10/09/2026
১৩ বছরের সীমাহীন হরিলুট: ঘাটাইলের পিআইও এনামুল অবশেষে বিতাড়িত, ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাড়াশে যোগ না দিলে তাৎক্ষণিক স্ট্যান্ড রিলিজ!
সরকারি বদলি নীতিমালার মুখে ছাই দিয়ে একই উপজেলায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে দুর্নীতির একচ্ছত্র সাম্রাজ্য চালানো ঘাটাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হককে অবশেষে তাড়াশে বদলি করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিলে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (Stand Released) হবেন।
একই কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে ২০১১–২০১৪ এবং ২০১৬ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর ঘাটাইলকে নিজের ব্যক্তিগত লুটপাটের আখড়া বানিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
অপকর্ম ও দুর্নীতির ভয়াবহ চালচিত্র:
* সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট: টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও কর্মসৃজন প্রকল্পের অর্থ বাস্তবে কোনো কাজ না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। দুর্নীতি এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে সরকারি কোষাগারে নগদ ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ টাকা ফেরত নেওয়া হয়।
* দরিদ্র শ্রমিকদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া: কর্মসৃজন কর্মসূচির গরিব শ্রমিকদের নামে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি এবং শ্রমিকদের বিকাশ অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে কোটি কোটি টাকা সরাসরি পকেটে তুলেছেন।
* কাগজে-কলমে অস্তিত্বহীন প্রকল্প: মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান কাজ নেই, একই কালভার্ট বা রাস্তায় একাধিকবার বরাদ্দ দেখিয়ে কিংবা সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন নামসর্বস্ব প্রকল্প সাজিয়ে সরকারি বরাদ্দ ভাগবাঁটোয়ারা করেছেন।
* পাহাড়ি লাল মাটির সিন্ডিকেটের গডফাদার: ড্রেজার ও বেকু দিয়ে ঘাটাইলের প্রাকৃতিক পাহাড়ি লাল মাটি কেটে বিক্রি করা বনখেকো সিন্ডিকেটের অন্যতম নেপথ্য মদদদাতা ছিলেন তিনি। প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে দিনদুপুরে অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব নির্বিঘ্ন রাখতেন।
* উপজেলাজুড়ে অদৃশ্য ‘মাফিয়া নেটওয়ার্ক’: শুধু নিজ দপ্তরই নয়, উপজেলা কৃষি অফিস, খাদ্যগুদাম (ওসি-এলএসডি) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ঘুষ লেনদেনের সিন্ডিকেটও ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে। গোটা উপজেলার ঠিকাদারি ও বরাদ্দ বণ্টনে তাঁর কথাই ছিল চূড়ান্ত।
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির এই পাহাড় ধসে পড়তে শুরু করলেও স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি—কেবল তাড়াশে বদলি কোনো শাস্তি হতে পারে না। ঘাটাইল থেকে লুট করা জনগণের প্রতিটি টাকার হিসাব, বিপুল অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং তাঁকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।