারপর নিয়ে গেল যাত্রাগানের জমকালো আসরে।
এখানেই খালেদের বড় পরিবর্তন শুরু হলো।
এখানেই সে ধরল মদের বোতল, আসক্ত হলো নারী দেহের প্রতিও!
এরপর যিয়াদ খালেদকে পরিচয় করিয়ে দিল তার খারাপ প্রকৃতির, চরিত্রহীন কিছু বন্ধুর সাথে।
যারা ছিল শয়তানের বন্ধু, সাক্ষাৎ চেলা।
বিপদ আসতে লাগল একের পর এক—
১ম বিপদ—যিয়াদ
২য় বিপদ—সঙ্গীতের আসর
৩য় বিপদ—যিয়াদের নষ্ট বন্ধুরা
আর সামনে অপেক্ষা করছে—৪র্থ মহাবিপদ!
এক ধাপ এগিয়ে যিয়াদ এবার খালেদকে পরিচয় করিয়ে দিল নর্তকী ও গায়িকাদের সাথে।
তাদের ব্যবসা ছিল রমরমা, তারা ছিল প্রশিক্ষিত—লক্ষ্য ছিল মানুষকে ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত করা।
তাদের শরীরের গন্ধে আকৃষ্ট হতো মানুষ, আর চরিত্রের দুর্গন্ধে ধ্বংস হতো তার জীবন।
এদের বিষমাখা কৃত্রিম ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে খালেদের ধনাগার ফাঁকা হতে থাকল।
তার স্বাস্থ্য, চরিত্র—সবকিছু ধ্বংসের দিকে এগোতে লাগল।
এভাবেই প্রতিদিন যিয়াদ তাকে পাপের নতুন নতুন ঠিকানা দিত, আর বিনিময়ে পেত মোটা অঙ্কের অর্থ।
১০ দিরহাম চাইলে খালেদ দিত ২০!
যিয়াদের লোভও বাড়তে লাগল—আরো দ্রুত, আরো গভীরভাবে ধ্বংস করতে হবে খালেদকে।
একদিন...
এক অপূর্ব সুন্দরী রোমান কণ্ঠশিল্পীকে নিয়ে হাজির হলো যিয়াদ।
বয়স মাত্র আঠারো কিংবা উনিশ।
কিন্তু সে ছিল ইবলিসের পাঠশালার পুরোদস্তুর ছাত্রী!
দেহে ছিল সৌন্দর্য, মনে ছিল অন্ধকার!
রূপ ছিল ঝলমলে, চরিত্র ছিল পাপে ভরা।
দেহ থেকে ছড়াত সুঘ্রাণ, আর স্বভাব-চরিত্র থেকে ছড়াত পঁচা দুর্গন্ধ।
তাকে যিয়াদ নিয়ে এসেছে একটিই উদ্দেশ্যে—
খালেদকে পুরোপুরি শেষ করে দেয়ার জন্য।
Episode 3 is coming...
#ইসলামিকগল্প #বদলে_যাওয়া_জীবন #হেদায়েতেরপথে
---
#ইসলামিকগল্প #বদলে_যাওয়া_জীবন #মোরালস্টোরি
(চলবে...)
পর্ব 3 পড়তে চাইলে কমেন্টে লিখুন — “চাই পর্ব 3”
Follow করে রাখুন পেজটি, যেন মিস না হয়!