15/07/2026
ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে হারিয়ে যাওয়া রাজনীতি: মিঠাপুকুরে ভাইরাল এক ভিডিওর গল্প
রাজনীতি মানুষের আস্থা, নেতৃত্ব মানুষের ভরসা। কিন্তু যখন সেই নেতৃত্বের হাতেই ধরা পড়ে নেশার আগুন, তখন শুধু একটি ব্যক্তি নয়—প্রশ্নবিদ্ধ হয় একটি সমাজ, একটি আদর্শ, একটি প্রজন্মের সামনে দাঁড় করানো স্বপ্ন।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নে ঠিক এমনই এক ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান কথিতভাবে ইয়াবা সেবন করছেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের আড্ডা—সবখানেই একটাই প্রশ্ন, “যারা সমাজকে পথ দেখাবে, তারা যদি নিজেরাই অন্ধকারের পথে হাঁটে, তবে সমাজ যাবে কোন পথে?”
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এটি যেন বজ্রপাতের মতো কোনো নতুন ঘটনা নয়; বরং বহুদিন ধরে জমে থাকা কালো মেঘেরই বিদ্যুৎ চমক। এর আগেও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদে মাদকের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এমনকি মাদকবিরোধী আন্দোলনের এক নেতাকে “রক্ত দিয়ে গোসল করানোর” হুমকি দিয়ে তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ধুলো মাটিতে মিশে যাওয়ার আগেই এবার সামনে এলো আরও গুরুতর এক দৃশ্য—ক্যামেরাবন্দী এক নেশার আসর।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত নেতার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। আর এদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যেন বর্ষার নদীর স্রোতের মতো দ্রুত বেড়েই চলেছে।
লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ভিডিওটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিষয়টি উপজেলা নেতৃত্বকে অবহিত করেছেন। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির নেতারা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় কেবল একটি দলের পরিচয়পত্রে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি সমাজের কাছে একটি বার্তা, তরুণদের কাছে একটি প্রতিচ্ছবি। তাই সেই প্রতিচ্ছবি যদি মাদকের ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে যায়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একজন নেতা নন—ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমাজের নৈতিক ভিত্তিও।