06/09/2026
*যুব শক্তি ও প্রযুক্তি উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও চিন্তাধারা**
মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখেন নানা ধরনের বই। ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে প্রকাশনাও ছিল দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের ওপর। আর সেই তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে বই পড়ার বিকল্প নেই।
তাদের মতে, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে তরুণ সমাজকে জ্ঞান ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যেই বই মেলার প্রতিটি আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের পরিচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চতুর্থ দিনের আলোচনায় উঠে আসে দেশের উন্নয়ন, যুব সমাজের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার বিভিন্ন দিক।
আলোচনায় বক্তারা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগ ও চিন্তাধারার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দেশের উন্নয়নে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে তরুণদের যুক্ত করার বিষয়টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু আলোচনা কিংবা বই প্রদর্শন নয়, মেলা প্রাঙ্গণে ছিল দর্শনার্থীদের জন্য নানা আয়োজন। বিকেলের পর থেকেই বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি।
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ, প্রবীণ—বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঘুরে দেখেন বইয়ের স্টল। কেউ পছন্দের বই সংগ্রহ করছেন, কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসেছেন।
বইয়ের পাশাপাশি মেলার চতুর্থ দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল **মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান, কবিতা, আবৃত্তি ও বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের নানা বিষয়। শিল্পীদের পরিবেশনায় মেলা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
দর্শনার্থীরাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রাণবন্তভাবে।
আয়োজকরা বলছেন, বই মেলার মূল উদ্দেশ্য শুধু বই কেনাবেচা নয়; বরং একটি পাঠকসমাজ গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ও জ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।
“আমরা চাই তরুণ প্রজন্ম বই পড়ার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করুক। জ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে তারা যেন দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে পারে—এই লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।”
মেলায় আসা দর্শনার্থীরাও এমন আয়োজনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে বই পড়ার অভ্যাস অনেকটাই কমে যাচ্ছে। এ ধরনের বই মেলা তরুণদের আবারও বইমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
“এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। বিভিন্ন ধরনের বই দেখার সুযোগ হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।
নয় দিনব্যাপী এই বই মেলার প্রতিটি দিনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে আলাদা থিম। ফলে প্রতিদিনই থাকছে নতুন বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা, প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, জ্ঞানচর্চা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা বলছেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বই এবং পাঠাভ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। আর সেই জায়গা থেকেই তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে বই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত **জিয়া স্মৃতি বই মেলা-২০২৬**-এর চতুর্থ দিন শেষ হলেও মেলার আয়োজন চলবে আরও কয়েক দিন।
প্রতিদিনের আলাদা থিম, বই প্রদর্শনী, আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলাটি পরিণত হয়েছে জ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার এক মিলনমেলায়।
আয়োজকদের আশা, বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর হবে, তরুণ প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবে জ্ঞানচর্চায় এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
**০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলা একাডেমি, রমনা, ঢাকা থেকে—
মোঃ সাইফুল ইসলাম।
#যুবশক্তিওপ্রযুক্তিউন্নয়ন
#সবারআগেবাংলাদেশ
#বাংলাএকাডেমিরমনাঢাকা