Raw to Righteous

Raw to Righteous Real stories of transformation. Inspiring Islamic tales for hearts seeking truth, light, and purpose.

27/05/2025

কবিতার নাম:-
তোমারই আলোয় হৃদয় জ্বলে
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -
আকাশ ভরা নক্ষত্র যখন
মেলে দেয় প্রেমের গান,
চাঁদের হাসি জানায় যেন
তুমি আছো—পরম দয়াময় দান।

রোদের সোনালি আঁচলে আমি
খুঁজি তোমার রহমত,
পাখির কূজনে শুনি যেন
“আল্লাহু”—বোলের কাব্যকথা।

সবুজ পাতায় জিকির উঠে
বাতাসে ধ্বনিত নাম,
“মুহাম্মদ”—প্রিয় নবী—
সলতে জ্বালাও হৃদয়-প্রেমের ধাম।

গোলাপের ঘ্রাণে পাই যে আমি
তোমার রহমতের ছোঁয়া,
প্রিয় নবীর সীরাত নিয়ে
জীবন সাজাই মধুময় মোয়া।

তুমি দিলে কুরআনের আলো
পথচলার দিশা,
নবীজির প্রেমে ডুবে থাকি
তবু তৃষ্ণা মেটে না কখনো বিষাদহীন তৃষ্ণা।

হে আল্লাহ, একান্ত চাওয়াতে
তুমিই আমার অভিলাষ,
নবীজির উম্মত হয়ে
চাই তোমার প্রেমে সর্বনাশ।

তোমার নামে জেগে উঠুক
আমার প্রতিটি নিশ্বাস,
প্রকৃতি বলে, হৃদয় বলে—
“আল্লাহ ছাড়া নেই আর ভরসা আশ্বাস।”

---

#ইসলামিককবিতা #আল্লাহরভালোবাসা #প্রিয়নবী #গোলাপ_ও_জিকির #প্রকৃতিতে_প্রেম

27/05/2025

কাছে টেনে নাও
-----------------------

দুধের মত সাদা যদি হতো এই অন্তর,
ঘ্রাণে ঘ্রাণে‌ মুগ্ধ হতাম, ভরিতাম অন্তর।

তুমি প্রিয়, আমার কাছে মহা প্রিয় জন,
তোমায় চাহি, ভালোবাসি—সারাটা জীবন।

সুখি হতাম, স্নিগ্ধ হতাম তোমার আঁচলে,
কবুল কর, ক্ষমা কর—তোমার দয়াতে।

মার তুমি, বাঁচাও তুমি—আমি যে তোমার,
তোমার তরে জীবন দিব খুশিতে বারবার।

প্রভু, তুমি ক্ষমা কর—কাছে টেনে নাও,
তোমার কুরবের স্বাদে আমায় সিক্ত করে দাও।

শায়েখ আমার, আল্লাহর ওলি—তোমার বড় দান,
তোমার দয়ায় বাড়াও তাহার মান ও সম্মান।

হতে চাই তাহার মতো—নেকট্য ওয়ালা,
নেকট্য পাইনি যারা—তারা সত্যিই সর্বহারা।

আসো প্রিয়, ভালোবাসো—করো নাও আপন,
উৎসর্গ করবো তোমার তরে—জীবন ও মরণ।

হে প্রিয় জন, হে মহাজন—তুমি দয়াবান,
তোমার দয়ায় কর আমায় একদম আপন জন।

ধরে রাখো হাতটি আমার—তোমার হাতের সাথে,
পরশে তোমার ধন্য কর, দিওয়ানা যেতে না হতে।

প্রভু, আমি তোমার হবো, তোমার হতে চাই,
ভালোবেসে তোমায় আমি বেঁচে থাকতে চাই।

---

#ইসলামিককবিতা #আল্লাহরদয়া #প্রভুরনৈকট্য #ভালোবাসা_প্রভুকে

27/05/2025
26/05/2025

#দ্বীন_ইসলাম

#ঐক্যের_বার্তা #বিভেদ_নয়_ঐক্য

১০০টি কালো পিঁপড়া আর ১০০টি লাল পিঁপড়া একসাথে একটি বয়ামে ছিল—শান্তিতে।কোনো ঝামেলা ছিল না।কিন্তু কেউ যখন বয়ামটি ঝাঁকিয়ে দি...
26/05/2025

১০০টি কালো পিঁপড়া আর ১০০টি লাল পিঁপড়া একসাথে একটি বয়ামে ছিল—শান্তিতে।
কোনো ঝামেলা ছিল না।

কিন্তু কেউ যখন বয়ামটি ঝাঁকিয়ে দিল, তখনই শুরু হলো যুদ্ধ!
লাল পিঁপড়ারা ভাবলো কালো পিঁপড়ারাই শত্রু।
আর কালো পিঁপড়ারা ভাবলো লালরাই তাদের শত্রু।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, শত্রু ছিল না কেউই।
আসল শত্রু ছিল সেই ব্যক্তি—যে বয়ামটি ঝাঁকিয়ে দিল!

আজ আমাদের সমাজেও এই চিত্র বারবার ফিরে আসে।
মুসলমান মুসলমানকে শত্রু ভাবছে, মাজহাব নিয়ে বিভেদ, মত নিয়ে বিদ্বেষ।
কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি—এই "বয়াম" কে ঝাঁকিয়ে দিচ্ছে?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
“তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পরে বিভেদ সৃষ্টি করো না।”
— (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩)

তাই, কোনো দলাদলি বা ঝগড়ার আগে একবার চিন্তা করুন—
আমরা কি নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি, কারো উস্কানিতে?
আমরা কি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ভেঙে ফেলার হাতিয়ার হয়ে যাচ্ছি?

শত্রুকে খুঁজুন, ভাইকে নয়।
ঐক্যের পথে চলুন, বিভেদের ফাঁদে নয়।






#দ্বীন_ইসলাম
#ইসলামী_প্রেরণা
#ঐক্যের_বার্তা








#বিভেদ_নয়_ঐক্য
#দ্বন্দ্ব_নয়_ভ্রাতৃত্ব

#দ্বীন_ইসলাম

পোস্ট পড়ে কেমন লাগলো?
আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না!


#ঐক্যের_বার্তা

25/05/2025

ইসলামিক গল্প সিরিজ: বদলে যাওয়া জীবন |

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বদলে যাওয়া জীবন
(পর্ব 2)
যার মধ্যে যৌবন, সম্পদ ও অখণ্ড অবসর—এই তিনটি জিনিস একসঙ্গে পাওয়া যায়, তার নৈতিক অবক্ষয় ও চারিত্রিক ধ্বংস অনিবার্য।

খালেদের মাঝেও যখন এই তিনটি জিনিস একসঙ্গে জমা হলো, তখন তার ঘাড়েও শয়তান চেপে বসল। যতসব মন্দ কাজ, যতসব অন্যায়, শয়তানের প্ররোচনায় তা-ই হয়ে উঠল খালেদের কাছে মোহনীয়, শোভনীয়।
কুপ্রবৃত্তির অসুন্দর পৃথিবী খালেদকে হাতছানি দিয়ে ডাকল।
অজ্ঞ খালেদ সেই ডাকে সাড়া দিল—ব্যাকুল হয়ে, অস্থির হয়ে, বল্লাহারা হয়ে।
অসুন্দরকে সুন্দর ভেবে, কালোকে সাদা মনে করে।
ইবলিসের দেখানো পথেই বিস্ময়ভরা দৃষ্টি নিয়ে চলতে লাগল খালেদ, যেন কোনো রোমাঞ্চকর অভিযাত্রায় বেরিয়েছে সে!
একটুও থামল না, একটুও ভাবল না—কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে?

ধীরে ধীরে পাপময় জীবনের অন্ধকারে ডুবে যেতে লাগল খালেদ।
শয়তানও তাকে নষ্ট করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাল।
কিন্তু শয়তান তো আর সরাসরি আসে না!
তাই মানুষের ভেতর থেকেই তার এক শিষ্যকে নিয়োজিত করল—খালেদের ধ্বংসের জন্য।

কে ছিল সেই মানুষরূপী শয়তান?
তার নাম—যিয়াদ।

যিয়াদের কাজ ছিল অসৎ উদ্দেশ্যে মানুষের মাঝে ঘুরে বেড়ানো, উপযুক্ত শিকার খুঁজে ফেরা।
ধনীর দুলালরাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
যখনই খালেদের মতো কাউকে পেত, সে গল্পচ্ছলে ঘেঁষে বসত, ভাব জমাত, সুযোগ মতো তার সামনে পাপের রঙিন ছবি তুলে ধরত।
তারপর সারাক্ষণ লেগে থাকত, আঁঠার মতো।
তার টাকা-পয়সা শুষে নিত, স্বভাব-চরিত্র ধ্বংস করে দিত।
শেষে সব লুটে নিয়ে নতুন শিকারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ত।

এই-ই যিয়াদরূপী শয়তানদের কাজ।
এরা ছিল, আছে এবং থাকবে—কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে।

যিয়াদ প্রতিদিনই খালেদের সামনে পাপের নতুন নতুন দরজা খুলে দিচ্ছিল।
প্রথমে সে তাকে সঙ্গীত ও নাচের ভক্ত বানাল।
তারপর নিয়ে গেল যাত্রাগানের জমকালো আসরে।
এখানেই খালেদের বড় পরিবর্তন শুরু হলো।
এখানেই সে ধরল মদের বোতল, আসক্ত হলো নারী দেহের প্রতিও!

এরপর যিয়াদ খালেদকে পরিচয় করিয়ে দিল তার খারাপ প্রকৃতির, চরিত্রহীন কিছু বন্ধুর সাথে।
যারা ছিল শয়তানের বন্ধু, সাক্ষাৎ চেলা।
বিপদ আসতে লাগল একের পর এক—

১ম বিপদ—যিয়াদ
২য় বিপদ—সঙ্গীতের আসর
৩য় বিপদ—যিয়াদের নষ্ট বন্ধুরা
আর সামনে অপেক্ষা করছে—৪র্থ মহাবিপদ!

এক ধাপ এগিয়ে যিয়াদ এবার খালেদকে পরিচয় করিয়ে দিল নর্তকী ও গায়িকাদের সাথে।
তাদের ব্যবসা ছিল রমরমা, তারা ছিল প্রশিক্ষিত—লক্ষ্য ছিল মানুষকে ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত করা।
তাদের শরীরের গন্ধে আকৃষ্ট হতো মানুষ, আর চরিত্রের দুর্গন্ধে ধ্বংস হতো তার জীবন।

এদের বিষমাখা কৃত্রিম ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে খালেদের ধনাগার ফাঁকা হতে থাকল।
তার স্বাস্থ্য, চরিত্র—সবকিছু ধ্বংসের দিকে এগোতে লাগল।

এভাবেই প্রতিদিন যিয়াদ তাকে পাপের নতুন নতুন ঠিকানা দিত, আর বিনিময়ে পেত মোটা অঙ্কের অর্থ।
১০ দিরহাম চাইলে খালেদ দিত ২০!
যিয়াদের লোভও বাড়তে লাগল—আরো দ্রুত, আরো গভীরভাবে ধ্বংস করতে হবে খালেদকে।

একদিন...
এক অপূর্ব সুন্দরী রোমান কণ্ঠশিল্পীকে নিয়ে হাজির হলো যিয়াদ।
বয়স মাত্র আঠারো কিংবা উনিশ।
কিন্তু সে ছিল ইবলিসের পাঠশালার পুরোদস্তুর ছাত্রী!
দেহে ছিল সৌন্দর্য, মনে ছিল অন্ধকার!
রূপ ছিল ঝলমলে, চরিত্র ছিল পাপে ভরা।
দেহ থেকে ছড়াত সুঘ্রাণ, আর স্বভাব-চরিত্র থেকে ছড়াত পঁচা দুর্গন্ধ।

তাকে যিয়াদ নিয়ে এসেছে একটিই উদ্দেশ্যে—
খালেদকে পুরোপুরি শেষ করে দেয়ার জন্য।
Episode 3 is coming...







#ইসলামিকগল্প #বদলে_যাওয়া_জীবন #হেদায়েতেরপথে
---
#ইসলামিকগল্প #বদলে_যাওয়া_জীবন #মোরালস্টোরি

(চলবে...)
পর্ব 3 পড়তে চাইলে কমেন্টে লিখুন — “চাই পর্ব 3”
Follow করে রাখুন পেজটি, যেন মিস না হয়!

24/05/2025

ইসলামিক গল্প সিরিজ: বদলে যাওয়া জীবন | পর্ব ১

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বদলে যাওয়া জীবন

(পর্ব ১)

আব্দুল্লাহ আল কাতিব। আব্বাসীয় খলীফা মুক্তাদিরের মন্ত্রীসভার এক প্রভাবশালী সদস্য। সেই সাথে খলীফার খুব প্রিয়ভাজন ব্যক্তি। খলীফা সবসময় তাকে কাছে কাছে রাখেন। ছোট-বড় সব পরামর্শে শরীক করেন এবং সময়ে সময়ে উপহার হিসেবে প্রেরণ করেন মহামূল্যবান দ্রব্য-সামগ্রী। খলীফার উপহার- সে তো আর যেন তেন উপহার নয়! যে ব্যক্তি তা পায় তার ভাগ্য খুলে যায়। আব্দুল্লাহ আল কাতিবের ভাগ্যও খুলে গেল। তিনি অল্পদিনের মধ্যেই হয়ে গেলেন বাগদাদের সেরা সম্পদশালী!

মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-কাতিব এখন প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী। বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক। তার ধনভাণ্ডার এখন সোনা-রূপা ও হীরা-জহরতে পরিপূর্ণ। (মন্ত্রী ভাবতে থাকেন- এসব ধন-সম্পদ ও বিত্ত-বৈভব কী কাজে লাগানো যায়!

মন্ত্রীর ভাবনা এক সময় শেষ হলো)। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন- দজলার কোল ঘেঁষে একটি দৃষ্টিনন্দন অনুপম প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। যা দেখে যে কোনো দর্শক বিমোহিত হবে। বিমুগ্ধ হবে। অপরিসীম বিস্ময় নিয়ে প্রাসাদ পানে অপলকনেত্রে তাকিয়ে থাকবে। আর মনের অজান্তেই বলে ফেলবে- কী অপূর্ব এই প্রাসাদ। কতো মনোরম তার ভিতর-বাহির-আঙিনা ও আশপাশ!! কত মনোমুগ্ধকর তার রূপজৌলস!!

সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মন্ত্রী কালক্ষেপণ করলেন না। তিনি ডেকে পাঠালেন রাজ্যের বড় বড় দক্ষ ও সেরা নির্মাণ শিল্পীদের; যারা ইতোমধ্যে নিখুঁত নির্মাণশৈলীর কারণে প্রভূত সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

(মন্ত্রীর আহবানে শত শত রাজমিস্ত্রী জড়ো হয়। জোগাড় করা হয় যাবতীয় নির্মাণ-আয়োজন। তারপর একদিন শুরু হয় অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে প্রাসাদ নির্মাণের কাজ। দু'হাতে টাকা ঢাললেন মন্ত্রী। নির্মাণশিল্পীদের মাথা ঘামানো শ্রমে দেখতে দেখতেই একদিন তৈরী হয়ে যায় স্বপ্নের প্রাসাদ। যার উপর শোভা পায় সুদৃশ্য উঁচু গম্বুজ। ভবনের অভ্যন্তর সাজানো হয় কারুকার্যময় সুপরিসর কামরায়। যেনো আলোকসজ্জায় সজ্জিত এক স্বপ্নপুরী।)

(ভবনগুলোর ঠিক মাঝ-আঙ্গিনায় স্থাপন করা হয় নজরকাড়া একটা হাউজ। সেখানে সাঁতরে বেড়াচ্ছে রঙ-বেরঙের ছোট-বড় মাছ। হাউজ নির্মাণে ব্যবহার করা হয় দামী দামী সাদা-কাল-নীলাভপাথর। হাউজের চারপাশে তৈরী করা হয়েছে- ফুলে ফুলে সুশোভিত, ঘ্রাণে ঘ্রাণে সুরভিত ছায়া সুনিবিড় দৃষ্টিকাড়া এক কুসুম কানন। এ ছাড়া উদ্যানের শেষ প্রান্তে দজলার তীরে বসানো হয়েছে সারি সারি আসন ও বেঞ্চি। তার একটু দূরেই তৈরী হয়েছে একটি ছোট্ট চিড়িয়াখানা। সেখানে রাখা হয়েছে দেশ-বিদেশের দুষ্প্রাপ্য ও অদ্ভুত সব পশু-পাখি। এমনি আরো নানা সৌন্দর্য-উপকরণ দিয়ে সদ্য নির্মিত মন্ত্রীর এ রাজপুরীটি যেনো দজলার তীরে দাঁড়িয়ে হাসছিল আর স্বীয় শোভা-সৌন্দর্য ও চোখ-ধাঁধানো রূপ চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়ে দর্শকদেরকে বলছিল- দেখো, চেয়ে দেখো আমি কত সুন্দর!!!

প্রাসাদ নির্মাণের কাজ শেষ হলো। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই মন্ত্রীর সুন্দরী-রূপসী স্ত্রী খালেদ নামের এক পুত্রসন্তান রেখে হঠাৎ দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন। মন্ত্রী ভীষণ ভালবাসতেন স্ত্রীকে। তাই স্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে তিনি যারপর নাই মর্মাহত হলেন। অত্যন্ত কষ্ট পেলেন। সেই সঙ্গে তার প্রাসাদে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া।

মন্ত্রী এখন নিঃসঙ্গ। একমাত্র ছেলে খালেদ ছাড়া কেউ নেই তাঁর। ছেলে খালেদই এখন তাঁর স্নেহ-মমতা ও ভালবাসার কেন্দ্রবিন্দু। ছেলের জন্যে দ্বিতীয় বিবাহের চিন্তা পর্যন্ত তিনি করলেন না। তিনি সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। তার যে কোনো আবদার যে কোনো মূল্যে পূরণ করার চেষ্টা করেন। এমন কখনোই হয়নি যে, ছেলে কোনো আবদার করেছে, আর তিনি বলেছেন- এখন নয়, পরে দেব।

এভাবেই চলে যাচ্ছিল ছোট্ট খালেদের সোনালী দিনগুলো। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, সন্তানের প্রতি পিতার এই মাত্রাতিরিক্ত মমতা ও অপরিসীম স্নেহ আপন কর্তব্য পালনে বড় বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল।

মন্ত্রী মহোদয় সীমাতিরিক্ত ভালোবাসা ও অত্যধিক স্নেহের কারণে খালেদকে কোনো শাসন করতেন না। তিনি পুত্র-স্নেহের ব্যাপারে এতটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন যে, তাঁর স্বাভাবিক বুদ্ধি-বিবেচনা পর্যন্ত ঠিকমত কাজ করছিল না। ছেলেকে পাঠশালায় পাঠানোও যে ভালবাসারই অংশ; সেই সাথে পিতা-মাতার কর্তব্য ও বটে- তাও তিনি সময় মতো বুঝলেন না। এমনকি ছেলের জন্যে বাড়িতেও তিনি পড়াশুনার কোনো ব্যবস্থা করলেন না। বরং অবিবেচকের মতো ছেলের সামনে ধন-সম্পদের ভাণ্ডার খুলে দিলেন। বললেন- প্রিয়পুত্র খালেদ! এ বিশাল ধন-ঐশ্চর্য ও অঢেল সম্পত্তির তুমিই মালিক। আমার কাছে তুমি যখন যা চাইবে, তাই পাবে। তোমার কোনো চাহিদাই আমি অপূর্ণ রাখব না। মোটকথা, একজন আদর্শ পিতার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হলেন তিনি। ফলে পরম আদরে লালিত খালেদ ভীষণ আহলাদী ও অত্যধিক বেপরোয়া হয়ে উঠে। তার বিদ্যা লাভের মানসিকতা এবং ইলম হাসিলের পিপাসা একদম ঢাকা পড়ে যায় অস্বাভাবিক পিতৃ-স্নেহ ও অঢেল ধন-সম্পদের নীচে। তাই পূর্ণ যৌবনে পৌঁছেও খালেদ প্রায় গণ্ডমূর্খই থেকে যায়। আর জ্ঞান-বুদ্ধি না থাকায় এই অঢেল ধন-সম্পদই তার জন্যে কাল হয়ে দাঁড়ায়। সীমাহীন প্রাচুর্যের ভিতরে দাঁড়িয়ে সে ব্যর্থ হয় সত্য ও মিথ্যার এবং ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য করতে। নিরক্ষর, মূর্খ ও ধনী খালেদের জন্যে তাই সামনে অপেক্ষা করছিল- 'এক অনিশ্চিত অন্ধকার ভবিষ্যত'!!

কিছুদিন হলো খালেদের বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন চিরদিনের জন্য। ছেলের জন্যে রেখে গেছেন অঢেল সম্পদ আর রাজকীয় এ-প্রাসাদ। খালেদ এখন পূর্ণ যুবক! তার হাতের নাগালে এখন প্রচুর ধন-সম্পদ এবং অখণ্ড অবসর। ইতিহাস বড়ো অকপটে যে নিষ্ঠুর সাক্ষ্যটা...

#ইসলামিকগল্প #বদলে_যাওয়া_জীবন #হেদায়েতেরপথে
---
#ইসলামিকগল্প #বদলে_যাওয়া_জীবন #মোরালস্টোরি

(চলবে...)
পর্ব ২ পড়তে চাইলে কমেন্টে লিখুন — “চাই পর্ব ২”
Follow করে রাখুন পেজটি, যেন মিস না হয়!

Address

Bhairab
Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Raw to Righteous posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share