30/06/2026
🚨 বাসাইল থানায় চায়না দুয়ারি জালের দৌরাত্ম্য, হুমকিতে দেশীয় মাছ
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাসাইল টিভি
বর্ষার শুরুতে নদী, খাল, বিল, হাওর ও জলাবদ্ধ কৃষিজমিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বহুল পরিচিত ‘চায়না দুয়ারি’ বা চাইনিজ ভাঁজ জাল। সহজে বেশি মাছ ধরার লোভে অনেক জেলে এই জাল ব্যবহার করলেও পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনে এই জালকে জলাভূমির জন্য “মৃত্যুফাঁদ” বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে ক্ষতি করে এই জাল?
চায়না দুয়ারি জালের জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম। ফলে শুধু বড় মাছ নয়, রেণুপোনা, ডিম, কাঁকড়া, চিংড়ি, ব্যাঙ, কচ্ছপ, জলজ সাপ এমনকি অনেক সময় জলচর পাখিও এতে আটকা পড়ে। একবার ঢুকে গেলে অধিকাংশ প্রাণীর বের হওয়ার সুযোগ থাকে না। এতে একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়।
দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটে
বাংলাদেশের নদী-নালা ও বিলে একসময় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত পুঁটি, টেংরা, কৈ, শিং, মাগুর, খলিশা, টাকি, গজারসহ অসংখ্য দেশীয় মাছ। কিন্তু নির্বিচারে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের কারণে এসব মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে মাছ ডিম ছাড়তে ও বিচরণ করতে এলে পথেই এই জালে আটকা পড়ে। ফলে প্রতিবছর মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জাল শুধু মাছই ধরে না; এটি পুরো জলজ খাদ্যশৃঙ্খলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ব্যাঙ, জলজ পোকামাকড়, সরীসৃপ ও অন্যান্য প্রাণী কমে গেলে জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও সিনথেটিক উপাদানে তৈরি হওয়ায় অনেক জাল পরিত্যক্ত অবস্থায় থেকেও দীর্ঘদিন প্রাণী আটকে মেরে ফেলে এবং পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
আইন থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি
মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ক্ষতিকর ও অতিক্ষুদ্র ফাঁসের জাল ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো প্রকাশ্যে এই জাল বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো নিয়মিত অভিযান, বাজার তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
পরিবেশ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে—
* চায়না দুয়ারি জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
* প্রজনন মৌসুমে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
* জেলেদের পরিবেশবান্ধব বিকল্প মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।
* দেশীয় মাছ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে।
উপসংহার
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, আর দেশীয় মাছ আমাদের খাদ্য, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অল্প সময়ে বেশি মাছ পাওয়ার আশায় চায়না দুয়ারি জালের নির্বিচার ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো অনেক দেশীয় মাছ শুধু বইয়ের পাতাতেই দেখতে পাবে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি অপূরণীয় হয়ে উঠতে পারে।