27/07/2026
ঠকাতে আমি শিখিনি, সত্য ও মানবিকতার পথেই চলতে শিখেছি
ঠকাতে আমি শিখিনি। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আমি সততা, মানবিকতা এবং বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে চলার চেষ্টা করেছি। আমি কখনো কারও অধিকার হরণ করতে চাইনি, কারও বিশ্বাস ভাঙতে চাইনি কিংবা নিজের স্বার্থে কাউকে প্রতারণা করিনি। কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মানুষকে ঠকিয়ে হয়তো সাময়িক কিছু লাভ করা যায়, কিন্তু সম্মান, আত্মমর্যাদা ও অন্তরের শান্তি কখনো অর্জন করা যায় না।
জীবনে যতটুকু পেরেছি, মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেছি। কারও দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, কারও মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে পেরেছি—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার কাছে ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিনিময়ে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা করিনি, কারণ নিঃস্বার্থ সাহায্যই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয় বহন করে।
পৃথিবীতে ভালো মানুষের মূল্য সব সময় সবাই দেয় না। কেউ ভুল বোঝে, কেউ অবহেলা করে, আবার কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তবুও আমি আমার নীতি থেকে কখনো সরে আসিনি। কারণ আমি জানি, অন্যায়ের ওপর কখনো স্থায়ী কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয় না। অন্যের ক্ষতি করে নিজের মঙ্গল অর্জন করা যায় না।
আমরা সবাই এই পৃথিবীতে অল্প সময়ের অতিথি। একদিন আমাদের সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি—সবকিছু এখানেই থেকে যাবে। আমাদের সঙ্গে যাবে শুধু আমাদের আমল, আমাদের কাজ এবং আমাদের চরিত্র। তাই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতার মধ্যেই নিহিত।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা সবকিছু দেখেন এবং জানেন। মানুষের প্রতিটি কথা, কাজ ও উদ্দেশ্যের হিসাব সংরক্ষিত হচ্ছে। কুরআনে বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, একদিন প্রত্যেক মানুষকে তার কর্মের জবাবদিহি করতে হবে। সেই দিন কোনো অন্যায়, প্রতারণা বা জুলুম গোপন থাকবে না। ন্যায়বিচার সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রত্যেকে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান লাভ করবে।
কুরআন বিশ্বাসীদের সত্য, ন্যায় ও সৎকর্মের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানায় এবং মানুষকে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও জবাবদিহিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো সত্যকে আঁকড়ে ধরা, অন্যায় থেকে দূরে থাকা এবং মানুষের হক নষ্ট না করা। আল্লাহ তাআলার বিচার অবশ্যই হবে—এ বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক আকীদার অংশ। একজন মুসলিমের জন্য এই বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের পৃথিবীতে অনেক সময় মিথ্যা, প্রতারণা ও অন্যায়কে সাময়িকভাবে সফল মনে হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, সত্য শেষ পর্যন্ত মাথা উঁচু করেই দাঁড়ায়। আল্লাহ তাআলা মানুষকে নানা নিদর্শন, শিক্ষা ও সুযোগ দেন, যাতে তারা সত্য উপলব্ধি করতে পারে এবং সঠিক পথে ফিরে আসে। তাই আমাদের উচিত অহংকার নয়, আত্মসমালোচনা করা; প্রতারণা নয়, সততাকে বেছে নেওয়া; ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।
আমার জীবনের শিক্ষা একটাই—সত্যের পথে চলা কখনো সহজ নয়, কিন্তু এ পথই সবচেয়ে সম্মানজনক। আমি গর্ব করে বলতে চাই, কাউকে ঠকিয়ে নয়, মানুষের উপকার করে, সততার সঙ্গে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেই জীবন কাটাতে চাই। কারণ আমি বিশ্বাস করি, দুনিয়ার বিচার এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও, আল্লাহর ন্যায়বিচার থেকে কেউ রক্ষা পাবে না। তাই আসুন, আমরা সবাই সত্য, ন্যায়, সততা ও মানবিকতার পথে চলি এবং এমন জীবন গড়ি, যা দুনিয়াতেও সম্মানের এবং আখিরাতেও কল্যাণের কারণ হয়।