27/08/2026
আমরা কি আমাদের সন্তানকে বড় করছি, নাকি শুধু ব্যস্ত রাখছি?
আজকাল একটা বাচ্চা একটু কান্না করলেই আমরা ফোন হাতে দিয়ে দিই।খেতে চাইছে না—ফোন।বাইরে যেতে পারছি না—ফোন।মেহমান এসেছে—ফোন।
মা একটু কাজ করবে—ফোন।বাচ্চা চুপ করে বসে থাকলেই যেন আমরা স্বস্তি পাই।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, এই চুপ করে থাকা বাচ্চাটার ভেতরে আসলে কী চলছে?
আমাদের ছোটবেলায় এত খেলনা ছিল না,এত কার্টুন ছিল না,
YouTube ছিল না,হাতে হাতে স্মার্টফোনও ছিল না।
তবুও আমাদের শৈশব ছিল।আমরা উঠানে খেলেছি, মাটিতে বসে খেলেছি,বৃষ্টিতে ভিজেছি,মায়ের সঙ্গে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে থেকেছি, বাবার সঙ্গে বাজারে গিয়েছি,দাদু-নানুর গল্প শুনেছি।
আমাদের হয়তো অনেক কিছু ছিল না,কিন্তু সময় ছিল।
আর আজকের বাচ্চাদের সবচেয়ে বেশি যেটার অভাব হতে পারে, সেটা খেলনা বা খাবার নয়,মা-বাবার মনোযোগ।
একটা বাচ্চা যখন আপনাকে বারবার ডাকছে,
হয়তো সে শুধু আপনার কাছে কিছু চাইছে না।
হয়তো সে চাইছে—
“আমার সঙ্গে একটু বসো।”
“আমার কথা একটু শোনো।”
“আমার খেলাটা একটু দেখো।”
“আমাকে একটু সময় দাও।”
আমরা অনেক সময় ভাবি,“আমার সন্তান তো সবই পাচ্ছে।ভালো খাবার পাচ্ছে,ভালো জামাকাপড় পাচ্ছে,দামি খেলনা পাচ্ছে,সুন্দর একটা ঘর পাচ্ছে।
কিন্তু একটা শিশুর কাছে সবচেয়ে দামি জিনিসটা হয়তো এগুলোর কোনোটাই নয়। সে চায় তার মা-বাবাকে।
তাই প্রতিদিন অনেক সময় না পারলেও,
অন্তত কিছু সময় ফোনটা পাশে রেখে সন্তানের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলি।
ওর আঁকিবুঁকি দেখলে বলি,
“বাহ, তুমি এটা এঁকেছ?”
ও খেলনা নিয়ে এলে বলি,
“চলো, আমিও তোমার সঙ্গে খেলি।”
ও কোনো গল্প করলে কাজ থামিয়ে অন্তত একবার মন দিয়ে শুনি।
কারণ সন্তান বড় হয়ে একদিন হয়তো আর আমাদের কোলে বসবে না।নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে রাখবে।
নিজের বন্ধু, নিজের পৃথিবী, নিজের ব্যস্ততা তৈরি করবে।
তখন আমরা হয়তো অনেক কিছু কিনে দিতে পারব,
কিন্তু শৈশবটা কিনে এনে দিতে পারব না।
তাই সন্তানকে শুধু ভালো জীবন দেওয়ার চেষ্টা না করে,
তার শৈশবটাও সুন্দর করে তোলার চেষ্টা করি।
কারণ একদিন সে বড় হয়ে আমাদের দেওয়া খেলনাগুলো মনে রাখবে না হয়তো…
কিন্তু মনে রাখবে—
“আমার মা আমার সঙ্গে বসে খেলত।”
“আমার বাবা আমার কথা মন দিয়ে শুনত।”
আর একজন সন্তানের শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি—
হয়তো এটাই। 🤍