Qasdus Sabil

Qasdus Sabil সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিরাম

হযরত পাহাড়পুরী রহ: আমলে ও আখলাকে বিরল ব্যক্তিত্বমাওলানা আশরাফুজ্জামান পাহাড়পুরীআমার শ্রদ্ধাভাজন আব্বাজান হযরত মাওলানা আব...
29/08/2026

হযরত পাহাড়পুরী রহ: আমলে ও আখলাকে বিরল ব্যক্তিত্ব
মাওলানা আশরাফুজ্জামান পাহাড়পুরী

আমার শ্রদ্ধাভাজন আব্বাজান হযরত মাওলানা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আমল ও আখলাকের এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। ৬৮ বছরের জীবনের পথ চলায় ত্যাগ ও মুজাহাদার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গিয়েছেন জীবন পথের পাথেয় লাভের ক্ষেত্রে, এটা আমাদের জন্য এক অসাধারণ নমুনা।
বুযূর্গ নানার সান্নিধ্যে দুরন্ত শৈশব
একেবারে শৈশবে আপন নানাজান কুমিল্লার ধামতির পীর সাহেব হযরত মাওলানা আজিম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি এর তত্ত্বাবধানে যে মুজাহদার সূচনা, মায়ের স্নেহের বন্ধন থেকে আলাদা হয়ে নানাজানের আমল ও ইবাদত দেখে দেখে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। শৈশবের সেই সোনালী দিনগুলোতে বুযূর্গ নানাজানের তত্ত্বাবধান, তাঁর আমল আখলাক ও মুজাহাদার দৃশ্যগুলো আব্বাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কচি মনে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করেছিল। একজন শিশুর শৈশব জীবনের স্বাভাবিক দুরন্তপনা, খেলাধুলা ইত্যাদি কাজে অনেক সময় শিশুমনে অন্যায় ও গোনাহের কাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পথ তৈরি হয়ে যায়, যা পরবর্তী জীবনে অভ্যস্ততায় পরিণত হয়। হযরত আব্বাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি জীবন সফরের সেই শৈশবেই গোনাহমুক্ত আদর্শের দীক্ষা নিয়ে গড়ে উঠেছেন।
উস্তাযগণের চোখের মণি
পাহাড়পুর মাদরাসায় যখন পড়াশোনা করতেন তখন ওস্তাদদের চোখের মনি হয়ে তাঁদের ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। ‘বড় হুজুরের সন্তান তিনি’- আচরণ, উচ্চারণে তার লেশমাত্র প্রকাশ পেত না। বরং বিনয়, নম্রতা ও মুজাহাদার এমন উদাহরণ তিনি ছিলেন যে, অন্যরা তার থেকে শিক্ষা গ্রহণের পাথেয় লাভ করত। লেখাপড়ায়, ওস্তাদের খেদমতেও উত্তম আমলে আব্বাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন সবার চেয়ে অগ্রগামী।
শৈশবেই গভীর অধ্যাবসায়
পড়াশোনায় এমন মনোযোগী ছিলেন যে অধিকাংশ সময় আসরের পর পল্লী গ্রামের দূরবর্তী কোন মসজিদে কিতাব নিয়ে চলে যেতেন। ফিরতে ফিরতে গভীর রাত হয়ে যেত। কখনো এমন হতো যে, দাদাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সন্তানের খোঁজে বের হয়ে যেতেন। লক্ষ্য করতেন যে পড়াশুনা করতে করতে আদরের সন্তানটি ঘুমিয়ে পড়েছে। কখনো লক্ষ করতেন, অসুস্থতায় কলিজার টুকরা সন্তানটি অচেতন হয়ে আছে।
হাফেজ্জী হুযুরের সান্নিধ্যে ‘নতুন জীবন’
এভাবেই পাহাড়পুর মাদরাসার পড়াশোনা শেষ করে চলে আসেন হযরত হাফিজ্জী হুজুর রহমতুল্লাহি আলাইহির সান্নিধ্যের ভালোবাসায় জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগে। লালবাগ জামেয়ায় এসে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির তত্ত্বাবধান ও মহান আসাতেযায়ে কেরামের সাহচর্যে আব্বাজানের জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়।
মেশকাত ও দাওরায়ে হাদীস এ দু’বছরের প্রতিটি মুহূর্তই যেন ছিল ইলম, আমল ও আখলাকের সর্বোচ্চ মহিমা লাভের সোনালী সময়! হযরত হাফিজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির যেই দ্বীনি মজলিসগুলো লালবাগ শাহী মসজিদে অনুষ্ঠিত হতো। প্রতিটি মজলিসে উপস্থিত থেকে হযরত রহ. এর আধ্যাত্মিক নিসবত ও ভালোবাসা লাভ করেন। আব্বাজান বলেন, কোনো মজলিসে আমি অনুপস্থিত থাকলে হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাইহি গুরুত্বের সাথে আমার খোঁজখবর নিতেন।
লালবাগ জামেয়ার তৎকালীন সময়ের মহান মহান আসাতেযায়ে কেরাম: হযরত মুহাদ্দিস সাহেব হুযুর, মুফতী আব্দুল মুইয, শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহিমাহুমুল্লাহসহ সকল উস্তাদের প্রিয়পাত্র ছিলেন আব্বাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।
পরবর্তী জীবনে নূরিয়া মাদরাসার শিক্ষকতা এবং হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহমতুল্লাহি আলাইহির কাছে নিজেকে সমর্পণ করার যে ইতিহাস রয়েছে, তার কিছু অংশ আব্বাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজের বর্ণনায় আমরা পেয়েছি ‘হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাইহি ও আমার আব্বাজান’- এই গ্রন্থে। আশা করি পাঠকগণ এই কিতাবটি সংগ্রহ করবেন এবং হযরত পাহাড়পুর রহ. এর মাঝে আপন বাবা ও শায়খের প্রতি কেমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল তার এক সুন্দর নমুনা পেয়ে যাবেন।
বড় সন্তান হিসেবে শৈশব থেকে আব্বাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহিকে যেমন দেখেছি
আমি যখন একেবারেই ছোট তখন থেকেই আব্বাজান রাহমাতুল্লাহ আলাইহি যেখানে যেতেন সাধারণত আমাকে সাথে নিয়ে যেতেন। পথ চলতে চলতেই আব্বাজান থেকে আমি অনেক জ্ঞান ও ইলমের পাথেয় লাভ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ। গাড়িতে যখন আব্বার কোলে কিংবা পাশে বসতাম তখন পথের পাশে যা কিছু চোখে পড়তো খুটিয়ে খুঁটিয়ে সেটা আমাকে চিনিয়ে দিতেন এবং প্রাসঙ্গিক শিক্ষামূলক কোনো বিষয় থাকলে সেটাও বলে দিতেন। বলতেন এই যে দেখ কত সুন্দর মসজিদ, এই মসজিদের নাম বাইতুল মোকাররম, এটা হল জাতীয় মসজিদ। এভাবে ছোট ছোট করে ইতিহাস বলতেন।
আব্বাজানের সাথে যখন পাহাড়পুর যেতাম এবং রাস্তার দুপাশের সুন্দর সুন্দর দৃশ্যগুলোর দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতাম, আব্বাজান তখন আমার অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচন করার চেষ্টা করতেন। বাহ্যিক দৃশ্যের মাঝে অন্তর্নিহিত কী কী শিক্ষা থাকতে পারে কচি হৃদয়ে সেটা গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। সুবেদারঘাট জামে মসজিদ আলু বাজার মাদরাসায় এবং পশ্চিমগাঁও ডেমরা মাদরাসায় শৈশবে আব্বার সাথে অনেকবার গিয়েছি। এই আসা-যাওয়ার মাঝে বড়দের বহু কথা শুনেছি, তাঁদের আমল ও আখলাকের অনেক নিদর্শন আব্বাজানের সান্নিধ্যে এই শৈশবেই দেখেছি আলহামদুলিল্লাহ।
ছোট্ট একটি ঘটনা
আব্বাজান রহমাতুল্লাহি আলাইহি লন্ডন সফর থেকে ফিরে এসেছেন। আমাকে নিয়ে পাহাড়পুর যাচ্ছেন। দাদা ও দাদীর জন্য অনেক কিছু সাথে নিয়েছেন। আমি গাড়িতে বসে আছি দাউদকান্দি ফেরিতে। আব্বাজান এবং আব্বার সফরসাথী শ্রদ্ধাভাজন মাওলানা ওয়াহিদুল হক (আমাদের প্রিয় ওহিদ ভাই, আব্বাজানের জীবনে এই মহান মানুষটির অনেক বড় অবদান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের শ্রদ্ধাভাজন এই মানুষটিকে সুস্থতার সাথে হায়াতে তাইয়েবা দান করেন। আমিন।) নামাযের জন্য নামলেন। একপর্যায়ে ফেরি দাউদকান্দি ঘাটে পৌঁছে গেল এবং তাঁদেরকে না নিয়েই বাস ছেড়ে দিল। আমার তো তখন কান্নার অবস্থা। পিছনে তাকিয়ে দেখি আব্বাজান ও মাওলানা ওহিদুল হক ভাই ছুটে আসার চেষ্টা করছেন। ইশারা করছেন গাড়ি যেন থামে। আমিও চিৎকার করছি। কিন্তু আমাদের গাড়ি কোনভাবেই থামছিল না। মহৎহৃদয় এক ট্রাকচালকের বদান্যতায় কিছুক্ষণ পর যখন তাঁরা ফিরে এলেন, আমার মনের অবস্থা তখন কেমন ছিল বলাই বাহুল্য! কঠিন এই মুহূর্তেও আমি তখন আব্বাজাজানকে মেজাজ হারাতে দেখিনি। বরং আখলাক ও আদর্শের উত্তম নমুনাই লক্ষ করেছিলাম। আমার শিশুমনে সেটা অনেক বড় দাগ কেটেছিল। এ দৃশ্য থেকে আমি তখন শিক্ষা পেয়েছিলাম মানুষের লোভ লালসার তাড়না কেমন হতে পারে?
মাদরাসায়ে নূরিয়ার (বর্তমান জামিয়া নুরিয়া) নাজেমে তালিমাতের দায়িত্ব
আব্বাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি নিষ্ঠা ও ভালোবাসার সবটুকু নিংড়ে দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর নুরিয়া মাদরাসায় এক ভারি জিম্মাদারী পালন করে গিয়েছেন। বড় প্রতিষ্ঠানের এটা এমন এক জিম্মাদারী যা পালন করার ক্ষেত্রে সবার মনোতুষ্টি অর্জন করা একেবারে অসম্ভব। কিন্তু আব্বাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর অনুপম আখলাক ও আদর্শের নমুনা পেশ করে এত সুন্দরভাবে এ দায়িত্ব পালন করেছিলেন, আমার মনে হয় বাংলাদেশের কওমি অঙ্গনে এটা গবেষণার বিষয় হতে পারে।
তৎকালীন সময়ের মাদরাসায়ে নূরিয়ার প্রধান মুফতী হযরত মাওলানা শামসুল হক সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহির কাছে একবার আমি জানতে চেয়েছিলাম, বয়সে বড় হয়ে আপনারা আপনাদের চেয়ে বয়সে ছোট আব্বাজানের সিদ্ধান্তগুলো মেনে নিতে কি কষ্ট হতো না?
আমার এই প্রশ্নের উত্তরে হযরত মুফতি সাহেব অবাক বিস্ময়ে বলেছিলেন,
‘কি বলো তুমি? তোমার আব্বাজানের আদর্শ ও আখলাক এমনই ছিল যে, কোন আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সকলে পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হয়ে যেত। ‘পাহাড়পুরী’ এই নামের মাঝেই আল্লাহ তাআলা এক বিশাল মাহাত্ম্য দিয়ে দিয়েছিলেন।’
মানুষ গড়ার কারিগর
মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে এমন হেকমত ও প্রজ্ঞা আব্বাজান রহমাতুল্লাহি আলাইহি অবলম্বন করতেন যে, কত পথহারা তালিবুল ইলম পথ ফিরে পেয়ে জীবন অঙ্গনে কত অবদান রেখেছেন তার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বড় বড় বহু ব্যক্তি আমার কাছে একান্তে তাদের জীবন গড়ার ক্ষেত্রে আব্বাজানের অবদানের কথা ব্যক্ত করেছেন। সে উদাহরণ আমি এখন পেশ করব না। জীবন গড়ার মহান কারিগর আব্বাজান রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কত গল্প কত ইতিহাস যে রয়েছে স্বল্প পরিসরে তা ব্যক্ত করা সম্ভব নয়।
আত্মঅহমিকাহীন, বিনয় নম্রতার মূর্ত প্রতীক মহান এই ব্যক্তিত্বের হৃদয়ের তামান্না এমনই ছিল যে, কোনভাবেই যেন তিনি বিখ্যাত না হোন। আল্লাহ তাআলা এটাই হয়তো কবুল করেছেন। জীবন সফরে তিনি নিভৃত ছিলেন। কিন্তু ইন্তেকালের পর তার জানাজা দেখিয়ে দিয়েছে পৃথিবীর এই জগতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কেমন মর্যাদা তাকে দান করেছেন। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে তার এই নেক বান্দার উত্তম শিক্ষাগুলো ধারণ করে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন ইয়া রব্বাল আলামীন।

ইসলামী আইনশাস্ত্রে হয়তর আয়েশা রাযি. এর অবদান ও প্রজ্ঞা ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁদের জ্ঞান, প...
26/08/2026

ইসলামী আইনশাস্ত্রে হয়তর আয়েশা রাযি. এর অবদান ও প্রজ্ঞা
ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অবদান যুগে যুগে মুসলিম উম্মাহর জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) অন্যতম। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রিয়তমা স্ত্রী, হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর কন্যা এবং ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশেষ করে ইসলামী আইনশাস্ত্র (ফিকহ)-এর বিকাশে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু হাদীসের বর্ণনাকারী ছিলেন না, বরং একজন অসাধারণ ফকীহা, মুফতিয়া এবং মুজতাহিদা হিসেবেও প্রসিদ্ধ ছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম জটিল মাসআলার সমাধানের জন্য তাঁর শরণাপন্ন হতেন।

হযরত আয়েশা (রা.)-এর জ্ঞানগত মর্যাদা ও অনন্য উচ্চতা
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) কেবল নারীদের মধ্যেই নন, বরং সমগ্র সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। দীর্ঘ নয় বছর আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর অবিচ্ছেদ্য সান্নিধ্যে থেকে ওহীর আলোয় তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যা সমকালীন বিশ্বে ছিল অভূতপূর্ব। তিনি কেবল কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানেই পারদর্শী ছিলেন না, বরং ফিকহ (ইসলামী আইনশাস্ত্র), ফারায়িজ (উত্তরাধিকার আইন), চিকিৎসাবিজ্ঞান, আরব্য সাহিত্য, কবিতা এবং তৎকালীন আরবের বংশপরিচয় বিদ্যায় (ইলমুল আনসাব) অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন।
হযরত আয়েশা (রা.)-এর এই অনন্য জ্ঞানগত মর্যাদাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য সাহাবা ও তাবেঈগণের কিছু অকাট্য সাক্ষ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সাহাবীদের প্রধান সমস্যা সমাধানকারী ও জ্ঞানকেন্দ্র
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাতের পর মদীনার ইলমী ও ফিকহী মারকায বা কেন্দ্রবিন্দু ছিল হযরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরা শরীফ। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) তাঁর সমকালীন সাহাবীদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন:
مَا أَشْكَلَ عَلَيْنَا أَصْحَابَ رَسُولِ اللَٰهِ ﷺ حَدِيثٌ قَطُّ، فَسَأَلْنَا عَائِشَةَ إِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا
অর্থ: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবীদের কাছে যখনই কোনো হাদীসের অর্থ বা বিধান জটিল মনে হতো, আমরা আয়েশা (রা.)-কে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম; আর তাঁর কাছে অবশ্যই এ সংক্রান্ত কোনো না কোনো সঠিক জ্ঞান ও সমাধান পেয়ে যেতাম। -সুনানে তিরমিযী, হাদীস- ৩৮৮৩। (ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন)
২. সমকালীন শ্রেষ্ঠ ফকীহদের দৃষ্টিতে তাঁর প্রজ্ঞা:
তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ বিদগ্ধ পণ্ডিত ও তাবেঈ ইমাম মাসরূক (রহ.)-কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, হযরত আয়েশা (রা.) কি ফারায়িজ বা উত্তরাধিকার আইনে দক্ষ ছিলেন? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন:
وَاللهِ لَقَدْ رَأَيْتُ أَكَابِرَ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ﷺ يَسْأَلُونَهَا عَنِ الْفَرَائِضِ
অর্থ: আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর প্রবীণ ও বড় বড় সাহাবীদের দেখেছি, তাঁরা হযরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে উত্তরাধিকার আইনের জটিল মাসআলাসমূহ জিজ্ঞেস করতেন এবং ফতোয়া নিতেন।
৩. যুগের শ্রেষ্ঠ নারী ফকীহ ও জ্ঞানসাধক:
হযরত আয়েশা (রা.)-এর পালক পুত্র এবং আরবের শ্রেষ্ঠ সাত ফকীহর (ফুকাহায়ে সাব’আ) অন্যতম ইমাম উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর (রহ.) তাঁর খালা আয়েশা (রা.)-এর জ্ঞানের গভীরতা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন:
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْلَمَ بِقُرْآنٍ، وَلَا بِفَرِيضَةٍ، وَلَا بِحَلَالٍ وَلَا حَرَامٍ، وَلَا بِفِقْهٍ، وَلَا بِشِعْرٍ، وَلَا بِطِبٍّ، وَلَا بِحَدِيثِ الْعَرَبِ، وَلَا نَسَبٍ مِنْ عَائِشَةَ
অর্থ: আমি কুরআন, ফারায়িজ (উত্তরাধিকার আইন), হালাল-হারামের বিধান, ফিকহশাস্ত্র, কবিতা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আরবের ইতিহাস এবং বংশপরিচয় বিদ্যায় হযরত আয়েশা (রা.)-এর চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি।
৪. ইমাম আতা (রহ.) বলেন,
كانت عائشة أفقه الناس وأعلم الناس وأحسن الناس رأياً في العامة.
অর্থ: আয়েশা (রা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ফকীহ, সর্বাধিক জ্ঞানী এবং সর্বোত্তম মতামতের অধিকারিণী।
সাহাবায়ে কেরামের ফতোয়ার প্রধান মারকায ও ইজতিহাদী প্রজ্ঞা
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাত-পরবর্তী সময়ে মদীনা মুনাওয়ারায় যে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সাহাবী ফতোয়া ও শরীয়তের আইনী ব্যাখ্যা প্রদানের দায়িত্ব পালন করতেন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন তাঁদের অন্যতম। জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা ছিল না, যা তাঁর হুজরা শরীফ থেকে প্রস্ফুটিত হয়নি। বড় বড় প্রবীণ সাহাবী এবং ফকীহগণও যখন কোনো জটিল ও সূক্ষ্ম মাসআলার সমাধান খুঁজে পেতেন না, তখন তাঁরা হযরত আয়েশা (রা.)-এর শরণাপন্ন হতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর, আবু মূসা আশআরী এবং আমর ইবনুল আস (রা.)-এর মতো যুগশ্রেষ্ঠ ও পণ্ডিত সাহাবীগণ নিয়মিত তাঁর কাছ থেকে ফতোয়া ও আইনী দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতেন।

সাহাবীদের ইজতিহাদী মতামত সংশোধন
হযরত আয়েশা (রা.) কেবল ফতোয়া বা হাদীস বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং শরীয়তের মূল মাকাসিদ ও দলিলের আলোকে সমকালীন সাহাবীদের কোনো কোনো ফতোয়া বা অসতর্কতামূলক বক্তব্যকে অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে সংশোধন করে দিতেন। তাঁর এই অনন্য ফিকহী দূরদর্শিতাকে সংকলন করতে গিয়ে অষ্টম হিজরীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ আল্লামা বদরুদ্দীন যারকাশী (রহ.) একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থই রচনা করেছেন, যার নাম— ‘আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আয়েশাতু আলাস সাহাবাহ’ (الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة)
এই গ্রন্থে তিনি শতাধিক এমন উদাহরণ সংকলন করেছেন, যেখানে হযরত আয়েশা (রা.) কুরআনের আয়াত ও অকাট্য যুক্তি দিয়ে অন্যান্য সাহাবীদের ধারণাগত ভুল বা রেওয়ায়েতের অস্পষ্টতা দূর করেছেন।
যেমন: কোনো কোনো সাহাবী মনে করতেন, মৃত ব্যক্তির জন্য তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তিকে আযাব দেওয়া হয়। হযরত আয়েশা (রা.) কুরআনের আয়াত—
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ أُخْرٰى
কেউ অন্য কারও পাপের বোঝা বহন করবে না (সূরা ফাতির, আয়াত- ১৮) দ্বারা এর ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে কথাটি বলেছিলেন, এটি সাধারণ কোনো নিয়ম নয়। সহীহ বুখারী, হাদীস- ১২৮৮।

নারীদের ইবাদত, ঘরের ভেতরের হুকুম-আহকাম এবং পারিবারিক জীবনের এমন অনেক জটিল বিষয়ে তিনি সাহাবীদের ফতোয়া সংশোধন করেছেন, যা ইসলামের আইনী কাঠামোকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করেছে।
হাদীস সংরক্ষণ ও ইসলামী ফিকহের বুনিয়াদ নির্মাণে অবদান
ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ বা হাদীস। আর এই হাদীস সংরক্ষণের ইতিহাসে হযরত আয়েশা (রা.)-এর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাতজন সাহাবীর অন্যতম এবং নারী সাহাবীদের মধ্যে প্রথম। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)-এর ‘তাহযীবুত তাহযীব’ এবং ইমাম যাহাবী (রহ.)-এর ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’র বর্ণনা অনুযায়ী: মোট বর্ণিত হাদীস: ২,২১০টি।
মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম যৌথভাবে): ১৭৪টি। শুধু সহীহ বুখারীতে: ৫৪টি। শুধু সহীহ মুসলিমে: ৬৯টি।

ফিকহী হাদীসের প্রাচুর্য ও গুরুত্ব
হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদীসগুলোর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলোর বেশিরভাগই সরাসরি ‘ফিকহী বা আইনী বিধান’-এর সাথে সম্পৃক্ত। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ঘরের ভেতরের ইবাদত, তাহারাত (পবিত্রতা), নামাযের অভ্যন্তরীণ আমল, রোযা, হজ্বের সূক্ষ্ম নিয়মাবলী, পারিবারিক আইন, বিবাহ, তালাক, নারীদের বিশেষ বিধান এবং দাম্পত্য জীবনের পারস্পরিক অধিকার সংক্রান্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী মাসআলাগুলো উম্মত তাঁর মাধ্যমেই জানতে পেরেছে।
যদি হযরত আয়েশা (রা.) এই হাদীসগুলো উম্মতের কাছে পৌঁছে না দিতেন, তবে ইসলামী ফিকহের একটি বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ— বিশেষত পারিবারিক জীবন, নারীদের বিধান এবং গৃহস্থালি জীবনের অসংখ্য মাসআলা উম্মতের কাছে সুস্পষ্টভাবে পৌঁছাত না। তিনি শুধু হাদীস বর্ণনা করেই দায়িত্ব শেষ করেননি; বরং কুরআন-সুন্নাহর মর্ম, শরিয়তের উদ্দেশ্য এবং ইসলামী আইনের গভীর দর্শন অনুধাবন করে তা উম্মতের সামনে উপস্থাপন করেছেন। এই অসামান্য প্রজ্ঞা ও ফিকহী দূরদর্শিতার কারণেই তিনি ইসলামের ইতিহাসে একজন অনন্য ফকীহ ও শ্রেষ্ঠ আইনজ্ঞ হিসেবে অমর হয়ে আছেন।

নারী-সম্পর্কিত ফিকহে অনন্য অবদান ও আইনী সংস্কার
ইসলামী শরীয়তে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারীদের একান্ত ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও ইবাদত-সংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলোর নিখুঁত আইনী রূপায়ণে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন প্রধানতম উৎস। তৎকালীন আরবের পুরুষতান্ত্রিক ও রক্ষণশীল সমাজে নারীরা তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত ও শারীরিক বিষয়গুলো ( যেমন: হায়েয, নিফাস, ইস্তিহাযা, অপবিত্রতা ও দাম্পত্য সম্পর্ক) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধাবোধ করতেন। এই সমস্ত ক্ষেত্রে হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন নারী সমাজের জন্য এক পরম আশ্রয়স্থল। তিনি অত্যন্ত সংকোচহীনভাবে নারীদের জটিল প্রশ্নগুলো শুনতেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে তার সমাধান জেনে নিতেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে নিজেই ফতোয়া দিতেন।
তাঁর ফিকহী দূরদর্শিতার মাধ্যমে উম্মত নারী-সংশ্লিষ্ট যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান লাভ করেছে, তার কয়েকটি অকাট্য দলিলসহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দাম্পত্য জীবনে নারী-পুরুষের সমতা ও পবিত্রতার বিধান
দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সহজ ও ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, তা হযরত আয়েশা (রা.)-এর ফিকহী বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়। যেমন পবিত্রতার বিষয়ে তিনি বর্ণনা করেন:
كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ الل هِ ﷺ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ
অর্থ: আমি এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে (একত্রে) গোসল করতাম। (সহীহ বুখারী, হাদীস- ২৭৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস- ৩২১।

ফিকহী তাৎপর্য: জাহেলী যুগে এবং অন্যান্য ধর্মে নারীদের হায়েয বা অপবিত্রতার সময়ে অস্পৃশ্য মনে করা হতো। কিন্তু এই হাদীসের ওপর ভিত্তি করে ফুকাহায়ে কেরাম (আইনবিদগণ) মাসআলা নির্ধারণ করেছেন যে—স্বামী ও স্ত্রীর একই পাত্রের পানি ব্যবহার করে ওযু বা গোসল করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং এতে পানির পবিত্রতা নষ্ট হয় না।
২. নারীর মনস্তত্ত্ব রক্ষা ও বিয়ের ক্ষেত্রে সম্মতির অধিকার

ইসলামে নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া যে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তা হযরত আয়েশা (রা.)-এর আইনী প্রজ্ঞার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে কুমারী ও বিধবা নারীদের বিয়ের সম্মতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তাদের অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। হযরত আয়েশা (রা.) তখন আরবের নারীদের লাজুক স্বভাবের কথা বিবেচনা করে এক সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন তুললেন যে, ইয়া রসূলাল্লাহ! কুমারী মেয়েরা তো (লজ্জায় মুখে) কিছু বলতে চায় না, (তাহলে তাদের সম্মতি কীভাবে বুঝবো?)। আল্লাহর রাসূল ﷺ উত্তর বললেন:
قالَ: رِضَاهَا صَمْتُها
তার চুপ করে থাকাই হলো তার সম্মতি। -সহীহ বুখারী, হাদীস- ৫১৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস- ১৪২১।
ফিকহী তাৎপর্য: এই হাদীসটি মুসলিম পারিবারিক আইনের একটি মূলস্তম্ভ।
হযরত আয়েশা (রা.)-এর এই প্রশ্নের কারণেই নারীর ‘মৌনতা’কে আইনগতভাবে সম্মতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা নারীর অধিকার রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
৩. হায়েয (ঋতুস্রাব) ও ইবাদতের সূক্ষ্ম বিধান নির্ধারণ
নারীদের ঋতুস্রাবকালীন ইবাদতের ক্ষেত্রে অতি সূক্ষ্ম ও বাস্তবসম্মত মাসআলাগুলো হযরত আয়েশা (রা.)-এর ইজতিহাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। একবার মুয়াযাহ (রহ.) নামক এক নারী তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “ঋতুমতী নারী কি পবিত্র হওয়ার পর নামায কাযা করবে, যেমন সে রোযা কাযা করে?” হযরত আয়েশা (রা.) অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে উত্তরে তিনি বললেন:
قالَتْ: كانَ يُصِيبُنا ذلكَ، فَنُؤْمَرُ بقَضاءِ الصَّوْمِ، ولا نُؤْمَرُ بقَضاءِ الصَّلاةِ.
আমাদের যখন ঋতুস্রাব হতো, তখন আমাদের রোযা কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামায কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না। -সহীহ বুখারী, হাদীস- ৩২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস- ৩৩৫।

ফিকহী তাৎপর্য: নারীদের প্রতি ইসলামের যে কত বড় শিথিলতা ও দয়া রয়েছে, তা এই ফতোয়ায় স্পষ্ট। প্রতি মাসে নামায কাযা করা নারীর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, তাই তা পুরোপুরি মাফ করা হয়েছে; কিন্তু রোযা বছরে একবার আসে বলে তা কাযা করার বিধান দেওয়া হয়েছে।
৪. নারীর হজ্বের নিয়ম ও মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি,
বিদায় হজ্বের সময় হযরত আয়েশা (রা.)-এর আকস্মিক ঋতুস্রাব শুরু হলে তিনি কান্নাকাটি করছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর হুজরায় এসে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তাআলা আদম-কন্যাদের ভাগ্যে লিখে রেখেছেন। এরপর তিনি ফিকহী নির্দেশনা দিয়ে বললেন:
افعَلي ما يفعَلُ الحاجُّ غيرَ أنْ لا تطوفي بالبيتِ حتّى تطهُري
হাজীরা যা যা করে তুমিও তার সবই করো, কেবল পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত কা’বা শরীফ তাওয়াফ করো না। -সহীহ মুসলিম, হাদীস- ১২১১।
ফিকহী তাৎপর্য: এই একটিমাত্র ঘটনার ফিকহী বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলিম নারী আজ পর্যন্ত হজ্বের সময় ঋতুস্রাবজনিত জটিলতার সঠিক সমাধান পেয়ে আসছেন।

অন্যের দোষ গোপন রাখামানবসমাজ পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য এবং বিশ্বাসের ওপর টিকে থাকে। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়; প্রতিটি ম...
24/08/2026

অন্যের দোষ গোপন রাখা

মানবসমাজ পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য এবং বিশ্বাসের ওপর টিকে থাকে। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়; প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি বা দোষ থাকে। সমাজ জীবনে চলতে গিয়ে মানুষের এসব দোষ-ত্রুটি কখনো কখনো প্রকাশ পেয়ে যায়। এমতাবস্থায় ইসলামসহ পৃথিবীর সমস্ত কল্যাণকামী দর্শন অন্যের দোষ চর্চা করার পরিবর্তে তা গোপন রাখার জোর তাগিদ দিয়েছে। অন্যের দোষ গোপন রাখা একটি মহৎ মানবিক গুণ। এটি সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে।
ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যের দোষ গোপন রাখা
ইসলামী শরিয়তে অন্যের দোষ গোপন রাখাকে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং একটি অনন্য নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হাদীস শরিফে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা ও পুরস্কারের ঘোষণাও এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا، سَتَرَهُ اللّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস- ২৬৯৯।
বিপরীতে, অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং তা মানুষের সামনে প্রকাশ করাকে মুনাফেকির লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহানবী (সা.) সতর্ক করে বলেছেন-
لَا تَغْتَابُوا الْمُسْلِمِينَ، وَلَا تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ، فَإِنَّهُ مَنْ يَتَّبِعْ عَوْرَةَ أَخِيهِ يَتَّبِعِ اللّهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ يَتَّبِعِ اللّهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ فِي بَيْتِهِ
তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না এবং তাদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়াবে না। কারণ, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দোষ খুঁজে বেড়াবে, আল্লাহ তার দোষ খুঁজে বের করবেন। আর আল্লাহ যার দোষ খুঁজে বের করবেন, তাকে তার ঘরের ভেতরে হলেও লাঞ্ছিত করবেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস- ৪৮৮০।
দোষ গোপন রাখার সামাজিক গুরুত্ব
মানুষের ব্যক্তিগত ভুল বা ত্রুটি যখন সমাজে ঢালাওভাবে প্রচার করা হয়, তখন সামাজিক অবক্ষয় নেমে আসে। অন্যের দোষ গোপন রাখার সামাজিক প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম:
১. পারস্পরিক বিশ্বাস রক্ষা: সমাজে মানুষ একে অপরের ওপর ভরসা করে বাস করে। কারো গোপন বিষয় জেনে ফেলার পর তা গোপন রাখলে সমাজে বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়ে।
২. ঘৃণা ও শত্রুতা দূরীকরণ: অন্যের দোষ ছড়ালে সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ এবং প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। দোষ গোপন রাখলে শত্রুতার পথ বন্ধ হয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে।
৩. অপরাধের বিস্তার রোধ: কোনো মন্দের কথা সমাজে বারবার আলোচনা করলে সাধারণ মানুষের মন থেকে সেই মন্দের প্রতি ভয় বা ঘৃণা দূর হয়ে যায়। ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পায়। দোষ গোপন রাখলে মন্দ কাজ সমাজে ডালপালা মেলতে পারে না।
৪. মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া: কোনো ব্যক্তি ভুলবশত কোনো অপরাধ বা পাপ করে ফেললে, তা যদি গোপন রাখা হয় তবে সে লজ্জিত হয়ে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ পায়। কিন্তু তা সবার সামনে প্রকাশ করে দিলে সে সমাজচ্যুত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে চরম অপরাধী বা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

গিবত ও চোগলখুরির কুফল
অন্যের দোষ গোপন না করার সরাসরি অর্থ হলো গিবত (পরনিন্দা) বা চোগলখুরি (একজনের কথা অন্যজনকে লাগিয়ে বেড়ানো) করা। পবিত্র কুরআনে গিবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো জঘন্য কাজের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ
আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং তোমরা একে অপরের গিবত (পরনিন্দা) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তা অপছন্দই করো। - সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত- ১২।
চোগলখুরি ও গিবতের ফলে সুন্দর ও সাজানো পরিবার, সমাজ এবং বন্ধুত্ব মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়। যে ব্যক্তি অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়, সে সমাজে কখনো শ্রদ্ধার পাত্র হতে পারে না। মানুষ তাকে এড়িয়ে চলে এবং মনে মনে ঘৃণা করে।
কোন কোন ক্ষেত্রে দোষ প্রকাশ করা বৈধ?
ইসলাম ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ঢালাওভাবে সবার দোষ গোপন রাখা সবসময় কল্যাণকর নয়। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে অন্যের অপরাধ বা দোষ প্রকাশ করা শুধু বৈধই নয়, বরং আবশ্যক:
اعْلَمْ أنَّ الغِيبَةَ تُبَاحُ لِغَرَضٍ صَحِيحٍ شَرْعِيٍّ لا يُمْكِنُ الوُصُولُ إِلَيْهِ إِلاَّ بِهَا، وَهُوَ سِتَّةُ أَسْبَابٍ:الاول: التَّظَلُّمُ، الثانى: َالاسْتِعَانَةُ عَلَى تَغْيِيرِ المُنْكَرِ...، الثالث: َالاسْتِفْتَاءُ، الرابع: تَحْذِيرُ المُسْلِمِينَ مِنَ الشَّرِّ وَنَصِيحَتُهُمْ الخامس: أن يكون مجاهرا بفسقه أو بدعته السادس: التعريف.

১. মজলুমের বিচার প্রার্থনা, ২. অন্যায় বা অপরাধ দমনে সাহায্য নেওয়া, ৩. মুফতির কাছ থেকে ফতোয়া নেওয়া, ৪.মুসলমানদের ক্ষতি থেকে সতর্ক করা এবং তাদের কল্যাণ কামনা করা (যেমন: বিয়ে, ব্যবসা বা সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে), ৫. প্রকাশ্যে পাপকারী বা বিদআতির দোষ প্রকাশ করা, এবং ৬. কোনো ব্যক্তিকে চেনার সুবিধার্থে তার পরিচিতিমূলক উপাধি (যেমন: অন্ধ বা খোঁড়া) উল্লেখ করা। -রিয়াজুস সালেহীন, পৃষ্ঠা- ৫০৫।

দোষ গোপন রাখার মানসিক ও আত্মিক উপকারিতা
অন্যের দোষ গোপন রাখার মানসিক শান্তি অপরিসীম। যে মানুষ অন্যের ত্রুটি খোঁজার পেছনে নিজের সময় অপচয় করে না, তার মন থাকে কলুষমুক্ত। সে নিজের আত্মশুদ্ধি এবং নিজের ভুল সংশোধনে মনোযোগী হতে পারে। অন্যের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের আত্মিক উন্নতি ঘটে। অপরদিকে, অন্যের দোষ প্রকাশ করার হীন মানসিকতা মানুষকে ভেতরে ভেতরে হিংসুটে ও অহংকারী করে তোলে।

বাস্তব জীবনে আমাদের করণীয়
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারে অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় বা দোষ-ত্রুটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল করে দেওয়ার এক ভয়ানক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বাস্তব জীবনে আমাদের করণীয় বিষয়গুলো হলো:
নিজের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া: অন্যের ভুল খোঁজার আগে নিজের ভেতরের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।
অন্যের প্রতি ভালো ধারণা পোষণ করা: কারো কোনো আচরণে খটকা লাগলে সরাসরি তাকে খারাপ না ভেবে তার পক্ষে কোনো ইতিবাচক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করা। কেননা কুরআনে বলা হয়েছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ
হে মুমিনগণ! তোমরা বহুবিধ ধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ কোনো কোনো ধারণা পাপ। -সূরা হুজুরাত, আয়াত- ১২।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করা: কারো ব্যক্তিগত জীবনে উঁকিঝুঁকি না দেওয়া এবং কারো গোপন কথা জেনে ফেললে তা নিজের আমানত হিসেবে গোপন রাখা।

সরাসরি ও গোপনে সংশোধন করা: কেউ ভুল করলে তা দশজনের সামনে প্রচার না করে, একান্তে ডেকে তাকে বুঝিয়ে বলা এবং সংশোধনের পথ দেখানো।
অন্যের দোষ গোপন রাখা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি মহান মানবিক ও ঈমানী গুণ। একটি সুস্থ, সুন্দর এবং শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে এই গুণের চর্চা অপরিহার্য। আমরা যদি অন্যের ভুলগুলোকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে তা গোপন রাখি, তবে মহান সৃষ্টিকর্তাও আমাদের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করবেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করবেন। তাই আসুন, অন্যের ছিদ্রান্বেষণ বন্ধ করে আমরা প্রত্যেকে নিজের সংশোধনে আত্মনিয়োগ করি এবং সমাজে ভালোবাসার আলো ছড়াই।

মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী:  হুজুরের সাথে আমার প্রাথমিক পরিচয় ছিল কেবল মক্তব পর্যায়ের, যাকে আসলে গভীর কোনো সম্পর্ক বলা যায় ...
23/08/2026

মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী: হুজুরের সাথে আমার প্রাথমিক পরিচয় ছিল কেবল মক্তব পর্যায়ের, যাকে আসলে গভীর কোনো সম্পর্ক বলা যায় না। তখন হুজুরকে আমরা শুধুই দেখতাম, উনি যে এত বড় মাপের মানুষ তা আমাদের জানাও ছিল না। তবে ‘পাহাড়পুরী হুজুর’ নামটার প্রতি তখন থেকেই এক ধরনের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কাজ করত।
পরবর্তী সময়ে আমি যখন লালবাগে চলে আসলাম, আর হুজুর সম্ভবত রহমানিয়া মাদরাসায় চলে গেলেন। মোহাম্মাদীয়া মাদরাসায় আরও অনেক ওলামায়ে কেরাম ছিলেন, উনারাও তখন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন।
এর পর দীর্ঘদিন হুজুরের সাথে কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ ছিল না। একদিনের কথা মনে পড়ে—আমি লালবাগ থেকে বাসায় ফিরছিলাম, কলেজ গেটে নামব। হুজুরের একটি নিয়মিত অভ্যাস (মামুল) ছিল—উনি লালমাটিয়ায় বাদ-মাগরিব বুখারী শরীফের দরস দিতেন। তারপর সেখান থেকে পায়ে হেঁটে আসাদ গেটে আসতেন এবং আসাদ গেট থেকে বাসে উঠে মিরপুর ১২-তে নামতেন।
একদিন হুজুর এবং উনার খাদেম রহমাতুল্লাহ ভাই আসাদ গেইট থেকে বাসে উঠেছেন। আমি উঠে দাঁড়িয়ে হুজুরকে বসতে দিলাম। হুজুর তখন আমাকে চিনতে পারেননি। আমি পরিচয় দিয়ে বললাম, “হুজুর, আমি তাজমহল রোডের বোরহানের ভাই।” তখন হুজুর আমাকে চিনতে পারলেন এবং আব্বার খোঁজখবর নিলেন ও দোয়া করলেন। হুজুরের এই খোঁজ-খবর নেয়া ও দোয়া করা আমাকে হুজুরের প্রতি আরো দূর্বল করে তুলল।
এর পর থেকেই হুজুরের সাথে আবার নতুন করে যোগাযোগ তৈরি হয় এবং নিয়মিত উনার কাছে আসা-যাওয়া শুরু হয়। এই ক্ষেত্রে আমাদের এক বড় ভাই ওবায়দুল্লাহ ভাই আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছিলেন।
হুজুরের সাথে প্রতিটি সাক্ষাতেই থাকত অমূল্য নসিহত, গভীর দরদ ও মহব্বত। প্রতিটি সাক্ষাতেই উনি দোয়া করতেন এবং আমার জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা দিতেন। তাই যেখানেই খবর পেতাম যে, হুজুর আসছেন বা যাচ্ছেন, উনার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করতাম।
একদিন শুনলাম, হুজুর লালবাগ ডেন্টালে এসেছেন। মাগরিবের নামায লালবাগ ছাতাওয়ালা মসজিদে পড়েই ডেন্টালে গেলাম। গিয়ে দেখি হুজুর বেডে শুয়ে আছেন। সালাম দেওয়ার পর হুজুর বললেন, “তুমি কখন আসলে? কীভাবে খবর পেলে?”
এরপর আমাকে এ বছরের কিতাব বণ্টনের (তাকসিম) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কী কী কিতাব বণ্টন হয়েছে? তোমার ভাগে কী পড়েছে?” আমি আমার ভাগের কিতাবগুলোর নাম বললাম। এর মধ্যে একটি কিতাবের নাম ছিল ‘রওজাতুল আদব’। শুনে হুজুর খুব খুশি হলেন এবং বললেন, “এটি একটি মি’য়ারী মানসম্মত কিতাব। বাচ্চাদের আরবিতে যোগ্যতা (এস্তেদাদ) তৈরি করার জন্য এই কিতাবের ভূমিকা অনেক বড়। তাই এটি খুব ভালো করে পড়ানো এবং চর্চা (তামরীন) করানো দরকার।” এভাবে উনি আমাকে নসিহত করলেন।
হুজুর প্রায়ই ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে নসিহত করতেন। শিষ্টাচার (আদাব) ও তরবিয়তের বিষয়ে উনি অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। একদিন একটি ঘটনা শোনালেন—
একবার হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি লালবাগ শাহী মসজিদের লম্বা বারান্দায় বসা ছিলেন। তখন হযরত হেদায়েতউল্লাহ সাহেব (মুহাদ্দিস সাহেব হুজুর) রহমাতুল্লাহি আলাইহি মসজিদের অজুখানায় অজু করতে যান। লালবাগ শাহী মসজিদের অজুখানা সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তারা জানেন যে সেখানে দুটি বড় হাউজ ও অনেকগুলো বসার সিট দেওয়া আছে। তবে হুজুর যে সময়ের ঘটনা বলছিলেন, তখন হাউজ ছিল মাত্র একটি এবং সিটের সংখ্যাও ছিল বেশ কম।
হাফেজ্জী হুজুর বারান্দায় বসে আছেন—বিষয়টি মুহাদ্দিস সাহেব হুজুরের চোখে পড়ে। উস্তাদ সামনে বসে আছেন দেখে উনি অজুখখানার উঁচুতে রাখা কোনো সিটে না বসে, নিচে পায়ের ওপর ভর দিয়ে বসে অজু সেরে আসলেন।
পাহাড়পুরী হুজুর বললেন, “উস্তাদের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আদাবের কারণেই উনি অত উঁচুতে সিটে বসেননি।” এই ঘটনা থেকে আমাদের জন্য অনেক বড় শিক্ষা রয়েছে যে, উনারা উনাদের উস্তাদদের কী পরিমাণ শ্রদ্ধা ও মহব্বত করতেন!
কসদুস সাবীল: আধ্যাত্মিকতা বা তাসাউফের লাইনে হুজুরের তরবিয়তের বিশেষ কোনো পদ্ধতি কি আপনার চোখে পড়েছে? তিনি কীভাবে তাঁর মুরিদ বা শাগরেদদের অন্তরের ইসলাহ (সংশোধন) করতেন?
মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী: আসলে হুজুর ছিলেন অত্যন্ত প্রচারবিমুখ ও নিরহংকার (গুমনাম) এক মহান ব্যক্তিত্ব। উনি সচরাচর কোনো সাধারণ মজলিস বা সভা করতেন না। তবে উনার কাছের মানুষ কিংবা ভক্ত-মুরিদদের বিশেষ অনুরোধ থাকলে কথা বলতেন, যদিও বড় মজলিস খুব কমই করতেন।
যতটুকু মনে পড়ে, ২০১০ সালের দিকে হুজুর মারকাযুদ্ দাওয়াহর পল্লবী শাখায় প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবারে কিছু বিশেষ মজলিস করতেন। সেই মজলিসগুলোতে মূলত আত্মশুদ্ধি ও ‘আত্মার ব্যাধি’ (আমরাজে কালবিয়া) বিষয়েই উনি বেশি বয়ান করতেন। আর সুবেদারঘাট, আলুবাজার মসজিদে জুমার নামায পড়াতেন, নামাযের পর মুরিদানের কথা শুনতেন। এ ছাড়া যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী হুজুর ব্যক্তিগত পরামর্শও দিতেন।
তাসাউফের ক্ষেত্রে হাতে তাসবিহ গণনার মতো বাহ্যিক আমলের চেয়ে সবাই যেন আমলের ওপর ধারাবাহিকতা ও নিষ্ঠা (পাবন্দি) বজায় রাখে, সেদিকেই উনি বেশি নজর দিতেন। তা ছাড়া যে ব্যক্তি যে বিষয়ে বেশি মনোযোগী, তাকে দিয়ে সেই লাইনের দ্বীনি খেদমত নেওয়াটাই উনি পছন্দ করতেন।
এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে—একবার নূরিয়া মাদরাসার বিপরীত দিকে নদীর পাড়ে হুজুর হাঁটছিলেন। উনার এক হাত আমার হাতে ধরা ছিল, আর পাশে হেঁটে যাওয়ার সময় হযরত মাওলানা আবরারুজ্জামান সাহেব তিলাওয়াত করছিলেন। পথে অনেকেই হুজুরকে সালাম দিচ্ছিলেন এবং হুজুরও সালামের উত্তর নিচ্ছিলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে হুজুর আমাকে বললেন, “দেখো, একশ্রেণির মানুষ আছে যারা সালামই দেয় না; আর একশ্রেণির মানুষ সালাম দেয় বটে, কিন্তু কখন ও কোথায় সালাম দেওয়া উচিত তা জানে না।”
তারপর বললেন, “দেখছে যে আমি তিলাওয়াত শুনছি, এর মাঝেও সালাম দিচ্ছে!”
এরপর হুজুর আমাকে বললেন, “ফাতওয়ায়ে শামীতে আল্লামা শামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কবিতা (শের) আকারে লিখে দিয়েছেন—কোথায় সালাম দেওয়া যাবে আর কোথায় দেওয়া যাবে না। তুমি কি আমাকে সেটা বের করে লিখে এনে দিতে পারবে?”
আমি বললাম, “জি হুজুর।”
পরে আমি ফাতওয়ায়ে শামী থেকে সেই অংশটুকু খুঁজে বের করে নিজের হাতে লিখে হুজুরের কাছে পৌঁছে দিলাম। এতে হুজুর খুব খুশি হলেন এবং আমার জন্য দোয়া করলেন। এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়—যিনি যে বিষয়ের ছাত্র বা যে কাজের উপযোগী, হুজুর তাকে দিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করিয়ে নিতে ভালোবাসতেন।
কসদুস সাবীল: আমাদের আকাবিরে দেওবন্দের যে সিলসিলা ও মেজাজ, তা পাহাড়পুরী হুজুর নিজের জীবনে কীভাবে ধারণ করেছিলেন বলে আপনি মনে করেন?
মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী: হুজুর ছিলেন আকাবিরে দেওবন্দের একটি উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি এবং নমুনায়ে আসলাফ (পূর্বসূরিদের আদর্শ নমুনা)। উনার পুরো জীবনটাই এমন ছিল যে, আকাবিরদের জীবনই যেন উনার জীবন। দেওবন্দের প্রতি এবং বুজুর্গানে দ্বীন ও ওলামায়ে কেরামের প্রতি উনার যে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল, তা ছিল সত্যিই অনন্য।
আমি যখন বাংলাদেশ থেকে দারুল উলুম দেওবন্দে যাই, একদম রওনা হওয়ার শেষ মুহূর্তে হুজুরের সাথে সাক্ষাৎ করে দোয়া নিতে গেলাম।
গাড়িতে ওঠার আগে হুজুর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “দারুল উলুম তো দুইটা, তুমি কোনটায় যাবে? কোনটায় যাওয়ার নিয়ত করছো?”
তখনও এই বিষয়ে আমার খুব একটা স্বচ্ছ ধারণা ছিল না, শুধু জানতাম দারুল উলুম দেওবন্দ আর দারুল উলুম ওয়াকফ। আমি বললাম, “দারুল উলুম...।” এর পর হুজুর আল্লামা কামরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহির কথা বললেন, যিনি সম্ভবত এর কিছুদিন আগেই লালমাটিয়ায় সফরে এসেছিলেন।
মূলত হুজুরের সারাটা জীবনই ছিল আকাবির ও আসলাফের অনুসরণ এবং তাঁদের চিন্তা-চেতনা ও নাজরিয়াত প্রচার-প্রসারে নিবেদিত।
আরেকটি কথা মনে পড়ল, প্রথম বছর দেওবন্দে যাওয়ার পরামর্শ নিয়ে চেষ্টা করলাম, কয়েকবার ভিসার জন্য আবেদন করলাম—হলো না। মনটা অনেক খারাপ ছিল।
​হুজুরকে জানালাম, দ্বিতীয় বছর আবার ভিসার জন্য আবেদন করব কি না। তখন লালবাগে খিদমতরত অবস্থায় আছি। ​হুজুর বললেন, “হ্যাঁ, এখনই যাও। পরে তো আর পড়ার সুযোগ হবে না, খেদমত তো সারাজীবন করতে পারবে।”
​এরপর হুজুর তাঁর নিজের জীবনের ঘটনা শোনালেন—প্রথম বছর হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) তাঁকে পাকিস্তান যাওয়ার অনুমতি দেননি। এক বছর খেদমত করার পর দ্বিতীয় বছর অনুমতি দিয়েছিলেন।
​তো হুজুরের সেই কথাটা এখনো মনে পড়ে—খেদমত সারাজীবন করা যাবে, কিন্তু পড়ার সুযোগ পরে আর হবে না। এটা ছিল অনেক বড় একটি উপদেশ।
কসদুস সাবীল: বাইরে তো হুজুর ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেম ও বুজুর্গ। কিন্তু ঘরের ভেতরে—স্ত্রী, সন্তান এবং আপনাদের মতো নিকটাত্মীয়দের সাথে উনার পারিবারিক আচরণ (আখলাক) কেমন ছিল?
মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী: হুজুর ঘরে পর্যাপ্ত সময় দিতেন এবং ঘরের কাজে সহযোগিতা করতেন। বাজার-সদাই করা কিংবা ঘরের টুকটাক জিনিসপত্র মেরামত করার কাজগুলো উনি নিজ হাতেই করতেন।
পরিবারে আমলের পরিবেশ বজায় রাখার ব্যাপারে হুজুর খুব সচেতন ছিলেন। ঘরের সন্তানাদিসহ যারা উনার সান্নিধ্যে থাকত, তাদেরকে উনি মাসনুন দোয়াগুলো পড়াতেন, ইয়াদ করাতেন এবং অভ্যাসে পরিণত করার চেষ্টা করতেন। একবার উনার এক সন্তান হুজুরের কাছে গেলে উনি তাকে পান করার জন্য দুধ দিলেন। দুধের পেয়ালা হাতে নেওয়ার পরপরই হুজুর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “দুধ পান করার দোয়াটি বলো তো?” হঠাৎ জিজ্ঞেস করায় সে বলতে না পারলে হুজুর বললেন, “দোয়া কি ইয়াদ নেই?” এরপর হুজুর নিজেই তাকে দোয়াটি মনে করিয়ে দিলেন।
এমনকি হুজুরের নিজের সংকলিত একটি মাসনুন দোয়ার বই ছিল। একবার আমাকে দিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই বইয়ের সবকটি দোয়া পড়িয়ে উনি শুনলেন। বৃষ্টি হওয়া, বজ্রপাত হওয়া, খাবার গ্রহণ করা বা শেষ করা, এস্তেঞ্জায় যাওয়া-আসা কিংবা ঘরে প্রবেশ ও বের হওয়ার দোয়া—হাদীهসে বর্ণিত প্রতিটি ক্ষেত্রের দোয়ার প্রতি উনার বিশেষ নজর ছিল। জীবনটা যেন পুরোপুরি সুন্নাহ অনুযায়ী পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে উনি অত্যন্ত সজাগ ছিলেন।
এ ছাড়া হুজুর ঘরের ভেতরে বেশির ভাগ সময় মুতালা’আয় (অধ্যয়ন) ব্যস্ত থাকতেন। সময়কে অত্যন্ত পাবন্দির সাথে দ্বীনি কাজে লাগাতেন।
কসদুস সাবীল: হুজুরের মেয়ে (আপনার স্ত্রী)-কে বিয়ের পর বিদায় দেওয়ার সময় বা পরবর্তীতে আপনাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ও দ্বীনদারীপূর্ণ করার জন্য হুজুর কি বিশেষ কোনো উপদেশ দিয়েছিলেন?
মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী: আসলে ওই সময় হুজুর প্রচণ্ড রকম অসুস্থ ছিলেন; তার কিছুদিন আগেই হুজুর স্ট্রোক করেছিলেন। আমার মনে পড়ে, তখন একপাশে আমার মুহতারামা শাশুড়ি ছিলেন এবং আমাদের ছোট ভাইয়া উপস্থিত ছিলেন। হুজুর তখন হুইলচেয়ারে বসা। হুজুরের কাছে বলা হলো, “ওরা যাচ্ছে, ওদেরকে একটু দোয়া করে দেন।” হুজুর তখন আর মুখে কোনো কথা বলেননি; আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজন হুজুরের সামনে গিয়ে বসলে হুজুর পরম স্নেহে আমাদের মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিলেন।
হুজুর পারিবারিক এই সম্পর্কগুলোর প্রতি খুব খেয়াল রাখতেন। হুজুরের অন্যান্য জামাতাগণ—যারা সুস্থ অবস্থায় উনাকে শ্বশুর হিসেবে পেয়েছিলেন—উনাদের থেকেও শোনা যায় যে, হুজুর মেয়ে ও জামাতাদের প্রতি অত্যন্ত সতর্ক নজর রাখতেন এবং বিভিন্ন সময় নানাবিধ পারিবারিক পরামর্শ দিতেন।
আর আকাবির ও আসলাফ বুজুর্গানে দ্বীনের প্রতি হুজুরের ভক্তি-ভালোবাসার কথা উনি প্রায়ই গল্প করে শোনাতেন। একদিন হুজুর খুব উৎফুল্ল হয়ে বলছিলেন, “আমার নানা ছিলেন ধামতী আলিয়ার পীর সাহেব (সম্ভবত ধামতী আলিয়ার পীর সাহেব হুজুরের নাম ছিল আজিমুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি)। উনি উনার দুই মেয়েকে একসাথে বিবাহ দিয়েছিলেন। আমার আম্মা ছিলেন বড় মেয়ে।”
হাটে-বাজারে মানুষ উনাকে জিজ্ঞেস করত, “তুমি নাকি তোমার দুই মেয়েকে একসাথে বিবাহ দিয়েছ?” তখন উনার নানা ফখর করে বলতেন, “হ্যাঁ, আমি দুই মেয়েকে একসাথে বিবাহ দিয়েছি। আর আমার বড় মেয়েকে বিবাহ দিয়েছি এক দেওবন্দী আলেমের কাছে।” এটি হুজুর খুব তৃপ্তির সাথে বলতেন।
কসদুস সাবীল: হুজুরের জীবনের শেষ দিনগুলোর কোনো বিশেষ আমল, অবস্থা বা নসিহতের কথা কি আপনার মনে আছে, যা তিনি শেষ সময়ে বারবার বলতেন?
মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী: ২০০৭ সালের দিকে হুজুর যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, এর পর থেকেই উনি নিজেকে দুনিয়া থেকে গুটিয়ে নেন। হুজুর প্রায়ই বলতেন যে, এখন উনার দুনিয়ার আর কোনো কাজ নেই, উনি শুধুই আখেরাতমুখী এবং ইবাদত-বন্দেগীতে নিমগ্ন।
হুজুরের বেশ কিছু দৈনন্দিন মামুলাত বা আমল ছিল, যা আমাদের আলোচনায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি বিশেষ মামুলাত ছিল—পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর যে নির্দিষ্ট পাঁচটি সূরা তিলাওয়াতের কথা রয়েছে, তা তিনি অত্যন্ত পাবন্দির সাথে নিজে তিলাওয়াত করতেন অথবা কাউকে দিয়ে তিলাওয়াত করিয়ে শুনতেন।
​আমারও এভাবে হুজুরকে তিলাওয়াত শোনানোর সৌভাগ্য হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই আমরা হুজুরের কাছে বাদ যোহর অথবা বাদ আসর যেতাম। মিরপুরে সাধারণত বাদ যোহর যাওয়ারই চেষ্টা করতাম।
​হুজুর বাদ যোহর সূরা ফাতাহ তিলাওয়াত করতেন এবং কখনো কখনো কাউকে দিয়ে তিলাওয়াত করিয়ে শুনতেন। আর বাদ আসর তিলাওয়াত করতেন সূরা নাবা। হুজুরকে এসব সূরা তিলাওয়াত করে শোনানোর সৌভাগ্য আমারও হয়েছে। অন্যান্য নামাযের পরেও অত্যন্ত এহতেমামের সাথে তিনি এই আমলটি রক্ষা করতেন।
হুজুরের বিশেষ মামুলাত ছিল—যথাসময়ে নওয়াফেল আদায় করা এবং প্রচুর তিলাওয়াত করা। একবার উনার কাছে গেলাম। হুজুরের কাছে যে কুরআন শরীফটি ছিল, সেটির হরফ বেশ বড়ই ছিল। তা-ও হুজুর বললেন, “এটাও পড়তে কষ্ট হয়, এর চেয়েও বড় হরফের কুরআন পাওয়া যায় কিনা?”
হুজুর সারাদিন তিলাওয়াত নিয়ে থাকতেন এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি প্রায়ই উচ্চারণ করতেন— “ইজা আমসাইতা ফালা তানতাজিরিস সাবাহ, ওয়া ইজা আসবাহতা ফালা তানতাজিরিল মাসা” (সন্ধ্যা হলে সকালের অপেক্ষা করো না, আর সকাল হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না; অর্থাৎ সর্বদাই আমলে মশগুল থাকো)। এটিই ছিল হুজুরের জীবনের শেষদিকের বিশেষ আমল। দীর্ঘ অসুস্থতা ও শয্যাশায়ী থাকার পর উনি আল্লাহ পাকের সান্নিধ্যে চলে যান।

Address

হাফেজ্জী নগর, কোনাখোলা, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা ১৩১০
Dhaka
1310

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Qasdus Sabil posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category