26/09/2025
অনুলিপি :
একটা মেয়ে ছিলো। ভীষণ চঞ্চল, মুখে ছিলো সারাক্ষণ হাসি। সারাদিন বকবক,হি হি হা হা,বাদরের মত লাফানো ছিলো তার কাজ। শাড়ি, চুড়ি ছিলো তার ভীষণ পছন্দ। বাসা থেকে বের হলেই তার ২ হাত ভর্তি চুড়ি তো থাকতোই। এটা মানুষ কে দেখানোর জন্য না৷ তার নিজের ভালোলাগার জন্য চুড়ি পরতো।
শাড়ি চুড়ির প্রতি তার এতটায় অবশেসন ছিলো যে মাঝে মাঝে শাড়ি চুড়ি পরেই ঘুমিয়ে যেতো। মেয়েটা মনে মনে ভাবতো বিয়ের পর সারাক্ষণ শাড়ি চুড়ি পরে থাকবে। একেক দিন একেক শাড়ি পরে জামাই কে surprise দিবে। মনে মনে কল্পনা করে আনমনে লজ্জার হাসি দিতো। মেয়েটা তার হবু বর কে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতো। কল্পনা করতো তার বর তাকে পাগলের মত ভালোবাসবে,যত্ন করবে, pamper করবে তাকে সব কিছু থেকে আগলিয়ে রাখবে।
তার সুন্দর ভালোবাসায় ভরপুর একটা সংসার হবে যেখানে রাগ থাকবে অভিমান থাকবে কিন্তুু ভালোবাসা থাকবে সব চেয়ে বেশি। সবাই দেখে বলবে দেখ ও কত সুখে আছে।এগুলো চিন্তা করতো আর কল্পনার আকাশে উড়তো।
একদিন সেই মেয়েটার বিয়ে হলো। বিয়ের পরে দেখলো চুড়ি পরা তার জামাই এর পছন্দ না। চুড়ির রিনঝিন শব্দ তার জামাই এর পছন্দ না। চুড়ি পরলে তার জামাই বলে এগুলো বস্তির মেয়েরা পরে।
এই কথা গুলো শুনে মেয়েটার মন কাচের ভাঙা চুড়ির মতই হাজার টুকরা হলো। মেয়ে টা মাঝে মাঝে রাতে শাড়ি পরতো তার জামাই কে surprise দেয়ার জন্য। মেয়েটার জামাই এর শাড়ি পরা দেখেও কোনো reaction হতো না। মেয়ের দিকে তাকাতোই না। এক দিন গেলো, দুইদিন গেলো, তিন দিন গেলো সেইম reaction... মেয়েটা মনে মনে ভাবতো আজ শাড়ি পরলে আর ৫-১০ টা জামাই এর মত বলবে ওয়াও তোমাকে তো সেই সুন্দর লাগতেছে পুরা চাঁদের মত। মেয়েটা আশা করতো যে আজ হয়তো সে আমাকে অনেক প্রশংসা করবে।
কিন্তুু না সেই দিন মেয়েটার জীবনে আসে নাই। আস্তে আস্তে মেয়ে টা শাড়ি চুড়ি পরা বাদ দিতে থাকলো। এখন আর আগের মত মেয়েটার শাড়ি, চু্ড়ি এত ভালো লাগে না। ওদের দিকে তাকালে মেয়েটার মনে একটা চাপা কষ্ট হয়। তীব্র খুব তীব্র