The Mohadan Islami Bangladesh ETC Times 24 bd. com

  • Home
  • The Mohadan Islami Bangladesh ETC Times 24 bd. com

The Mohadan Islami Bangladesh ETC Times 24 bd. com online news paper
Editor. Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
office. Malgodam area Jamalpur

The Mohadan London Times 24 bd. comবড্ড দেরি করে ফেলেছে ইরান, এখন চড়া মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্পপ্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬,Nur A ...
10/06/2026

The Mohadan London Times 24 bd. com
বড্ড দেরি করে ফেলেছে ইরান, এখন চড়া মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্প

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬,
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তিকে তীব্র সমালোচনা করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটি চুক্তিতে আসতে ইরান অনেক বেশি সময় নষ্ট করেছে। এখন তাদের এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। বুধবার (১০ জুন) ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি আগের দাবি পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা ও চরম অবস্থায় রয়েছে। ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তিনি দাবি করেন, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরান শুধু মুখের কথায় পটু, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যের সেই মাস্তান এখন মৃত!

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তিতে আসার সুযোগ ইরান অনেক আগেই পেয়েছিল। কিন্তু তারা অযথা সময়ক্ষেপণ করেছে। এখন সেই ভুলের খেসারত দিতে হবে। তবে চড়া মূল্য বলতে তিনি ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপের কথা বলছেন, সে ব্যাপারে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

The Mohadan London Times 24 bd. Comইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়াThe Daily Mohadan Times প্রকাশ : ০৫ মে ২০২6News Publi...
05/05/2026

The Mohadan London Times 24 bd. Com
ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়া
The Daily Mohadan Times
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২6
News Publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়বার্ষিকী উপলক্ষে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৮ ও ৯ মে ৪৮ ঘণ্টার জন্য এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

রাশিয়া জানায়, প্রতি বছর এ সময় তারা ঐতিহ্যগতভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস পালন করে এবং মস্কো-তে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষেই দুই দিনের এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইউক্রেন।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পৌঁছেনি।

তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবন যেকোনো উৎসবের চেয়ে বেশি মূল্যবান। যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার নেতৃত্বের বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়।

Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Mohadan CNN Bangla News 24 bd. com

The Mohadan London News 24 bd.comজরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রীT...
26/04/2026

The Mohadan London News 24 bd.com

জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
The Daily Mohadan Times
২৬ এপ্রিল ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংসদ নেতা জানিয়েছেন, পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।



রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এক পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।



কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা এবং পুলিশের টহল কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘তেল সংকট’ ও ‘রেশনিং’ এর বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী ফ্লোর নেন।



তিনি বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি আমরা এরইমধ্যে অ্যাড্রেস করেছি। পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড, তাদের ওপর থেকে যে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) ছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এই সমস্যা আর হবে না।



এর আগে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের অজুহাতে পুলিশ রাতে টহল কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Mohadan Sangram Times 24 bd. com

22/03/2026

The Daily Washington Times

সদিচ্ছা থাকলে সংসদই বাস্তবায়ন করতে পারে জুলাই সনদ
The Daily London Times
প্রকাশ: ২২ মার্চ, ২০২৬
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অধিবেশন ডাকার সময় ছিল ৩০ দিন। নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর সেই সময় পার হয়ে গেছে গত ১৫ মার্চ। তবে রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেননি। এমনকি এই পরিষদের জন্য বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট শপথ নিলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারদলীয় এমপিরা সেই শপথও নেননি।

এর মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ অকার্যকর হয়ে গেলেও সংস্কারের আশা শেষ হয়ে যায়নি। কারণ জাতীয় সংসদ হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন ফোরাম। আর সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই জাতীয় সংসদেরই রয়েছে সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদের মূল বিষয়বস্তুসমূহ সংবিধানে সংশোধনী আকারে আনা সম্ভব। আর জাতীয় সংসদে সংশোধনী আনা হলে সাংবিধানিকভাবে ও আইনগতভাবে তা আরও বেশি শক্তিশালী ও স্থায়িত্ব পাবে বলে মনে করেন তারা।
জুলাই সনদ আদেশের প্রেক্ষাপট
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এরপর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে।

সেই সরকারের তিনটি অঙ্গীকার ছিল— বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা সরকারের প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যার বিচার হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনাল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী শাসন কাঠামোয় অধিকতর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপারিশের জন্য ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেসব কমিশনের রিপোর্ট দাখিলের পর ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।

সেই ঐকমত্য কমিশন ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ১৬৬টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ২৫টির বেশি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করে।
আইনি ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ
রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের পরও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে। তবে বিএনপিসহ বামপন্থী দলগুলো বলে, জাতীয় সংসদ ছাড়া এই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। এর মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ৯টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর জাতীয় সংসদের নির্বাচন দাবি করে। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ জারি করেন।

সেই আদেশের ৭ ধারায় এই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, (১) গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হলে— (ক) এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা (constituent power) প্রয়োগ করতে পারবে; (খ) উক্ত নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন; (গ) পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা করার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

এই আদেশের ৮ ধারায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের আলাদাভাবে একটি শপথ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

জামায়াতের শপথ, বিএনপির না
বিএনপির বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে শতকরা ৬৮ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের ওপর ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের জন্য সরকার প্রস্তুতি নিলেও বিএনপি শপথ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যতক্ষণ জুলাই সনদ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত হয়ে সংবিধানের অংশ না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা এমন কোনো শপথ গ্রহণ করবেন না। এটাই তাদের দলীয় অবস্থান। তবে একই দিনে জামায়াত ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্যরা জাতীয় সংসদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
এ অবস্থায় গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিন পার হয়েছে। এর মধ্যেই বিতর্ক উঠেছে— জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ কি তবে অনিশ্চয়তায় পড়ল? এ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা এর মধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন।

বিষয়টি নিয়ে ১৫ মার্চ জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে এই বিতর্ক হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ স্বাভাবিকভাবে তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি। এটি রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে এসেছে। এটি জারি করা হয়েছে ১৩ নভেম্বর ২০২৫। এই আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে এই অধিবেশন ডাকা হয়নি। আমার উদ্বেগের বিষয়টি এখানে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আদেশে বলা রয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। কিন্তু এটি গঠন হয়নি। যে পদ্ধতিতে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হবে, সেই একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন। জুলাই আদেশ অনুযায়ী বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এ আদেশ অনুসারে তারা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে চান।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি সরকারি দল থেকে বক্তব্য আশা করছেন।

জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের অধিবেশন না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধানের ধারা পরিবর্তন হবে বা সংবিধান পরিবর্তন হবে; এ রকম কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসতে পারে না। সেটা জায়েজ নয়। কিন্তু এই যে আদেশ (জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ), এই আদেশটা না অধ্যাদেশ, না আইন; মাঝামাঝি জিনিস। সেদিন আমি বলেছিলাম, এটা হয়তো নিউট্রাল জেন্ডার হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দুটি কাজ বাদে সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করে থাকেন। একইভাবে এই সংসদের আহ্বানও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করেছেন। কিন্তু সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না। রাষ্ট্রপতিও সেই অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন না বিধায় তা করেননি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, তারপরও গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, সংবিধানে আগে সংস্কার আসতে হবে। এই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনা যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ, ১৩৩টি অধ্যাদেশ এখানে প্রথম দিনেই উত্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে যদি সিদ্ধান্ত হয়, সংসদ যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন হতে পারে। আমি কোনো কিছু অস্বীকার করছি না। জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো জায়গা নেই। রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে চলে না। রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রস্তাব দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, তারা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে তার প্রতিটি শব্দকে তারা সম্মান করেন। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে আরোপিত কোনো আদেশ দিয়ে, কোনো অবৈধ আদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা যায় কি না, সেটা একটি বিশাল আইনি প্রশ্ন, সাংবিধানিক প্রশ্ন। তিনি সেটা নিয়েও বিতর্ক ও আলোচনার আহ্বান জানান।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপনি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন দ্য স্পট সলিউশন দেওয়া যায় না। এটার জন্য আপনি নোটিশ দেবেন। নোটিশ পাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত দেব।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হলেও জাতীয় সংসদ ইচ্ছা করলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে পারে বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সংবিধান সংস্কার হওয়া উচিত সাংবিধানিক নিয়মেই। বাংলাদেশের সংবিধান কীভাবে পরিবর্তন হবে তা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে। তাই সেই নিয়ম অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং সরকার দল হিসেবে নিজেদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোকে একত্রিত করে তার আলোকে জাতীয় সংসদেই সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা সংস্কার আনা সম্ভব।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। সংসদ কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীন। তারা এ ব্যাপারে একটা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি বের করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন তা নিয়ে একটি বিতর্ক ছিল। সেখানে তারা একটি পদ্ধতি বের করে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে দায়িত্ব দিয়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এক্ষেত্রেও সংসদ চাইলে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি বের করতে পারে। সেই ক্ষমতা সংসদের রয়েছে।’

সংবিধান সংস্কার পরিষদ না হলেও সংস্কারের পথ বন্ধ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘সংস্কারের পথ এখনও খোলা আছে এবং তা সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই সম্ভব। কারণ কেউই অস্বীকার করছে না যে, সংস্কারের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে সংসদ আলাপ আলোচনা করে সংস্কারের প্রস্তাব পাশের পর আবার রেফারেন্ডাম (গণভোট) দিতে পারে।’

আর সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকেই ভিত্তিহীন বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে আদেশ জারি করা হয়েছে, সেই আদেশেরই কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কারণ রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ জারি করার কোনো ক্ষমতাই নেই। ইতোমধ্যেই আদেশটি উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং আদালত রুল জারি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাদেশ দিয়েও সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তাই বিএনপি যে অবস্থান নিয়েছে সেটি আইনত ও সাংবিধানিকভাবে যথাযথ। তবে বিএনপির যেহেতু এই সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন রয়েছে, তারা ইচ্ছা করলে রাজনৈতিক ঐক্যমতের বিষয়গুলোকে সংসদের মাধ্যমে সংশোধন করে সংবিধানে আনতে পারে। সেজন্য আগে সংসদে সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে হবে।’

তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয় এসেছে; যেমন দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, মৌলিক অধিকারের পরিসর বাড়ানোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ সংসদের মাধ্যমে সংবিধানে আনা সম্ভব। তার আগে সংসদে বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে যতোটুকু সম্ভব সংসদ বাস্তবায়ন করতে পারে। সংসদ ইচ্ছা করলে মৌলিক কিছু বিষয় ভবিষ্যতে পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান সংবিধানে যুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এসব পরিবর্তনে গণভোটের প্রয়োজন পড়বে না।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Mohadan Washington post 24 bd.com

21/03/2026

The Daily Washington post
‘ট্রাম্প তার পুরানো তেজ ‘হারিয়ে’ ফেলেছেন’
The Daily London Times
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ঘিরে তিনি এক ধরনের দ্বিধাবিভক্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং এখন স্পষ্ট কৌশল সংকটে পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর আলজাজিরার

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক মার্কিন আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন- ‘ট্রাম্প নিজেই নিজেকে ইরান যুদ্ধের একটি বক্সে বন্দি করেছেন, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এটিই তার সবচেয়ে বড় হতাশার কারণ।’

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল—ইরান এই যুদ্ধকে কতটা অস্তিত্ব সংকট হিসেবে দেখবে, তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পারা।

আফগানিস্তান ও তুরস্কে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বাস বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত কোন কোন দিকে মোড় নিতে পারে—সে বিষয়ে তারা যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়নি। ফলে পরিস্থিতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি।

এদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক কৌশলগত প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সিচুয়েশন রুমের প্রধান ব্রেট ব্রুয়েন মনে করেন, ট্রাম্প এখন আগের মতো সংবাদ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তিনি এখনও ব্যাখ্যা করতে পারছেন না কেন যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে নেওয়া হলো এবং পরবর্তী পরিকল্পনা কী। বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সেই পুরোনো তেজ ‍ও দক্ষতা যেন হারিয়ে গেছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Daily Mohadan Times

The Daily Washington Times শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়: প্রেস উইংThe Daily London T...
19/03/2026

The Daily Washington Times
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়: প্রেস উইং
The Daily London Times
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার (২০ মার্চ) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, এই তথ্যটি সঠিক নয়।’

উল্লেখ্য, আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ভাষণ দেবেন।

এ বিষয়ে প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে, আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের কোনো নির্ধারিত কর্মসূচি নেই।

সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা বা ভাষণ কেবলমাত্র রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং প্রেস উইংয়ের মাধ্যমেই জানানো হয়। তাই যেকোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Mohadan Washington post 24

At BD, we seek to usher in a new era of healthcare by bringing medical products, capabilities and solutions to every corner of the world.

The Daily Ajker Mohadan ১৯৯১ থেকে ২০২৬: গণতন্ত্র বিকাশ ও ধ্বংসের ৩৫ বছর News publisher and Editorial. Nur A Azom Kazi Ra...
06/02/2026

The Daily Ajker Mohadan

১৯৯১ থেকে ২০২৬: গণতন্ত্র বিকাশ ও ধ্বংসের ৩৫ বছর
News publisher and Editorial.
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

১৯৯১ থেকে ২০২৬: গণতন্ত্র বিকাশ ও ধ্বংসের ৩৫ বছর
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর আগেও ১৯৯১ সালে একবার দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। আর দেশে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।

আসন্ন নির্বাচনের ডামাডোলে সবার আগ্রহ—কেমন ছিল বিগত সময়ে দলীয় ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনগুলো, কোন নির্বাচন পেয়েছে গ্রহণযোগ্যতা, কোন নির্বাচন কী নামে খ্যাতি-কুখ্যাতি পেয়েছে।

১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছিল বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলো। চার দফা ওই ঘোষণায় ছিল, এরশাদের অধীনে সব নির্বাচন বয়কট ও প্রতিহত করা; এরশাদের পদত্যাগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর; অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর এবং গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

এরপর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশে প্রথম কোনো অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় সংসদ নির্বাচন।

এর আগে সংসদ নির্বাচন কিংবা গণভোট বা অন্য কোনো নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হয়নি।
দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, প্রথম এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন। ওই সরকারের প্রশাসন ছিল সবচেয়ে বেশি নিরপেক্ষ।

কেমন ছিল দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও পরবর্তী দুই নির্বাচন ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি পরবর্তী নির্বাচনগুলোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনেনি।

ফলে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আবার সংকট তৈরি হয়।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ফ্রিডম পার্টিকে নিয়ে একতরফা নির্বাচন করে বিএনপি। ওই নির্বাচনে বিএনপি ২৭৮টি আসনে জয়লাভ করে। বাকি আসনগুলোর একটি আসনে ফ্রিডম পার্টি, ১০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন, ১০টি আসনের ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হয়।

তৎকালীন সরকারদল বিএনপির অধীনে হওয়া ওই নির্বাচন বয়কট করেছিল আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

আন্দোলনের মুখে ওই সংসদ টিকেছিল মাত্র ১১ দিন।
নির্বাচন নিয়ে অবিশ্বাস, কারচুপির সমাধান হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো গঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন দেশে প্রথম কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি এবং জামায়াতে ইসলামী তিনটি আসনে জয়ী হয়।

এই নির্বাচনও দেশি ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। পরে ২০০১ সালে এবং ২০০৮ সালে অষ্টম এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি এবং জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি আসনে জয়ী হয়।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ভোট। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি এবং জামায়াতে ইসলামী দুটি আসনে জয়ী হয়।

এই তিনটি নির্বাচনে পরাজিতরা কারচুপির অভিযোগ আনলেও সবাই ভোটের ফলাফল মেনে নেয়। নির্বাচনগুলো সবার কাছে মোটামুটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।

কেমন ছিল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনগুলো ২০০৮-এর নির্বাচনে সরকার গঠনের পর ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা আওয়ামী লীগ এর পেছনে যুক্তি হিসেবে আনে—এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অসাংবিধানিক।

পরবর্তীকালে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দলীয় সরকারের অধীনে একতরফা নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।

ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়, যার মধ্যে ১৫৩টি আসনে তারা জয়ী হয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। দশম জাতীয় সংসদের এই নির্বাচন ‘বিনা ভোটের নির্বাচন’ নামে পরিচিত।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য করার আশ্বাস দিয়ে বিএনপিসহ বড় বড় দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানায় আওয়ামী লীগ। কিন্তু পরে বিবিসিসহ সংবাদমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ব্যালটভর্তি বাক্স নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রে। অর্থাৎ রাতেই ব্যালট দিয়ে বাক্স ভরে রাখা হয়। ফলে ওই নির্বাচনটি ‘নিশিরাতের ভোট’ বলে পরিচিতি পায়।

ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো আটটি আসনে জয়ী হয়। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ছয়টি, গণফোরাম দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসনে জয়ী হন।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট বয়কট করেছিল (জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ছিল না)।

২০১৪ সালের মতো ‘বিনা ভোটে’ আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা যেন জয়ী না হয়, সেই ‘বিব্রতকর’ পরিস্থিতি এড়াতে এবার অভিনব কৌশল নেয় আওয়ামী লীগ। ডামি প্রার্থী হিসেবে নিজ দলের নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায় দলটি। ফলে এই নির্বাচনটি পরিচিত পায় ‘আমি-ডামি নির্বাচন’ নামে।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২টি আসন, জাতীয় পার্টি (জাপা) ১১টি আসন এবং জাসদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি একটি করে আসন জয়ী হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ৬২ জন, যাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ নেতা।

এই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর থেকে দেশ পরিচালনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

ফিরেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলেও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। তারা আন্দোলন-সংগ্রামে বরাবরই ত্ত্ত্বাবধায়ক সরকার বহালের দাবি তুলে আসছিল।

২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে ২০১১ সালে আদালতের রায়ে বাতিল হওয়া সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার ফিরে এসেছে। আগামী চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Daily Ajker Mohadan

The Mohadan Washington post 24 bd.comভোটে আ.লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কূটনীতিকরা চাপ দেননি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা News publisher ...
05/02/2026

The Mohadan Washington post 24 bd.com

ভোটে আ.লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কূটনীতিকরা চাপ দেননি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
News publisher and Editorial.
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury.
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকরা কোনো চাপ সৃষ্টি করেননি।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে কোনো চাপ আছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমার সঙ্গে যারা দেখা করতে এসেছেন, তাদের কেউ কেউ বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, সবাই নয়। তবে কেউ কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করেননি।

কেউ বলেননি, এটা আপনাদের করা উচিত বা উচিত নয়, কিংবা এটা করতে হবে। কেউ কেউ শুধু জানতে চেয়েছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে কি না। আমি বলেছি, এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়ী মতবিনিময়কালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন হয়ে যাবে।

যদিও সন্দিহান লোকজনের এখনো অভাব নেই, তবে আমার মনে হয়, নির্বাচন না হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। এরপর কোয়ালিফিকেশনের প্রশ্ন আসে। নির্বাচন পারফেক্ট হয়, এটা খুবই রেয়ার। পারফেক্ট কোনো কিছুই হয় না।

জীবনে কোনো কিছুই পারফেক্ট হয় না, কিছু সমস্যা থাকেই। তবে দেখতে হবে, নির্বাচনটি জনমতের প্রতিনিধিত্বশীল হয়েছে কি না। জনমত কী, তা বোঝার জন্য শুধু সংখ্যার দিকে তাকাতে হয় না। এটা আমরা মোটামুটি বুঝে যাই। এর আগে যে চারটি নির্বাচন হয়েছে, যেগুলোকে আমরা নির্বাচন বলি, সেখানে প্রতিটিতেই জনমতের প্রতিফলন ঘটেছিল।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ভারতে ছিলাম। বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ বলে তারা নিজেরাই গর্ব করে। সেখানেও পারফেক্ট নির্বাচন হয় না, কিছু সমস্যা থাকেই।

Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

05/02/2026

Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor

Address

Willie Meyer Singel

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Mohadan Islami Bangladesh ETC Times 24 bd. com posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed media company?

Share