13/09/2026
নিহত সাংবাদিকদের স্মরণে উত্তরা মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে মিলাদ ও দোয়া
উত্তরা প্রতিনিধি:
নিহত সাংবাদিক সাকিবুল ইসলাম মিঠু, রবিউল ইসলাম রাজু ও শিউলী আক্তার নিলুর রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তরা মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় উত্তরায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। এতে প্রেসক্লাবের সদস্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিকদের স্বজনরা অংশ নেন।
মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচ আর হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এম এইচ মাকছুদ খান, দৈনিক রুদ্র বাংলার বার্তা সম্পাদক মিজান বিন নূর এবং প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এ আর খান মুরাদ। এ সময় ক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, অসঙ্গতি ও মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ঝুঁকির মুখোমুখি হন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাংবাদিক অকালে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের অবদান স্মরণ করা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো গণমাধ্যমকর্মীদের নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে নিহত তিন সাংবাদিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করা হয়। উপস্থিত সাংবাদিক ও স্বজনদের মধ্যে এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিক নিহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোররাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জসিম উদ্দিন এলাকার বিআরটি উড়ালসড়কের ঢালে একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাংবাদিক সাকিবুল ইসলাম শাকিব/হাসান ও রবিউল ইসলাম রাজু নিহত হন। সাকিবুল ইসলাম সংবাদ দিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার এবং রবিউল ইসলাম রাজু দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশের সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় তাঁরা মোটরসাইকেলে ছিলেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রাতে তাঁরা বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখার পর বাসায় ফিরছিলেন। দুজনই উত্তরার সাংবাদিক মহলে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁদের আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়।
মিলাদ ও দোয়া শেষে বিকেল ৪টার দিকে এতিম শিশু, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আলোচনা সভায় বক্তারা নিহত সাংবাদিকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।