03/09/2026
পাকিস্তানের সাতজন প্লেয়ার আর কোচদের একবারে বাদ দেয়ার ঘটনাটা অস্বাভাবিক বলা চলে। মানে এইভাবে হয়না বললেই চলে। তবে একেবারে ওয়ান টু ওয়ান তুলনা না করা গেলেও এই নিকট অতীতেই এমন ব্যাপার দেখা গিয়েছে অন্য টেস্ট দলেই। যখন সিরিজ বা ম্যাচ হারার রিয়াকশনে বোর্ড প্যানিক বাটন চেপে স্কোয়াডে করেছে একাধিক পরিবর্তন।
এইক্ষেত্রে প্রথমেই মাথায় আসে ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার হোবার্ট ম্যাসাকার। সাউথ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরে সবচেয়ে স্টেবল থাকা অস্ট্রেলিয়া বোর্ডও প্যানিক করে বসে। সিলেক্টর রড মার্শ রিজাইন করে, তার জায়গা নেয় ট্রেভর হোন্স। আর এরপরেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মাঝেই ৫ জন প্লেয়ারকে করে ড্রপ।
জো বার্ন্স, এডাম ভোজেস, কলাম ফার্গুসন, পিটার নেভিল, জো মেনি এর জায়গায় দলে আসে ম্যাট রেনশ, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, নিক ম্যাডিনসন, ম্যাথু ওয়েড, জ্যাকসন বার্ড এবং চ্যাড সেয়ার্স। এরমধ্যে জো বার্ন্স বাদে বাকিদের টেস্ট ক্যারিয়ার ওখানেই শেষ হয়ে যায়।
সাউথ আফ্রিকা নিজেও এই কাজ করেছে ২০১৬ এর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের সাথে। ইন্ডিয়া এরপর ইংল্যান্ডের কাছেও হোমে হারার পর হাশিম আমলা হুট করে ক্যাপ্টেন্সি থেকে রিজাইন করে, ভিলিয়ার্স হয় নতুন ক্যাপ্টেন।
স্টিয়ান ভ্যান জিল, ফ্যাফ ডুপ্লেসি, ফিলান্ডারকে ড্রপ করে দলে আনা হয় স্টিফেন কুক, ডিকক, ভিলোহেন এবং ডেন পিইডট কে।
পাকিস্তান নিজেও এই কাজ করেছে ২০২৪ এ বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচ হারার পর।
কোচ গিলেস্পি থেকে পাওয়ার নিয়ে দেয়া হয় আকিব জাভেদকে। বাবর আজম, শাহীন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সরফরাজ আহমেদ কে ড্রপ করে দলে আসে কামরান ঘুলাম, সাজিদ খান, নোমান আলি আর হাসিবুল্লাহ।
২০১৪ ইংল্যান্ড ট্যুরে ১-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পরেও ৩-১ এ সিরিজ হারে ইন্ডিয়া। বলতে গেলে বিসিসিআই ট্যুরের মাঝখানেই ডানকান ফ্লেচারের চাকরি হাইজ্যাক করে রবি শাস্ত্রিকে দেয়। এরপরে ড্রপ করা হয় গম্ভীর, ধাওয়ান, ইশ্বর পান্ডে, পাংকাজ সিং কে। দলে আনা হয় উমেশ যাদব, ভরুন অরুন, কে এল রাহুল, সুরেশ রায়না এবং রোহিত শর্মাকে।
সবাই যখন করছে নিউজিল্যান্ড বাদ থাকবে কেন? ২০১৩ তে সাউথ আফ্রিকার কাছে ইনিংসে হারে নিউজিল্যান্ড। সিরিজের পর টেইলরকে স্যাক করে ক্যাপ্টেন করা হয় ম্যাককালাম কে। মার্টিন গাপটিল, রব নিকোল, ক্রিস মার্টিন, জিতান প্যাটেলকে ড্রপ দিয়ে দলে আনা হয় ব্রুস মার্টিন, ট্রেন্ট বোল্ট, টম ল্যাথাম ও হ্যামিশ রাদারফোর্ডকে।
তবে শেষ করবো সম্ভবত সবচেয়ে বেশি হাস্যকর শোনানো ঘটনা দিয়ে।২০১৩ বর্ডার গাভাস্কার ৪-০ তে হারে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু আসল ক্রাইসিস আসে ২ ম্যাচ হারার পর। কোচ মিকি আর্থার সব প্লেয়ারকে তাদের এসেসমেন্ট রিভিউ দিতে বলে, বেশ কিছু প্লেয়ার ব্যাপারটা এবসার্ড লাগায় হেসে উড়িয়ে দেয়। এরপরেই তাদের করা হয় ড্রপ।
এটাই কুখ্যাত homework gate...
শেন ওয়াটসনের জায়গায় দলে ডাকা হয় স্টিভ স্মিথকে। উসমান খাওয়াজার জায়গায় দলে আসে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল৷ মিচেল স্টার্ক রিপ্লেস করে জেমস প্যাটিনসনকে আর জনসনের জায়গায় আসে পিটার সিডল।
এখন অনেকে জিজ্ঞাসা করতে পারে "ভাই বাংলাদেশে এমন কিছু হয়নাই?"। হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এটা বলতে গেলে প্রতি সিরিজেই হতো, টেস্ট আসলে আমরা খেলতামই কেওস নিয়ে। তাই ওগুলা লিস্ট করা অনর্থক। টেস্ট খেলা তো আমরা শুরু করলামই বলতে গেলে কয়দিন হলো....
-Jiraiyarko