24/03/2026
ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটির দিকে তেহরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ থেকে মনে করা হচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদিও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারেনি ওই ক্ষেপণাস্ত্র, তবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম এত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হলো।
তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, ইরানের সংবাদমাধ্যম মূলত বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোকে উদ্ধৃত করেই প্রতিবেদন করছে।
বিশেষজ্ঞরা এখন ওই ব্যর্থ হওয়া হামলাটির প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হতে পারে, সেই চিন্তাভাবনা করছেন। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু কী কী হতে পারে, সেই ভাবনাও চলছে।
যেমন, ভবিষ্যতে বার্লিন, প্যারিস এবং লন্ডনসহ ইউরোপের রাজধানী শহরগুলি কি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে?
যুক্তরাজ্যের একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী বলেছেন যে, ইরানের কাছে এমন ক্ষেপণাস্ত্র আছে যা লন্ডনে পৌঁছতে পারে বলে আইডিএফ যে দাবি করছে, তার "প্রমাণ করার মতো কোনও ভিত্তি নেই"।কিন্তু দলের নেতাদেরকে যেভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে খুব একটা ভালো বার্তা দেয়নি সরকার।
এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে সরকার তিনমাস সময় নিতে চায় বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি এই নির্বাচন আয়োজনে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিবিসি বাংলাকে।বিবিসির ফার্সি বিভাগের ঘোনচেহ হাবিবিয়াজাদ জানাচ্ছেন, "ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক নজরদারিতে আছে।"যদিও তেহরান জোর দিয়ে বলেছে যে তার ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবেই প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি জাতীয় প্রতিরোধ কৌশলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। তবে বিশ্লেষকরা যুক্তি দেন যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বানানোয় অগ্রগতি হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাব নিকেশ বদলিয়ে দিতে পারে," জানাচ্ছেন মি. হাবিবিয়াজাদ।
তেহরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ দূর করার জন্য আলোচনা চলছে মাত্র এক মাস হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার সম্ভাবনা যখন তৈরি হচ্ছিল, তখনই ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ শুরু করে।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জ - যার একটি অংশেই রয়েছে দিয়েগো গার্সিয়া, তা ইরান থেকে প্রায় তিন হাজার আটশো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদন করেছে। তবে এ-ও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির কোনোটাই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে নি।
এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশপথেই ফেটে যায়, অন্যটিকে প্রতিহত করেছে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। এই প্রতিবেদনগুলি যে সঠিক, তা নিশ্চিত করতে পেরেছে বিবিসি।
এই ঘটনার পরপরই আইডিএফ জানায়, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার অনেকগুলি শহর এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইসরায়েলের বাহিনী এ-ও বলে যে গত বছরই তারা জানিয়েছিল, তেহরান এই ধরনের ক্ষমতা সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে চাইছে।
আইডিএফের চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষিপ্ত হওয়ার পরে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
"ইরান চার হাজার কিলোমিটার পাল্লার দুটি ধাপের এক আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলির ইসরাইলে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ছিল না," মন্তব্য ওই ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তার।
তার কথায়, "এগুলির রেঞ্জ এখন ইউরোপের রাজধানীগুলি পর্যন্ত পৌঁছেছে। বার্লিন, প্যারিস ও রোম সবই সরাসরি ঝুঁকির পরিধির মধ্যে রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট ফোর্সের কমান্ডের সাবেক প্রধান জেনারেল স্যার রিচার্ড ব্যারনস সহ অন্য বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে বলেছেন, ওই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এবং সেগুলি কতদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তার পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
জেনারেল ব্যারন বলছিলেন,"আগে আমরা ভেবেছিলাম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার এবং দিয়েগোর দূরত্ব তিন হাজার আটশো কিলোমিটার।ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ বেড়েছে?
ইরান এতদিন পর্যন্ত বলে এসেছে যে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে একটি স্ব-আরোপিত সীমারেখা আছে, যার পরিধি ১,২৪০ মাইল বা দুই হাজার কিলোমিটার। যার অর্থ, ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের হানার দূরত্বের মধ্যেই ছিল, তবে ইউরোপ তার মধ্যে পড়ত না।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ২০২১ সালে বলেছিলেন যে এর পিছনে রাজনৈতিক যুক্তি ছিল, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ছিল না। সামরিক শীর্ষ কর্তা ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের বিরোধিতার স্বত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছি।।
তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে হুমকি বজায় রাখতে চেয়েছিলেন – কিন্তু ইউরোপকে ব্যতিব্যস্ত করতে চাননি, কারণ তাদের সঙ্গে তো কোনো সংঘাত ছিল না।
তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইরানের একজন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছিলেন যে আইআরজিসি একটি আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফলভাবে পরীক্ষা চালিয়েছে - যদিও তিনি ক্ষেপণাস্ত্রের পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা