11/06/2026
👇
✳️ আপনার প্রযুক্তিপণ্য জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হচ্ছে না তো?
মানবজীবনে প্রযুক্তিপণ্যের গুরুত্ব ও ব্যবহার অপরিসীম। প্রতিটি মূহুর্তেই আমরা কোনো না কোনো কাজে প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করি, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ, গতিশীল এবং আরামদায়ক করেছে। বর্তমানে প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার ছাড়া পুরো বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে চলা একরকম প্রায় অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের অনেককেই প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করতে হয়।
প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহারে যেমন অনেক ভালো দিক রয়েছে, তেমনি বহু খারাপ দিকও রয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য (যেমন- কম্পিউটার, মোবাইলফোন, ক্যামেরা, ইন্টারনেট পরিষেবা) ব্যবহার করে হালালভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে, যা ইসলামে সৎকর্ম হিসেবে পরিগণিত হয়। সৎকাজে প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহারে ইসলামে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং সৎকাজের প্রতি ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে।
প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা মানবকল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে হালাল ব্যবসার প্রচার-প্রচারণা, বিভিন্ন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কুরআন, হাদিস ও ইসলামি জ্ঞান চর্চা করা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণায় মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো, সবই সৎকাজের অন্তর্ভুক্ত যদি তা শরীয়াহর নির্দেশিত নীতি ও পর্দা মেনে পরিচালিত হয়।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে বহুমানুষ প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার না করে মন্দ কাজে ব্যবহার করছে, যা মানব সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেকেই জেনে অথবা না জেনে খারাপ ও অশ্লীল কন্টেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা মানব সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা খবর প্রচার, গুজব রটানো, মানুষকে হয়রানি করা, উসকানি বা রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, সাইবার অপরাধ ও হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা এবং অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফির মতো কুরুচিপূর্ণ গর্হিত কাজের ব্যাপক প্রসার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মানব সমাজে নিশ্চিতভাবেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমাদের মনে রাখা উচিত যে, প্রযুক্তির নেতিবাচক ও কুরুচিপূর্ণ ব্যবহারে নৈতিক, মানসিক, শারিরীক ও আর্থিকভাবে ক্ষয়-ক্ষতি শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো পৃথিবীতেই তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। আপনার মাউসের এক ক্লিকেই হয়তো কোটি কোটি মানুষ অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফির সাগরে হারিয়ে যাতে পারে, যার বোঝা বহন করার ক্ষমতা হয়তো আপনার নেই। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া আপনার একটি মিথ্যা সংবাদ কিংবা গুজব কোটি কোটি মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে, যা আপনার জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ।
মনে রাখবেন, আমাদের প্রতিটি ছোট-বড় কাজের হিসাব লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে, হোক সেটা সৎকর্ম কিংবা মন্দকর্ম। আমাদের সামনে রয়েছে মহা হিসাব দিবস, যেদিন আল্লাহ তা’আলা আমাদের প্রতিটি কর্মের হিসাব নিবেন যা সুনিশ্চিত। প্রযুক্তির ব্যবহার কোনোভাবেই যেন আমাদের প্রতারিত করতে না পারে এবং আল্লাহর দিক থেকে গাফেল করতে না পারে সেই দিকে আমাদের খেয়াল রাখা উচিত। প্রযুক্তিপণ্য যেন কোনোভাবেই আমাদের জাহান্নামে যাওয়ার কারণ না হয় তা আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে।
One Islam Zone | Jahidur Rahman | Al Aqsa Tech Info