Buzz Feed

Buzz Feed বিনোদন জগতের সবচেয়ে আলোচিত খবর, গুঞ্জন আর পপ-কালচারের খুঁটিনাটি জানতে রোজ চোখ রাখুন আমাদের পেজে। খবর পেয়ে যান সবার আগে! 🐝🎬


কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলমের সাবেক স্ত্রী রিয়া মনি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। দীর্ঘদিনের...
03/09/2026

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলমের সাবেক স্ত্রী রিয়া মনি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। দীর্ঘদিনের নানা বিতর্ক ও গু-ঞ্জ-নের অবসান ঘটিয়ে নতুন করে সংসার শুরু করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক ঘোষণার মাধ্যমে তিনি নিজেই তার বিয়ে নিশ্চিত করেছেন।

রিয়া মনি জানান, কয়েক দিন আগেই দুই পরিবারের পূর্ণ সম্মতিতে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। পাত্র তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক এবং পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর কামরুল ইসলাম রিয়াজ, যিনি 'মক্স অভি' নামেই নেটদুনিয়ায় অধিক পরিচিত।

বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ বা আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ না করলেও নতুন জীবনে তিনি যে বেশ স্বস্তিতে আছেন, তা তার বক্তব্যে স্পষ্ট।

এর আগে হিরো আলমের সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় রিয়া মনি ও অভির সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। হিরো আলম একাধিকবার তাদের মধ্যে অ-নৈ-তি-ক সম্পর্কের অভিযোগ এনে প্রকাশ্যে সরব হন, যার জের ধরে হা-ম-লা ও আই-নি জ-টি-ল-তার মতো ঘটনাও ঘটে।

সময় গড়ালে হিরো আলম নিজে থেকেই রিয়া মনির জীবন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে আই-নি ও ব্যক্তিগত বাধা কাটিয়ে মুক্ত থাকা রিয়া মনি কোনো প্রকার জ-টি-ল-তা ছাড়াই অভির সঙ্গে নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেন।

অন্যদিকে সাবেক স্ত্রীর বিয়ের খবরের মধ্যে হিরো আলম বর্তমানে অবস্থান করছেন সৌদি আরবে। সেখানে তিনি পবিত্র ওমরাহ পালনের পাশাপাশি কিছু অনুষ্ঠান ও একটি নতুন মোবাইল শোরুম উদ্বোধনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

03/09/2026

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

টেনিস জগতের নক্ষত্র রজার ফেদেরার ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড় লেটন হিউইটের লড়াই ছিল একসময় কোর্টের অন্যতম আকর্ষণ।এবার তাদ...
02/09/2026

টেনিস জগতের নক্ষত্র রজার ফেদেরার ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড় লেটন হিউইটের লড়াই ছিল একসময় কোর্টের অন্যতম আকর্ষণ।

এবার তাদের সন্তানদের ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।

রজার ফেদেরারের মেয়ে মাইলা ফেদেরার ও লেইটন হিউইটের ছেলে ক্রুজ হিউইটকে একসঙ্গে দেখে তাদের নিয়ে শুরু হয়েছে প্রেমের গু-ঞ্জ-ন।

সম্প্রতি ইউএস ওপেনের ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে ক্রুজ ও মাইলাকে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে সময় কাটাতে দেখা যায়। দুজনকে হাসতে, গল্প করতে এবং মুঠোফোনে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকতেও দেখা যায়। মাইলার যমজ বোন শার্লেন ফেদেরারও সেখানে ছিলেন।

তবে ক্রুজ ও মাইলার মধ্যকার ঘনিষ্ঠতাই নজর কেড়েছে বেশি।

পরিবারের সঙ্গে রজার ফেদেরার। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

এর আগে বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং পরে উইম্বলডনেও ক্রুজ ও মাইলাকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। উইম্বলডনে মাইলাকে ক্রুজের ম্যাচে সমর্থন দিতে দেখা যায়।

এসব দৃশ্য থেকেই দুজনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

**আরো পড়ুন**

‘টেনিস আমার পুরো পৃথিবী ছিল’—হল অব ফেমে আবেগাপ্লুত ফেদেরার

‘টেনিস আমার পুরো পৃথিবী ছিল’—হল অব ফেমে আবেগাপ্লুত ফেদেরার

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম *ডেইলি মেইল* বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রুজ ও মাইলা দুজনের কেউই তাদের সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। পরিবারে পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি। ফলে আপাতত এটি শুধুই গু-ঞ্জ-ন।

ক্রুজ ও মাইলা সমবয়সী; দুজনেরই বয়স ১৭ বছর। ক্রুজ এরই মধ্যে বাবার পথ অনুসরণ করে পেশাদার টেনিসে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বছর জুনিয়রদের উইম্বলডনে ছেলেদের এককের ফাইনালেও উঠেছিলেন তিনি।

মাইলা ও তার যমজ বোন শার্লেন রজার ফেদেরার ও মিরকা ফেদেরারের সন্তান। ফেদেরারের যমজ ছেলে সন্তানও আছে। তবে তার কোনো সন্তান এখনো পেশাদার টেনিসে আসেননি।

একটি পর্যায়ে গিয়ে শান্তি রক্ষার জন্য করা কোনো চুক্তিও এমন মনে হতে পারে, যেন তা খারাপ আচরণকে পুরস্কৃত করছে। ভারতের কাছে স...
02/09/2026

একটি পর্যায়ে গিয়ে শান্তি রক্ষার জন্য করা কোনো চুক্তিও এমন মনে হতে পারে, যেন তা খারাপ আচরণকে পুরস্কৃত করছে। ভারতের কাছে সেই মুহূর্তটি আসে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল।

জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে স-ন্ত্রা-সী হা-ম-লায় নি-হ-ত হন ২৬ জন। নয়াদিল্লি এই হা-ম-লার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক স-ন্ত্রা-সী-দের দায়ী করে। এরপর ভারত ঘোষণা দেয়, ছয় দশকের বেশি পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখা হবে—যত দিন না পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্তপারের স-ন্ত্রা-স-বা-দে সমর্থন বন্ধ করে।

বার্তাটি ছিল স্পষ্ট।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সুবিধাকে আর নিরাপত্তা পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখবে না ভারত। এবার সেই বিতর্ক গড়িয়েছে দ্য হেগে।

২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পাকিস্তানের আবেদনে সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে গঠিত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত রায় দেন, চুক্তিটি এখনো কার্যকর এবং ভারতের একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত চুক্তিকে স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। একই সঙ্গে ভারতের রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে অন্তর্বর্তী কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়।

পাকিস্তান এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, তারা কখনোই এই সালিসি আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত—চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত—নিয়ে রায় দেওয়ার এখতিয়ারও এই ট্রাইব্যুনালের নেই।

আইনি লড়াই হয়তো চলবে। কিন্তু এর বাইরে একটি বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্ন থেকেই যায়।

একটি দেশ কেন এমন একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সব সুবিধা বজায় রাখতে বাধ্য থাকবে, যদি তার বিশ্বাস হয় যে অপর পক্ষ একই সঙ্গে স-ন্ত্রা-সী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে এবং তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে স-হি-ং-স-তাকে উৎসাহিত করছে?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু 'pacta sunt servanda'—অর্থাৎ চুক্তি অবশ্যই মানতে হবে—নীতির কথা বললেই শেষ হয়ে যায় না।

অবশ্যই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তির প্রতি সম্মান না থাকলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশৃঙ্খলায় পড়ত। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন কখনোই চুক্তিকে এমন কোনো পবিত্র বস্তু হিসেবে দেখেনি, যা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেও পরিবর্তন বা স্থগিত করা যাবে না। চুক্তিবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনে বিশেষ পরিস্থিতিতে চুক্তি স্থগিত বা বাতিলের কিছু ভিত্তি স্বীকৃত আছে—যেমন গুরুতর চুক্তিভঙ্গ বা পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন।

সেই মানদণ্ড ইচ্ছাকৃতভাবেই কঠোর। কিন্তু কঠোর মানে অসম্ভব নয়।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ইতিহাসেও দেখা যায়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দেশগুলো কখনো কখনো দীর্ঘদিনের চুক্তিগত অবস্থান পুনর্বিবেচনা করেছে।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে করা অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। ওয়াশিংটনের যুক্তি ছিল, ১৯৭২ সালে চুক্তিটি সইয়ের পর আন্তর্জাতিক কৌশলগত পরিবেশ আমূল বদলে গেছে এবং নতুন বাস্তবতা তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থকে প্রভাবিত করছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস বা আইএনএফ চুক্তি থেকেও সরে আসে। তাদের অভিযোগ ছিল, রাশিয়া চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে এবং সেই পরিস্থিতিতে চুক্তির মধ্যে থেকে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এই সিদ্ধান্তগুলোর পক্ষে বা বিপক্ষে মত থাকতে পারে। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার—রাষ্ট্রগুলো সাধারণত চুক্তিকে আত্মঘাতী বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখে না।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেলে সরকারগুলো অতীতে নেওয়া প্রতিশ্রুতিও নতুন করে মূল্যায়ন করে। ভারত বলতে পারে, একই নীতি তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

**পানি শুধু পানি নয়**

সমালোচকদের যুক্তি ভিন্ন। সিন্ধু পানি চুক্তি একটি পানিবণ্টন চুক্তি, সামরিক বা নিরাপত্তা চুক্তি নয়। তাই স-ন্ত্রা-স-বা-দের সঙ্গে এর কার্যকারিতার সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। কিন্তু এই যুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে।

এ অঞ্চলে পানি শুধু পানি নয়। সিন্ধু নদ অববাহিকা পাকিস্তানের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতির প্রাণভোমরা। ১৯৬০ সালের চুক্তিতে সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব—এই পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি মূলত পাকিস্তানের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়। অন্যদিকে ভারতকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়। পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলোর ওপর ভারতের অধিকতর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়। ফলে পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দিয়েছে।

দেশভাগের পর বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তি যুদ্ধ, সামরিক উত্তেজনা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক বৈরিতার মধ্যেও টিকে আছে। স্বাধীনতার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন।

কিন্তু টিকে থাকা মানেই অপরিবর্তনীয় থাকা নয়। ১৯৬০ সালের ভারত ও পাকিস্তান আর ২০২৬ সালের ভারত ও পাকিস্তান এক বাস্তবতায় নেই। জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন নতুন সংকট তৈরি করেছে। পানির ঘাটতি, জ্বালানির চাহিদা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে গেছে।

ভারতের যুক্তি হলো, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটেছে দুই দেশের সম্পর্কের চরিত্রে। নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে পাহেলগাম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভারত দীর্ঘদিন ধরে মুম্বাই, উরি, পুলওয়ামা ও পাহেলগামসহ বিভিন্ন হা-ম-লায় পাকিস্তানভিত্তিক জ-ঙ্গি-গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে আসছে। পাকিস্তান অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

ভারত পাহেলগাম হা-ম-লার ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তাইয়েবা ও টিআরএফ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের কথাও বলেছে। পাকিস্তান এখনো কোনো ধরনের দায় স্বীকার করেনি।

এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ শুধু কূটনৈতিক বিতর্ক নয়। সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার পেছনে ভারতের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত যুক্তিরও অংশ।

**ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি কোথায়**

ভারতের অবস্থানকে সবচেয়ে শক্তিশালীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এভাবে—স-ন্ত্রা-স-বা-দ ঘটলেই কোনো চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। এমন দাবি টেকসই নয়। বরং ভারতের যুক্তি একটি সামগ্রিক বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

বারবার স-ন্ত্রা-সী হা-ম-লা, পাকিস্তানভিত্তিক উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে ভারতের অভিযোগ, সীমান্তপারের স-ন্ত্রা-স-বা-দে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি এবং পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তন—সব মিলিয়ে সেই পরিস্থিতি আর নেই, যে পরিস্থিতিতে সিন্ধু পানি চুক্তির জন্ম হয়েছিল। ভারতের যুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা সম্ভবত এটিই।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে—চুক্তি স্থগিত করা এবং চিরতরে বাতিল করে দেওয়া এক বিষয় নয়। ভারত এখনো বলেনি যে সিন্ধু পানি চুক্তির অস্তিত্ব চিরতরে শেষ। তারা বলছে, চুক্তিটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং এর ভবিষ্যৎ পাকিস্তানের আচরণের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ দরজাটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলালে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আবার শুরু হতে পারে। ভারতের বক্তব্য তাই এমন নয় যে চুক্তির কোনো মূল্য নেই। বরং তাদের যুক্তি হলো, সহযোগিতার যেমন সুবিধা আছে, তেমনি বিশ্বাস ধ্বংসেরও পরিণতি আছে।

দ্য হেগের সালিসি আদালত অবশ্য ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তাদের মতে, ভারত যে কারণগুলো দেখিয়েছে, তা চুক্তি স্থগিত বা বাতিলের জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু আদালতের কোনো রায় কি এমন জায়গায় বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে, যেখানে বিশ্বাসই আর অবশিষ্ট নেই?

আন্তর্জাতিক আইনকে এত যান্ত্রিকভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত কি না, সেটিও প্রশ্ন। কারণ, কোনো রাষ্ট্র যদি মনে করে তার নিরাপত্তা পরিবেশ মৌলিকভাবে বদলে গেছে, তাহলে তার প্রতিক্রিয়ার কোনো অর্থবহ সুযোগ কি থাকা উচিত নয়?

**শান্তি কি একপক্ষের দায়িত্ব?**

যারা ভারত ও পাকিস্তানকে সংলাপ ও সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান, তাদের বক্তব্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। পানি সহযোগিতা জরুরি। চুক্তির স্থিতিশীলতা জরুরি। আঞ্চলিক শান্তিও জরুরি। কিন্তু স্থিতিশীলতার অর্থ কি এই যে একটি পক্ষ তার কাছে মৌলিক নিরাপত্তা হুমকি মনে হওয়া সত্ত্বেও সহযোগিতার সব সুবিধা অব্যাহত রাখবে?

শান্তি একতরফা দায়িত্ব হতে পারে না। ভারতের দৃষ্টিতে, পাকিস্তান যদি সিন্ধু পানি চুক্তিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চায়, তাহলে শুধু দ্য হেগে আরেকটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করলেই হবে না। যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিস্থিতির কারণে চুক্তিটি ভারতের কাছে ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে, তার সমাধান করতে হবে।

ভারতের কাছে এর অর্থ সীমান্তপারের স-ন্ত্রা-স-বা-দের অবসান এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে ভারতের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে আর কোনো হুমকি তৈরি হবে না—এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা। পাকিস্তানের জন্য এর অর্থ হতে পারে, ভারতের কৌশলগত ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে—সেটি স্বীকার করা।

সিন্ধু পানি চুক্তি জন্ম নিয়েছিল ভিন্ন এক দক্ষিণ এশিয়ায়। সেসময় ভারত রাজনৈতিক বৈরিতার বাইরে পানি সহযোগিতাকে আলাদা করে রাখতে রাজি হয়েছিল এই আশায় যে সহযোগিতা হয়তো একদিন সম্পর্ক উন্নয়নের পথ তৈরি করবে। সেই আশা বারবার পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

পাহেলগামের শিক্ষা তাই ভারতের দৃষ্টিতে এই নয় যে চুক্তির কোনো মূল্য নেই। বরং শিক্ষা হলো, কোনো চুক্তিকে তার স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর আচরণ থেকে অনন্তকাল বিচ্ছিন্ন করে রাখা যায় না।

সিন্ধু পানি চুক্তি যুদ্ধের মধ্যেও টিকে আছে—এটি সত্য। কিন্তু টিকে থাকা আর চিরস্থায়ী হওয়া এক বিষয় নয়। ৬৬ বছরের পুরোনো একটি চুক্তিকে জাদুঘরের নিদর্শনের মতো অপরিবর্তনীয় ধরে নেওয়া যায় না, যখন তার চারপাশের কৌশলগত, পরিবেশগত ও রাজনৈতিক বাস্তবতা আমূল বদলে গেছে।

পানি হয়তো চুক্তির নিয়ম মেনে সীমান্ত অতিক্রম করে। বিশ্বাস করে না। পাকিস্তান যদি চুক্তিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে সেই প্রত্যাবর্তন শুধু দ্য হেগের আদালতে জেতা যাবে না। বাস্তব পৃথিবীতে আস্থা পুনর্গঠন করতে হবে—যে আস্থা একসময় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতাকে সম্ভব করেছিল।

সেই আস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত ভারতের কাছে পাহেলগামের পরও সবকিছু অপরিবর্তিত রয়েছে—এমন আচরণ প্রত্যাশা করা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান নয়। বরং সেটি বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার দাবি। আর কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের কাছ থেকে বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার এমন প্রত্যাশা কতটা যুক্তিসংগত, সেটিই এখন সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে বিতর্কের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

প্রথমবারের মত ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন। কেন্দ্রীয় চরিত্রে এবারই অভিষেক হতে চললেও অভিনয়ে তিনি নতুন নন।শিশুশিল্পী হিসেবে কা...
02/09/2026

প্রথমবারের মত ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন। কেন্দ্রীয় চরিত্রে এবারই অভিষেক হতে চললেও অভিনয়ে তিনি নতুন নন।

শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন বহু বিজ্ঞাপন, নাটক এমনকি সিনেমাতেও। তবে সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে বের হবার পর আগামীর এই যাত্রাকে একেবারে নতুন শুরু হিসেবেই দেখতে চান। বলছিলাম এবারের লাক্স সুপারস্টার চ্যাম্পিয়ন বিদুষী বর্ণিতার কথা।তাঁর সেই নতুন শুরুর গল্পই শুনলেন ইমরুল নূর।

**ওয়েবে নতুন অধ্যায়**

প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন তিনি। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় ‘নিউলি ম্যারেড’ গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। বিপরীতে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব।

অভিনয়ের নতুন এই অধ্যায় নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত বর্ণিতা বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছি তাও আবার শিহাব শাহীন স্যারের নির্দেশনায়।

সত্যি বলতে আমি অনেক উচ্ছ্বসিত, একইসঙ্গে আনন্দিত। প্রায় দুই মাসের মতো রিহার্সেল করেছি, তারপর শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। এটা আমার জন্য অনেক কিছু। কারণ, হয়তো লাক্সের প্লাটফর্ম থেকে এমন সম্ভাবনা নিয়ে না বের হলে এরকম সুযোগ পেতাম না। রিহার্সেল থেকে শুরু করে শুটিংয়ের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি।

নানান কিছু শিখছি। খুবই ভালো লাগছে আমার কাছে। আমার প্রায় নব্বই ভাগ অংশের শুটিং শেষ। আর একদিন শুট করলেই শেষ হয়ে যাবে।’

**তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে জুটি**

প্রথম ওয়েব ফিল্মেই সহশিল্পী হিসেবে তৌসিফ মাহবুবকে পাওয়া বর্ণিতার জন্য বাড়তি আনন্দের। শুধু এই কাজেই নয়, সামনে আরও কয়েকটি নাটকেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠেছে শেখার বড় সুযোগ।

বর্ণিতা বলেন, ‘আমি খুবই ভাগ্যবতী যে, প্রথম কাজেই সহশিল্পী হিসেবে তৌসিফ ভাইয়ার মত একজনকে পেয়েছি। ওয়েব ফিল্মের শুটিং করতে গিয়ে প্রতিটা সময়েই উনার দারুণ সহযোগিতা পেয়েছি। আমার ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিয়ে কোন সংলাপটা কীভাবে দিলে ভালো হবে কিংবা কোন কাজটা কীভাবে করতে হবে-তার অনেক কিছুই হাতে ধরে শিখিয়ে দিচ্ছেন। উনি উনার নিজের অংশের চেয়ে আমার অংশটুকু কীভাবে আরও বেটার পারফর্ম করা যায়, সেসব পরামর্শ দিচ্ছেন। সত্যি বলতে, উনি ভীষণ আন্তরিক এবং সহযোগিতাপরায়ণ।’

এরপর বললেন, ‘এই ওয়েব ফিল্মটি ছাড়াও সামনে ভাইয়ার সঙ্গে কাজের কথা চলছে। এটাতেও আমি ভীষণ খুশি।’

**শিশুশিল্পী থেকে নায়িকা**

বর্ণিতার অভিনয়জীবনের শুরুটা আজ থেকে নয়। মাত্র তিন বছর বয়সেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে প্রথম শিশুশিল্পী হিসেবে একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তাঁকে। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত অসংখ্য বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। পাশাপাশি অভিনয় করেছেন নাটকেও। নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত ‘গেরিলা’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি, যেখানে তাঁর চরিত্রের নাম ছিল শাওন।

শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে বর্ণিতা বলেন, ‘আমি যখন খুব ছোট, তিন বছর বয়স হবে; তখন থেকেই আমি শোবিজে কাজ করছি। অনেকগুলো কাজের নাম হয়তো মনেও নেই, তবে সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল জনপ্রিয়। সেখান থেকে এখন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অর্থাৎ নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি, এর জন্য কৃতজ্ঞতা।’

**ডজনেরও বেশি অডিশনে রিজেক্ট হয়েছিলেন**

শিশুশিল্পী থেকে টিনএজে পা রাখার পর বদলে যায় পথচলা। বিভিন্ন কাজের জন্য অডিশন দিতে শুরু করলেও বহু বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বর্ণিতা। নিজের প্রতি আস্থা থাকলেও কেন সুযোগ পাচ্ছেন না—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেত তাঁর মনে। একসময় আরও হতাশ হয়ে পড়েন যখন দেখেন, তাঁর জায়গায় পরিচিত মুখ হিসেবে বিভিন্ন টিকটকার ও ইনফ্লুয়েন্সার সুযোগ পাচ্ছেন। সেই হতাশাই একসময় তাঁকে নতুন কিছু করার তাগিদ দেয়। অংশ নেন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়। শেষ পর্যন্ত সেখানেই আসে সাফল্য।

বর্ণিতার কথায়, ‘আমি নিজেকে নিয়ে অনেক কনফিডেন্ট। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দেবার পরেও রিজেক্ট হচ্ছিলাম। আমার যদি কোয়ালিটি না থাকতো বা আমি যদি কনফিডেন্ট না থাকতাম তাহলে হয়তো বিষয়টি মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু যখন দেখি আমার জায়গায় বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সাররা সুযোগ পাচ্ছে, যেহেতু তারা একটু পরিচিত; তখন আমার খারাপ লাগা শুরু হলো। মনে ক্ষোভ জন্মাল যে, কিছু একটা করতে হবে। তারপরেই আমি লাক্সে অংশগ্রহণ করি। মজার বিষয় হলো, সেসময় যারা আমাকে রিজেক্ট করেছিলেন এখন তাঁরাই আমার সঙ্গে কাজের জন্য যোগাযোগ করছেন। আমি মনে মনে হাসছিলাম শুধু।’

**বন্ধুহীন বেড়ে ওঠা**

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে সদ্যই উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা শেষ করেছেন তিনি। এখন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। কিন্তু শৈশব থেকে কৈশোর, এই দীর্ঘ সময়ে স্কুল-কলেজে সেভাবে কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু তৈরি হয়নি তাঁর।

সহপাঠীদের সঙ্গে মিশলেও ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বা ‘মাই পিপল’ বলার মতো কেউ ছিল না। তবে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় এসে সেই শূন্যতা কিছুটা পূরণ হয়েছে। ফারিশতা মৌ ও নাযাহ নাওয়ারকে পেয়েছেন কাছের বন্ধু হিসেবে।

বর্ণিতা বলেন, ‘আমি যে অনেক অন্তর্মুখী ছিলাম, ব্যাপারটা এরকমও না। কিন্তু তারপরেও স্কুল-কলেজে সে অর্থে আমার কোনো বন্ধু-বান্ধব গড়ে ওঠেনি, যাকে আমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড বা মাই পিপল বলতে পারব। আমার মা-ই হচ্ছে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। তবে লাক্স-এ অংশ নিয়ে দুজনের সঙ্গে আমার বেশ সখ্যতা গড়ে ওঠেছে। যদিও একটা প্রতিযোগিতায় সবাই সবার প্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু তারপরেও এখান থেকেই ফারিশতা এবং নাযাহকে পেয়েছি, যে দুজন এখন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।’

**অবসরে বই ও সিনেমা**

বই পড়ার প্রতি আলাদা একটা টান অনুভব করেন বর্ণিতা। প্রচুর বই পড়েন এবং প্রচুর সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন তিনি।

তাঁর কথায়, ‘আমার এই অভ্যাসটা সেই ছোটবেলা থেকেই। বই পড়তে এবং মুভি দেখতে প্রচণ্ড ভালোবাসি। বিদেশি লেখকদের বই বেশি পড়া হয় আমার। যদি বলেন প্রিয় লেখক কে, তাহলে বলব- ফ্রাঞ্জ কাফকা। আর বিদেশি সিনেমা, সিরিজ কোনোটাই বাদ রাখি না। সুযোগ পেলেই দেখতে বসে যাই। তবে এখন চেষ্টা করি আমাদের দেশের কাজগুলো দেখার।’

**অভিনয়ে প্রিয় মুখ**

ছোটবেলা থেকে অনেকের কাজ দেখলেও বর্ণিতার পছন্দের শিল্পীর তালিকায় রয়েছেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী। সিনিয়রদের মধ্যে বিপাশা হায়াত, অপি করিম, আফসানা মিমিদের খুব পছন্দ করেন তিনি।

বর্ণিতার ভাষায়, ‘আমি পুরোনো অর্থাৎ অনেক আগের কাজগুলো দেখতে ভীষণ পছন্দ করি, সে জায়গায় বিপাশা হায়াত, অপি করিম, আফসানা মিমি ম্যামদের কাজ আমার খুব ভালো লাগে। জয়া আহসান ম্যাম আমার ভীষণ ভীষণ প্রিয়। তার কাজ, অভিনয়, পার্সোনালিটি সবকিছুই আমার কাছে দারুণ লাগে। মেহজাবীন আপুকেও অনেক ভালো লাগে। এর বাইরে আফরান নিশো ভাইয়া এবং প্রীতম হাসান ভাইয়া আমার অনেক পছন্দের।’

**স্বপ্নের সীমানা আন্তর্জাতিক**

পড়শোনা চালিয়ে যাবার পাশাপাশি অভিনয়েই নিজেকে থিতু করতে চান বর্ণিতা। যদি কখনো একটাকে বেছে নিতে হয় তবে অভিনয়কেই এগিয়ে রাখবেন বলে জানান।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বর্ণিতা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার লক্ষ্য বা স্বপ্ন যেটাই বলি না কেন, সেটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করা, সেটা যে কোনো মাধ্যমেই হোক না কেন। সেটা অভিনয় হতে পারে বা আমার যে কোনো কাজ দিয়েই হতে পারে।’

**ছোট পর্দা পেরিয়ে বড় পর্দায়**

নিজেকে ছোট পর্দায় ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে চান বর্ণিতা। একই সঙ্গে বড় পর্দাতেও কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর।

তিনি বলেন, ‘সিনেমা তো সবারই লক্ষ্য থাকে, আমিও চাই। ইতিমধ্যে রায়হান রাফী স্যারের সঙ্গে একটা সিনেমা নিয়ে কথা চলছে। এই বছরের শেষে নাহলে আগামী বছরের প্রথম দিকে সম্ভবত কাজটা শুরু হবে। এটা নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আপাতত বলতে পারছি না।’

‘জুলাইকে বিক্রি করে এনসিপি থেকে শুরু করে সমন্বয়করা- যারা উপদেষ্টা ছিল, সবগুলো দুর্নীতিবাজ। সরকার যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ...
02/09/2026

‘জুলাইকে বিক্রি করে এনসিপি থেকে শুরু করে সমন্বয়করা- যারা উপদেষ্টা ছিল, সবগুলো দুর্নীতিবাজ। সরকার যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে, এরা সবাই দুর্নীতিবাজ হিসেবে প্রমাণিত হবে জাতির কাছে।

এই জাতি কোনোদিন এদের ছাড় দেবে না। সরকারের কাছে আমার একটাই অনুরোধ, দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনেন এবং জুলাইযোদ্ধাদের বিষয়ে ফয়সালা করেন।’

প্র-তারণা, মা-রধর ও জুলাইযোদ্ধার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আদালতে মামলা দায়েরের পর কথাগুলো বলেন জুলাইযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম মো. গিয়াস উদ্দিন, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার।

আমি জাইকায় চাকরি করতাম। গণঅভ্যুত্থান আমি সক্রিয়ভাবে শরীক হই এবং আমার বাম পায়ে গু-লিবি-দ্ধ হয়ে আ-হ-ত হই। আমি ভালোভাবে চি-কিৎ-সাও পাইনি। জুলাই ফাউন্ডেশনে আমার গেজেট হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এমআইএস হয়।

জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে বারবার তারিখ দেওয়া হয় যে, আমার অনুদানের চেক হয়ে যাবে। এভাবে বেশ কিছুদিন ঘুরায়।’

‘ঘুরানোর পর আমি খুঁজতে খুঁজতে হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস এবং স্লিগ্ধদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে আশ্বাস দেয় যে, আপনার সবকিছু ঠিক আছে, আপনি অতি শিগগিরই অনুদান পেয়ে যাবেন। তাদের সুপারিশক্রমে আমি জুলাই ফাউন্ডেশনে যাই।

সেখানে আমাকে বলে, আপনার চেক রেডি হয়ে গেছে, আপনি টাকা পাবেন।’

গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরে তারা আমাকে নিয়ে যায় ভেতরের একটা অন্ধকার রুমে, যেখানে কোনো আলো ছিল না- এটা অফিসের পেছনে। ওখানে নিয়ে উনারা আমাকে বলে যে, আপনার দুই ধাপের টাকা আমরা একসাথে দেব- প্রথম ধাপের ১ লাখ, দ্বিতীয় ধাপের দুই লাখ। আমরা আপনাকে দুই ধাপের টাকাই একসাথে দিয়ে দেব। তবে আমরা আপনাকে চেক দেব না। টাকা ভাঙিয়ে অর্ধেক টাকা আপনি পাবেন না, বাকি অর্ধেক টাকা আমরা আপনাকে দিয়ে দেব।’

তিনি বলেন, ‘তখন আমি এর প্রতিবাদ জানাই যে, এতদিন পর আমরা চি-কিৎ-সা করতে পারি না, আমাদের কাজ-কর্ম সব বন্ধ, ট্রিটমেন্ট চলে না, এই অবস্থায় আমি কাউকে এক টাকাও দিতে পারব না এবং এটার ঘোর প্রতিবাদ জানাই। তখন চারজন মিলে আমাকে উপুর্যপুরি মা-রধর করে- ঘু-ষি মারে, কি-ল মারে, লা-ঠি মারে। এক পর্যায়ে আমি দেয়ালের সঙ্গে বারি খাই। একটা লোহার কি যেন ছিল, সেটা আমার মাথায় ঢুকে যায় এবং প্রচুর র-ক্ত-ক্ষ-রণ হয়। তারপর আমি অ-জ্ঞা-ন হয়ে পড়ে যাই, অনেক চিৎকার করি। কিন্তু ওখানে এমন জায়গা যে, শব্দ বাইরে যায় না। সেখানে ১০-১২ জন আসে আর যায় এবং আমাকে মারে। অ-জ্ঞা-ন হওয়ার কিছুক্ষণ পর - আমি পানি চাই, উনারা আমাকে পানি খাওয়ায় এবং পরে আবার আমাকে ট-র্চা-র করে যে, আমাদের কথা না শুনলে যদি ম-রে যাই লাশ গুম করে ফেলবে।’

গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আরো অনেক জুলাইযোদ্ধার ওপর ট-র্চা-রিং করেছে। যে আশা নিয়ে শরীরের র-ক্তি দিয়ে আমরা নেমেছি (আন্দোলনে), সেই আশায় গুড়ে বালি দিয়ে তারা টাকা-পয়সা আ-ত্ম-সা-ৎ করে আমাদের ওপরে- নিরীহ জুলাইযোদ্ধাদের ওপরে নির্মন অ-ত্যা-চা-র করেছে।’

উল্লেখ্য, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়াস উদ্দিনের করা মামলার আসামিরা হলেন- ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য নাম, আব্দুর রাজ্জাক। পর্দায় তার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বতন্ত্রতা আর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ...
02/09/2026

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য নাম, আব্দুর রাজ্জাক। পর্দায় তার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বতন্ত্রতা আর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তাঁকে এনে দিয়েছিল ভালোবাসার এক বিশেষ উপাধি ‘নায়করাজ’।

আজ শনিবার (২১ আগস্ট) এই কিংবদন্তি অভিনেতার নবম মৃ-ত্যু-বার্ষিকী।

২০১৭ সালের এই দিনে হৃ-দ-রো-গে আ-ক্রা-ন্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ্জাক। মৃ-ত্যু-কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তার প্র-য়া-ণে দেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছিল শো-কে-র ছায়া।

তবে সময় পেরিয়ে গেলেও দর্শকের হৃদয়ে আজও সমান উজ্জ্বল নায়করাজের স্মৃতি। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান তাকে করে রেখেছে অনন্য।

**কলকাতা থেকে ঢাকায়, তারপর নায়করাজ হয়ে ওঠা**

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের কলকাতার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুর রাজ্জাক। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ।

কলকাতার থিয়েটারে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার অভিনয়জীবন।

সিনেমার নায়ক হওয়ার স্বপ্ন তাকে নিয়ে যায় মুম্বাইয়ে। ১৯৫৯ সালে সেখানে ফিল্মালয়ে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা ও ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন তিনি। পরে কলকাতায় ফিরে ‘শিলালিপি’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

তবে ১৯৬৪ সালে কলকাতার সাম্প্রদায়িক দা-ঙ্গা-র প্রেক্ষাপটে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে আসতে হয় তাকে।

নতুন শহরে শুরু হয় জীবনের নতুন লড়াই। শূন্য থেকে পথচলা শুরু করা সেই রাজ্জাকই একসময় নিজের মেধা, শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে হয়ে ওঠেন দেশের চলচ্চিত্রের ‘নায়করাজ’।

বাংলাদেশে এসে ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের পরিচালক আব্দুল জব্বার খানের সহযোগিতায় ঢাকাই চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পান তিনি। ১৯৬৬ সালে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার এ দেশের চলচ্চিত্রযাত্রা। এরপর ‘কার বউ’ ও ‘ডাক বাবু’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।

তবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’। এই চলচ্চিত্রে লখিন্দরের চরিত্রে সুচন্দার বিপরীতে প্রথমবার নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন রাজ্জাক। ছবিটি মুক্তির পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

**স্বাধীনতার পর শুরু ‘রাজ্জাক যুগ’**

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজ্জাক অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘মানুষের মন’ ব্যাপক ব্যবসাসফলতা পায়। অনেকের মতে, এর মধ্য দিয়েই ঢাকাই চলচ্চিত্রে শুরু হয় ‘রাজ্জাক যুগ’।

পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ ও ‘অবুঝ মন’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান তারকায় পরিণত করেন।

ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে সত্তর ও আশির দশকজুড়ে ছিল তার তুমুল জনপ্রিয়তা। অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে। পাশাপাশি ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেন তিনি।

তার জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘মধু মিলন’, ‘পিচঢালা পথ’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘কী যে করি’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘বেইমান’, ‘আলোর মিছিল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘অনন্ত প্রেম’ ও ‘বাঁদী থেকে বেগম’সহ আরো অনেক ছবি।

**পর্দার জনপ্রিয় জুটি থেকে নায়করাজের আসন**

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সুচন্দা, কবরী, শাবানা ও ববিতার সঙ্গে রাজ্জাকের জুটি দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করেছিল। একের পর এক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়কের আসনে নিয়ে যায়।

অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেন একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দর্শকের দেওয়া ‘নায়করাজ’ উপাধিটিই হয়ে ওঠে তার পরিচয়ের সবচেয়ে বড় অংশ।

**মৃ-ত্যু-বার্ষিকীতে পারিবারিক আয়োজন**

নায়করাজের নবম মৃ-ত্যু-বার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজ্জাকের ছোট ছেলে খালিদ হোসেন সম্রাট গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আব্বার মৃ-ত্যু-বার্ষিকী স্মরণে কোরআন খতম, বাদ ফজর কবর জিয়ারত ও বাদ আসর পরিবারের সবাই মিলে দোয়া করা হবে। এর বেশি কিছু করা হচ্ছে না।’

**যে ছবিগুলোতে আজও বেঁচে আছেন নায়করাজ**

রাজ্জাক অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘বেহুলা’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘দর্পচূর্ণ’, ‘এটুকু আশা’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘নাচের পুতুল’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘শুভদা’, ‘অভিযান’, ‘যোগাযোগ’, ‘অন্ধবিশ্বাস’, ‘টাকা আনা পাই’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’, ‘মানুষের মন’, ‘অতিথি’, ‘যোগ বিয়োগ’, ‘মধু মিলন’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘অনেক প্রেম অনেক জ্বালা’, ‘দ্বীপ নেভে নাই’, ‘পিচঢালা পথ’, ‘দুই ভাই’, ‘আবির্ভাব’, ‘বন্ধু’, ‘বাঁশরী’, ‘আশার আলো’, ‘কে তুমি’, ‘মতিমহল’, ‘আনোয়ারা’, ‘নাত বউ’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘অশিক্ষিত’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘মহানগর’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘স্বরলিপি’, ‘বাঁদী থেকে বেগম’ ও ‘বাবা কেন চাকর’।

ব্যক্তিগত জীবনে রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে সুখের দাম্পত্যে তিন পুত্র ও দুই কন্যার জনক ছিলেন রাজ্জাক। তার দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও খালিদ হোসেন সম্রাটও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

জীবনের শেষভাগে নানা শারীরিক জ-টি-ল-তা-য় ভুগছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। মৃ-ত্যু-র পর তাকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

আজ তার মৃ-ত্যু-র ৯ বছর পূর্ণ হলেও নায়করাজ রাজ্জাক যেন শুধুই স্মৃতির মানুষ নন। সাদা-কালো কিংবা রঙিন পর্দায় তার উপস্থিতি, সংলাপ আর অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি আজও বেঁচে আছেন বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। অভিনয় দিয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও ক্...
02/09/2026

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। অভিনয় দিয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো আক্ষেপ রয়েছে তাঁর।

অভিনয়ে আসার জন্য একাদশ শ্রেণির পরই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন কারিনা। সম্প্রতি হনুমান দাসের সঙ্গে এক কথোপকথনে সেই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আমার পড়াশোনা শেষ করতে পারিনি। বিষয়টি এখনো আমার সঙ্গে থেকে গেছে। একাদশ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করিনি, কারণ আমি সিনেমায় চলে এসেছিলাম।’

তখন অভিনয়কেই নিজের স্বপ্ন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন কারিনা। পড়াশোনা ছেড়ে সিনেমায় আসার কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন, সেটিও জানতেন তিনি। তবে নিজের মনের কথা শুনে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে সাফল্য পেলেও অসম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনের আক্ষেপ অবশ্য পুরোপুরি কাটেনি তাঁর।

নিজের সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দুই ছেলে তৈমুর ও জেহর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারিনা। সন্তানদের আগে পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের পছন্দের পথে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কারিনার কথায়, ‘এই কারণেই আমি আমার ছেলেদের আগে পড়াশোনা শেষ করতে বলি, তারপর নিজেদের মনের কথা অনুসরণ করতে বলি।’

মেয়েদের শিক্ষার বিষয়েও বরাবরই আগ্রহী কারিনা। ২০১৪ সাল থেকে ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

ভারতে মেয়েদের শিক্ষা, লিঙ্গসমতা এবং শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজ করছেন এই অভিনেত্রী।

কারিনার মতে, জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। পাশাপাশি দাতব্য কাজ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

তাঁর মতে, মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত নিজের বিশ্বাস ও ইচ্ছা থেকে, লোক দেখানোর জন্য নয়।

মা হিসেবে তৈমুর ও জেহকে বড় করার অভিজ্ঞতাও কারিনার কাছে বেশ আলাদা। বোন কারিশমা কাপুরের সঙ্গে বড় হওয়ায় ছেলেদের জগৎ তাঁর কাছে অনেকটাই নতুন। মজা করে নিজেকে ‘ফুটবল মম’ ও ‘ক্রিকেট মম’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে গুণগুলো দেখতে চান, সেগুলো হলো সহানুভূতি ও দয়া। কারিনার বিশ্বাস, এই দুই গুণ একজন মানুষকে জীবনে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে।

এদিকে বড় ছেলে তৈমুরের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ক্রিকেট কিংবা ফুটবল খেলোয়াড় হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার স্বপ্ন রয়েছে তার। ছেলের এই ইচ্ছাকে সমর্থন করেন কারিনা। তবে বাবা-মা অভিনয়জগতের মানুষ বলেই সন্তানকেও অভিনয়ে আসতে হবে—এমন ধারণায় বিশ্বাসী নন তিনি।

তৈমুর ভবিষ্যতে যে পেশাই বেছে নিক না কেন, নিজের পছন্দ অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে চান কারিনা।

উল্লেখ্য, সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর খানের বিয়ে হয় ২০১২ সালে। ২০১৬ সালে তাঁদের প্রথম সন্তান তৈমুরের জন্ম হয়। এরপর ২০২১ সালে তাঁদের পরিবারে আসে ছোট ছেলে জেহ।

অ-সু-স্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী মমিতা বাইজু। তী-ব্র জ্বর ও শরীর ব্যথায় ভুগছেন তিনি।চিকিৎসকের পরামর...
02/09/2026

অ-সু-স্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী মমিতা বাইজু। তী-ব্র জ্বর ও শরীর ব্যথায় ভুগছেন তিনি।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত সম্পূর্ণ বি-শ্রা-মে থাকতে হচ্ছে অভিনেত্রীকে। ফলে এই সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া সফরের পরিকল্পনাও বা-তি-ল করতে হয়েছে তার।

‘প্রেমালু’ ও ‘জানা নায়গন’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া মমিতার অস্ট্রেলিয়ায় একটি ওনাম উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ‘লেনড্যাক্সিস ক্লাইড ওনাম ২০২৬’ অনুষ্ঠানটি।

তবে মমিতার শারীরিক অ-সু-স্থ-তার কারণে নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি স্থ-গি-ত করেছে ক্লাইড মালয়ালি অ্যাসোসিয়েশন। অভিনেত্রীর টিম ও অনুষ্ঠানস্থলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন তারিখ নির্ধারণের কাজ চলছে।

এদিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর জন্য অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের উদ্দেশে কথা বলেছেন মমিতা।

সেখানে তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে চি-কিৎ-সা-ধী-ন রয়েছেন তিনি।

মমিতা বাইজু বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, নির্ধারিত তারিখে আমি সেখানে উপস্থিত থাকতে পারছি না। আমি বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। যদি কোনোভাবে সম্ভব হতো, আমি অবশ্যই আসতাম, কিন্তু ডাক্তাররা আমাকে সম্পূর্ণ বি-শ্রা-ম নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় হতাশাও প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

তবে শারীরিক পরিস্থিতির কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর বা-তি-ল করা ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনো উপায় ছিল না বলেও জানান তিনি।

এর আগে ক্লাইড মালয়ালি অ্যাসোসিয়েশন মমিতাকে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তাঁকে ঘিরে ওনাম উদ্‌যাপনের প্রস্তুতিও চলছিল জোরেশোরে। শেষ মুহূর্তে তাঁর সফর বা-তি-ল হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান আয়োজন না করে সেটি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আয়োজকরা।

মমিতা আয়োজক ও তাঁর সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় থাকা সবাইকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ক্লাইড পরিবারের সাথে দেখা করতে আসতে চাই। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। এই পরিস্থিতির কারণেই আমাকে অনুষ্ঠানটি বা-তি-ল করতে হয়েছে। আশা করি, এটি অন্য কোনো সময়ে সম্ভব হবে।’

আয়োজকরা জানিয়েছে, মমিতার টিমের সঙ্গে আলোচনা এবং অনুষ্ঠানস্থলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে অফিশিয়াল সিলেকশন পেয়েছে সুনেরাহ অভিনীত...
02/09/2026

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে অফিশিয়াল সিলেকশন পেয়েছে সুনেরাহ অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।

রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত সিনেমাটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্র ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে।

ফলে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্যও এটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

এই ঐতিহাসিক অর্জনের অংশ হতে এবং সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে যোগ দিতে শিগগিরই ইতালির ভেনিস শহরের উদ্দেশে উড়াল দেবেন সুনেরাহ।

ভেনিসের মতো বিশ্বমানের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়াকে শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের সাফল্য হিসেবে দেখছেন না এই অভিনেত্রী। বরং আন্তর্জাতিক এই আয়োজনকে বিশ্ব চলচ্চিত্র সম্পর্কে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি।

বিশ্বের খ্যাতনামা নির্মাতা, আন্তর্জাতিক তারকা ও চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের একই মঞ্চে কাছ থেকে দেখার এবং তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ সুনেরাহর অভিনয়জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী তিনি।

এর মধ্য দিয়ে দেশের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের কাজের পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন সুনেরাহ।

প্রথম সিনেমা ‘ন ডরাই’ দিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে আলোচনায় এসেছিলেন অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। অভিনয়দক্ষতা দিয়ে অল্প সময়েই ঢালিউডে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তার ক্যারিয়ারে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরো বড় একটি আন্তর্জাতিক অর্জন।

Address

Dhanmondi
Dhaka
1209

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Buzz Feed posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share