29/08/2026
“বাবা, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও… আমি বাঁচব না!”
একজন গর্ভবতী নারীর মুখে ডেলিভারির আগে এমন আর্তনাদ—এটা কি শুধু ভয়?
নাকি একজন রোগীর শেষ মুহূর্তের সাহায্যের আবেদন?
২৫ বছরের কল্পনা মিশ্র সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন সন্তান জন্ম দিতে।
অর্থের সীমাবদ্ধতায় সরকারি চিকিৎসার ওপর ভরসা করেছিলেন—
কিন্তু শেষ পর্যন্ত মা-ও ফিরলেন না, সন্তানও নয়।
সবচেয়ে কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়—
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি বাবাকে বলছিলেন, “আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও… আমাকে বাঁচাও।”
একজন প্রসূতি যদি নিজের চিকিৎসার জায়গাতেই এতটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে,
তাহলে প্রশ্নটা শুধু “সে কেন ভয় পেয়েছিল?” নয়—
*প্রশ্নটা হলো, তার ভয়টা কি কেউ গুরুত্ব দিয়ে শুনেছিল?
হ্যাঁ, কল্পনার শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল—রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর severe pre-eclampsia-সহ একাধিক জটিলতা ছিল। কিন্তু সেই কারণেই তো আরও বেশি প্রয়োজন ছিল সতর্ক, দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসা এবং সময়মতো সিদ্ধান্তের।
আজ দুই চিকিৎসক ও দুই নার্সিং অফিসার সাসপেন্ড। তদন্ত হচ্ছে।
কিন্তু তদন্তের রিপোর্ট আসার আগেই একটা প্রশ্ন সমাজকে করতেই হবে—
গরিবের গর্ভে সন্তান এলে কি তার জীবনও “কম দামের” হয়ে যায়?
স্বামী, পরিবার, সমাজ—
সন্তান জন্মানোর দায়িত্ব যেন সবার,
কিন্তু বিপদের মুহূর্তে দায়িত্বটা শেষ পর্যন্ত বাবার বাড়ির ঘাড়ে!
🙂আর সরকারি হাসপাতালে গেলে?
“ফ্রি চিকিৎসা”র সঙ্গে যেন অসহায় হয়ে পড়ার ভয়টাও ফ্রি!
একজন মা বাঁচার জন্য বাবাকে ডাকছিলেন—
আজ তাঁর বাবা শুধু মেয়েকে নয়,
মেয়ের সঙ্গে তাঁর নাতিটাকেও হারিয়েছেন।
প্রসূতির হাতে সন্তান তুলে দেওয়ার আগে
আমরা যদি তার হাতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাটুকুও না দিতে পারি,
তাহলে এত উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, এত হাসপাতাল—
সবকিছুর মানে কোথায়?
কল্পনা মিশ্রের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়—
এটা প্রশ্ন:
“গরিব মানুষের চিকিৎসার অধিকার কি শুধু হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত?” 💔
゚viralシ