28/09/2026
স্ত্রীর অজ্ঞাতে ও অসৎ উদ্দেশ্যে ধারণ করা সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ভিডিও বিদেশে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনের এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। কেবল নিজের স্ত্রীই নয়, ব্ল্যাকমেইলের শিকার বানিয়ে অন্তত ৩৫ জন নারীর জীবন ধ্বংস করার মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন খোদ ভুক্তভোগী স্ত্রী। ঘটনাটি কেন্দ্র করে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে অভিযুক্ত যুবক দামি মোবাইল ও ক্যামেরা ব্যবহার করে নিজেদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করতে শুরু করে। প্রতিবাদ জানালে "সন্তানের মা" হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে এবং ভবিষ্যতে দুজনে মিলে দেখার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হতো। কিন্তু পরবর্তীতে স্ত্রী জানতে পারেন, শুধু তিনিই নন—অভিযুক্তের কাছে চট্টগ্রাম শহরের আরও একাধিক নারীর আপত্তিকর ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।
মামলা দায়েরের খবর জানতে পেরেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে থাকা ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মেমোরি কার্ড ও ক্যামেরাসহ সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস লুকিয়ে ফেলে। ফলে পরবর্তীতে পুলিশ অভিযানে গেলেও ঘটনার সাথে সম্পর্কিত কোনো আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী নারী আরও জানান, গত আট বছরের সম্পর্কে তিনি অন্তত ৩৫ জন নারীর সাথে তার স্বামীর অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানতে পেরেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিংবা বিয়ের দোহাই দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করত এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে তাদের সংসার ভেঙে দিত।
তদন্ত ও প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবকের পারিবারিক তথ্য মতে তার দৃশ্যমান বা বৈধ কোনো আয়ের উৎস নেই। তা সত্ত্বেও সে দেড় লক্ষ টাকা দামের প্রফেশনাল ক্যামেরা ব্যবহারসহ এ পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ১২টি দেশ ভ্রমণ করেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান করেছে। ভুক্তভোগীর জোরালো ধারণা, দেশে অসহায় নারীদের ভিডিও ধারণ করে বিদেশে পাচার ও বিক্রি করাই উক্ত যুবকের প্রধান পেশা ও আয়ের গোপন উৎস।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আলামত উদ্ধারসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।